সূর্য আমাদের পৃথিবীর শক্তির প্রধান উৎস। আমাদের চারপাশে শক্তির যে রূপগুলো দেখা যায়, সেগুলোর বেশিরভাগই সূর্য থেকে আসে। আমরা সরাসরি আলো ও তাপ হিসেবে সৌরশক্তিকে ব্যবহার করি। এই শক্তি আবার গতিশক্তি, তাপশক্তি, বিদ্যুৎশক্তি, রাসায়নিক শক্তি ও আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে। সুতরাং আলো, তাপ, গতি, বিদ্যুৎ, রাসায়নিক শক্তি, সবই শেষ পর্যন্ত সূর্য থেকে আসে। তাই বলা যায়, সূর্য শক্তির প্রধান উৎস।
পরীক্ষণের নাম: আলো সোজা পথে চলে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ: মোমবাতি, তিনটি শক্ত কাগজের টুকরা যেগুলোর কেন্দ্রে একই ব্যাসার্ধের ছিদ্র আছে।টেবিলের উপর একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে মোমবাতির সামনে পরপর শক্ত কাগজ তিনটি রাখি। খেয়াল রাখতে হবে যেন তিনটি কাগজের ছিদ্র একই সরলরেখায় বা সোজাসুজি থাকে। এখন মোমবাতির অপর প্রান্ত থেকে কাগজের ছিদ্র দিয়ে আলো দেখার চেষ্টা করলে আলো দেখা যাবে। কিন্তু যদি তিনটি কাগজের যেকোনো একটির ছিদ্র সরলরেখা থেকে ডানে-বামে সরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে আর মোমবাতির অপর প্রান্ত থেকে আলো দেখা যাবে না। কারণ এক্ষেত্রে আলোর সোজা পথে বাধার সৃষ্টি হয়েছে।

এই পরীক্ষায় প্রমাণ হলো যে, আলো সোজা পথে চলে।
বাড়িতে আমরা বিভিন্ন কাজে বিভিন্ন শক্তি ব্যবহার করি।
নিচে ছকের মাধ্যমে তা উপস্থাপন করা হলো-
| কাজ | শক্তি |
| ১. রান্না করা | তাপশক্তি |
| ২. গ্যাসের চুলা জ্বালানো | রাসায়নিক শক্তি |
| ৩. বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালানো | বিদ্যুৎশক্তি |
| ৪. মোবাইল, ক্যালকুলেটরের ব্যাটারি | রাসায়নিক শক্তি |
| ৫. পানির পাম্প চালানো | বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিকশক্তি |
| ৬. খাবার খাওয়া | রাসায়নিক শক্তি |
| ৭. সোলার প্যানেল | আলোকশক্তি, বিদ্যুৎশক্তি |
বস্তুর অবস্থান এবং গতি উভয়ের কারণে যে শক্তি থাকে তাকে যান্ত্রিকশক্তি বলে।
যান্ত্রিকশক্তির সাথে গতিশক্তির সম্পর্ক- যান্ত্রিকশক্তি হলো কোনো বস্তুর গতিশক্তি ও স্থিতিশক্তির যোগফল।
বৈদ্যুতিক পাখার মাধ্যমে বৈদ্যুতিকশক্তি, যান্ত্রিকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। যার ফলে পাখা ঘুরে। এতে ঘরের চারপাশে বায়ু চলাচল করে, একটি শীতল অবস্থা তৈরি হয়।
শক্তি একরূপ থেকে অন্যরূপে পরিবর্তিত হতে পারে। শক্তির রূপের এই পরিবর্তনই হলো শক্তির রূপান্তর।
রাসায়নিক শক্তি জমা থাকে এমন তিনটি পদার্থ হলো-১. জ্বালানি তেল, ২. প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ৩. কয়লা।
টেলিভিশনে বৈদ্যুতিকশক্তি, আলোকশক্তি এবং শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। আলোকশক্তির মাধ্যমে আমরা ছবি দেখতে পাই। শব্দশক্তির মাধ্যমে আমরা কথা, গান ও অন্যান্য শব্দ শুনতে পাই।
কঠিন পদার্থের মধ্যদিয়ে তাপের সঞ্চালন হলো পরিবহণ পদ্ধতি।
