কোনো বস্তুর তরল অবস্থা থেকে কঠিন অবস্থার বস্তুতে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে শীতলীকরণ বলে।
যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ গলে তরলে রূপান্তরিত হয়, ঐ তাপমাত্রাকে ঐ পদার্থের গলনাঙ্ক বলে। মোমের গলনাঙ্ক ৫৭° সেলসিয়াস বলতে বুঝায়, ৫৭° C তাপমাত্রায় কঠিন মোম তার দৃঢ়তা হারিয়ে গলে তরলে পরিণত হয়।
উদ্দীপকের ৪ অবস্থা হলো পানি এবং A অবস্থা হলো বরফ। অর্থাৎ, পানি থেকে বরফ পাওয়া সম্ভব। নিচে তা বর্ণনা করা হলো-
শীতলীকরণ প্রক্রিয়ায় পানিকে বরফে পরিণত করা যায়। এ পদ্ধতিতে পানিকে এমন একটা পরিবেশে রাখতে হবে যেন পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রার চেয়ে পানির হিমাঙ্কের তাপমাত্রা বেশি থাকে। এর ফলে পানি তার তাপ হারায় এবং এক পর্যায়ে পানির তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে তথা ০° সেলসিয়াসের এর কম হলে কঠিন বরফে পরিণত হয়। কারণ এ তাপমাত্রাতেই পানি বরফ হিসেবে থাকে।
উদ্দীপক মতে,
A, B ও C অবস্থা হলো যথাক্রমে বরফ, পানি এবং বাষ্প। এই অবস্থা তিনটি হলো পানির এটি রূপভেদ। পানি কঠিন অবস্থায় বরফ থাকে। এ অবস্থায় এর তাপমাত্রা ০° C বা হিমাঙ্কের নিচে থাকে। এ বরফকে তাপ দিলে তা গলে তরলে পরিণত হয় অর্থাৎ A অবস্থা থেকে B অবস্থায় পরিণত হয়। আবার প্রাপ্ত তরল তাপের প্রভাবে 100° C তাপমাত্রায় বাষ্পে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে B অবস্থা থেকে C অবস্থায় পরিণত হয়। এ বাষ্পকে পুনরায় ঠাণ্ডা করলে প্রথমে তরলে এবং আরও বেশি ঠান্ডা করলে কঠিন বরফে পরিণত হয়। অর্থাৎ, C থেকে B এ এবং B থেকে A-এ রূপান্তরিত হয়। তাই বলা যায় A (বরফ), B (তরল পানি) ও C (বাম্প) একই পদার্থ পানির তিনটি অবস্থা মাত্র।
Related Question
View Allযা জায়গা দখল করে ও যার ভর আছে তাকেই পদার্থ বলে।
যেসব মৌলিক পদার্থ বিদ্যুৎ ও তাপ সুপরিবাহী নয়, তাদেরকে অধাতু বলে। অধাতুকে আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ করে না। এদেরকে সরু তারে ও পাতে পরিণত করা যায় না। এরা নিম্ন গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট। যেমন- কার্বন, নাইট্রোজেন, সালফার প্রভৃতি অধাতু।
ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রীর ব্যবহৃত পাত্রটির উপাদান হচ্ছে এলুমিনিয়াম। এটি একটি হালকা নীলাভ সাদা ধাতু। এ ধাতুটির ব্যবহারের দিক থেকে অনেক গুরুত্ব রয়েছে। যেমন-
১. এলুমিনিয়াম ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী।
২. ধাতুটি খুব হালকা এবং ভারবহনের ক্ষমতা আছে বলে এর ধাতু সংকরসমূহ উড়োজাহাজ, রেলগাড়ি, মটরগাড়ি, ট্রাম প্রভৃতির অংশ নির্মাণ করতে ব্যবহৃত হয়।
৩. বিদ্যুৎ সুপরিবাহী এবং কপারের তুলনায় সস্তা বলে বৈদ্যুতিক কেবল হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়।
৪. হালকা বহনক্ষম সিড়ি নির্মাণে, বাসনপত্র, চেয়ার, বাক্স প্রভৃতি তৈরিতে এ ধাতু প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়।
৫. এলুমিনিয়ামের পাতলা পাত দিয়ে সিগারেট, চকলেট ও অনেক খাদ্য দ্রব্যের মোড়ক তৈরি করা হয়।
৬. চকচকে বার্নিশ তৈরিতে এলুমিনিয়াম চূর্ণ ব্যবহৃত হয়।
অতএব উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রীর ব্যবহৃত পাত্রটির উপাদানের গুরুত্ব অপরিসীম।
রান্নার ক্ষেত্রে ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রী বেশি সুবিধা পায়।
বিশ্লেষণ: উদ্দীপকে আমরা পাই, ফজলুল হক সাহেবের মা মাটির চুলায় মাটির পাতিলে রান্না করেন। অপরদিকে তার স্ত্রী গ্যাসের চুলায়এলুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করেন। ফজলুল হক সাহেবের মা মাটির চুলায় রান্না করার কারণে তিনি কম সুবিধা পান। কারণ, মাটি তাপ কুপরিবাহী বলে এর মধ্য দিয়ে তাপ চলাচল করে ধীরগতিতে। যার ফলে মাটির চুলায় মাটির পাতিলে রান্না করলে সহজে তাপ পাতিলের জিনিসকে সিদ্ধ করে না। এতে তার অনেক বেশি জ্বালানি খরচ করতে হয়। তাছাড়া মাটির চুলায় তিনি জ্বালানি হিসেবে যে কাঠ খড়ি ব্যবহার করেন আমরা জানি যে, তার প্রায় ৮৫ ভাগ নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে এলুমিনিয়ামের তাপ পরিবাহকত্ব মাটির তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এলুমিনিয়ামের তৈরি পাত্রে রান্না করলে পাতিলের জিনিস তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়। তাছাড়া এতে গ্যাস ব্যবহারের কারণে জ্বালানিও বেশি খরচ হয় না। ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রী এ সুবিধাগুলো পেয়ে থাকেন, যা তার মা পায় না। তাই বলা যায়, রান্নার ক্ষেত্রে ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রী তার মায়ের চেয়ে বেশি সুবিধা পায়।
যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ ফুটতে শুরু করে এবং বাষ্পে রূপান্তরিত হয়, তাই ঐ তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক।
কোনো বস্তুর তাপ পরিবহনের ক্ষমতাকে ঐ বস্তুর তাপ পরিবাহিতা বলে। যেমন, কাচের চেয়ে লোহা দ্রুত তাপ পরিবহন করে। তাই লোহার তাপ পরিবাহিতা বেশি, কাচের তাপ পরিবাহিতা লোহার চেয়ে কম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
