Clostridium botulinum নামক ব্যাকটেরিয়া খাদ্যে Botulin নামক বিষাক্ত পদার্থ সৃষ্টি করে। এর বিষক্রিয়ায় মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এরূপ বিষক্রিয়াকে বটুলিজম বলে।
অণুজীবঃ খালি চোখে দেখা যায় না, শুধু অণুবীক্ষণযন্ত্রে দেখা যায়, এমন জীবকে অণুজীব (Microbes) বলা হয়। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় অণুজীব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, সে শাখাকে অণুজীবতত্ত্ব বা মাইক্রোবায়োলজি (Microbiology) বলা হয়ে থাকে। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, মাইক্রোপ্লাজমা, রিকেটসিয়া ও অ্যাকটিনোমাইসিটিস প্রভৃতি অণুজীবের অন্তর্ভুক্ত।
Related Question
View Allভাইরাসের নিউক্লিক এসিডকে ঘিরে অবস্থিত প্রোটিন আবরণটির নামই ক্যাপসিড।
যে প্রক্রিয়ায় ফায ভাইরাস পোষক ব্যাকটেরিয়া কোষে প্রবেশ করে সংখ্যাবৃদ্ধি সম্পন্ন করে ও অপত্য ভাইরাসগুলো পোষক দেহের বিদারণ বা লাইসিস (lysis) ঘটিয়ে নির্গত হয় তাকে লাইটিক চক্র বলে। E.coli নামক ব্যাকটেরিয়ায় T₂ ফায লাইটিক চক্রের মাধ্যমে সংখ্যাবৃদ্ধি সম্পন্ন করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ম ধরনের দ্বিসূত্রক DNA বিশিষ্ট অণুজীবটি হলো ব্যাকটেরিওফায ভাইরাস। নিচে এর গঠনের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-

উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষোক্ত ধরনের আদিকোষী অণুজীবটি হলো ব্যাকটেরিয়া। নিচে ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. ব্যাকটেরিয়া হতে গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ তৈরি করা হয়।
যেমন- সাবটিলিন, পলিমক্সিন ইত্যাদি।
২. ব্যাকটেরিয়া হতে কলেরা, টাইফয়েড, যক্ষ্মা প্রভৃতি রোগের প্রতিষেধক প্রস্তুত করা হয়। ডি.পি.টি. (ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার) রোগের প্রতিষেধকও ব্যাকটেরিয়া হতে প্রস্তুত হয়।
৩. উদ্ভিদ ও প্রাণীর যাবতীয় মৃতদেহ, বর্জ্য পদার্থ ও অন্যান্য জঞ্জাল পচন প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৪. চা, কফি, তামাক প্রভৃতি প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৫. চামড়া হতে লোম ছাড়ানোর ব্যাপারে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা-অপরিসীম।
৬. দুধ হতে মাখন, দই, পনির প্রভৃতি তৈরি করতে হলে ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতার প্রয়োজন।
৭. ব্যাকটেরিয়ার পাচন ক্রিয়ার ফলেই পাটের আঁশগুলো পৃথক হয়ে থাকে এবং আমরা পাটের আঁশ পেয়ে থাকি।
৮. ভিনেগার, ল্যাকটিক এসিড, অ্যাসিটোন প্রভৃতি রাসায়নিক দ্রব্য প্রস্তুতের জন্য শিল্প ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়।
৯. জৈব বর্জ্য পদার্থকে দ্রুত রূপান্তরিত করে ব্যাকটেরিয়া পয়ঃপ্রণালিকে সুষ্ঠু ও চালু রাখে।
১০. মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে ব্যাকটেরিয়ার অবদান অনেক। মাটির জৈব পদার্থ সঞ্চয়ে ব্যাকটেরিয়ার প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে।
১১. জিন প্রকৌশলে Bacteria গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভাইরাস হলো নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত অতি আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের ভিতরে সক্রিয় থাকে এবং জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে। জীবদেহ কোষীয় হলেও ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষঝিল্লি, কোষপ্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া এসব নেই। তাই ভাইরাসকে অকোষীয় বস্তু বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত X' চিহ্নিত DNA ভাইরাস হচ্ছে ফায ভাইরাস। ফায একটি ব্যাঙাচি আকৃতির ভাইরাস। এর দেহ প্রধান দুটি অংশে বিভক্ত। যথা- মাথা ও লেজ। নিচে ফায ভাইরাসের গঠন বর্ণনা করা হলো-
মাথা: ফাযের মাথাটি স্ফীত এবং ষড়ভুজাকার। এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে ৯৩ him এবং ৬৫ nm। মাথার আবরণটি প্রোটিনের ক্যাপসিড এবং এর ভেতরে ৫০ µm দীর্ঘ একটি DNA অণু প্যাঁচানো অবস্থায় থাকে। ফাযের DNA-দ্বি-সূত্রক এবং মোট ওজনের 50%।
লেজ: মাথার নিচে একটি সরু ও দীর্ঘ ফাঁপা নলাকার লেজ থাকে। লেজটি দৃঢ় এবং তা স্প্রিং-এর মতো প্যাঁচানো সংকোচনশীল আবরণে আবৃত থাকে। লেজটির দৈর্ঘ্য ৯৫-১০০ nm এবং ব্যাস প্রায় ১৫-২৫ nm। কোনো কোনো ক্ষেত্রে লেজের বাইরে আবরণ থাকে না। লেজ ও মাথার সংযোগস্থলে চাকতির মতো একটি কলার থাকে।লেজের প্রধান অংশটি একটি ফাঁপা নলের মতো। এর অভ্যন্তরে কোনো DNA নেই। নিচের দিকে ১টি বেসপ্লেট, কাঁটার মতো কয়েকটি স্পাইক এবং ছয়টি স্পর্শক তন্তু আছে। লেজ, কলার, বেসপ্লেট, স্পাইক এবং স্পর্শক তন্তু সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। এতে নিউক্লিয়াস, কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম, কোষ প্রাচীর ও অন্যান্য কোনো ক্ষুদ্রাঙ্গ ইত্যাদি নেই।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
