গৃহ ব্যবস্থাপনার দ্বিতীয় স্তর হলো সংগঠন।
পারিবারিক জীবনে বিভিন্ন রকম কাজ করার জন্য যেসব সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য দ্রব্য ব্যবহার করা হয় সেগুলোই গৃহসামগ্রী হিসেবে পরিচিত। যেমন- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, প্রেসার কুকার ইত্যাদি। এই সামগ্রীগুলো আমাদের কাজ সহজ ও আরামদায়ক করে। উপযুক্তভাবে গৃহসামগ্রী নির্বাচন এবং সঠিক ব্যবহার করতে পারলে আমরা সময় ও শক্তি বাঁচিয়ে অনেক কাজ করতে পারি।
উদ্দীপকে বন্যা তিথিকে বলেছে, পারিবারিক লক্ষসমূহ অর্জনের জন্য আমাদের যে সম্পদ রয়েছে তার সঠিক ব্যবহার করা উচিত। সম্পদের সঠিক ব্যবহারে গৃহ ব্যবস্থাপনার চারটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়। এই চারটি ধাপ হলো-পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন।
লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পনাকে অনুসরণ করে পরবর্তী কাজগুলো করা হয়। এজন্য পরিকল্পনাকে যে কোনো কাজের মূল ভিত্তি বলা হয়। গৃহ ব্যবস্থাপনার দ্বিতীয় স্তর সংগঠন। পরিকল্পনার বিভিন্ন কাজগুলোর সংযোগ সাধন করার নাম সংগঠন। কোন কাজ কীভাবে করলে ভালো হবে, কোথায় করা হবে, কে বা কারা করবে, কী কী সম্পদ ব্যবহার করা হবে এসব বিষয় এ স্তরে ঠিক করা হয়। অর্থাৎ কাজ, কর্মী ও সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করাকে সংগঠন বলে। গৃহ ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর হলো নিয়ন্ত্রণ। গৃহীত পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া ও সংগঠনের বিভিন্ন ধারাকে কার্যকর করে তোলাকে নিয়ন্ত্রণ বলে। মূল্যায়ন গৃহ ব্যবস্থাপনার সর্বশেষ স্তর। যেখানে কাজটি সম্পন্ন হওয়ার পর এর ফলাফল যাচাই করা হয়।
এভাবেই গৃহব্যবস্থাপনার ধাপগুলো অনুসরণের মাধ্যমে পারিবারিক লক্ষ্যসমূহ অর্জন সহজ হয়।
বন্যার সর্বশেষ কথাটি হলো, গৃহ ব্যবস্থাপনায় যে চারটি স্তর রয়েছে তার মধ্যে তৃতীয় স্তরটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গৃহ ব্যবস্থাপনায় তৃতীয় স্তরটি হলো নিয়ন্ত্রণ।
গৃহীত পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া ও সংগঠনের বিভিন্ন ধারাকে কার্যকর করে তোলাকে নিয়ন্ত্রণ বলে।
পরিকল্পনা যত ভালোই হোক, তা যদি বাস্তবায়ন না করা যায় তাহলে কখনোই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে না। নিয়ন্ত্রণ স্তরটি কয়েকটি পর্যায়ে এগিয়ে চলে। এখানে, প্রথম পর্যায়ে কাজে সক্রিয় হওয়াকে বোঝায়। অর্থাৎ, উদ্যোগ নিয়ে কাজটা শুরু করাকে বোঝায়। কী কাজ করতে হবে এবং কীভাবে করতে হবে তা জানা থাকলে কাজ শুরু করা সহজ হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজের অগ্রগতি লক্ষ করা হয়। অর্থাৎ কাজটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা। তৃতীয় পর্যায়ে পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে হয়। কোনো সমস্যা দেখা দিলে গৃহীত পরিকল্পনায় কিছুটা রদবদল করে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাই হলো খাপ খাওয়ানো।
Related Question
View Allসম্পদ হচ্ছে চাহিদা পূরণের হাতিয়ার।
আমাদের অভাব অসীম কিন্তু সম্পদ সীমিত। আমরা আমাদের ইচ্ছে মতো সম্পদ সৃষ্টি করতে পারি না। আবার সম্পদকে ইচ্ছে মতো বাড়াতে বা কমাতে পারি না। সম্পদের এই সীমিত ব্যবহারকেই সম্পদের সীমাবদ্ধতা বলা হয়। একটি পরিবারের সীমিত আয় বা জায়গা ঐ পরিবারের সম্পদের সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে।
রান্নার পূর্বে রহিমার গৃহীত পদক্ষেপগুলো হলো- কাজ করার স্থান ও কাজের সরঞ্জামের পরিবর্তন।
স্থান ও সরঞ্জামের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করলে কাজ সহজে করা যায়। প্রতিটি কাজের একটি নিদিষ্ট স্থান থাকে। সেখানে কাজটি করতে পারলে সময় ও শক্তির অপচয় রোধ হয়।
রান্নাঘরের পাশে খাবার ঘর থাকলে সময় ও শক্তির ব্যয় কম হয়। জিনিসপত্র রান্নাঘর থেকে খাবার ঘরে আনা সুবিধাজনক হয়। আবার প্রত্যেক কাজের সরঞ্জামগুলো নির্ধারিত স্থানে রাখলে কাজের সুবিধা হয় ও সহজেই হাতের কাছে পাওয়া যায়। রহিমার রান্নাঘর থেকে পানির কল দূরে। তাই তিনি বালতিতে পানি ভরে রাখেন। এছাড়া তিনি রান্নার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হাতের নাগালে রাখেন। এভাবেই রহিমা কাজের স্থান ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম একসাথে রাখার মাধ্যমে সময় ও শক্তির অপচয় রোধ করেন।
রহিমা গৃহসম্পদের যথাযথ ব্যবহার করেন- বক্তব্যটি যথার্থ বলে আমি মনে করি।
গৃহের কাজগুলো সম্পাদন করার জন্য যে জিনিসগুলো ব্যবহার করা দরকার তাই হলো গৃহসম্পদ। রহিমা এই সম্পদগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করেন। আমাদের যে কোনো কাজে সীমিত সম্পদ ব্যবহার করতে হয়।
রহিমা স্বল্প আয়ের সংসারের যাবতীয় চাহিদা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পূরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদগুলোর যথাযথ ব্যবহার করেন। রান্নাঘর থেকে পানির চাপকল দূরে বলে তিনি বালতিতে পানি ভরে রাখেন। এতে তার সময় ও শক্তির অপচয় রোধ হয়। এছাড়া তিনি রান্নার জিনিসপত্র মাটির তাকে গুছিয়ে রাখেন। ফলে প্রয়োজনের সময় জিনিসপত্র খুঁজতে হয় না ও সময় সাশ্রয় হয়। তিনি দ্রুত কাজ শেষ করতে পারেন। এতে করে তিনি সন্তানদেরও সময় দিতে পারেন।
এভাবেই রহিমা গৃহসম্পদের যথাযথ ব্যবহার করেন।
গৃহ ব্যবস্থাপনা হলো পারিবারিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য কতগুলো কর্মপদ্ধতির সমষ্টি।
জ্ঞান, দক্ষতা, শক্তি, আগ্রহ ইত্যাদি মানবীয় সম্পদ।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় কারো কোনো বিশেষ কাজের দক্ষতা ও জ্ঞান আছে কিন্তু কাজ করার মনোভাব বা আগ্রহ নেই। তখন কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে না। তাই বলা যায়, মানবীয় সম্পদগুলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
