মধুবন বাজারে বদিউজ্জামানের একটি মনিহারি দোকান ছিল। সেখানে যেতে তার সাত মাইল হাঁটতে হতো। সে একদিন বগলে ছাতা নিয়ে হনহন করে আসার সময় ছাতিম গাছের নিচে একসঙ্গে অনেকগুলো মানুষকে দেখে হকচকিয়ে যায়। পরে জয়নাল মিয়ার কথায় জানতে পারে গ্রামে মিলিটারি এসেছে। তাই নিজের দোকানটির খোঁজ নিতে সে মধুবন বাজারে যেতে থাকে।
বদিউজ্জামান সেখানে যাওয়ার জন্য হনহন করে হাঁটতে থাকে। তখন পুরো গ্রামে মিলিটারির আগমনে ভয় ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। তাদের নৃশংস আচরণ সম্পর্কে বদি খুব ভালোভাবেই অবগত ছিল। ফলে হাঁটতে হাঁটতে বদিউজ্জামান অনেক আশঙ্কার কথা ভাবতে থাকে। সে ভাবতে থাকে মিলিটারির অবস্থানের কথা। যে সময়টায় সে হনহন করে হেঁটে চলেছে সেটি তার জন্য মোটেই কল্যাণকর নয়। যেকোনো সময় মিলিটারি তার প্রাণ কেড়ে নিতে পারে। এসব শঙ্কা ও ক্ষতির আশঙ্কার কথা ভেবেই বদিউজ্জামান একসময় উপলব্ধি করে খারাপ সময়টায় তার বাড়ি থেকে বের হওয়া ঠিক হয়নি। তাই সে মাঝামাঝি পথে মত বদলে নীলগঞ্জের দিকে ফিরতে থাকে।
Related Question
View Allনীলগঞ্জ গ্রামে আকস্মিকভাবে হানাদার মিলিটারি বাহিনী প্রবেশ করলে জনমনে চাপা আশঙ্কা ও ভয় বিরাজ করে। গ্রামের সবাই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। ফলে বদিউজ্জামান তার মধুবন বাজারের মনিহারি দোকানটির কথা ভেবে চিন্তিত হয়ে পড়ে। সে মনে করে তার দোকানটি মিলিটারি জ্বালিয়ে দিতে পারে। তাই সেটি দেখার জন্য সে দ্রুত মধুবন বাজারের দিকে হনহন করে হাঁটতে থাকে। কিন্তু হানাদার বাহিনীর ভয়ে সে হঠাৎ মনে করে তার বাড়ির বাইরে বের হওয়া ঠিক হয়নি। সেজন্যই সে তার মত বদলে নীলগঞ্জের দিকে চলতে থাকে। নীলগঞ্জে ফেরার পথে সে যখন জঙ্গলা মাঠের কাছাকাছি আসে তখন সে দ্বিতীয় মিলিটারি দলটিকে দেখতে পায়।
বদিউজ্জামান জঙ্গলা মাঠের দিকে উর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে থাকলে একসময় সে হুমড়ি খেয়ে নিচু একটা গর্তে পড়ে যায়। সেখানে কোমর সমান পানি ছিল। সেই পানিতে সে ঘণ্টাখানেক বসে থাকে। মিলিটারি দলটি তখনও তার আশেপাশেই ছিল। অনেক সময় হয়ে গেলেও ওরা সেখান থেকে যাচ্ছিল না। কিছুক্ষণ পরই বদি খুব কাছেই তাদের কথাবার্তা শুনতে পায়। বদিউজ্জামান এর মানে বুঝে উঠতে পারে না। সে একসময় মাথা উঁচু করে দেখতে চেষ্টা করল। তার মনে হলো মিলিটারি জঙ্গলা মাঠ ঘিরে বসে আছে। তার শীত শীত করতে লাগল আর অনেকক্ষণ বসে থেকে গা কুটকুট করছিল। তখন সবুজ রঙের একটা গিরগিটি চোখ বড় বড় করে তাকে দেখছিল।পানি থেকে পচা গন্ধ আসছিল। বদিউজ্জামান গিরগিটিটা তাড়াতে একটু শব্দ করলে নীলগঞ্জের দিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলির শব্দ আসতে থাকে। জঙ্গলা মাঠের প্রতিকূল পরিবেশ বদিউজ্জামানকে একসময় সাহসী করে তোলে। সে যেন জঙ্গলের ক্ষতিকর পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়। গিরিগিটিটা তাকে বারবার বিরক্ত করলে বদিউজ্জামান তাকে তাড়িয়ে দেয়। একটি শেয়াল আরেকটি শেয়ালকে নিয়ে এলে সে এগুলোকে দেখে মজা পায়। মিলিটারির ভয়ও সে একসময় কাটিয়ে ওঠে। সে ঠিক করে রাখে মিলিটারি যখন তাকে মেরে ফেলবে তখন সে মিলিটারির সঙ্গে কুশল বিনিময় করার চেষ্টা করবে। আবার শেয়াল দেখে উচ্চ স্বরে হাসতে থাকে। এখানে শেয়াল যেন শত্রুর প্রতীক। আর সেই শত্রুকে দেখে ভয় না পেয়ে বদিউজ্জামান শব্দ করে হাসতে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!