'বজ্রকণ্ঠ বাণী' অর্থ- সহজে উদ্দীপ্ত দ্যুতিময় বঙ্গবন্ধুর বাণী।
'জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে' বলতে রমনা রেসকোর্স ময়দানে সমবেত লক্ষ লক্ষ জনগণের সমাবেশ ও জনসমাবেশের এক দিকে অবস্থিত মঞ্চকে বোঝানো হয়েছে।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ শোনার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ সমাবেত হয় রমনার রেসকোর্স ময়দানে। রমনা রেসকোর্সে সমবেত লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাবেশকে কবি কল্পনা করেছেন জনসমুদ্রের বাগানরূপে। সেই জনসমুদ্রের একদিকে ছিল মঞ্চ, কবির দৃষ্টিতে সেটি যেন সেই জনসমুদ্রের সৈকত।
উদ্দীপকের সাক্ষাৎকার প্রদানকারী মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস বর্ণনার মধ্যে 'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতার যে বিশেষ দিকটি ফুটে উঠেছে তা হলো স্বাধীনতা ও দেশপ্রেমের অনুপ্রেরণার ইতিহাস।
৭ই মার্চ ১৯৭১ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে বাঙালি জাতিকে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। সেই আহ্বানে জনতার মধ্যে আসে নবজোয়ার। স্বাধীনতার বাণী পৌঁছে যায় মানুষের অন্তরে অন্তরে।
'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতায় কবি ১৯৭১ সালের বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছেন। যা আমাদের স্বাধীনতার গুরুত্ব অনুধাবন ও দেশপ্রেমের প্রেরণা জাগ্রত করে। কারণ ১৯৭১ সালে জাতির জনকের সেই ভাষণের মধ্য দিয়ে সূচিত হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান। পরাধীনতার শেকল ভেঙে বাঙালি স্বাধীনতার জন্য এই ভাষণ শুনে যুদ্ধ করে। কবি অনাগত শিশুদের কাছে এই কথাটি জানিয়ে দিতে চেয়েছেন। উদ্দীপকেও সাক্ষাৎকার প্রদানকারী মুক্তিযোদ্ধার ইতিহাস বর্ণনার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা জাতির জনকের সেই ৭ই মার্চের গুরুত্ব ও তাৎপর্যের কথা জানতে পারে। উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা উভয় জায়গায় প্রকাশ পেয়েছে তৎকালীন অবস্থা, মুক্তিযুদ্ধের আহ্বান ও ৭ই মার্চের গুরুত্ব ও তাৎপর্য। উদ্দীপকে মুক্তযোদ্ধার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম এ ইতিহাস জানতে পেরেছে। আর আলোচ্য কবিতায় কবি জানিয়েছেন অনাগত শিশুদের। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের ইতিহাস বর্ণনার মধ্য দিয়ে আলোচ্য কবিতার স্বাধীনতা ও দেশপ্রেমের অনুপ্রেরণার ইতিহাস ফুটে উঠেছে।
"বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণই ছিল আমাদের মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার মূল অনুপ্রেরণা”- মন্তব্যটি যথার্থ।
একজন সত্যিকারের দেশনেতা দেশের মানুষের মুক্তির পথনির্দেশ করেন। তিনি জনগণকে সংঘবদ্ধ করেন। তাদের চেতনাকে উজ্জীবিত করেন। দুর্যোগ থেকে উত্তরণের জন্য অনুপ্রাণিত করেন।
উদ্দীপকে 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধকে জানি' শীর্ষক ডকুমেন্টারি ও প্রতিবেদনের কথা প্রকাশ পেয়েছে। এই প্রতিবেদনে বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ পায়। সাক্ষাৎকারে একজন মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণই ছিল আমাদের মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার মূল অনুপ্রেরণা। 'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতায়ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণের মূল বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এ ভাষণেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের নিগড় থেকে বাঙালি জাতির মুক্তি এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। তাঁর এ ভাষণের মধ্যেই সেদিন সূচিত হয়েছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান।
উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা উভয় জায়গায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণের গুরুত্বের কথা প্রকাশ পেয়েছে। যে ভাষণ বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ায় অনুপ্রেরণা জোগায়। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!