ধর্ম মানুষের জীবনের অন্যতম পথ প্রদর্শক। ধর্ম শব্দটি ‘ধৃ’ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ধারণা করা। অর্থাৎ মানুষ যে নীতি, আদর্শ ও আচরণ ধারণ করে, তাই ধর্ম। ধর্ম আমাদের প্রথমে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন শেখায়। এটি বলে যে মানুষকে সত্য, সৎ ও ন্যায়নীতির পথে চলতে হবে। ধর্ম মানুষের মনকে পবিত্র করে এবং ইহলৌকিক ও পারলৌকিক শান্তি দান করে। ধর্মের মূল শিক্ষা হলো- সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস, ভক্তি, শ্রদ্ধা এবং তাঁর সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা। ধর্মগ্রন্থে মানুষের কল্যাণ, সমাজের মঙ্গল ও জগৎ শান্তির নির্দেশনা রয়েছে। ধর্ম মানুষকে দান, সাহায্য, করুণা, সহানুভূতি ও পরোপকারের শিক্ষা দেয়। জীবসেবা, দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শনের কথাও ধর্ম শেখায়। সর্বোপরি, ধর্ম মানুষের অন্তরে নৈতিকতা গঠন করে তাকে উন্নত চরিত্রের মানুষ করে তোলে।
মানুষ সামাজিক জীব, সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে'ধর্মের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। ধর্মের পথ অনুসরণ করলে মানুষের চরিত্র সুন্দর হয় এবং মন পবিত্র হয়। মানুষের মধ্যে ন্যায়-অন্যায় বোধ তৈরি হয়। ধর্মের বিধিবিধান মানুষকে সৎ পথে পরিচালিত করে। ধর্ম মানুষকে শেখায় লোভ, ক্রোধ, হিংসা অহংকার ত্যাগ করতে এবং দয়া, প্রেম, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ধারণ করতে। ধর্মের পথ মানুষকে নৈতিক ও মানবিক মানুষে পরিণত করে। ইহলৌকিক জীবনে শান্তি ও পারলৌকিক মুক্তিলাভ- উভয়ের জন্যই ধর্ম অনুসরণ করা দরকার। ধর্মের পথ অনুসরণ করলে সমাজে সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় থাকে। শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে, ধর্ম অবলম্বন করলে মানুষ ঈশ্বরলাভ করে এবং সত্যিকার অর্থে নিজের জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পায়। তাই মানুষের উচিত ধর্মের পথ অনুসরণ করে নিজের জীবনকে সঠিকপথে পরিচালিত করা।
ভাগবত পুরাণ সম্পর্কে আটটি বাক্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. ভাগবত পুরাণ প্রধানত ভক্তিবাদী বৈষ্ণবদেব প্রিয় গ্রন্থ।
২. এটি শ্রীমদ্ভাগবত নামেও পরিচিত।
৩. ভাগবত পুরাণে মোট আঠারো হাজার শ্লোক এবং বারোটি স্কন্দ রয়েছে।
৪. 'এতে সূর্যবংশ, চন্দ্রবংশ ও যদুবংশের বিবরণ রয়েছে।
৫. এটি একটি সাত্ত্বিক পুরাণ।
৬. এতে জাগতিক কর্মবন্ধন থেকে মুক্তিলাভের কথা বলা হয়েছে।
৭. রয়েছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিভিন্ন লীলার কথা।
৮. ভাগবত পুরাণ পাঠ ও শ্রবণকে হিন্দুধর্মে পুণ্যলাভের অন্যতম পথ হিসেবে গণ্য করা হয়।
গীতার শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ধাপে পথ নির্দেশ করে। গীতা আমাকে শিখিয়েছে কোনো কাজ করার সময়ে ভয়, দুর্বলতা বা সংশয়ে ভুগলে চলবে না বরং কর্তব্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। গীতায় বলা হয়েছে, নিষ্কাম কর্মের কথা অর্থাৎ ফলের আশা ত্যাগ করে কাজ করা, -। যা আমারে দায়িত্বশীল্ল করে তোলে। আত্মার অমরত্বের শিক্ষা জীবন, সম্পর্কে ভয়ের পরিবর্তে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। গীতা শেখায়। সংযম, অধ্যবসায় ও 'এবামাল 'মানুষই 'জ্ঞানলাতে সফল হয়া' অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, সত্যের পথে থাকা এবং মানুষের প্রতি দয়া, সমবেদনা প্রদর্শন গীতার মূল শিক্ষা, যা আমার জীবনকে নৈতিক, সুন্দর ও শান্তিময় করে তোলে।
আমার পাঠ্যপুস্তকে উল্লিখিত শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার দুটি শ্লোক নিচে সরলার্থসহ লেখা হলো-
প্রথম শ্লোক: ন হি জ্ঞানেন সদৃশং পবিত্রমিহ বিদ্যতে। তৎ স্বয়ং যোগসংসিদ্ধঃ কালেনাত্মনি বিন্দতি।। (৪/৩৮)
সরলার্থ: এ জগতে জ্ঞানের ন্যায় পবিত্র আর কিছু নেই। কর্মযোগে সিদ্ধ পুরুষ সেই জ্ঞান যথাকালে নিজেই অন্তরে লাভ করেন।
দ্বিতীয় শ্লোক:শ্রদ্ধাবান্ লভতে জ্ঞানং তৎপরঃ সংযতেন্দ্রিয়ঃ। জ্ঞানং লব্বা পরাং শান্তিমচিরেণাধিগচ্ছতি।। (৪/৩৯)
সরলার্থ: যিনি শ্রদ্ধাবান, একনিষ্ঠ সাধন-তৎপর এবং জিতেন্দ্রিয় তিনিই জ্ঞানলাভ করেন। জ্ঞানলাভ করে তিনি অচিরেই পরম শান্তি প্রাপ্ত হন।
সংস্কৃত 'ধু' ধাতু থেকে 'ধর্ম' শব্দটির উৎপত্তি, যার অর্থ হচ্ছে 'ধারণ করা'। মানুষ যা ধারণ করে এবং যা তাকে সুশৃঙ্খল রাখে, তাই ধর্ম।
ধর্মের প্রয়োজনীয়তা বহুমুখী; নিচে এ সম্পর্কে প্লেখো হলো-.