উদাহরণ: একটি ধাতব চামচের এক মাথায় একটু মোম লাগিয়ে তার অপর প্রান্ত গরম পানিতে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখলে মোম গলে যায়। কারণ পানি থেকে তাপ সঞ্চালিত হয়ে চামচের অপর প্রান্তের মোমে পৌছায় পরিবহণ পদ্ধতিতে এবং মোম গলে যায়। এখানে চামচ তাপের পরিবাহী হিসেবে কাজ করে।
পরিবহণ পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলো তাদের নিজস্ব স্থান পরিবর্তন করে না। পদার্থের অণুগুলো স্পন্দনের মাধ্যমে এক অণু তার পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে। এর ফলে পদার্থের উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে তাপ সঞ্চালিত হয়।
তরল ও বায়বীয় পদার্থের মধ্যদিয়ে তাপ সঞ্চালনের পদ্ধতিই হলো পরিচলন পদ্ধতি।
আমরা যখন পানি গরম করি তখন নিচু থেকে পানি উপরের দিকে উঠে আসে। পাত্রের উপরের দিকের শীতল পানি নিচে নেমে আসে। ফলে পানির একটি বৃত্তাকার গতিপথ সৃষ্টি হয়। এভাবে তাপ পানির সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। পরিচলন পদ্ধতিতে তাপ কোনো পদার্থের অণুগুলোর চলাচলের দ্বারা উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে সঞ্চালিত হয়।
তাপ যে প্রক্রিয়ায় কোনো উৎস হতে মাধ্যম ছাড়াই সঞ্চালিত হয় তাই বিকিরণ। আমরা সূর্যের আলোতে দাঁড়ালে উষ্ণতা অনুভব করি। কারণ সূর্য থেকে তাপ বিকিরণের মাধ্যমে মহাশূন্য অতিক্রম করে পৃথিবীতে আসে।
তাপ সঞ্চালনের তিনটি পদ্ধতি রয়েছে। যেমন-
১. পরিবহণ পদ্ধতি: কঠিন পদার্থে তাপ সঞ্চালন প্রক্রিয়া।
২. পরিচলন পদ্ধতি: তরল ও বায়বীয় পদার্থে তাপ সঞ্চালন প্রক্রিয়া।
৩. বিকিরণ পদ্ধতি: শূন্যস্থানে তাপ সঞ্চালন প্রক্রিয়া।
আমাদের চারপাশের পরিচিত বিভিন্ন কাজে তাপ সঞ্চালন পদ্ধতির
পাঁচটি উদাহরণ হলো-
১. চুলায় রান্নার সময় পরিবহণ, পরিচলন ও বিকিরণ তিন পদ্ধতিতেই তাপ সঞ্চালিত হয়।
২. কাপড় ইস্ত্রি করার সময় পরিবহণ পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়।
৩. রোদে ধান শুকানোর সময় পরিবহণ ও বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়।
৪. রোদে কাপড় শুকাতে বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়।
৫. শীতের সকালে আগুন পোহাতে তাপ বিকিরণ ও পরিচলন পদ্ধতিতে সঞ্চালিত হয়।
আলো হলো এক ধরনের শক্তি, যা আমাদের চারপাশ দেখতে সাহায্য করে।
আলো সঞ্চালনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আলো সরলরেখায় চলে। অর্থাৎ আলো সোজা পথে চলে। আলো সঞ্চালনের জন্য কোনো মাধ্যম প্রয়োজন হয় না। সূর্যের আলো মহাকাশ পেরিয়ে পৃথিবীতে আসে। মহাকাশে কোনো বায়ু বা অন্যকোনো পদার্থ নেই, তবুও আলো আসে। এর কারণ হলো সূর্যের আলো বিকিরণ পদ্ধতিতে কোনো মাধ্যম ছাড়াই খুব দ্রুত গতিতে পৃথিবীতে আসে। আলোর এই মাধ্যম ছাড়া সঞ্চালিত হওয়াকে বিকিরণ বলে।
আমরা যদি শক্তি অতিরিক্ত ব্যবহার করি কিংবা অপচয় করি, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের জন্য শক্তির সংকট তৈরি হতে পারে।
শক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে শক্তির অপচয় রোধ করে আমরা ভবিষ্যতের জন্য শক্তি সংরক্ষণ করতে পারি।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে শক্তির অপব্যবহারের তিনটি উদাহরণ হলো-
