অমলের জায়গায় আমি হলেও ঠিক তার মতোই জীবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করার চেষ্টা করতাম। এর কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো-
- আমি তৎক্ষণাৎ অসহায় বিড়ালছানাটিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করতাম।
- নিজের স্কুলব্যাগ একপাশে রেখে বিপন্ন প্রাণীটিকে জল-কাদা থেকে তুলে আনতাম।
- প্রাণীটি যাতে ঠান্ডায় মারা না যায়, সেজন্য তার গা মুছিয়ে দিতাম।
- বিড়ালছানাটিকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য নিজের বাড়িতে নিয়ে আসতাম এবং মায়ের ওপর তার সেবার দায়িত্ব দিতাম।
- স্কুলে দেরি হলেও সত্য কথা বলে শিক্ষক ও বন্ধুদের জীবসেবার গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করতাম।
জীবসেবাই ঈশ্বরসেবা' কথাটির ব্যাখ্যা নিচে পাঁচটি বাক্যে
লেখা হলো-
১. ঈশ্বর জগতের সকল কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যেই প্রকাশিত হন।
২.সকল জীবের মধ্যে ঈশ্বর আত্মারূপে বিরাজ করেন, তাই জীবকে সেবা করলে পরোক্ষভাবে ঈশ্বরকেই সেবা করা হয়।
৩.মা যেমন তার সন্তানের প্রতি ভালোবাসায় খুশি হন, তেমনি সৃষ্টির সেবা করলে স্রষ্টাও প্রসন্ন হন।
৪.মানুষ যখন জীবের প্রতি সদয় হয়, তখন ঈশ্বরও সেই মানুষের প্রতি সদয় হন।
৫.সৃষ্টিকে ভালোবাসা ও সেবা করাই হলো ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত ভক্তি ও ভালোবাসা প্রকাশের সহজতম পথ।
বালক শ্রীকৃষ্ণের বাল্যকাল ছিল মধুর চপলতা ও জীবে দয়ায় পূর্ণ। তাঁর কাছে প্রতিবেশী শিশুদের মতো বন্য প্রাণীরাও ছিল খেলার সাথি। তিনি প্রায়ই ঘরের খাবার নিয়ে পশু-পাখিদের সাথে ভাগাভাগি করে খেতেন। একবার ক্ষুধার্ত বানরদের ননী খাইয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, সকল জীবের প্রতি তাঁর ভালোবাসা অপরিসীম। মা যশোদা প্রথমে রাগ করলেও পরে ছেলের এই মহৎ জীবসেবা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন।
শীতের সকালে অমল স্কুলে যাওয়ার পথে একটি গর্তে পড়ে থাকা বিড়ালছানাকে উদ্ধার করে। ছানাটি জল-কাদায় মাখামাখি হয়ে ঠান্ডায় মরতে বসেছিল। অমল তার স্কুলব্যাগ রেখে পরম মমতায় বিড়ালটিকে টেনে তোলে এবং তার গা মুছিয়ে বাড়িতে নিয়ে যায়। স্কুলে দেরি করে পৌঁছালেও শিক্ষক যখন তার এই মানবিক কাজের কথা শোনেন, তখন তিনি অমলকে বাহবা দেন। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, ছোটোদের মনেও জীবের প্রতি অসীম মমতা থাকতে পারে।
ঈশ্বর এই মহাবিশ্বের সকল কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি প্রতিটি - জীবের মধ্যে আত্মারূপে বিদ্যমান। মা যেমন তাঁর সন্তানকে কেউ ভালোবাসলে খুশি হন, ঈশ্বরও তেমনি তাঁর, সৃষ্টিকে ভালোবাসলে সন্তুষ্ট হন।
- সৃষ্টির সেবা করাই হলো স্রষ্টাকে পাওয়ার সহজ পথ।
- জীবকে কষ্ট দিয়ে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করা অসম্ভব।
জীবকে কষ্ট দিয়ে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করা অসম্ভব। যিনি জীবের প্রতি সদয় হন, ঈশ্বরও তাঁর প্রতি কৃপা বর্ষণ করেন। তাই প্রকৃত ধার্মিক হতে হলে প্রতিটি জীবকে শ্রদ্ধা ও সেবা করা একান্ত প্রয়োজন।
অপর্ণা নিজে মাটি ও কাপড় দিয়ে পুতুল বানায় এবং সেই সৃষ্টিকে সে ভীষণ ভালোবাসে। কেউ তার পুতুলকে যত্ন করলে সে যেমন আনন্দিত হয়, ঈশ্বরও ঠিক তেমনই তাঁর সৃষ্টিকে কেউ ভালোবাসলে প্রসন্ন হন।
- ঈশ্বর হলেন পরম শিল্পী বা স্রষ্টা।
- আমরা সবাই তাঁর হাতের সৃষ্টি।
সৃষ্টির প্রতি আমাদের ভালোবাসা আসলে স্রষ্টার প্রতি আমাদের ভক্তিরই বহিঃপ্রকাশ। এই সাদৃশ্যের মাধ্যমেই ঈশ্বর ও জীরের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
জীবের প্রতি দয়া করা একটি মহৎ গুণ, যা মানুষের নৈতিক চরিত্রকে উন্নত করে। এর মাধ্যমে নিচের গুণগুলো ফুটে ওঠে-
- সহমর্মিতা: অন্যের কষ্ট অনুভব করার ক্ষমতা।
- নিঃস্বার্থ সেবা: কোনো প্রতিদান ছাড়াই প্রাণিকুলের উপকারের মানসিকতা।
- অহিংসা: কোনো জীবকে আঘাত না করার সংকল্প।
এই গুণগুলো মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের স্বর্গীয় আলোকপাত ঘটায়। যারা জীবের প্রতি সদয়, তারা সমাজে আদর্শ মানুষ হিসেবে পরিচিতি পায়।
Related Question
View Allশ্রীকৃষ্ণের বাল্যকাল ছিল অনেক মধুর চপলতায় ভরা।
ঈশ্বর তাঁর প্রত্যেক সৃষ্টিকে ভালোবাসেন 1
সৃষ্টিকে ভালোবাসলে ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পায়।
যিনি জীবের প্রতি সদয় ঈশ্বরও তার প্রতি সদয় হন।
সহমর্মিতা মানুষের অন্যতম নৈতিকগুণ।
শ্রীকৃষ্ণের বাল্যকাল ছিল অনেক মধুর চপলতায় ভরা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!