পরিবেশের উপাদানগুলোকে জীব ও জড় এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
বেঁচে থাকার জন্য মানুষ নির্ভর করে এমন তিনটি জড়বস্তুর নামহলো- ১. মাটি, ২. পানি ও ৩. বায়ু।
জীব জড়ের উপর নির্ভরশীল এ সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো-
১. মানুষ শ্বাস গ্রহণের জন্য বায়ুর উপর নির্ভরশীল।
২. পান করার জন্য পানির উপর নির্ভরশীল।
৩. ফসল ফলানোর জন্য মাটির উপর নির্ভরশীল।
৪. পোকামাকড়, কেঁচো ইত্যাদি প্রাণী মাটিতে বাস করে।
পরিবেশে
ইত্যাদিকে বুঝি। জড় বস্তু বলতে আমরা মাটি, পানি, বায়ু
মাটিতে বাস করে এমন দুইটি প্রাণী হলো-
১. পোকামাকড় ও ২. কেঁচো।
জড় বস্তুর উপর উদ্ভিদের নির্ভরশীলতা সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো-
১. খাদ্য তৈরির জন্য উদ্ভিদ সূর্যের আলো, পানি ও বায়ু ব্যবহার করে।
২. আবাসস্থলের জন্য উদ্ভিদ মাটির উপর নির্ভরশীল।
৩. শ্বাস গ্রহণের জন্য উদ্ভিদ বায়ু ব্যবহার করে।
৪. জলজ উদ্ভিদের আবাসস্থল হলো পানি।
উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে।
উদ্ভিদের খাদ্য তৈরিতে সূর্যের আলো, বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং পানির প্রয়োজন হয়।
জড় বস্তুর ওপর উদ্ভিদের নির্ভরশীলতা সম্পর্কিত পাঁচটি বাক্য হলো-
১. উদ্ভিদের শ্বাসকার্যের জন্য বায়ুর অক্সিজেন প্রয়োজন।
২.জড় বস্তুর সাহায্যেই উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করে।
৩. মাটিতে থাকা পুষ্টি উপাদান পানির মাধ্যমেই উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে পৌছায়।
৪. অধিকাংশ সবুজ উদ্ভিদের দেহে (৭০- ৯০)% পানি থাকে।
৫. শাপলা, কচুরিপানা, টোপাপানাসহ অনেক উদ্ভিদের আবাসস্থল হলো পানি।
আমরা শ্বাস গ্রহণে বায়ুর অক্সিজেন ব্যবহার করি।
আমাদের ত্যাগ করা উপাদানটি হলো কার্বন ডাইঅক্সাইড, যা উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির কাজে ব্যবহার করে।
উদ্ভিদ ও প্রাণীর পারস্পরিক নির্ভরশীলতার পাঁচটি উদাহরণ হলো-
১. প্রাণী শ্বাসক্রিয়ায় যে কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে, উদ্ভিদ তা ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে।
২. উদ্ভিদের তৈরিকৃত খাদ্য খেয়ে প্রাণী বেঁচে থাকে।
৩. উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণে যে অক্সিজেন উৎপন্ন হয় তা প্রাণী শ্বাস গ্রহণের সময় ব্যবহার করে।
৪. উদ্ভিদ অনেক প্রাণীর আবাসস্থল।
৫. উদ্ভিদ পরাগায়ন ও বিস্তরণের জন্য প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল।
যেসকল প্রাণী অন্য প্রাণী বা উদ্ভিদকে খায় তারাই খাদক।
বায়ু, পানি ও মাটি জীবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ- বায়ু প্রাণীর শ্বাসকার্যের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করে। পানি জীবনের অন্যতম উপাদান যা পানীয়, খাদ্য উৎপাদন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে লাগে। মাটি থেকে আমরা খাদ্যশস্য পাই। তাই এই তিনটি উপাদান ছাড়া কোনো জীবই বাঁচতে পারে না।
মানুষের ওপর উদ্ভিদের নির্ভরশীলতার চারটি উদাহরণ-
১. মানুষ চাষাবাদের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফসল ও বংশবৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে।
২. সার ব্যবহার করে উদ্ভিদের পুষ্টি, সরবরাহ করে।
৩. রোগ, আগাছা ও প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে রক্ষা করে।
৪. বনায়নের মাধ্যমে সংখ্যাবৃদ্ধি ও উদ্ভিদ প্রজাতির টিকে থাকা নিশ্চিত করে।
উৎপাদক হলো যেসব উদ্ভিদ যারা সূর্যের আলো ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় 'নিজের খাদ্য নিজেই উৎপাদন করতে পারে। যেমন- সবুজ উদ্ভিদ।
খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজালের মধ্যে তিনটি পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
| খাদ্যশৃঙ্খল | খাদ্যজাল |
| ১. বাস্তুসংস্থানে উদ্ভিদ থেকে প্রাণীতে শক্তি প্রবাহের ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে খাদ্যশৃঙ্খল বলে। | ১. একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল একত্রিত হলে তাকে খাদ্যজাল বলে। |
| ২. একটি পরিবেশে অনেকগুলো খাদ্যশৃঙ্খল থাকতে পারে। | ২. একটি পরিবেশে একটি খাদ্যজাল থাকে। |
| ৩. সবুজ উদ্ভিদ থেকে প্রতিটি খাদ্যশৃঙ্খলের শুরু হয়। | ৩. খাদ্যজালের শুরুর উপাদান নির্দিষ্ট নয়। |
কোনো স্থানের সকল জীব ও জড় এবং তাদের মধ্যকার পারস্পরিক ক্রিয়াই হলো ঐ স্থানের বাস্তুসংস্থান।
খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে যেভাবে শক্তি উদ্ভিদ থেকে প্রাণীতে প্রবাহিত হয় তা নিচে বর্ণনা করা হলো-
