বরযাত্রী হয়ে এসেছেন অজয় ঠাকুর। দেখতে খুবই সহজ-সরল মনে হয়। কিন্তু তার একটা দোষ আছে, তিনি যেখানে যে বিয়েতে যান উসকানিমূল্ক কথা বলে কন্যাপক্ষ ও বরপক্ষের মধ্যে ঝগড়া বাধিয়ে দেন। আজ নিজের নাতির বিয়েতেও এর নড়চড় হলো না। কন্যাপক্ষের গেটে আসতে একটু দেরি হওয়ায় তাদেরকে ছোটলোক বলে গালি দিলেন। বললেন আগে জানলে এই ছোট জাতের ঘরে নাতিকে বিয়ে করাতাম না। এটা নিয়ে ছোটখাটো একটা হট্টগোল হয়ে যায়।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

সন্ধ্যাঠাকুরাণীকে দিয়ে অনেক বুঝিয়ে মল্লিকা ফুলকে ঘোমটা খোলানোর জন্য রাজি করানো হয়েছিল।

মল্লিকা ফুলকে ভ্রমররাজ ঘটক হয়ে দেখতে এলে কিছুতেই সে ঘোমটা খুলতে চায়নি। সন্ধ্যাঠাকুরাণী এসে অনেক বুঝিয়ে, ভালোবেসে, উৎসাহ দিয়ে ঘোমটা খুলতে বলেছে। সে ঘোমটা না খুললে বর আসবে না বলে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। অবশেষে সন্ধ্যার স্নিগ্ধ স্বভাবে মুগ্ধ হয়ে ঘোমটা খুলতে রাজি হয় মল্লিকা ফুল।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের অজয় ঠাকুরের সঙ্গে 'ফুলের বিবাহ' গল্পের পিঁপড়ার সাদৃশ্য রয়েছে।

আমাদের সমাজে এমন কিছু চরিত্র আছে যারা মোসাহেব প্রকৃতির। তাদের কাজকর্ম বড় বিচিত্র। একে অন্যের সম্পর্কের মাঝে বিষ ছড়ানোই তাদের কাজ। গোপনে অথবা প্রকাশ্যে সব জায়গায় তারা তাদের কাজটি নিপুণভাবে করে থাকে।

উদ্দীপকের অজয় ঠাকুরের কাজ হলো অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানো। তুচ্ছ ঘটনাকে বড় করে বিবাদ বাধানোর মধ্যেই সে আনন্দ খুঁজে পায়। নিজের নাতির বিয়েতেও তিনি নিজের চরিত্রের স্বরূপ প্রকাশ করেন। কন্যাপক্ষের সামান্য ত্রুটিতে তাদেরকে ছোটলোক বলে গালি দেন। 'ফুলের বিবাহ' গল্পেও এরূপ চরিত্র দেখা যায় পিঁপড়ার মাঝে। তারা বিয়েতে এসে কোনো ভালো দিক দেখার আগেই ভাবে কীভাবে এখান থেকে ভুল বের করা যায়। সেই ভুল বের করে তারা নানা সমালোচনা করার চেষ্টা করে। তারা সব বরযাত্রীতে থাকে এবং সর্বদা কোনো না কোনো বিবাদ বাধায়। মূলত এই পিঁপড়া কিংবা অজয় ঠাকুর দুই-ই আমাদের সমাজের সেই চরিত্র-যারা ভালোর মধ্যেও মন্দকে খুঁজে বের করে বিবাদ সৃষ্টি করে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

"উদ্দীপকটি 'ফুলের বিবাহ' রচনার সম্পূর্ণ বিষয়কে ধারণ করতে পারেনি।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

বিয়ের অনুষ্ঠানে সব সময় উসকানিমূলক কিছু চরিত্রের সমাগম লক্ষ করা যায়। এদেরকে কেউ মানুক বা না মানুক, সব জায়গায় তাদের নাক গলাতে দেখা যায়। এরা মানুষের মাঝে অহেতুক তিলকে তাল বানিয়ে বিবাদ সৃষ্টি করে বিকৃত আত্মসুখ অনুভব করে। তবে এ বিষয়টি ছাড়াও বিয়ের অন্য অসংখ্য দিক রয়েছে যেগুলো বাঙালিরা পালন করে থাকে।

