বর্ণনামূলক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Updated: 8 months ago
উত্তরঃ

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাটি, পানি ও জলবায়ুর ভিন্নতা রয়েছে। মাটি, পানি ও জলবায়ুর ভিত্তিতে সমগ্র বাংলাদেশকে ৩০ টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এ ৩০টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলকে আবার ৫টি বৃহত্তর অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।

উত্তরঃ

বন্যা পানিজনিত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বাংলাদেশে চার ধরনের বন্যা হয়ে থাকে। যথা-
১. ঢল বন্যা,
২. বৃষ্টিজনিত বন্যা,
৩. নদীবাহিত বন্যা ও
৪.উপকূলীয় ঝড়-জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা।

উত্তরঃ

বাংলাদেশে অঞ্চলভেদে বৃষ্টিপাতের যথেষ্ট তারতম্য হয়ে থাকে। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১১০০ মিলিমিটার থেকে ৪৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ বৃষ্টিপাতের প্রায় ৯০ শতাংশ এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে হয়ে থাকে। শীতকালে অতি সামান্য বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দেশের পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে। শীতকালে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত বায়ুতে তেমন জলীয় বাষ্প থাকে না। ফলে তেমন বৃষ্টিপাত হয় না। অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে (এপ্রিল-আগস্ট) দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত মৌসুমি বায়ুতে যথেষ্ট জলীয় বাষ্প থাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। তাছাড়া মার্চ-এপ্রিল মাসে উত্তর পশ্চিম দিক থেকে হঠাৎ ঝড় ও ঘূর্ণিঝড় হতে দেখা যায়। এটি কালবৈশাখী ঝড় নামে পরিচিত। এ ঝড়ের সাথে প্রায়ই শিলাবৃষ্টি হয়ে থাকে।

উত্তরঃ

কোনো স্থানের ২৫-৩০ বছরের আবহাওয়ার গড়কে সেই স্থানের জলবায়ু বলে। নিচে জলবায়ুর উপাদানগুলোর বর্ণনা দেওয়া হলো-

১ . সৌরবিকিরণ: পৃথিবীতে সব শক্তির উৎস হলো সৌরশক্তি। সৌরবিকিরণ পৃথিবী পৃষ্ঠকে উষ্ণ করে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়া পানির বাষ্পীভবন, বায়ুর গতিশীলতা, মেঘমালা সৃষ্টি ইত্যাদি সৌরবিকিরণের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হয়।

২. বায়ুপুঞ্জ: বায়ুপুঞ্জের উৎস স্থানের উপরও কোনো স্থানের আবহাওয়া ও জলবায়ু নির্ভর করে। যেমন- শীতল মেরু বায়ুপুঞ্জের আগমনে শীতকালে কানাডার জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয়।

৩. বায়ুচাপ প্রক্রিয়া: বায়ুচাপের হ্রাস-বৃদ্ধি বৃষ্টিপাতের মৌসুমকে প্রভাবিত করে। বায়ুচাপ হ্রাস পেলে সাইক্লোন, মেঘ-বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ে। বায়ুচাপ বাড়লে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করে।

৪. সমুদ্রস্রোত: সমুদ্রস্রোত উপকূলবর্তী অঞ্চলের তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতকে নিয়ন্ত্রণ করে। বায়ু প্রবাহিত হয়ে এলে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত কমে। স্রোত উষ্ণ হলে দুটোই বাড়ে।

৫. ভূমিবন্ধুরতা: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কোনো স্থানের উচ্চতা ঐ স্থানের জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে। উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা, বায়ুর চাপ কমে।

উত্তরঃ

কৃষিকাজ আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপর নির্ভরশীল। কৃষি উৎপাদন আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহ দ্বারা প্রভাবিত হয়। নিচে কৃষিকাজে আবহাওয়া ও জলবায়ুর গুরুত্ব আলোচনা করা হলো-

১. ফসল চাষ : বাংলাদেশে সারা বছর নানা ধরনের ফসল জন্মে। বিভিন্ন ফসলের জন্য বিভিন্ন ধরনের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা বিদ্যমান থাকে। মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে গ্রীষ্মকালে এ দেশে প্রচুর ধান, পাট, শাকসবজি, ফলমূল জন্মে। অন্যদিকে শীতকালীন জলবায়ুর প্রভাবে নানা প্রকার ডাল, তৈলবীজ, শাকসবজি, মসলা ইত্যাদি রবি শস্য জন্মে। সুতরাং কৃষি উৎপাদনে জলবায়ুর প্রভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে দৈনন্দিন কৃষিকাজ আবহাওয়ার উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হয়। যেমন- বৃষ্টি হলে জমি চাষ করা যায় না, আবার রোপা আমন রোপণের জমি তৈরির জন্য বৃষ্টির প্রয়োজন।