১. প্রয়োজন-শেষে বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি বন্ধ না করা।
২. রান্নার পরও গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখা।
৩. পানির ট্যাঙ্ক পূর্ণ হওয়ার পরও পানির পাম্প বন্ধ না করা।
শক্তির যথাযথ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার করে, শক্তির অপচয় কমিয়ে এবং পুনর্ব্যবহার করে শক্তির অপব্যবহার রোধই হলো শক্তি সংরক্ষণ।
শক্তির পুনর্ব্যবহার মানে হলো একই শক্তি বারবার কাজে লাগানো অথবা অন্যভাবে বলা যায়, এক কাজে ব্যবহৃত শক্তিকে আরও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা।
শক্তি পুনর্ব্যবহারের তিনটি উপায় হলো-
১. রান্না শেষে চুলার উত্তাপ ব্যবহার করে পানি গরম করা।
২. কারখানার গরম ধোঁয়া ব্যবহার করে পানি ফুটিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা।
৩. সৌরশক্তি ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দিয়ে বিভিন্ন কাজ করা।
শক্তি হলো কাজ করার সামর্থ্য। শক্তি ছাড়া কোনো বস্তু নড়াচড়া বা কোনো কাজ করতে পারে না।
শক্তির বিভিন্ন রূপ রয়েছে। যেমন- তাপশক্তি, আলোকশক্তি, বিদ্যুৎশক্তি ইত্যাদি। শক্তি একরূপ থেকে অন্যরূপে পরিবর্তিত হতে পারে। শক্তির রূপের এই পরিবর্তনই হলো শক্তির রূপান্তর। অর্থাৎ শক্তির একরূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তনকে শক্তির রূপান্তর বলে।
সূর্য আমাদের শক্তির প্রধান উৎস। সূর্য থেকে পাওয়া শক্তি হলো সৌরশক্তি। আমরা সরাসরি আলো ও তাপ হিসেবে সৌরশক্তিকে ব্যবহার করি। এই শক্তিকে আবার গতিশক্তি, তাপশক্তি, বিদ্যুৎশক্তি, রাসায়নিক শক্তি রূপান্তর হতে পারে।
তাপের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার প্রক্রিয়াই হলো তাপ সঞ্চালন।
তাপ সঞ্চালনের দিক বলতে বুঝায় তাপ কোথা থেকে কোথায় সঞ্চালিত হয়। তাপ সবসময় গরম জায়গা থেকে ঠাণ্ডা জায়গায় সঞ্চালিত হয়। অর্থাৎ তাপ সঞ্চালনের দিক হলো গরম বস্তু থেকে ঠাণ্ডা বস্তুর দিকে।
তাপ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে অথবা কোনো মাধ্যম ছাড়াই একস্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে। যেমন- কঠিন পদার্থে তাপ দেওয়া হলে তাপ ঐ বস্তুর অণুগুলোর মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে পদার্থের সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে তাপ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম লেগেছে আবার, সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে মহাশূন্যের মধ্য দিয়ে, যেখানে কোনো বস্তু বা পদার্থ নেই। অর্থাৎ কোনো মাধ্যমে ছাড়াই বিকিরণের মাধ্যমে সূর্য থেকে তাপ পৃথিবীতে চলে আসে। তাই বলা যায় তাপ সঞ্চালনে কখনো মাধ্যমে লাগে, কখনো মাধ্যম লাগে না।
Related Question
View Allশক্তি হলো কাজ করার সামর্থ্য l
যান্ত্রিক শক্তি হলো স্থিতিশক্তি ও গতি শক্তির যোগফল।
তাপের চলার প্রক্রিয়াই হলো তাপ সঞ্চালন l
কঠিন পদার্থের মধ্য দিয়ে তাপ সঞ্চালিত হয় পরিবহণ।
শক্তি হলো কাজ করার সামর্থ্য।
শক্তি এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!