সোমপুর বিহার নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত।
নবোপলীয় বিপ্লব বলতে নব্যপ্রস্তর যুগে সংঘটিত সমাজ ও সভ্যতার বৈপ্লবিক অগ্রগতিকে বোঝায়।
নব্যপ্রস্তর যুগে মানুষ প্রকৃতিকে আয়ত্তে এনে কৃষিকাজ ও পশুপালন শুরু করে। এ যুগের মানুষ তাঁতের কাজ, ঘরবাড়ি নির্মাণ শুরু করে, সেইসাথে নৌকা, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি তৈরি করতে সক্ষম হয়। পাশাপশি কৃষিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফসল ফলায় সমাজের অনেকেই ব্যবসায়-বাণিজ্য আরম্ভ করে। ফলে এ সময় বাজার ও শহর গড়ে উঠে। এসব উন্নতি লক্ষ করে অস্ট্রেলিয়ান প্রত্নতাত্ত্বিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ভের গর্ডন চাইল্ড নব্যপ্রস্তর যুগের সমাজ ও সভ্যতার অগ্রগতিকে 'নবোপলীয় বিপ্লব' হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
উদ্দীপকের যুগ ধারাবাহিকতার ক্ষেত্রে আনিস ও শাহিনের বক্তব্যের মধ্যে শাহিনের বক্তব্য সঠিক বলে আমি মনে করি।
প্রাচীন ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের সাংস্কৃতিক উন্নয়নের তৃতীয় পর্যায় হলো 'ব্রোঞ্জ যুগ'। এ যুগকে প্রথম ধাতুর যুগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে প্রাচীন নিকট প্রাচ্যে ব্রোঞ্জ যুগের সূচনা ঘটে। আর খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে লৌহ আবিষ্কারের সাথে সাথে এ যুগের অবসান ঘটে। সমাজ ও সভ্যতার বিকাশধারার মূল সূচনা হয়েছিল ব্রোঞ্জ যুগে। এ যুগেই সর্বপ্রথম ব্যবসায়-বাণিজ্য আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করে এবং উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নতির ফলে মানুষ স্থায়ীভাবে একত্রে বসবাস বৃহৎ সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলে। অন্যদিকে খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে এশিয়া মাইনরে লৌহ যুগের সূচনা হয় এবং তা এখনও অব্যাহত আছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আনিস সহপাঠী শাহিনের সাথে ব্রোঞ্জ ও লৌহ যুগের সূচনাকাল নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে। আনিসের মতে, ব্রোঞ্জ যুগের আগে লৌহ যুগের সূচনা হয় এবং আধুনিক সভ্যতার বিকাশে সবচেয়ে বেশি অবদান লৌহ যুগের। কিন্তু পাঠ্যবইয়ে দেওয়া তথ্যে আমরা জানতে পারি, লৌহ যুগের আগে ব্রোঞ্জ যুগের সূচনা হয়েছে। তাই বলা যায়, আনিসের বক্তব্য সঠিক নয়। অন্যদিকে, শাহিন সহপাঠী আনিসের বক্তব্যের বিরোধিতা করে এবং বলে যে, লৌহ যুগের আগে ব্রোঞ্জ যুগের শুরু এবং সমাজ ও সভ্যতার বিকাশধারার মূল সূচনা হয় ব্রোঞ্জ যুগে। পাঠ্যবইয়ে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী যা সঠিক।
পরিশেষে বলা যায়, ব্রোঞ্জ ও লৌহ যুগের ধারাবাহিকতার ক্ষেত্রে শাহিনের বক্তব্য সঠিক। কেননা ব্রোঞ্জ যুগের শুরু হয়েছিল লৌহ যুগের আগে।
আধুনিক সভ্যতার উন্মেষে উদ্দীপকে উল্লিখিত ধাতু দুটি তথা লৌহ ও ব্রোঞ্জের অবদান অনস্বীকার্য।