উদ্দীপকে অজয় ঠাকুর বরপক্ষের লোক হয়ে এসেছেন নিজের নাতির বিয়েতে। অথচ সেখানেও হট্টগোল বাধানোর মূল হোতা তিনি।

কন্যাপক্ষের সামান্য ভুলকে অনেক বড় বানিয়ে হট্টগোল বাধিয়ে দেন। উদ্দীপকের এই বিষয়টি 'ফুলের বিবাহ' গল্পেও ফুটে উঠেছে। অশোকের সঙ্গে একপাল পিঁপড়া মোসাহেব হয়ে আসে যাদের গুণ নেই কিন্তু খুব দাঁতের জ্বালা। তবে এ দিকটি ছাড়া যৌতুকপ্রথা, বিয়ের অনুষ্ঠান, বিভিন্ন রীতি, গুরুজনদের রসিকতা, ঘটকের উপস্থিতি ইত্যাদি বিষয় 'ফুলের বিবাহ' গল্পকে পূর্ণাঙ্গতা দিয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে মাত্র একটি দিকই প্রকাশিত হয়েছে।
'ফুলের বিবাহ' গল্পের বিষয়বস্তুর পরিসর ব্যাপক। আর এ ব্যাপক পরিসরের একটি ক্ষুদ্র দিক হলো উসকানিমূলক চরিত্র, যেটি উদ্দীপকেও ফুটে উঠেছে। আর তাই এ কথা বলা যায় যে, উদ্দীপকটি 'ফুলের বিবাহ' গল্পের আংশিক প্রতিফলন মাত্র।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
108

বৈশাখ মাস বিবাহের মাস। আমি ১লা বৈশাখে নসী বাবুর ফুলবাগানে বসিয়া একটি বিবাহ দেখিলাম । ভবিষ্যৎ বরকন্যাদিগের শিক্ষার্থ লিখিয়া রাখিতেছি।
মল্লিকা ফুলের বিবাহ। বৈকাল-শৈশব অবসানপ্রায়, কলিকা-কন্যা বিবাহযোগ্যা হইয়া আসিল । কন্যার পিতা বড়োলোক নহে, ক্ষুদ্র বৃক্ষ, তাহাতে আবার অনেকগুলি কন্যাভারগ্রস্ত। সম্বন্ধের অনেক কথা হইতেছিল, কিন্তু কোনটা স্থির হয় নাই। উদ্যানের রাজা স্থলপদ্ম নির্দোষ পাত্র বটে, কিন্তু ঘর বড়ো উঁচু, স্থলপদ্ম অত দূর নামিল না। জবা এ বিবাহে অসম্মত ছিল না, কিন্তু জবা বড়ো রাগী, কন্যাকর্তা পিছাইলেন । গন্ধরাজ পাত্র ভালো, কিন্তু বড়ো দেমাগ, প্রায় তাঁহার বর পাওয়া যায় না। এইরূপ অব্যবস্থার সময়ে ভ্রমররাজ ঘটক হইয়া মল্লিকা-বৃক্ষসদনে উপস্থিত হইলেন। তিনি আসিয়া বলিলেন, ‘গুণ ! গুণ ! গুণ মেয়ে আছে?'
মল্লিকাবৃক্ষ পাতা নাড়িয়া সায় দিলেন, ‘আছে!' ভ্রমর পত্রাসন গ্রহণ করিয়া বলিলেন, ‘গুণ গুণ গুণ! গুণ গুণাগুণ! মেয়ে দেখিব।'
বৃক্ষ, শাখা নত করিয়া মুদিতনয়না অবগুণ্ঠনবতী কন্যা দেখাইলেন ।
ভ্রমর একবার বৃক্ষকে প্রদক্ষিণ করিয়া আসিয়া বলিলেন, ‘গুণ্ ! গুণ! গুণ ! গুণ দেখিতে চাই। ঘোমটা খোল ৷
লজ্জাশীলা কন্যা কিছুতেই ঘোমটা খুলে না। বৃক্ষ বলিলেন, ‘আমার মেয়েগুলি বড়ো লাজুক। তুমি একটু অপেক্ষা কর, আমি মুখ দেখাইতেছি।'

ভ্রমর ভোঁ করিয়া স্থলপদ্মের বৈঠকখানায় গিয়া রাজপুত্রের সঙ্গে ইয়ারকি করিতে বসিলেন। এদিকে মল্লিকার সন্ধ্যাঠাকুরাণী-দিদি আসিয়া তাহাকে কত বুঝাইতে লাগিল— বলিল, “দিদি, একবার ঘোমটা খোল– নইলে, বর আসিবে না – লক্ষ্মী আমার, চাঁদ আমার, সোনা আমার, ইত্যাদি ।' কলিকা কতবার ঘাড় নাড়িল, কতবার রাগ করিয়া মুখ ঘুরাইল, কতবার বলিল, 'ঠান্‌দিদি, তুই যা !' কিন্তু শেষে সন্ধ্যার স্নিগ্ধ স্বভাবে মুগ্ধ হইয়া মুখ খুলিল। তখন ঘটক মহাশয় ভোঁ করিয়া রাজবাড়ি হইতে নামিয়া আসিয়া ঘটকালিতে মন দিলেন। কন্যার পরিমলে মুগ্ধ হইয়া বলিলেন, ‘গুণ গুণ গুণ গুণ গুণাগুণ ! কন্যা গুণবতী বটে । ঘরে মধু কত?’
কন্যাকর্তা বৃক্ষ বলিলেন, 'ফর্দ দিবেন, কড়ায় গণ্ডায় বুঝাইয়া দিবে।' ভ্রমর বলিলেন, ‘গুণ গুণ, আপনার অনেক গুণ — ঘটকালিটা?'
কন্যাকর্তা শাখা নাড়িয়া সায় দিল, 'তাও হবে।'
ভ্রমর— 'বলি ঘটকালির কিছু আগাম দিলে হয় না?' নগদ দান বড়ো গুণ-গুণ গুণ গুণ ।’ ক্ষুদ্র বৃক্ষটি তখন বিরক্ত হইয়া, সকল শাখা নাড়িয়া বলিল, আগে বরের কথা বল— বর কে?’ ভ্রমর— ‘বর অতি সুপাত্র।— তাঁর অনেক গুণ-- ণ।'
এ সকল কথোপকথন মনুষ্যে শুনিতে পায় না, আমি কেবল দিব্য কর্ণ পাইয়াই এ সকল শুনিতেছিলাম । আমি শুনিতে লাগিলাম, কুলাচার্য মহাশয়, পাখা ঝাড়িয়া, ছয় পা ছড়াইয়া গোলাবের মহিমা কীর্তন করিতেছিলেন। বলিতেছিলেন যে, গোলাব বংশ বড়ো কুলীন; কেন না, ইহারা ‘ফুলে’ মেল। যদি বল, সকল ফুলই ফুলে, তথাপি গোলাবের গৌরব অধিক; কেন না, ইহারা সাক্ষাৎ বাঞ্ছামালির সন্তান; তাহার স্বহস্তরোপিত । যদি বল, এ ফুলে কাঁটা আছে, কোন্ কুলে বা কোন্ ফুলে নাই ?
যাহা হউক, ঘটকরাজ কোনরূপে সম্বন্ধ স্থির করিয়া, বোঁ করিয়া উড়িয়া গিয়া, গোলাব বাবুর বাড়িতে খবর দিলেন। গোলাব, তখন বাতাসের সঙ্গে নাচিয়া নাচিয়া, হাসিয়া হাসিয়া, লাফাইয়া লাফাইয়া খেলা করিতেছিল, বিবাহের নাম শুনিয়া আহ্লাদিত হইয়া কন্যার বয়স জিজ্ঞাসা করিল। ভ্রমর বলিল, ‘আজি কালি ফুটিবে।'
গোধূলি লগ্ন উপস্থিত, গোলাব বিবাহে যাত্রার উদ্‌যোগ করিতে লাগিলেন । উচ্চিঙ্গড়া নহবৎ বাজাইতে আরম্ভ করিল ; মৌমাছি সানাইয়ের বায়না লইয়াছিল, কিন্তু রাতকানা বলিয়া সঙ্গে যাইতে পারিল না। খদ্যোতেরা ঝাড় ধরিল ; আকাশে তারাবাজি হইতে লাগিল। কোকিল আগে আগে ফুকরাইতে লাগিল। অনেক বরযাত্রী চলিল; স্বয়ং রাজকুমার স্থলপদ্ম দিবাবসানে অসুস্থকর বলিয়া আসিতে পারিলেন না, কিন্তু জবাগোষ্ঠী— শ্বেত জবা, রক্ত জবা, জরদ জবা প্রভৃতি সবংশে আসিয়াছিল । করবীদের দল, সেকেলে রাজাদিগের মতো বড়ো উচ্চ ডালে চড়িয়া আসিয়া উপস্থিত হইল । সেঁউতি নীতবর হইবে বলিয়া, সাজিয়া আসিয়া দুলিতে লাগিল। গরদের জোড় পরিয়া চাঁপা আসিয়া দাঁড়াইল – উগ্র গন্ধ ছুটিতে লাগিল। গন্ধরাজেরা বড়ো বাহার দিয়া, দলে দলে আসিয়া, গন্ধ বিলাইয়া দেশ মাতাইতে লাগিল। অশোক নেশায় লাল হইয়া আসিয়া উপস্থিত; সঙ্গে একপাল পিপড়া মোসায়েব হইয়া আসিয়াছে; তাহাদের গুণের সঙ্গে সম্বন্ধ নাই, কিন্তু দাঁতের জ্বালা বড়ো- কোন বিবাহে না এরূপ বরযাত্রী জোটে, আর কোন বিবাহে না তাহারা হুল ফুটাইয়া বিবাদ বাধায়? কুরুবক কুটজ প্রভৃতি আরও অনেক বরযাত্রী আসিয়াছিলেন, ঘটক মহাশয়ের কাছে তাঁহাদের পরিচয় শুনিবেন। সর্বত্রই তিনি যাতায়াত করেন এবং কিছু কিছু মধু পাইয়া থাকেন ।
আমারও নিমন্ত্রণ ছিল, আমিও গেলাম। দেখি, বরপক্ষের বড়ো বিপদ। বাতাস বাহকের বায়না লইয়াছিলেন; তখন হুঁ-হুম করিয়া অনেক মর্দানি করিয়াছিলেন, কিন্তু কাজের সময় কোথায় লুকাইলেন, কেহ খুঁজিয়া পায় না। দেখিলাম, বর বরযাত্রী, সকলে অবাক হইয়া স্থিরভাবে দাঁড়াইয়া আছেন। মল্লিকাদিগের কুল যায় দেখিয়া, আমিই বাহকের কার্য স্বীকার করিলাম। বর, বরযাত্রী সকলকে তুলিয়া লইয়া মল্লিকাপুরে গেলাম ।
সেখানে দেখিলাম, কন্যাকুল, সকল ভগিনী, আহ্লাদে ঘোমটা খুলিয়া মুখ ফুটাইয়া, পরিমল ছুটাইয়া, সুখের হাসি হাসিতেছে। দেখিলাম, পাতায় পাতায় জড়াজড়ি, গন্ধের ভাণ্ডারে ছড়াছড়ি পড়িয়া গিয়াছে —রূপের ভারে সকলে ভাঙিয়া পড়িতেছে। যূথি, মালতী, বকুল, রজনীগন্ধা প্রভৃতি এয়োগণ স্ত্রী-আচার করিয়া বরণ করিল । দেখিলাম, পুরোহিত উপস্থিত; নসী বাবুর নবমবর্ষীয়া কন্যা (জীবন্ত কুসুমরূপিণী) কুসুমলতা সূচ সুতা লইয়া দাঁড়াইয়া আছে; কন্যাকর্তা কন্যা সম্প্রদান করিলেন; পুরোহিত মহাশয় দুইজনকে এক সূতায় গাঁথিয়া গাঁটছড়া বাঁধিয়া দিলেন ।
তখন বরকে বাসর-ঘরে লইয়া গেল। কত যে রসময়ী মধুময়ী সুন্দরী সেখানে বরকে ঘিরিয়া বসিল, তাহা কি বলিব। প্রাচীনা ঠাকুরাণীদিদি টগর সাদা প্রাণে বাঁধা রসিকতা করিতে করিতে শুকাইয়া উঠিলেন । রঙ্গণের রাঙ্গামুখে হাসি ধরে না। যুই, কন্যের সই, কন্যের কাছে গিয়া শুইল; রজনীগন্ধাকে বর তাড়কা রাক্ষসী বলিয়া কতো তামাসা করিল; বকুল একে বালিকা, তাতে যত গুণ, তত রূপ নহে; এককোণে গিয়া চুপ করিয়া বসিয়া রহিল; আর ঝুমকা ফুল বড়ো মানুষের গৃহিণীর মতো মোটা নীল শাড়ি ছড়াইয়া জমকাইয়া বসিল । তখন—
‘কমলকাকা—ওঠ বাড়ি যাই- রাত হয়েছে, ও কি, ঢুলে পড়বে যে?' কুসুমলতা এই কথা বলিয়া আমার গা ঠেলিতেছিল; – চমক হইলে, দেখিলাম কিছুই নাই। সেই পুষ্পবাসর কোথায় মিশিল? – মনে - করিলাম, সংসার অনিত্যই বটে— এই আছে এই নাই। সে রম্য বাসর কোথায় গেল, – সেই হাস্যমুখী শুভ্রস্মিতসুধাময়ী পুষ্পসুন্দরীসকল কোথায় গেল? যেখানে সব যাইবে, সেইখানে— স্মৃতির দর্পণতলে, ভূতসাগরগর্ভে। যেখানে রাজা প্রজা, পর্বত সমুদ্র, গ্রহ নক্ষত্রাদি গিয়াছে বা যাইবে, সেইখানে – ধ্বংসপুরে! এই বিবাহের ন্যায় সব শূন্যে মিশাইবে, সব বাতাসে গলিয়া যাইবে । কুসুম বলিল, “ওঠ না— কি কচ্চো?
আমি বলিলাম, ‘দূর পাগলি, আমি বিয়ে দিচ্ছিলাম।'

কুসুম ঘেঁষে এসে, হেসে হেসে কাছে দাঁড়াইয়া আদর করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “কার বিয়ে, কাকা ?” আমি বলিলাম, ‘ফুলের বিয়ে।'
‘ওঃ পোড়া কপাল, ফুলের? আমি বলি কি! আমিও যে এই ফুলের বিয়ে দিয়েছি।'
'কই?'
‘এই যে মালা গেথেঁছি ।' দেখিলাম, সেই মালায় আমার বর কন্যা রহিয়াছে।

 

Related Question

View All
উত্তরঃ

ক্ষুদ্র বৃক্ষটি ভ্রমর বা ঘটকের কথা শুনে বিরক্ত হয়েছিল।

মল্লিকা ফুলের বিয়ে দেওয়ার জন্য কন্যাকর্তা বৃক্ষ যখন উপযুক্ত পাত্রের সন্ধান করছিল তখন ঘটকের আগমন ঘটে। ঘটক কন্যাকে দেখে পছন্দ করে জিজ্ঞাসা করল মধুর কথা। ক্ষুদ্র বৃক্ষ বলে, ফর্দ দিবেন, সব বুঝিয়ে দেবে। সে ঘটকালিটার খরচও দিতে রাজি হলো। কিন্তু বরের কোনো খোঁজখবর না দিয়েই ঘটকালির খরচ যখন আগাম চাইল তখন ক্ষুদ্র বৃক্ষটি বিরক্ত হলো।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
1.1k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের মৌরির ভালোলাগার বিষয় অর্থাৎ ফুল-ফলগাছের সমারোহের বিষয়টি 'ফুলের বিবাহ' গল্পের ফুলগাছ ও ফুলের সমাহারের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

পৃথিবীতে বিভিন্ন রকম ফুল ফোটে। ফুলগুলোয় গন্ধের তারতম্য রয়েছে। সেগুলোর বিভিন্ন রকম নামও লক্ষ করা যায়। শুধু তাই নয়, পৃথিবীতে বহু ফলগাছও রয়েছে। এসব ফুল ও ফলগাছের সমারোহ মানুষকে আনন্দিত করে।

উদ্দীপকের মৌরি একদিন তার বাবার কাছে বায়না ধরে বোটানিক্যাল গার্ডেনে বেড়াতে যাওয়ার। সেখানে গিয়ে সে নানা জাতের ফুল-ফলের গাছের সমারোহ দেখে অভিভূত হয়। দীর্ঘদিন যেসব ফুল-ফলের নাম শুনেছে সেগুলো আজ নিজ চোখে দেখে সে খুবই আনন্দিত হয়। সে বাড়ির আঙিনায় ছোট্ট একটি বাগান করার সিদ্ধান্ত নেয়। তার এই ভালো লাগার বিষয়টি 'ফুলের বিবাহ' গল্পেও খানিকটা খুঁজে পাওয়া যায়। এই গল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ফুলগাছ ও ফুলের পরিচয় জানা যায়। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের মৌরির ভালোলাগা 'ফুলের বিবাহ' গল্পের ফুলগাছ ও ফুলের সমারোহের দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
628
উত্তরঃ

"মৌরির মাঝে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াই যেন ফুলের বিবাহ' গল্পের মূল চেতনা।"- মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।

প্রকৃতির উপাদান বৃক্ষ-লতার অকৃত্রিম দান ফুল। ফুল তার বিচিত্র বর্ণ, গন্ধের সমারোহে সবাইকে মুগ্ধ করে। মানুষ ফুল খুব পছন্দ করে। প্রকৃতি বর্ণবৈচিত্র্যে সেজে ওঠে।

উদ্দীপকের মৌরি বাবার সাথে বোটানিক্যাল গার্ডেনে বেড়াতে গিয়ে ফুলের সমারোহ দেখে অভিভূত হয়। যেসব ফুলের নাম এতদিন সে শুনেছে, আজ নিজ চোখে সেগুলো দেখে খুবই আনন্দিত হয়েছে। সে অবশেষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাড়ির আঙিনায় ছোট বাগান করার জন্য। 'ফুলের বিবাহ' গল্পে লেখক ফুলের যে বর্ণনা দিয়েছেন তা থেকে ফুলের প্রতি লেখকের মুগ্ধতা সম্পর্কে জানতে পারি। প্রতিটি ফুলের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী লেখক গল্পে সেগুলোর চরিত্র চিত্রণ করেছেন। ফুল যে শুধু ঘর সাজানো বা ব্যবহারের জন্য নয়, বরং তার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মুগ্ধতা, লেখক তাই প্রকাশ করেছেন।


উদ্দীপকে মৌরি ফুল দেখে মুগ্ধ হয়েছে এবং ফুলের প্রতি তার ভালোবাসা জন্মেছে। লেখক 'ফুলের বিবাহ' গল্পে ফুলের মুগ্ধতার বিষয়টির প্রতিই আলোকপাত করেছেন। তাই বলা যায়, মৌরির মাঝে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াই 'ফুলের বিবাহ' গল্পের মূল চেতনা।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
288
উত্তরঃ

'ফুলের বিবাহ' গল্পটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থের অন্তর্গত।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
325
উত্তরঃ

কন্যাকর্তা কন্যা সম্প্রদান করিলেন- বাক্যটি দ্বারা অভিভাবক হিসেবে মল্লিকাবৃক্ষ গোলাবের হাতে মল্লিকা-কলিকে সম্প্রদান করাকে বোঝানো হয়েছে।

'ফুলের বিবাহ' গল্পের লেখক নসীবাবুর বাগানে দিব্যকর্ণ প্রাপ্ত হয়ে মল্লিকা-কলির সাথে গোলাবের বিয়ের লঘু বিষয়কে উপস্থাপন করেছেন। মানবসমাজের প্রচলিত বিবাহ অনুষ্ঠানের অনুরূপ কল্পনায় উদ্ভাসিত হয়েছে রচনাটি। এখানে মল্লিকাবৃক্ষ কন্যাভারগ্রস্ত পিতা। গোলাবের বংশীয় গৌরবে মুগ্ধ হয়ে ঘরাজ ভ্রমরের কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে মল্লিকাবৃক্ষ তার পরিপুষ্ট কলিকে গোলাবের হাতে সম্প্রদান করে। আলোচ্য বাক্যটি দ্বারা এ বিষয়টিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
241
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews