দধীচি মুনি সম্পর্কে আমার ধারণা নিচে পাঁচটি বাক্যে লেখা হলো-
১. দধীচি মুনি ছিলেন ত্যাগের প্রতিমূর্তি।
২. তিনি শিবের উপাসনা করতেন।
৩. তিনি সবসময় জীবের মঙ্গল চিন্তা করতেন এবং জীবের দুঃখ কষ্ট দূর করার জন্য শিবের নিকট প্রার্থনা করতেন।
৪. দেবতাদের উপকারের জন্য তিনি যোগবলে দেহত্যাগ করেন।
৫. তিনি তাঁর আত্মত্যাগের দ্বারা পৃথিবীতে অমর হয়ে আছেন।
বৃত্রাসুর ছিল এক পরাক্রমশালী অসুর। সে কঠোর তপস্যা করে শিবের বর লাভ করে। বরটি ছিল কোনো অস্ত্রেই তার মৃত্যু হবে না। বর লাভ করে সে পৃথিবী দখল করে ফেলে। এরপর একদিন সে স্বর্গরাজ্য আক্রমণ করল। যুদ্ধে স্বর্গরাজ ইন্দ্র পরাজিত হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হলো। এরপর বৃত্রাসুর স্বর্গের রাজা হলো।
দেবতাদের উদ্দেশ্যে দধীচি মুনির উক্তিটি নিচে নিজের ভাষায় লেখা হলো-
দধীচি মুনি দেবতাদের বলেছিলেন, এই দেহ একদিন না একদিন সকলকেই ত্যাগ করতে হবে। যদি আমার এই দেহ আপনাদের কল্যাণে কাজে আসে তবে আমি নিজেকে ধন্য মনে করব। আপনাদের দুঃখ দূর করতে পারলে আমার জীবন সার্থক হবে।
ত্যাগ একটি নৈতিক ও মানবিক গুণ। ধর্মেরও অঙ্গ। ত্যাগ হলো নিজের স্বার্থ না দেখে অন্যের স্বার্থ দেখা। কেবল নিজের চিন্তা না করে অন্যের ভালোর জন্য কাজ করা।
ত্যাগের সঙ্গে ধর্মের গভীর সম্পর্ক রয়েছে, কারণ সব ধর্মই মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে অন্যের উপকার করতে শেখায়। সত্যিকারের ধর্ম সেই, যা মানুষকে ত্যাগ ও পরোপকারের সাথে পরিচালিত করে।
ঘোষযাত্রায় স্থানীয় বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে, ওঠার প্রধান কারণ ছিল কৌরবদের অতিরিক্ত জাঁকজমকপূর্ণ এবং বিশৃঙ্খল উপস্থিতি। দুর্যোধনরা বিপুল সংখ্যক সৈন্য সামন্ত, হাতি-ঘোড়া এবং মূল্যবান অলংকার পরে সেখানে গিয়ে আমোদ-প্রমোদ করতে লাগলেন। তাঁদের এই বিপুল সমাঙ্গ ও বিলাসবহুল কার্যকলাপ স্থানীয় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ ও বিঘ্ন সৃষ্টি করে। এর ফলেই স্থানীয় বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে।
যুধিষ্ঠির দুর্যোধনকে রক্ষা করতে তাঁর চার ভাইকে আদেশ দেন কারণ তিনি উদার ও ন্যায়পরায়ণ ছিলেন। তাঁর মতে, দুর্যোধন তাদের জ্ঞাতি ভাই, তাই বিপদে তাকে সাহায্য করা কর্তব্য। যদিও চরম শত্রু কুচক্রী দুর্যোধনই তাদের বনরাস ও দুঃখ-কষ্টের কারণ, যুধিষ্ঠির তবুও প্রতিশোধ না নিয়ে উদারতার পরিচয় দেন।
যুধিষ্ঠিরের উদারতা দেখে দুর্যোধন তাঁর কাছে ক্ষমা চাইলেন। কেননা তিনি বুঝতে পারলেন, যাঁদের তিনি সর্বদা কষ্ট দিয়েছেন, সবসময় বিপদে ফেলেছেন তাঁরাই তাকে বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন। তাই দুর্যোধন যুধিষ্ঠিরের কাছে ক্ষমা চাইলেন। যুধিষ্ঠিরও তাঁকে হাসিমুখে ক্ষমা করলেন।
শিকাগোতে অনুষ্ঠিত, বিশ্বধর্ম মহাসভায় দেওয়া স্বামী বিবেকানন্দের বক্তব্য নিজের ভাষায় লেখা হলো-
"আমি আমার ধর্মকে নিয়ে গর্বিত, কারণ আমার ধর্ম শেখায় সব ধর্মের মানুষকে বোঝা এবং তাদের সহ্য করা। আমরা শুধু অন্য ধর্মকে সহ্য করি না, বরং বিশ্বাস করি যে, সর্ব ধর্মই সত্য। আমি আরও গর্বিত, কারণ আমার দেশ এমন একটি দেশ, যেখানে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বাস করতে পারে এবং একে অপরকে সম্মান দেয়।"
বিদ্যালয়ে আমরা নিচের কাজগুলো করার সময় পরমতসহিষ্ণুতা অনুশীলন করতে পারি-
১. শ্রেণিকক্ষে আলোচনা বন্ধু ও শিক্ষকের মত শুনে শান্তভাবে গ্রহণ করা।
২.দলের কাজ বা প্রকল্প: দলবদ্ধ কাজ করার সময় সবাইকে সুযোগ দেওয়া, কারও মত উপেক্ষা না করা।
৩.রিরোধ মীমাংসা বন্ধুদের সঙ্গে মতভেদ হলে শান্তভাবে কথাবার্তা বলার মাধ্যমে সমাধান করা।
৪.সামাজিক অনুষ্ঠান ও উৎসব: ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির শিক্ষার্থীদের রীতি-নীতি ও আচরণকে সম্মান করা।
৫.নিয়ম ও শৃঙ্খলা মানা: সবার জন্য একই নিয়ম প্রয়োগ করা এবং কারো প্রতি অন্যায় আচরণ না করা।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু হলো সেই সব শিশু যারা শারীরিক, মানসিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না। কেউ কেউ চোখে দেখতে পায় না, কেউ কানে শুনতে পায় না, আবার কেউ হাঁটতে বা কথা বলতে পারে না। আবার এমন কিছু শিশু আছে যাদের বয়স বাড়লেও বুদ্ধি বাড়ে না। এসব শিশুদের শেখা ও চলাফেরায় বিশেষ, যত্ন ও সহায়তা প্রয়োজন। ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেলে তারাও সমাজে তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারবে।
সবিতা ছোটো বেলায় পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু তার পরিবার দরিদ্র হওয়ায় যথা সময়ে তার চিকিৎসা করা হয়নি। ফলে সে তার পায়ের স্বাভাবিক নাড়াচাড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং পুরোপুরি পঙ্গু হয়ে যায়।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সাথে আমরা যেমন আচরণ করব তা হলো-
১. তাদের ভালোবাসব।
২. বিভিন্ন কাজে তাদের সহযোগিতা করব।
৩. তাদের সঙ্গে খেলা করব।
৪. বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের নিয়ে অংশগ্রহণ করব।
৫. তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করব।
৬. তাদের আশ্বস্ত করব যে তোমরাও সমস্যা জয় করতে
ত্যাগ হলো নিজের স্বার্থ না দেখে অন্যের স্বার্থ দেখা। এটি একটি, নৈতিক ও মানবিক গুণ এবং ধর্মেরও অঙ্গ। একদিন শীতকালে পার্থ স্কুল থেকে বাড়ি' ফেরার পথে দেখতে পায় একটি দরিদ্র শিশু তীব্র শীতে কাঁপছে। তখন পার্থ নিজের নতুন ও প্রিয় সোয়েটারটি খুলে শিশুটিকে পরতে দেয়। এতে শিশুটি শীত থেকে রক্ষা পায়। এই কাজের মাধ্যমে পার্থ ত্যাগের পরিচয় দিয়েছে।
দধীচি মুনি ও পার্থ উভয়ের মধ্যে নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও মানবিকতার গুণ দেখা যায়। পার্থ নিজের পছন্দের নতুন সোয়েটার ত্যাগ করে দরিদ্র শিশুকে সাহায্য করেছে, আর দধীচি মুনি নিজের জীবন ত্যাগ করে দেবতাদের রক্ষা করেছেন। দুজনেই অন্যের কল্যাণে নিজের সুখ বিসর্জন দিয়েছেন। তাঁদের কাজ আমাদের শেখায় ত্যাগ ও পরোকারই মানবতার মূল
উদার ব্যক্তির গুণ হচ্ছে উদারতা। এটি একটি মহৎ গুণ। উদার ব্যক্তি সম্পর্কে নিচে চারটি বাক্য লেখা হলো-
১. উদার ব্যক্তি অন্যের ভালোর জন্য নিজের স্বার্থ ত্যাগ করেন।
২. দেশের মঙ্গলের জন্য নিজের স্বার্থ ত্যাগ করেন।
৩. তাঁর নিকট সকল মানুষ সমান।
৪. তাঁর নিকূট পৃথিবীর সকলেই আত্মীয়।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে একটি ফুলের বাগান করার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ বড়ো ফুলগাছ আবার কেউ ছোটো ফুলগাছ লাগানোর প্রস্তাব দেয়। শেষে তারা আলোচনা করে দেখে বড়ো গাছ লাগালে শ্রেণিকক্ষ অন্ধকার হয়ে যাবে। তাই সবাই ছোটো ফুলগাছ লাগানোর বিষয়ে একমত হয়। এতে তারা একে অপরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করে।
পরমতসহিষ্ণুতাকে পারস্পরিক সহাবস্থানের মূলমন্ত্র বলা হয়েছে কারণ এটি মানুষকে একে অপরের মতামত, বিশ্বাস ও আচরণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়। সমাজে বিভিন্ন ধর্ম, জাতি ও মতের মানুষ একসাথে বসবাস করে তাদের মধ্যে শান্তি বজায় রাখতে সহিষ্ণুতা অত্যন্ত প্রয়োজন। পরমতসহিষ্ণুতা থাকলে কেউ কারো মত বা বিশ্বাসকে অবজ্ঞা করে না, ফলে পারস্পরিক সম্প্রীতি গড়ে ওঠে।
যারা শারীরিক, মানসিক বা বুদ্ধিগতভাবে স্বাভাবিক নয়, তারা হলো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সম্পর্কে নিচে পাঁচটি বাক্য লেখা হলো-
১. কেউ কেউ চোখে দেখতে পায় না।
২. কানে শুনতে পায় না।
৩. হাঁটা চলা করতে পারে না।
৪. কথা বলতে পারে না।
৫. বয়স বাড়লেও বুদ্ধি বাড়ে না।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allত্যাগ একটি নৈতিক ও মানবিক গুণ।
পার্থ চতুর্থ শ্রেণির একজন ছাত্র।
তিনি সবসময় জীবের মঙ্গল চিন্তা করতেন।
দধীচি মুনি জীবের দুঃখ দূর করার জন্য শিবের নিকট প্রার্থনা করতেন।
দুর্যোধনদের বলা হয় কৌরব ।
ধৃতরাষ্ট্র দুর্যোধনের পিতা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!