কারণের দুটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
কারণ হচ্ছে কার্যের কালিক পূর্ববর্তী ঘটনা: এ কথার অর্থ হলো যে, কালের দিক থেকে কারণ আগে আসে এবং কার্য পরে আসে। কার্যকারণ সবসময়ে কাল বা সময়ের পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল। যে ঘটনাকে আমরা কার্য বলে মনে করি তা একেবারে নতুন কিছু নয়। কার্য হচ্ছে কারণের বিশেষ পরিবর্তন মাত্র। কারণ পরিবর্তন বা রূপান্তরের মাধ্যমে কার্যে পরিণত হয়। যেমন- উত্তাপের জন্য বরফ গলা কার্যটি পাওয়া যায়। এখানে উত্তাপ আগে আসে বরফ গলা কার্যটি পরে আসে।
উদ্দীপকে আহসান বন্যাকবলিত অঞ্চলে বসবাস করে। নোংরা পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব এসব কারণে সে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এখানে আহসানের রোগাক্রান্ত হওয়ার পেছনে কার্যরত সদর্থক শর্তগুলো হলো- বন্যা, নোংরা পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব প্রভৃতি। কোনো কার্যকে ঘটানোর জন্য যে সকল পূর্ববর্তী ঘটনার প্রয়োজন হয় তাদের সমষ্টিকে 'কারণ' বলে এবং প্রত্যেক ঘটনাকে পৃথকভাবে এক একটি 'শর্ত' বলে। কারণের শর্তগুলো দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- সদর্থক শর্ত এবং নঞর্থক শর্ত। যেসব শর্ত উপস্থিত থাকলে কার্য সংঘটিত হয় তাকে সদর্থক শর্ত বলে। কোনো কার্যকে উৎপাদন করতে সদর্থক শর্তাবলির উপস্থিতি এবং নঞর্থক শর্তগুলোর পরোক্ষ অবদান থাকে। সুতরাং বলা যায়, আহসানের রোগাক্রান্ত হওয়ার পেছনে বন্যা, নোংরা পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব প্রভৃতি সদর্থক কারণগুলো দায়ী।
আহসানের রোগাক্রান্ত হওয়ার জন্য সদর্থক শর্তের পাশাপাশি নঞর্থক শর্তগুলোও সমানভাবে দায়ী। কেননা কারণ হলো কতকগুলো শর্তের সমষ্টি এবং শর্ত হলো কারণের এক অপরিহার্য অংশ। কারণের শর্তগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা- 'সদর্থক শর্ত' এবং নঞর্থক শর্ত। যেসব শর্ত উপস্থিত থাকলে কার্য সংঘটিত হয় তাকে সদর্থক শর্ত বলে। কোনো কার্যকে উৎপাদন করতে সদর্থক শর্তাবলির উপস্থিতি না থাকলে এবং নঞর্থক শর্তগুলো উপস্থিত থাকলে ঐ কারণের পক্ষে কার্য উৎপাদন করা সম্ভম্ব নয়। উদ্দীপকে বন্যার কারণে আহসান রোগাক্রান্ত হলো। এখানে রোগাক্রান্ত হওয়া হলো কার্য। কারণ হিসেবে আমরা অনেকগুলো শর্তের উল্লেখ পাই। যথা- বন্যা, নোংরা পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানীয়ের অভাব ইত্যাদি হলো সদর্থক শর্ত, কারণ এগুলোর উপস্থিতিতে আহসান রোগাক্রান্ত হয়েছে। অন্যদিকে, কিছু শর্ত রয়েছে যাদের অনুপস্থিতিতে আহসান রোগাক্রান্ত হয়। যথা সুস্থ পরিবেশ, প্রাথমিক চিকিৎসার পর্যাপ্ততা প্রভৃতি।
Related Question
View Allকোনো কার্যকে ঘটানোর জন্য যে সকল পূর্ববর্তী ঘটনার প্রয়োজন হয় তাদের সমষ্টিকে 'কারণ' বলে।
কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে কোনো ঘটনাকে, সুনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রত্যক্ষণ করাই হলো 'নিরীক্ষণ'। আর কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে গবেষণাগারে যন্ত্রপাতির সাহায্যে উৎপাদিত ঘটনাবলির সুনিয়ন্ত্রিত প্রত্যক্ষণ হলো পরীক্ষণ। পরীক্ষণ এক ধরনের নিরীক্ষণ। পৃথিবীতে অনেক ঘটনা রয়েছে, যেগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়, যেমন- ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি। এগুলো নিরীক্ষণ ব্যতীত পরীক্ষণ করা। যায় না। পরীক্ষণের ক্ষেত্র কেবল গবেষণাগারে কিন্তু নিরীক্ষণের ক্ষেত্র সর্বত্র। এজন্য নিরীক্ষণের ব্যাপকতা পরীক্ষণ থেকে বেশি।
উদ্দীপকে বাঁশঝাড় সম্পর্কে ইকবালের ভাবনা ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণের দিকটি নির্দেশ করা হয়েছে। নিরীক্ষণের মাধ্যমে আমরা অভিজ্ঞতার জগতের নানা বিষয় সম্পর্কে ধারণা লাভ করি। অর্থাৎ বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রাকৃতিক পরিবেশে কোনো ঘটনাকে সুনিয়ন্ত্রিত প্রত্যক্ষণ হলো নিরীক্ষণ। নিরীক্ষণ সব সময় অ-ভ্রান্ত হয় না, ভ্রান্ত নিরীক্ষণও হয়। ভ্রান্ত নিরীক্ষণ বা নিরীক্ষণ জাতীয় অনুপপত্তিকে দুভাগে ভাগ করা হয়। ১. সদর্থক জাতীয় অনুপপত্তি, ২. নঞর্থক জাতীয় অনুপপত্তি। সদর্থক জাতীয় অনুপপত্তি হলো ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। এটি দুই ধরনের- ১. ব্যক্তিগত, ২. সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। বাঁশঝাড় সম্পর্কে ইকবালের ভাবনা ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। কারণ ভ্রান্ত নিরীক্ষণ হলো তাই যা- যখন কোনো বস্তু যেরূপ তাকে সেভাবে না দেখে ভিন্নরূপে দেখা। ইকবাল বাঁশঝাড়কে বাঁশঝাড়রূপে না দেখে ভিন্নরূপ ভূত বলে মনে করে চিৎকার করে। এটি ব্যক্তিগত কারণ নিরীক্ষণে কেবল ব্যক্তিবিশেষের বেলায় প্রযোজ্য দেখা যাচ্ছে যে দুজন একসঙ্গে যাচ্ছেলো কিন্তু ইকবাল 'ভূত' বলে চিৎকার করলেও তামিম সে ভুল করেনি। অর্থাৎ ইকবালের সে ভ্রান্ত ধারণা।
উদ্দীপকে তামিম এবং ইকবাল দুজনেই ভ্রান্ত ধারণা বা ভ্রান্ত নিরীক্ষণের শিকার। তামিমের ভ্রান্ত নিরীক্ষণ ছিল সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ এবং ইকবালের যে ভ্রান্ত নিরীক্ষণ ছিল তা হলো ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ।
নিরীক্ষণ হলো- যা কিছু আমরা প্রত্যক্ষ করি এবং যা কিছুকে আমরা মনের সম্মুখে রাখি। নিরীক্ষণজনিত ভুল হলো ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। কোনো বস্তু বা ঘটনাকে যেভাবে দেখার কথা সেভাবে না দেখে ভিন্নভাবে বা ভুলভাবে দেখা হলো ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। ইকবাল অন্ধকারে বাঁশঝাড় দেখে ভয়ে চিৎকার করে উঠে ভূত ভূত বলে। আসলে সেটি ভূত যে নয়, সেটি বাঁশঝাড় ছিল। তামিম, ইকবালকে সেটাই দেখালো এবং তাঁর ভুল ভাঙালো। ইকবালের এই ভ্রান্ত ধারণা ছিল ব্যক্তিগত। দুজন একসঙ্গে থেকেও ইকবাল বাঁশঝাড়কে ভূত মনে করলেও তামিম তা করেনি। সুতরাং ইকবালের বাঁশঝাড় সম্পর্কে যে ভুল ছিল তা হলো ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। তামিম, ইকবালের ব্যক্তিগত ভুল ভাঙালো কিন্তু সে যে ভুল করলো সেটা হলো সর্বজনীন ভুল। যে ভ্রান্ত নিরীক্ষণ কেবল ব্যক্তিবিশেষের বেলায় নয় বরং সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সেটা মূলত সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। উদ্দীপকে তামিমের মতো প্রায় সবাই বলে যে সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে যার ফলে সন্ধ্যা হয়। সূর্য কখনো পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে না বরং পৃথিবী যেহেতু সূর্যের চারদিকে ঘুরে, সেহেতু একটা সময় আসে যখন পৃথিবীর একটা অংশ সূর্য থেকে আড়াল হয় এবং অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। সুতরাং, তামিম ও ইকবালের ধারণা বা নিরীক্ষণ ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। ইকবালের ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ এবং তামিমের যে ভ্রান্ত নিরীক্ষণ তা হলো সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ।
যা কিছুকে আমরা প্রত্যক্ষ করি এবং যা-কিছুকে আমরা মনের সম্মুখে রাখি তাই হলো নিরীক্ষণ।
পরীক্ষণের সকল ক্ষেত্রে নিরীক্ষণ সম্ভব। নিরীক্ষণ ব্যতীত পরীক্ষণ সম্ভব নয়। কোনো বিষয় বা ঘটনাকে পরীক্ষণ করতে গেলে নিরীক্ষণ করতে হয়। অর্থাৎ পরীক্ষণ নিরীক্ষণের উপর নির্ভরশীল। পরীক্ষক পরীক্ষা কার্য চালাতে গেলে আগে নিরীক্ষণ করতে হয়। নিরীক্ষণ সুষ্ঠু ও নিশ্চিত হলেই কেবল পরীক্ষণকার্য সত্য হয় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!