১. এটি মানুষকে সুখী ও সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করে।
২. ধর্ম মানুষকে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক শান্তি প্রদান করে।
৩. এটি আমাদের ঈশ্বরকে জানতে এবং ভক্তি-শ্রদ্ধা করতে শেখায়।
৪. বিধি-বিধান অনুসারে জীবনকে পরিচালিত করতে শেখায়।
যে গ্রন্থে ধর্ম বিষয়ক আলোচনা, স্রষ্টার স্তুতি এবং জীবন পরিচালনার বিধি-বিধান থাকে, তাকে ধর্মগ্রন্থ বলে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান-প্রত্যেক ধর্মেরই নিজস্ব ধর্মগ্রন্থ রয়েছে। ধর্মগ্রন্থের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এতে স্রষ্টার উপাসনা, স্তুতি ও তাঁর সৃষ্টির প্রশংসা করা হয়।
২. ভালোবাসার কথা ও অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়।
৩. এতে ঈশ্বর ও দেব-দেবীর মাহাত্ম্য বর্ণিত থাকে।
৪. বিভিন্ন নীতিশিক্ষা ও উপদেশমূলক কাহিনি থাকে।
পুরাণ' শব্দের সাধারণ অর্থ হলো প্রাচীন, তবে এখানে সুদূর অতীতকে বোঝানো হয়েছে। যে গ্রন্থে সৃষ্টি, প্রলয়, দেবতাদের আখ্যান এবং ঋষি-রাজাদের বৃত্তান্ত বর্ণিত হয়েছে, তাকেই পুরাণ বলে। পুরাণের প্রধান বিষয়বস্তুগুলো হলো-
১. পুরাণ মহাবিশ্বের সৃষ্টি, প্রলয় এবং দেবতাদের বিভিন্ন আখ্যান-উপাখ্যান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
২. এতে প্রাচীন ঋষি ও রাজাদের জীবন বৃত্তান্ত এবং বংশের বিবরণ বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়েছে।
৩. পুরাগের অন্যতম প্রধান বিষয় হলো বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক বিধি-বিধানের বর্ণনা।
৪. এছাড়াও পুরাণে বিশ্বতত্ত্ব, জ্যোতির্বিদ্যা এবং ভূগোলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েরও উল্লেখ রয়েছে।
পুরাণ অনেক হলেও প্রধানত ১৮টি মহাপুরাণ হিন্দুধর্মে বিশেষভাবে স্বীকৃত। এগুলোর মধ্যে ১০টির নাম হলো-
১. বিষ্ণু পুরাণ,
২. ভাগবত পুরাণ,
৩. নারদীয় পুরাণ,
৪. গরুড় পুরাণ,
৫. পদ্ম পুরাণ,
৬. বরাহ পুরাণ,
৭. ব্রহ্ম পুরাণ,
৮. ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ,
৯.ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ,
১০. মার্কণ্ডেয় পুরাণ।
ভাগবত পুরাণ হিন্দুদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ভক্তিবাদী বৈষ্ণবদের একটি প্রিয় গ্রন্থ। এটি একটি সাত্ত্বিক পুরাণ হিসেবে পরিচিত যেখানে বিষ্ণুর বিভিন্ন অবতারের কথা রয়েছে। শুকদেব মুনি রাজা পরীক্ষিৎকে এই ভাগবতকথা শুনিয়েছিলেন। এতে মোট আঠারো হাজার শ্লোক এবং বারোটি স্কন্ধ রয়েছে। এই গ্রন্থে সূর্যবংশ, চন্দ্রবংশ এবং বিশেষ করে শ্রীকৃষ্ণের লীলা বর্ণিত হয়েছে। ভাগবত পাঠ করলে পুণ্যলাভ হয় এবং জাগতিক বন্ধন থেকে মুক্তির পথ পাওয়া যায়।
শ্রীমদ্ভগবদগীতায় মোট সাতশত শ্লোক থাকার কারণে একে 'সপ্তশতী' বলা হয়। এটি কেবল ধর্মীয় পাঠ্য নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা বা যোগশাস্ত্র।
গীতার গুরুত্ব নিম্নরূপ-
১. এটি মানুষকে দুর্বলতা ত্যাগ করে কর্তব্য পালনে উদ্বুদ্ধ করে।
২. এটি আত্মার অমরত্ব ও নিষ্কাম কর্মের শিক্ষা দেয়।
৩. অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়।
৪. সংযমী ও শ্রদ্ধাবান ব্যক্তি জ্ঞান লাভে সমর্থ হন।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allধর্ম শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ধূ-ধাতু থেকে, যার অর্থ ধারণ করা ।
ধর্মের পথ অনুসরণ করলে ঈশ্বর লাভ হয়।
ভাগবত কথা পাঠ করলে ও শুনলে পুণ্যলাভ হয়।
সাতশত শ্লোক আছে বলে গীতাকে সপ্তশতী বলা হয়।
শ্রদ্ধাবান ব্যক্তি জ্ঞান লাভে সমর্থ হন।
সংস্কৃত ধূ-ধাতু; থেকে ধর্ম শব্দটির উৎপত্তি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!