২. মাছ চাষ: বাংলাদেশে মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। ফলে নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর-ডোবা ইত্যাদি পানিতে ভরে যায়। এসব জলাশয়ে প্রচুর মাছ উৎপাদিত হয়। মাছের উৎপাদন ও বংশবিস্তারে মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৩. গৃহপালিত পশু-পাখি: বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ইত্যাদি গৃহপালিত পশু-পাখি পালনের উপযোগী। পশু-পাখির খাদ্যের জন্য এদেশে বিভিন্ন 'ধরনের ঘাস, লতা, গুল্ম প্রচুর পরিমাণে জন্মে। যার পেছনে আবহাওয়া ও জলবায়ু সুস্পষ্ট প্রভাব বিদ্যমান।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত ধরনটি হলো বাংলাদেশের কৃষি পরিবেশিক অঞ্চল। এরকম তিনটি কৃষি পরিবেশিক অঞ্চলের নাম হলো-
১. পুরাতন হিমালয় পাদদেশীয় সমভূমি অঞ্চল।
২. গঙ্গার জোয়ার-ভাটা প্লাবিত ভূমি অঞ্চল।
৩. উত্তরাঞ্চলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য অঞ্চল।

উত্তরঃ

ফসল উৎপাদনের জন্য বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, বাতাসের আর্দ্রতা, বায়ুর চাপের দৈনন্দিন অবস্থাকে কৃষি আবহাওয়া বলে।

উত্তরঃ

কোনো স্থানের ২৫-৩০ বছরের আবহাওয়ার গড়কে সেই স্থানের জলবায়ু বলে। জলবায়ু ধীরে পরিবর্তনশীল, যা মাটির গুণাবলিতে প্রভাব ফেলে।

উত্তরঃ

জলবায়ুর ২টি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. জলবায়ু ধীরে পরিবর্তনশীল।
২. জলবায়ু মাটির গুণাবলিতে প্রভাব ফেলে।

উত্তরঃ

রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে আগামী কয়েকদিনের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, আকাশ কেমন থাকবে, বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা আছে কী না ইত্যাদি আরহাওয়া সম্পর্কিত বিষয়াদি সম্পর্কে যে আগাম পূর্বাভাস ঘোষণা করা হয় তাকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলে।

উত্তরঃ

বায়ু চাপের হ্রাস-বৃদ্ধি হ্রাস-বৃদ্ধি বৃষ্টিপাতের মৌসুমকে প্রভাবিত করে। বায়ু চাপ হ্রাস পেলে সাইক্লোন, মেঘ-বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ে। বায়ু চাপ বাড়লে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করে।

উত্তরঃ

নানাবিধ কারণে বর্তমানে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো অস্বাভাবিক আচরণ করছে। আবহাওয়া ও জলবায়ুর এ অস্বাভাবিক আচরণের কারণে কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে।

উত্তরঃ

আধুনিক যুগে মানুষের ভোগ-বিলাসী জীবনযাপনের কারণে গ্রিন হাউজ গ্যাসের নির্গমন বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন শিল্পকারখানা, যানবাহন, গৃহকার্যে জৈব জ্বালানি পোড়াতে হয়। এসব উৎস থেকে বাতাসে গ্রিন হাউজ গ‍্যাসের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। এ অতিরিক্ত গ্রিন হাউজ' গ্যাসের নির্গমন জলবায়ু পরিবর্তনের একটি অন্যতম কারণ।

উত্তরঃ

শীতপ্রধান দেশে দামী সবজি, ফল উৎপাদনের জন্য যে কাচের ঘর ব্যবহার করা হয় সেটা হল গ্রিন হাউস। এ ঘরের তাপমাত্রা বাইরে থেকে গরম থাকে যা ঐসব ফসলের জন্য অনুকূল। এ কাচ ঘরে যে আলো প্রবেশ করে তা বাইরে বের হতে পারে না। বরং দুর্বল হয়ে তাপ উৎপাদন করে। আর এভাবেই গ্রিন হাউস গরম থাকে।

উত্তরঃ

জমি চাষের সঙ্গে বৃষ্টিপাতের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। সময়মতো বৃষ্টিপাত না হলে জমি চাষ বা বীজবপন কোনোটাই ঠিক সময়ে করা সম্ভব হয় না। ফসল চাষে সময়মতো ও পরিমাণমতো বৃষ্টিপাত সংঘটিত না হলে প্রয়োজনীয় রসের অভাবে জমি চাষ দেওয়া সম্ভব হয় না।

উত্তরঃ

বায়ুতে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে। বায়ুর আর্দ্রতা মূলত জলীয় বাষ্প নির্ভর। বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত জলাশয় এবং উদ্ভিদ থেকে জলীয় বাষ্পের সৃষ্টি হয়। জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বাকাশে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে 'মেঘ এবং মেঘ থেকে বৃষ্টিতে পরিণত হয়। সুতরাং বাতাসের আর্দ্রতার জন্যই বৃষ্টিপাত হয়।

উত্তরঃ

সব এলাকায় সব ফসল জন্মায় না। ফসল জন্মানো নির্ভর করে নির্দিস্ট এলাকায় বিরাজমান পরিবেশের ওপর। আর কোনো এলাকায় কোন ধরনের ফসল জন্মাতে পারে তা সহজে জানার উপায় হলো কৃষি পরিবেশভিত্তিক জ্ঞান। তাই এলাকাভিত্তিক কৃষি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক কৃষি পরিবেশ জানা দরকার।

উত্তরঃ

শুষ্ক মৌসুমে ক্রমাগত ২০ দিন বা এর বেশি দিন ধরে কোনো বৃষ্টিপাত না হলে তাকে খরা বলে। খরার ফলে মাটিতে ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় রসের ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে ফসলের ফলন কমে যায়।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে পাহাড়ের পাদদেশ অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যাকে ঢল বন্যা বলে। হঠাৎ করে এপ্রিল ও মে মাসে সীমান্তে পাহাড়ি ঢলের কারণে এ বন্যা সৃষ্টি হয়। এ বন্যার পানি কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। হাওর এলাকার বোরো ধান পাকার সময় প্রায়ই ঢল বন্যায় ফসলহানি হয়ে থাকে।

উত্তরঃ

আবহাওয়া বলতে কোনো স্থানের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ, সূর্যকিরণ, বায়ুর চাপ, কুয়াশা প্রভৃতির দৈনিক সামগ্রিক অবস্থাকে বোঝায়। অন্যদিকে কোনো স্থানের ২০-২৫ বছরের আবহাওয়ার গড়কে সে স্থানের জলবায়ু বলা হয়। জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে নির্দিষ্ট স্থানের অক্ষাংশ, সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে উচ্চতা, সমুদ্র হতে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, সমুদ্রস্রোত, পাহাড় ও গাছপালার ওপর। জলবায়ু কৃষি উৎপাদনের ওপর যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে। তাই কোনো স্থানের জলবায়ু সম্পর্কে জানতে হলে সে স্থানের আবহাওয়া সম্পর্কে জানতে হয়।

উত্তরঃ

ফসলসহ যাবতীয় কৃষিকার্য সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে মৌসুমি জলবায়ুর ওপর। বিভিন্ন ফসলের জন্য বিভিন্ন ধরনের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার প্রয়োজন হয়। মৌসুমি জলবায়ুর কারণে গ্রীষ্মকালীন গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিপাতের প্রভাবে ধান, পাট, চা এবং বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি ও ফলমূল উৎপন্ন হয়। আবার শীতকালীন জলবায়ুর প্রভাবে নানা প্রকার ডাল, তেলবীজ, শাকসবজি, আলু, পেঁয়াজ প্রভৃতি রবিশস্য প্রচুর পরিমাণে জন্মে। তাছাড়া অধিক, বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার কারণে সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় চা ও রাবার উৎপন্ন হয়। বিপরীতভাবে মৌসুমি জলবায়ুর বিরূপ কারণে অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টিসহ অতি শীতও মাঝে মাঝে লক্ষ করা যায়। ফলে দেশে বন্যা, খরা, শৈত্যপ্রবাহসহ নানা প্রকার আবহাওয়াজনিত বিপর্যয় দেখা দেয়। এর ফলশ্রুতিতে ফসল বিভিন্ন রোগবালাই ও বন্যা, খরার কবলে পতিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

উত্তরঃ

আবহাওয়ার উপাদান বসতে সে সকল উপাদানকে বোঝায় যাদের পরিবর্তনের ভিত্তিতে কোনো স্থানের বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার পরিবর্তন সূচিত হয়। আবহাওয়ার এমন উপাদানগুলো হলো-

