কৃশা গৌতমীর উপদেশ আমাদের জীবনে মূল্যবান শিক্ষা দেয়। তিনি শিখিয়েছেন যে, দুঃখ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে তা থেকে হতাশ না হয়ে জ্ঞান ও সত্যের পথে এগিয়ে যেতে হবে। তাঁর উপদেশ আমাদের বোঝায়, সৎ মানুষের সান্নিধ্য জীবনে আলোকিত পরিবর্তন আনে। সৎ ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্ব করলে জ্ঞান বৃদ্ধি পায়, মন শান্ত থাকে এবং মূর্খ, ব্যক্তিও জ্ঞানী হয়ে উঠতে পারে। তাঁদের অনুসরণ করলে চতুরার্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ হয়, যা দুঃখ থেকে মুক্তির পথ দেখায়। কৃশা গৌতমীর উপদেশ আমাদেরকে সত্য, ন্যায়, জ্ঞান ও মুক্তির পথে পরিচালিত করে।
বুদ্ধের যখন ৫৫ বছর বয়স, তখন তাঁর স্থায়ী সেবক পদের জন্য এক ধর্মসভায় আনন্দের নাম প্রস্তাব করা হয়। আনন্দ ৮টি শর্তে বুদ্ধের প্রধান সেবক হতে রাজি হন। শর্তগুলো নিম্নরূপ:
১. বুদ্ধ নিজের প্রাপ্ত চীবর আনন্দকে দিবেন না।
২. বুদ্ধ নিজের প্রাপ্ত পিন্ড বা অন্ন আনন্দকে দিবেন না।
৩. বুদ্ধ যে গন্ধকুটিতে অবস্থান করেন সেখানে আনন্দকে থাকতে বলবেন না।
৪. বুদ্ধ যেন আনন্দের গৃহীত নিমন্ত্রণে গমন করেন।
৫. বুদ্ধকে কেউ বিশেষভাবে নিমন্ত্রণ করলে সেখানে যেন আনন্দকে নিয়ে না যান।
৬. আনন্দের মাধ্যমে কেউ বুদ্ধের সাক্ষাৎপ্রার্থী হলে বুদ্ধ যেন তাকে সাক্ষাৎ প্রদান করেন।
৭. ধর্ম সম্পর্কে জানার জন্য তিনি যেকোনো সময় বুদ্ধের সঙ্গে দেখা করতে পারেন।
৮. আনন্দের অনুপস্থিতিতে বুদ্ধ কোনো ধর্মদেশনা করলে তা যেন আনন্দকে পরে বলেন।
কৃশা গৌতমী তাঁর একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে গভীর -শোকে পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছিলেন। তিনি মৃত সন্তানকে কোলে নিয়ে বুদ্ধের কাছে যান, যেন বুদ্ধ তাকে আবার জীবিত করে দেন। বুদ্ধ শান্তভাবে তাঁকে বলেন- "তুমি এমন একটি ঘরে যাও, যেখানে কেউ কখনো মারা যায়নি, সেখান থেকে একমুঠো সরিষা নিয়ে এসো।" কৃশা গৌতমী ঘরে ঘরে ঘুরে দেখলেন, এমন ঘর পৃথিবীতে নেই যেখানে কেউ মারা যায়নি। তখন তিনি বুঝতে পারলেন মৃত্যু সার্বজনীন সত্য। এই উপলব্ধির মাধ্যমে তাঁর শোক দূর হলো। বুদ্ধ তাঁর মনকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করলেন এবং তাঁকে দুঃখের সত্যতা উপলব্ধি করিয়ে শান্তি দিলেন।
রাজা বিম্বিসার ছিলেন গৌতম বুদ্ধের শ্রদ্ধাভাজন অনুসারী ও বৌদ্ধধর্মের প্রথম দানশীল রাজা। তিনি বুদ্ধের উপদেশে প্রভাবিত হয়ে জীবনে শান্তি, মৈত্রী ও ন্যায়ের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেন। বুদ্ধ ও ভিক্ষুসংঘের জন্য তিনি বেণুবন উদ্যান দান করেন। য়া প্রথম বৌদ্ধ বিহার হিসেবে পরিচিত হয়। তিনি ধর্ম প্রচার ও ভিক্ষুসংঘের সেবার জন্য চিকিৎসক জীবককে নিয়োগ দেন। রাজগৃহ থেকে বৈশালী পর্যন্ত পথ সংস্কার করে বুদ্ধের যাতায়াতের সুবিধা করেন এবং স্থানে স্থানে বিশ্রামাগার নির্মাণ করেন। তাঁর পরামর্শেই গৃহীদের মাঝে উপোস পালনের ব্যবস্থা শুরু হয়। রাজা বিম্বিসার যুদ্ধবিরোধী নীতি গ্রহণ করে মৈত্রী ও কল্যাণের মাধ্যমে রাজ্য শাসন করতেন। ধর্ম, শান্তি ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদান রৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
আদর্শ জীবনচরিত পাঠ করে আমি জীবনের সত্যিকারের মূল্য ও উদ্দেশ্য উপলব্ধি করেছি। এতে আমি শিখেছি কীভাবে' সততা, ধৈর্য, পরিশ্রম ও ন্যায়নিষ্ঠা দিয়ে জীবন পরিচালনা করতে হয়। আনন্দ থের'র জীবন থেকে সেবার মানসিকতা ও বিনয়ের শিক্ষা পেয়েছি। কৃশা গৌতমীর জীবন থেকে আমাকে দুঃখে হতাশ না হয়ে সত্য অনুসন্ধানে দৃঢ় থাকতে অনুপ্রাণিত করেছে। আর রাজা বিম্বিসারের জীবন থেকে দান, মৈত্রী ও অন্যের কল্যাণে কাজ করার গুরুত্ব জেনেছি। এসব জীবনী আমাকে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল, সত্যবাদী ও দায়িত্বশীল হতে উৎসাহ দিয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, আমি বুঝেছি আদর্শ জীবনযাপনই মানুষকে প্রকৃত অর্থে মহান করে তোলে।
আনন্দ থের ছিলেন গৌতম বুদ্ধের একনিষ্ঠ সেবক ও প্রধান শিষ্য। তিনি দীর্ঘ সময় বুদ্ধের সান্নিধ্যে থেকে তাঁর অসংখ্য ধর্মদেশনা মনোযোগ দিয়ে শুনেছিলেন। তাঁর স্মৃতিশক্তি ছিল অসাধারণ। বুদ্ধের বলা প্রতিটি বাণী তিনি হুবহু মুখস্থ রাখতে পারতেন। তাই তাকে বলা হয়, 'স্মৃতিধর' অর্থাৎ তিনি স্মৃতিতে সবকিছু ধারণ করতেন। বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের পর প্রথম সংগীতিতে আনন্দ খের সমস্ত সূত্রপিটককে আবৃত্তি করে বুদ্ধবাণী সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ধর্ম সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞান ও নিখুঁত স্মৃতির কারণে তাঁকে বলা হয় 'ধর্মভান্ডারিক' অর্থাৎ ধর্মভান্ডারের রক্ষক। তাঁর এ অবদান বৌদ্ধধর্মে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
আদর্শ জীবন পাঠ করলে মানুষের চরিত্র গঠন হয় এবং নৈতিক গুণের বিকাশ ঘটে। এ পাঠ মানুষকে দুঃখের মধ্যে ধৈর্য ও সাহস ধরে রাখতে শেখায়। এটি সত্য ও ন্যায় পথে চলার প্রেরণা দেয়। আদর্শ জীবন মানুষকে সেবা, ভালোবাসা ও পরোপকারের মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এতে করুণাবোধ, সততা ও ন্যায়পরায়ণতার চর্চা বৃদ্ধি পায়। রাজা বিম্বিসারের জীবনী যেমন দান ও পরের কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়, তেমনি আনন্দ ঘের'র জীবনী আমাদের বিনয়ী হতে শেখায়। আদর্শ জীবন মানুষকে অকুশল কর্ম থেকে বিরত রাখে। এসব গুণ অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষ মহৎ হয়ে ওঠে।
Related Question
View Allথের-থেরী বলতে ভিক্ষু-ভিক্ষুণীকে বোঝায়।
বুদ্ধত্ব লাভের পর বুদ্ধধর্ম প্রচারের জন্য ভিক্ষুসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন।
সুদেশক, জ্ঞানী ও পণ্ডিত ভিক্ষু হিসেবে আনন্দ থের'র সুখ্যাতি ছিল।
কৃশা গৌতমী মৃত পুত্রের জন্য বুদ্ধের কাছে ঔষধ চাইলেন।
আনন্দ থের'র জীবনী আমাদের করতে সেবা। শেখায়।
বৌদ্ধদের ইতিহাসে প্রথম বৌদ্ধ বিহার হলো অমিতোদন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!