সকল প্রাণীই শক্তির জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। উদ্ভিদ সূর্যের আলো ব্যবহার করে নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করে। পোকামাকড় উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে। আবার ব্যাঙ পোকামাকড়কে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। একইভাবে সাপ ব্যাঙ খায় এবং ঈগল সাপ খায়। এভাবেই খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে শক্তি উদ্ভিদ থেকে প্রাণীতে প্রবাহিত হয়।
বাস্তুসংস্থানে উদ্ভিদ থেকে প্রাণীতে শক্তি প্রবাহের ধারাবাহিক প্রক্রিয়াই হলো খাদ্যশৃঙ্খল।
ব্যাঙ, সাপ, ঘাসফড়িং ও ঘাস দিয়ে তৈরি সঠিক খাদ্যশৃঙ্খলটি হলো-
ঘাস ঘাসফড়িং ব্যাঙ সাপ
খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে সৌরশক্তি জীবে সঞ্চালিত হওয়া সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো-
১. উদ্ভিদ সূর্যের আলো ব্যবহার করে নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করে।
২. পোকামাকড় এই উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে।
৩. আবার ব্যাঙ পোকামাকড়কে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
৪. একইভাবে সাপ ব্যাঙ খায় এবং ঈগল সাপ খায়।
এভাবেই সৌরশক্তি জীবে সঞ্চালিত হয়
প্রাণীরা নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে না। সবুজ উদ্ভিদ এবং তাদের তৈরিকৃত খাদ্যের ওপর প্রাণীরা নির্ভরশীল। এজন্য প্রাণীদের খাদক বলা হয়।
বিভিন্ন স্তরের খাদক রয়েছে যেমন- প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক, তৃতীয় স্তরের খাদক বা সর্বোচ্চ খাদক।
ব্যাঙ কীভাবে খাদক ও খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয় তা খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হলো-
খাদ্যশৃঙ্খলে ব্যাঙ খাদক ও খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এমন একটি খাদ্য শৃঙ্খল হলো-
ঘাস ঘাসফড়িং ব্যাঙ সাপ ঈগল
এই খাদ্য শৃঙ্খলটিতে' ব্যাঙ যখন, ঘাসফড়িং খায় তখন খাদক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আবার যখন ব্যাঙকে সাপ খায় তখন ব্যাঙ খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পরিবেশের জৈব ও অজৈব উপাদান যখন পরস্পরের মধ্যে সঠিক অনুপাতে বজায় থাকে, তখন তাকে পরিবেশের ভারসাম্য বলে।
প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য জড় পদার্থ ও জীবের পারস্পরিক ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হলো-
প্রকৃতিতে জীব ও জড় উপাদানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফলেই পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। তাই পরিবেশের একটি উপাদান নষ্ট হলে জলবায়ু পরিবর্তন, খরা, ফসলহানি, খাদ্যজাল ধ্বংস প্রভৃতি ঘটে থাকে। ফলে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে এবং সমগ্র জীবজগতের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তাই মানুষ ও জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই পরিবেশের উপাদানগুলোর ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজন।
পরিবেশের মৌলিক জড় উপাদান ৪টি। এগুলো হলো-মাটি, পানি, বায়ু ও সূর্য।
পানির দুইটি ব্যবহার হলো- ১. পান করা ও ২. গোসল করা।
জড়বস্তুর উপর প্রাণীর নির্ভরশীলতা কারণ মানুষের মতো অন্যান্য সকল প্রাণী বেঁচে থাকার জন্য বায়ু, মাটি, পানি ইত্যাদি জড়বস্তুর ওপর নির্ভরশীল। মাটি এবং পানি অনেক জীবের বাসস্থান। অনেক পোকামাকড়, কেঁচো, ইঁদুর ইত্যাদির প্রাণী মাটির নিচে বাস করে। মাছ, কুমির, কাছিম ইত্যাদি পানিতে বাস করে। বায়ুতে যে অক্সিজেন রয়েছে প্রাণীরা তা দিয়ে শ্বাসকার্য চালায়।
উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়াটির নাম সালোকসংশ্লেষণ।বট ও পাকুর উদ্ভিদের বীজের সরাসরি অঙ্কুরোদগম হয় না। এসব উদ্ভিদের বীজ পাখি খাওয়ার পর তার মলের মাধ্যমে আবার মাটিতে ফিরে আসে। তারপর সেগুলো থেকে উদ্ভিদের নতুন চারাগাছ জন্ম নেয়। এভাবেই বট ও পাকুর উদ্ভিদের বীজের অঙ্কুরোদগম হয়।উদ্ভিদের ওপর মানুষের নির্ভরশীলতার চারটি উদাহরণ হলো-
১., প্রতিদিন মানুষ যে খাবার খায় তার অধিকাংশই উদ্ভিদ থেকে আসে।
২. উদ্ভিদের তৈরিকৃত অক্সিজেন মানুষ গ্রহণ করে বেঁচে থাকে।
৩. উদ্ভিদ থেকে অনেক ধরনের ঔষধ তৈরি হয়।
৪. মানুষ তার ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র তৈরিতে উদ্ভিদের কাঠ ব্যবহার করে।
Related Question
View Allখাদ্যশৃঙ্খলে সবুজ উদ্ভিদকে বলা হয় উৎপাদক l
তৃণভোজী প্রাণী হলো প্রথম শ্রেণির খাদক।
উদ্ভিদের বীজের বিস্তরণে সাহায্য করে পাখি l
জীব ও জড় উপাদানসমূহ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
আমাদের শ্বাসকার্য চালানোর জন্য বায়ুর প্রয়োজন।
পানি ছাড়া মানুষের জীবন অচল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!