১. বারিপাত: বায়ুমণ্ডল থেকে ভূপৃষ্ঠে পতিত পানিকে বারিপাত বলে। বৃষ্টি, তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি, কুয়াশা, শিশির ইত্যাদি বারিপাতের অন্তর্ভুক্ত।

২. তাপমাত্রা: কোনো স্থানে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কত গরম বা ঠাণ্ডা, তাই তাপমাত্রা।

৩. বায়ুর গতি: কোনো স্থানে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বাতাস কত বেগে প্রবাহিত হচ্ছে, তাই বায়ুর গতি।

৪. বায়ুর দিক: বাতাস কোন দিক থেকে কোন দিকে প্রবাহিত হচ্ছে, সেটাই বায়ুর দিক।

৫. বায়ুর আর্দ্রতা: বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে।

৬. বায়ুর চাপ: ভূপৃষ্ঠের উপর বায়ু যে বল প্রয়োগ করে, তাকে বায়ুর চাপ বলে।

৭. মেঘমালা: আকাশে মেঘের পরিমাণ।

৮. সূর্যালোক: দিনে কত ঘণ্টা সূর্যের আলো পাওয়া যায় তার পরিমাণকে সূর্যালোক বলে।

উত্তরঃ

আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-

আবহাওয়া

জলবায়ু

১. আবহাওয়া দৈনিক পরিবর্তনশীল।১. জলবায়ু ধীরে পরিবর্তনশীল।
২. আবহাওয়া অল্প সময়ের পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণের ফলাফল।২. জলবায়ু দীর্ঘ সময়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ফলাফল।
৩. মাটির গুণাবলিতে তেমন প্রভাব ফেলে না।৩. মাটির গুণাবলিতে প্রভাব ফেলে।
৪. স্থানীয় মৌসুমি বায়ু দ্বারা প্রভাবিত হয়।৪. স্থানীয় মৌসুমি বায়ু দ্বারা প্রভাবিত হয় না।
৫. ফসলের উৎপাদন এবং ফলন অনেকাংশে আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে।৫. জলবায়ু অঞ্চলভিত্তিক ফসলের ফলন ও উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে।
উত্তরঃ

নিচে জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল বর্ণনা করা হলো-

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চল ও পর্বতের হিমবাহের বরফ গলা, মরুকরণপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে। ফলে অতিবৃষ্টি, খরা, লবণাক্ততা, বন্যা, বন্যার তীব্রতা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি, অতি গরম, অতি ঠান্ডা ইত্যাদি দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে।

উত্তরঃ

পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা ও বিপর্যয় প্রতিরোধ যেসব পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তা হলো-
১. গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন রোধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. শিল্প-কারখানা ও যানবাহন থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গমন বন্ধে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
৩. যানবাহনে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করতে হবে।
৪. বনভূমির পরিমাণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সর্বত্র বনায়ন কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
৫. ধনী দেশগুলো গরিব দেশগুলোকে সহায়তা প্রদান করবে।
৬. সৌর, পানি ও বায়ু শক্তির ব্যবহারের ওপর জোড় দিতে হবে।
৭ . সিএফসি (ক্লোরোফ্লোরোকার্বন) এর সস্তা বিকল্প আবিষ্কার করা এবং সিএফসি এর ব্যবহার বন্ধ করা।
৮. ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে তোলা।

78

কৃষিকাজ আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপর নির্ভরশীল। আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানের পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে ফসল চাষ, মাছ চাষ ও গৃহপালিত পশু-পাখি পালনের উপর। আবার জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা, ঘুর্ণিঝড় ইত্যাদি দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে। আমরা এ অধ্যায়ে আবহাওয়া ও জলবায়ুর ধারণা, উপাদানসমূহ এবং কৃষিকাজে এর প্রভাব ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানব। পাশাপাশি বাংলাদেশের কৃষি পরিবেশ অঞ্চলগুলো কী, কী? বাংলাদেশের বৃষ্টিপাত, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস প্রবণ অঞ্চলগুলো সম্পর্কেও জানব।

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা -

  • কৃষি কার্যক্রমে আবহাওয়া ও জলবায়ুর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারব।
  • আবহাওয়া ও জলবায়ুর ভিত্তিতে কৃষি পরিবেশ অঞ্চল চিহ্নিত করতে পারব।
  • বাংলাদেশের মানচিত্রে কম বৃষ্টি, বেশি বৃষ্টি, বন্যাপ্রবণ, জলোচ্ছ্বাসপ্রবণ অঞ্চল চিহ্নিত করতে পারব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

কোনো স্থানের ২৫-৩০ বছরের আবহাওয়ার গড়কে সেই স্থানের জলবায়ু বলে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
10 months ago
120
উত্তরঃ

জমি চাষের সঙ্গে বৃষ্টিপাতের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। সময়মতো বৃষ্টিপাত না হলে জমি চাষ বা বীজবপন কোনোটাই ঠিক সময়ে করা সম্ভব হয় না। ফসল চাষে সময়মতো ও পরিমাণমতো বৃষ্টিপাত সংঘটিত না হলে প্রয়োজনীয় রসের অভাবে জমি চাষ দেওয়া সম্ভব হয় না।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
10 months ago
266
উত্তরঃ

কোয়েল যে ফসলের বীজ বপন করেছিল তার নাম সরিষা, আর যে মৌসুমে বীজগুলো বপন করেছিল সেটি ছিল খরিফ ঋতুর চৈত্র মাস। প্রকৃতপক্ষে সরিষা হলো রবি ঋতুর ফসল। আর বীজ বপনের উপযুক্ত সময় হল আশ্বিন-কার্তিক মাস। সরিষা চাষের জন্য কম তাপমাত্রা, কম বৃষ্টিপাত, শুষ্ক আবহাওয়া, বাতাসের কম আর্দ্রতা এবং ছোট দিনের প্রয়োজন হয়, যা রবি মৌসুমে বিরাজ করে। কিন্তু চৈত্র মাসে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে যায়। দিনের দৈর্ঘ্য বেড়ে যায়, ঝড়ো বাতাস ও শিলাবৃষ্টি হয়। আবহাওয়ার এসব অবস্থা সরিষা চাষের জন্য সম্পূর্ণ প্রতিকূল। আবহাওয়ার এ প্রতিকূলতায় সরিষার চারাগুলো টিকে থাকতে পারে নি বলে মরে গেছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
10 months ago
160
উত্তরঃ

কৃষিকাজ ও শস্যের উৎপাদন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর নির্ভর করে। সব ফসল বছরের সব সময় হয় না। তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, দিনের আলোর দৈর্ঘ্য ইত্যাদির তারতম্যের কারণেই বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন শস্য জন্মে। আর এসব বিবেচনা করে সারা বছরকে দুটি কৃষি মৌসুমে ভাগ করা হয়েছে। যথা- ১. রবি ঋতু ও ২. খরিফ ঋতু।

রবি ঋতুতে বৃষ্টিপাত কম হয়, আবহাওয়া শুষ্ক ও তাপমাত্রা কম থাকে। পক্ষান্তরে খরিপ মৌসুমে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও দিনের দৈর্ঘ্য বেড়ে যায়। অধিকাংশ সময়ে আকাশ মেঘলা থাকে। রবি মৌসুমে গম, সরিষা, মূলা, ফুলকপি, ডাল, তামাক, টমেটো, লাউ ইত্যাদি ভালো জন্মে। খরিপ ঋতুতে ধান, পাট, ভুট্টা, কাউন, তিল, মাষকালাই, মুগ ইত্যাদি ভালো জন্মে। এ দু মৌসুমের কোনো ফসলকে যদি নির্দিষ্ট মৌসুম বাদ দিয়ে অন্য মৌসুমে চাষ করা হয় তবে তা জন্মাবে না। যদি কোনোভাবে জন্মায়ও তবে ফলন হবে না। তাই ফসল চাষ করতে হলে নির্দিষ্ট ফসলের মৌসুম সম্পর্কে জ্ঞান থাকা একান্ত প্রয়োজন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
10 months ago
169
উত্তরঃ

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এপ্রিল থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে হয়ে থাকে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
10 months ago
449
উত্তরঃ

বায়ুতে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে। বায়ুর আর্দ্রতা মূলত জলীয় বাষ্প নির্ভর। বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত জলাশয় এবং উদ্ভিদ থেকে জলীয় বাষ্পের সৃষ্টি হয়। জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বাকাশে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে মেঘ এবং মেঘ থেকে বৃষ্টিতে পরিণত হয়। সুতরাং বাতাসের আর্দ্রতার জন্যই বৃষ্টিপাত হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
10 months ago
307
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews