ভাষার দাবিতে যারা শহিদ হন তাদেরকে ভাষাশহিদ বলা হয়। চারজন ভাষাশহিদের পরিচয় নিচে দেওয়া হলো-
১. ভাষাশহিদ আবদুস সালাম ১৯২৫ সালে ফেনী জেলার লক্ষ্মণপুর গ্রামে (বর্তমানে সালাম নগর) জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মুনশি আবদুল ফাজেল ও মা দৌলতের নেছা।
২. ভাষাশহিদ আবুল বরকত: ১৯২৭ সালে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার বাবলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সামসুজ্জোহা এবং মা হাসিনা বিবি।
৩. ভাষাশহিদ রফিক উদ্দিন আহমদ: ১৯২৬ সালে মানিকগঞ্জ জেলার পারিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আবদুল লতিফ ও মা রাফিজা খাতুন।
৪. ভাষাশহিদ আবদুল জব্বার ১৯১৯ সালে ময়মনসিংহজেলার পাঁচয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম হচ্ছেন আলী ও মা সাফাতুন নেছা।
শহিদ দিবস কবে? দিবসটি আমাদের জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ কেন? দিবসটি সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য লেখ
২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস। দিবসটি বাংলা ভাষার অধিকার আদায়ের স্বীকৃতি দিয়েছে বলে এটি আমাদের জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। শহিদ দিবস সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য হলো-
১. শহিদ দিবসটি ভাষা দিবস হিসেবে পরিচিত।
২. দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
৩. দিবসটি আমাদের অধিকার আদায়ে প্রেরণা যোগায়।
৪. এ দিবসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়।
৫. এ দিবসে আমরা শহিদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাই।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে এ দেশের সর্বস্তরের জনগণ যে যুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করেছিল তাই মুক্তিযুদ্ধ। বাংলাদেশকে পাকিস্তানের অধীনতা থেকে মুক্ত করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের কয়েকটি ফলাফল হলো-
১. মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি।
২. একটি মানচিত্র পেয়েছি।
৩. এর মাধ্যমে একটি জাতীয় সংগীত পেয়েছি।
৪. মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটি নিজস্ব পতাকা পেয়েছি।
৫. স্বাধীন জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বের দরবারে পরিচিতি পেয়েছি।
৬. আমরা আমাদের অধিকার প্রয়োগের ক্ষমতা পেয়েছি।
আগামী বিজয় দিবসে আমি যা যা করতে চাই তার একটি তালিকা হলো-
১. মুক্তিযুদ্ধে নিহত. প্রায় ৩০ লক্ষ শহিদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতে চাই।
২. বাবা-মায়ের সাথে প্যারেড গ্রাউন্ডে গিয়ে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ দেখতে চাই।
৩. বন্ধুদের সাথে বিজয় দিবসের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করতে চাই।
৪. বিজয় দিবস উপলক্ষে বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট খেলে আনন্দ উদযাপন করতে চাই।
৫. কোনো একজন মুক্তিযোদ্ধাকে উপহার দিতে চাই এবং তার কাছে বিজয়ের গল্প শুনতে চাই।
৬. পরিবারের সাথে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চাই।
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ভাষা আন্দোলন হয়েছিল।
পাকিস্তানের জনসংখ্যার বেশিরভাগ লোকই ছিল বাঙালি। বাঙালিদের মাতৃভাষা বাংলা। বাঙালিরা পূর্ব পাকিস্তানে বাস করত। কিন্তু পাকিস্তানের শাসকরা পশ্চিম পাকিস্তানের উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি করে। এ সময় বাংলা ভাষার দাবিতে অনেকেই গ্রেফতার হন। কিছুদিন পরই পাকিস্তানের গভর্নর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সভায় উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন। ছাত্রসমাজ সরাসরি তার প্রতিবাদ করে। এ প্রতিবাদের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ভাষা আন্দোলন হয়েছিল।
২১শে ফেব্রুয়ারি আমাদের শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আমরা বিদ্যালয়ে এ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করব। এজন্য আমরা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারি। যেমন-
১. শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভোরবেলা খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশগ্রহণ করব।
২. প্রভাতফেরিতে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানটি গাইব।
৩. শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাব।
৪. এ দিবসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখব।
৫. বিদ্যালয়ে মিলাদ মাহফিল, অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান, চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদির আয়োজন করব।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View All১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়
পাকিস্তান দুটি ব অংশে বিভক্ত ছিল।
পাকিস্তানের জনসংখ্যার বেশিরভাগ লোকই ছিল বাঙালি ।
বাঙালিদের মাতৃভাষা বাংলা ।
বাঙালিরা পূর্ব পাকিস্তানে বাস করত।
পাকিস্তানের শাসকেরা পশ্চিম পাকিস্তানের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!