দোকানপাট ঠিক আছে কি না তা দেখার জন্য বদিউজ্জামানের মধুবনে যাওয়ার দরকার। পাকিস্তানি মিলিটারি নীলগঞ্জ গ্রামে প্রবেশ করলে সবার মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এমন সময় বদিউজ্জামান মধুবনে যেতে থাকে। রাস্তায় সবার কাছে মিলিটারি আসার ঘটনা শুনে সে চিন্তিত হয়ে পড়ে। মধুবন বাজারে তার দোকান আছে। মিলিটারিরা যেখানে যায় সেখানকার সবকিছু জ্বালিয়ে দেয়। তার দুশ্চিন্তা হতে থাকে মধুবনে তার দোকান ঠিক আছে কি না। এজন্য তার মধুবনে যাওয়া দরকার।
Related Question
View All'১৯৭১' উপন্যাসটি হুমায়ূন আহমেদ অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রচনা করেছেন। প্রতিটি চরিত্র তাদের স্বমহিমায় উজ্জ্বল। এর পাশাপাশি তিনি উপন্যাসের প্লট নির্বাচন, কাহিনির বা ঘটনার পরম্পরা নির্মাণে নিজের পান্ডিত্য দেখিয়েছেন। চলচ্চিত্রীয় কৌশলে কাহিনি নির্মাণে সাফল্য অর্জন করেছেন।
'১৯৭১' উপন্যাসের শুরুটা হয়েছে মীর আলির মাধ্যমে। সে একজন অন্ধ মানুষ। চোখে দেখতে পায় না, কিন্তু কানে শুনতে পায় এবং সে অনুযায়ী সাড়া দেয়। তার সাড়া প্রদান কিংবা কথা বলা, বর্ণনাত্মকভাবে ফুটিয়ে তোলা নয়, পুরোটাই চলচ্চিত্রীয়। ঔপন্যাসিক আমাদের বলছেন এবং আমরা তা কল্পনা করছি। ঠিক তেমনই উপন্যাসে মিলিটারি প্রবেশ করা, গ্রামবাসীর ওপর নির্যাতন, পুরো বিষয়টাকে এমনভাবে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে যে পাঠক তা পাঠ করছেন না, বরং পাঠক যেন চোখের সামনে তা ঘটতে দেখছেন। ঔপন্যাসিক একেবারে ছক কষে কষে মাটি, মানুষ, মনুষ্যনির্মিত অবকাঠামো এঁকেছেন। আর তাতেই গ্রামবাংলার এক সাধারণ গ্রামকে তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে রূপান্তরিত করেছেন। বিবরণের চিত্রধর্মিতা, চরিত্রের আগমন-তিরোভাব-ক্রিয়া-পটভূমির ফটোগ্রাফিক নির্মাণ সিমেনার কৌশলকেই মনে করিয়ে দেয়। লেখক পুরো কাহিনিকে পাঠকের চোখের সামনে চিত্রিত করেছেন। গুলির শব্দের বর্ণনাগুলোও সেরকমই। লেখক আমাদের জানাচ্ছেন না যে গুলি হয়েছে বরং তিনি বলছেন এবং পাঠকরা এদিক-সেদিক থেকে গুলির শব্দ শুনছেন।
উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্রের কৌশলে '১৯৭১' উপন্যাসটি নির্মাণ করেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!