বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নবগঠিত প্রদেশের নাম কী? (জ্ঞানমূলক)

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

পূর্ববঙ্গ ও আসাম


১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন বাংলাকে বিভক্ত করে দুটি নতুন প্রদেশ গঠন করেন। বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নবগঠিত প্রদেশটির নাম ছিল পূর্ববঙ্গ ও আসাম। এর রাজধানী করা হয় ঢাকা। এই নতুন প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগ এবং আসাম প্রদেশ ও পার্বত্য ত্রিপুরা।

ব্রিটিশ সরকার প্রশাসনিক সুবিধার কথা বললেও, এর মূল উদ্দেশ্য ছিল 'ভাগ করো ও শাসন করো' (Divide and Rule) নীতির মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান বাঙালি জাতীয়তাবাদকে দুর্বল করা। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠিত হওয়ায় এই অঞ্চলের মুসলমানদের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সত্তার জন্ম নেওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল, যা তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়ক হতে পারত। তবে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিরা এর তীব্র বিরোধিতা করে এবং ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
148

Related Question

View All
উত্তরঃ

দ্বৈতশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে একটি রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা দুটি ভিন্ন সত্তার মধ্যে বিভক্ত থাকে। বাংলার ইতিহাসে দ্বৈতশাসন বলতে ১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ কর্তৃক প্রবর্তিত এক বিশেষ শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়।

১৭৬৫ সালের এলাহাবাদ চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি (রাজস্ব আদায়) লাভ করে। এর ফলে কোম্পানি একদিকে রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা লাভ করে, অন্যদিকে বাংলার নবাবের হাতে নিজামত বা প্রশাসনিক ক্ষমতা (বিচার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা) ন্যস্ত থাকে।

এই ব্যবস্থায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রাজস্ব আদায় ও সামরিক ক্ষমতা ভোগ করলেও প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব নিত না। অন্যদিকে নবাবের হাতে প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকলেও তার কোনো আর্থিক বা সামরিক ক্ষমতা ছিল না। ফলে নবাব নামমাত্র শাসকে পরিণত হন এবং ব্রিটিশ কোম্পানি ক্ষমতার অধিকারী হলেও দায়িত্বহীন থাকে।

দ্বৈতশাসনের কারণে বাংলায় চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়। একদিকে কোম্পানি অবাধে অর্থ শোষণ করে এবং বাংলার সম্পদ লুণ্ঠন করে, অন্যদিকে নবাবের হাতে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা না থাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, বিচারকার্য পরিচালনা বা দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় তিনি ছিলেন ব্যর্থ। এর ফলস্বরূপ ১৭৭০ সালের (বাংলা ১১৭৬ সন) ছিয়াত্তরের মন্বন্তর দেখা দেয়, যা বাংলার ইতিহাসে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হিসেবে পরিচিত।

পরবর্তীতে ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ সালে এই দ্বৈতশাসনের অবসান ঘটান এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরাসরি বাংলার শাসনভার গ্রহণ করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
168
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে পাঠ্যবইয়ের যে আইনের সাদৃশ্য রয়েছে, সেটি হলো আইনের শাসন। অধ্যাপক এ.ভি. ডাইসি আইনের শাসনের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন, যা আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসনের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। নিম্নে আইনের শাসনের বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করা হলো:

১. আইনের প্রাধান্য (Supremacy of Law): আইনের শাসনের প্রথম এবং প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আইনের প্রাধান্য। এর অর্থ হলো, রাষ্ট্রের সকল ব্যক্তি, পদমর্যাদা নির্বিশেষে, আইনের অধীন। সরকার বা কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে না। কাউকে তার অপরাধ ছাড়া শাস্তি দেওয়া যাবে না এবং কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না। সমাজে আইনই হবে সর্বোচ্চ এবং সবাই এর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে।

২. আইনের দৃষ্টিতে সমতা (Equality Before the Law): আইনের শাসনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো আইনের দৃষ্টিতে সমতা। এর অর্থ হলো, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, পদমর্যাদা, সম্পদ নির্বিশেষে সকল নাগরিক আইনের চোখে সমান। ধনী-গরীব, শাসক-শাসিত, ক্ষমতাবান-সাধারণ মানুষ সবাই একই আইনের দ্বারা বিচারিত হবে এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সকলের জন্য একই ধরনের আইন ও বিচার ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে।

৩. অধিকার ও স্বাধীনতার রক্ষা (Protection of Rights and Liberties): আইনের শাসনের তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো এটি নাগরিকদের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করে। অধ্যাপক ডাইসির মতে, সংবিধানে বর্ণিত অধিকারসমূহ বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত বা সাধারণ আইন (Common Law) দ্বারা সুরক্ষিত হয়। আইনের শাসন নিশ্চিত করে যে, আইন নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করবে না, বরং সেগুলোকে সুরক্ষা দেবে। বিচার বিভাগ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা নাগরিকদের অধিকার লঙ্ঘিত হলে আইনি প্রতিকার প্রদান করে।

৪. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ (Independent and Impartial Judiciary): আইনের শাসনের অন্যতম মৌলিক শর্ত হলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত থেকে আইন অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করে এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করে। এটি আইনের ব্যাখ্যাকারক ও প্রয়োগকারী হিসেবে আইনের পবিত্রতা রক্ষা করে।

৫. স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতার অনুপস্থিতি (Absence of Arbitrary Power): আইনের শাসন নিশ্চিত করে যে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের ইচ্ছামতো বা স্বেচ্ছাচারীভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে না। সকল ক্ষমতা প্রয়োগ হবে সুনির্দিষ্ট আইন ও বিধি-বিধানের মাধ্যমে। আইন বহির্ভূত কোনো ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ আইনের শাসনে নেই।

এই বৈশিষ্ট্যগুলো একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও সুশাসনের ভিত্তি স্থাপন করে, যেখানে নাগরিকরা তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে এবং সবাই আইনের অধীনে সমতা লাভ করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
109
উত্তরঃ

যেকোনো আইনের আলোকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে হলে প্রথমে উক্ত আইনের প্রকৃতি, উদ্দেশ্য এবং তা কীভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে, তা অনুধাবন করা জরুরি। একটি নির্বাচন কেবল ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি বাছাই প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি, আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। উক্ত আইনের আলোকে নির্বাচনের তাৎপর্য নির্ণয়ে নিম্নোক্ত দিকগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে:

প্রথমত, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা: যদি আইনটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সুযোগ তৈরি করে, তবে সেই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে। ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ, প্রার্থীদের সমান সুযোগ এবং নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি জনগণের আস্থা আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত হলে নির্বাচনের তাৎপর্য বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এর মাধ্যমে জনগণ নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধি বেছে নিতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীতে পরোক্ষভাবে অংশ নিতে পারে।

দ্বিতীয়ত, আইনের শাসন ও সুশাসন নিশ্চিতকরণ: একটি আইন যদি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, যাতে কোনো প্রকার অনিয়ম, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার না হয়, তাহলে সেই নির্বাচন আইনের শাসনকে মজবুত করে। নির্বাচনী বিধিমালা, আচরণবিধি এবং ফলাফল ঘোষণার স্বচ্ছতা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে, যা সুশাসনের মূল ভিত্তি।

তৃতীয়ত, জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠন: আইনের সঠিক প্রয়োগে অনুষ্ঠিত নির্বাচন একটি প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনে সহায়তা করে। যদি আইনটি সকল স্তরের জনগণের (যেমন – নারী, সংখ্যালঘু, প্রান্তিক গোষ্ঠী) অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এবং তাদের কণ্ঠস্বর যেন সংসদ বা নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে শোনা যায় তার ব্যবস্থা করে, তবে সেই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার দেশের সকল মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হয়।

চতুর্থত, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর: একটি সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য আইনের আওতায় অনুষ্ঠিত নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম করে। যখন একটি নির্বাচনের ফলাফল আইনগতভাবে বৈধ ও সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত হয়, তখন তা রাজনৈতিক অস্থিরতা রোধ করে এবং দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। পক্ষান্তরে, বিতর্কিত আইন বা আইনের অপপ্রয়োগে অনুষ্ঠিত নির্বাচন দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে।

পঞ্চমত, নাগরিক অধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার সুরক্ষা: উক্ত আইন যদি নাগরিকদের ভোটাধিকার, প্রার্থী হওয়ার অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সভা-সমাবেশের অধিকারের মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিশ্চিত করে, তবে সেই নির্বাচন নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি নাগরিকদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং রাষ্ট্রীয় কাজে তাদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে।

পরিশেষে বলা যায়, যেকোনো আইনের আলোকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের তাৎপর্য নির্ভর করে সেই আইন কতটা গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সক্ষম হয় তার উপর। একটি সুষম ও জনমুখী আইনের আওতায় অনুষ্ঠিত নির্বাচন কেবল সরকার গঠনেই নয়, বরং একটি জাতিরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এক সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
125
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews