মানুষের জীবনের প্রতিটি প্রয়োজনই প্রকৃতি থেকে পূরণ হয়। আমরা খাওয়ার জন্য শস্য, ফল, মাছ ও মাংস পাই প্রকৃতি থেকে। শ্বাস নেওয়ার জন্য পাই বাতাস, বেঁচে থাকার জন্য পাই জল, আলো। ঘর তৈরির কাঠ, পোশাকের তুলা 'এমনকি ঔষধের উপাদানও প্রকৃতি থেকেই আসে। তাই বলা যায়, প্রকৃতি ছাড়া মানুষের জীবন অসম্ভব।
একটি প্রাকৃতিক বনভূমি সংরক্ষণ করার উপায় সম্পর্কে নিচে লেখা হলো-
১. বন ধ্বংস রোধ করা এবং অকারণে গাছ কাটা বন্ধ করা।
২. নতুন গাছ লাগিয়ে বনকে ঘন ও সবুজ রাখা।
৩. বনভূমিতে থাকা প্রাণী ও উদ্ভিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
৪. বনাঞ্চলে দূষণ ও বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকা।
৫. মানুষকে বন ও প্রকৃতির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। কিন্তু সৃষ্টির সেরা জীব হয়েও মানুষ একা বাস করতে পারে না। তাই পরিবার ও প্রতিবেশীদেরনিয়ে বসবাস করে। পথ চলতে চলতে মানুষের মধ্যে সহযোগিতা, সাহায্য এবং সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করার অনুভূতি তৈরি হয়। আনন্দ উৎসবে একসাথে মিলিত হওয়া বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও মজবুত করে। এভাবে একজন মানুষের সঙ্গে অন্য মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও বিশ্বাস জন্ম নেয়। মানুষ একে অপরকে ভালোবাসলে সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ বজায় থাকে।
জীবের মঙ্গলের অন্য আমি করি এমন পাঁচটি কাজ হলো-
১. অসুস্থকে শুশ্রুষা করি।
২. বয়স্ক ব্যক্তিকে কাজে সাহায্য করি।
৩. ক্ষুধার্তকে খেতে দিই।
৪. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের যত্ন নিই।
৫. আশ্রয়হীনকে আশ্রয় নিই।
'জীবসেবা ধর্মের অঙ্গ"- নিচে এ সম্পর্কে পাঁচটি বাক্যে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. জীবসেবা মানে জীবের মঙ্গলার্থে কাজ করা, যেমন-অসুস্থকে শুধুষা করা, ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো।
২. জীবসেবা একটি নৈতিক ও মানবিক গুণ, যা মানুষকে ভালো মানুষ হতে সাহায্য করে।
৩. জীবকে ভালোবাসা ও সেবা করা ঈশ্বরকে সেবা করার সমান, কারণ সব জীব ঈশ্বরের সৃষ্টি।
৪. ছোটো ছোটো কাজ যেমন- আহত পাখি বা অসহায় মানুষকে সাহায্য করা জীবসেবার উদাহরণ।
৫. তাই জীবসেবা হিন্দুধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পালনীয়।
চৈতন্যচরিতামৃত' গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত কবিতাংশটি নিচে
লেখ হলো- "জীবে দয়া নামে রুচি বৈষ্ণব সেবন
ইহা হতে ধর্ম আর নাহি সনাতন।"
দেশ আমাদের কাছে মায়ের মতো, কারণ দেশ আমাদের জীবনধারণের সব প্রয়োজনীয় জিনিস দেয়। দেশের মাটি, জল, আলো, বাতাস, খাদ্য আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। যেমন- মা সন্তানকে ভালোবাসা ও যত্নে বড়ো করে তোলে, দেশও তেমনি আমাদের লালন-পালন করে। এই কারণে দেশকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়।
কার্তবীর্যার্জুনের দেশপ্রেমের কাহিনি আমাকে গভীরভাবে
উজ্জীবিত করে। তিনি অবকাশযাপন ত্যাগ করে দেশের 'স্বাধীনতা রক্ষায় রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেন। তাঁর এই ত্যাগ আমাদের শেখায় যে দেশের প্রয়োজনে, ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশ তুচ্ছ। সেনাদের প্রতি তাঁর উদ্দীপনামূলক বার্তা দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের আদর্শ তুলে ধরে। এই কাহিনি আমাকেও সৎ ও ধার্মিক থেকে দেশের মঙ্গল ও উন্নতির জন্য কাজ করতে এবং প্রয়োজনে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করতে উৎসাহিত করে।
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে আমাদের একে অপরের প্রতি যেমন আচরণ করা উচিত-
১. আমরা একে অপরকে ভালোবাসব।
২. কেউ কাউকে হিংসা করব না, ঘৃণা করব না।
৩. অন্যের বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব।
৪. গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াব।
প্রতিটি জীব কোনো না কোনোভাবে আমাদের উপকারে আসে। আমরা মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, শাকসবজি, ফল-মূল ইত্যাদি পাই কোনো না কোনো জীব থেকে। প্রকৃতি থেকে কোনো জীব বিলুপ্ত হলে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই অকারণে জীবহত্যা করা উচিত নয়।
জীবসেবা সম্পর্কে স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, "জীবে প্রেম করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।" অর্থাৎ জীবের সেবা করলে ঈশ্বরেরই সেবা করা হয়।
কীভাবে জীবসেবা করা যায় সে সম্পর্কে নিচে চারটি বাক্যে
লেখা হলো-
১. অসুস্থকে শুশ্রুষা করা।
২. ক্ষুধার্তকে খেতে দেওয়া।
৩. রিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের যত্ন নেওয়া।
৪. গাছপালার পরিচর্যা করা।
দেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাকেই বলা হয় দেশপ্রেম। যুগে যুগে পৃথিবীতে অসংখ্য দেশপ্রেমী জন্মগ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে, অন্যতম কয়েকজন দেশপ্রেমী হলেন- স্বামী বিবেকানন্দ, মাস্টারদা সূর্যসেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, রাণী রাসমণি, ক্ষুদিরাম বসু, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ প্রমুখ। দেশপ্রেমের জন্য তাঁরা অমর হয়ে আছেন।
যিনি নিজের দেশকে ভালোবাসেন, তিনি দেশপ্রেমী। দেশপ্রেমী কীভাবে দেশকে ভালোবাসেন নিচে সে সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখা হলো-
i. দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি প্রন্থাশীল থাকেন।
ii.দেশের জাতীয় দিবসসমূহে ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
iii. ভালো কাজের মাধ্যমে নিজের দেশকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন।
iv.নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allমানুষ সৃষ্টির সেরা জীব।
মানুষ পরিবার ও প্রতিবেশিদের নিয়ে বসবাস করে।
আমরা একে অপরকে ভালোবাসব l
বনের সৌন্দর্য সবাইকে আনন্দ দিত।
আমরা বিভিন্নভাবে জীবের সেবা করতে পারি।
মানুষের মধ্যে কোনো উঁচু-নিচু ভেদাভেদ নেই।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!