পাথরের যুগ ও লৌহ যুগের মধ্যবর্তী যুগকে বলা হয় ব্রোঞ্জ যুগ। এ যুগে ব্রোঞ্জ দিয়ে নানা ধরনের যন্ত্রপাতি ও অস্ত্র তৈরি করা হয়, যা মানুষের জীবনকে সহজ করে তোলে। ব্রোঞ্জ যুগে কৃষি উৎপাদনের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আবিষ্কার হয়। ব্রোঞ্জ নির্মিত লাঙলের ফলা, কাস্তে, নিড়ানি কৃষিকাজকে সহজ করে দেয়। ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এ উদ্বৃত্ত উৎপাদনকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়-বাণিজ্যের বিকাশ ঘটে এবং তা আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করে। নব্যপ্রস্তর যুগে যে চাকার আবিষ্কার হয় তাতে ব্রোঞ্জের বেড় লাগিয়ে আরও উন্নত করা হয়। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে, যা আধুনিক সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে, লৌহের ব্যবহার মানবসভ্যতার বিকাশে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কৃষিকাজের উদ্ভব যেমন মানুষের জীবনধারাকে পাল্টে দিয়েছিল, লৌহের ব্যবহার তেমনি মানুষের জীবনধারায় বিরাট পরিবর্তন এনেছে। লৌহের উদ্ভবের ফলে উৎপাদন ব্যবস্থায় যন্ত্রচালিত শক্তির ব্যবহার সম্ভব হয়েছে এবং শিল্পবিপ্লব ত্বরান্বিত হয়েছে। আমরা জানি, শিল্প নির্ভর সভ্যতার ভিত্তি যন্ত্রচালিত শক্তি এবং সেই শক্তিকে কাজে লাগাতে লৌহ অপরিহার্য। এছাড়া লোহার হাতিয়ার মানুষের কর্মশক্তিকে বর্ধিত করে এবং কার্যদক্ষতা বাড়িয়ে দেয়। এ যুগে ব্যবসায়ের প্রয়োজনে লিখিত ভাষার উদ্ভব হয়। কেননা ব্যবসায়-বাণিজ্যের জন্য লেনদেন, বাণিজ্যিক চুক্তি, হিসাবপত্র প্রভৃতি বিষয়ে লিখিত দলিলের প্রয়োজন হয়। সর্বোপরি লৌহ যুগে যুক্তিনির্ভর চিন্তা-চেতনার বিকাশ ঘটে। বিশেষ করে এ যুগে লৌহ নির্মিত ছাপাখানা আবিষ্কার হওয়ায় জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মনীষীরা তাদের চিন্তা-ভাবনা প্রকাশ করতে শুরু করেন, যার ফলে অবৈজ্ঞানিক ও অযৌক্তিক বিশ্বাসের স্থলে যৌক্তিক এবং বৈজ্ঞানিক বিচার-বিশ্লেষণ শুরু হয়।
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে যে, আধুনিক সভ্যতার বিকাশে ব্রোঞ্জ ও লৌহ উভয় ধাতুর অবদানই অপরিসীম ।
Related Question
View Allমহাস্থানগড় বৌদ্ধ ও হিন্দু সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ।
বাংলাদেশের নগরায়ণ বৃদ্ধির হার দ্রুতগতিতে বেড়ে চলায় সাংস্কৃতিক ব্যবধান দেখা দিচ্ছে। দেশে নগরায়ণ যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে নগর মানসিকতা সে তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে। অর্থাৎ বস্তুজগতের উন্নতির সাথে তাল মিলিয়ে মনোজগতের উন্নতি সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সাংস্কৃতিক ব্যবধান দেখা দিচ্ছে।
উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা বগুড়ার মহাস্থানগড় নামক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে শিক্ষা সফরে গিয়েছে।
মহাস্থানগড় প্রাচীন বাংলার সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন ও পুরাকীর্তির স্থান। বগুড়া শহর থেকে তেরো কিলোমিটার উত্তরে বর্তমান শিবগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর তীরে এটি অবস্থিত। এর প্রাচীন নাম পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ডনগর। এক সময় এটি ছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী। মহাস্থানগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এগুলোর ওপর ভিত্তি করে বাংলার সামাজিক ইতিহাস রচনা করা সম্ভব হয়েছে। মহাস্থানগড়ে আবিষ্কৃত প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো হলো- বৈরাগীর ভিটা, গোবিন্দ ভিটা, পরশুরামের প্রসাদ, গোকুল মেধ, শীলাদেবীর ঘাট, মুনীর ঘোন ইত্যাদি। এছাড়াও মহাস্থানগড়ে আবিষ্কৃত অন্যান্য নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির ফলক, খেলনা, থালা-বাসন, জলপাত্র, রন্ধনপাত্র, সীলমোহর, ব্রোঞ্জের গহনা ইত্যাদি।
উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা বগুড়ার একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে শিক্ষাসফরে গিয়ে পোড়ামাটির ফলক, তামা ব্রোঞ্জের গহনা, পাথরের মূর্তি, সীলমোহর ইত্যাদি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখতে পায়। শিক্ষার্থীদের দেখা এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো বগুড়ার মহাস্থানগড়কে নির্দেশ করে, যা উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা বগুড়ার মহাস্থানগড়ে শিক্ষাসফরে গিয়েছে।
উদ্দীপকের আসহাব সাহেবের বক্তব্যে সমকালীন সামাজিক ইতিহাস রচনা করার ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান বিষয়টির গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
সমাজবিজ্ঞানকে বলা হয় সমাজকাঠামোর বিজ্ঞান। আর সমাজকাঠামো হলো সমাজের সামগ্রিক ব্যবস্থা। সমাজবিজ্ঞান যেহেতু সমাজকাঠামো তথা ব্যক্তি, গোষ্ঠী, বিভিন্ন অনুষ্ঠান- প্রতিষ্ঠান, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও কার্যাবলি, সমাজের অতীত ইতিহাস ইত্যাদি সম্পর্কে পঠন-পাঠন ও গবেষণা করে সেহেতু সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে সমাজ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও গভীর জ্ঞান অর্জন করা যায়। উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো এই সমাজকাঠামোরই উপাদান। এ উপাদানগুলোই সমাজ ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সামাজিক ইতিহাসের অংশ। আর সামাজিক ইতিহাস হলো একটি জাতি বা সম্প্রদায়ের অতীতের নির্দিষ্ট সময়ের সমাজব্যবস্থার পূর্ণ বিবরণ। আমরা জানি, ভবিষ্যৎ সমাজকে সুষ্ঠুভাবে গড়ে তুলতে হলে অতীতের মানব গোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা, আইন-কানুন, রীতি-নীতি জানা দরকার। এক্ষেত্রে সামাজিক ইতিহাসের জ্ঞান খুবই জরুরি। আর সামাজিক ইতিহাস জানতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই। কারণ একমাত্র সমাজবিজ্ঞানই সামাজিক ইতিহাস নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করে। তাই বলা যায়, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিশ্লেষণ করে সামাজিক ইতিহাস রচনা করতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই।
সাঁওতালরা রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, মৌলভীবাজার, বগুড়া, ময়মনসিংহ, সিলেট, নওগাঁ, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরে বাস করে।
মানুষের জীবনাচরণের সব দিক সংস্কৃতির আওতাভুক্ত হওয়ায় ব্যাপক অর্থে সংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয় বহন করে। সংস্কৃতি হলো সমাজস্থ মানুষের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পরিচয়ের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহনকারী একটি উপাদান। প্রকৃত অর্থে সংস্কৃতি হচ্ছে মানুষের জীবনপ্রণালি। সংস্কৃতি একটি সমাজ বা জাতিকে পরিচালিত করে। সর্বোপরি বলা যায়, সংস্কৃতি একটি সমাজ বা জাতির পরিচয় বহন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!