শাকসবজি, ফল, ফুল ও মসলা জাতীয় ফসলকে উদ্যান ফসল বলে।
কৃষকদের দ্বারা মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়।
মাছ আমিষের অন্যতম উৎস। আমাদের আমিষের সিংহভাগ (প্রায় ৬০%) আমরা মাছ থেকে পাই। মাছ আমাদের প্রিয় খাদ্যও বটে। তাই আমাদেরকে বলা হয় মাছে-ভাতে বাঙালি।
কৃষির পরিধি ব্যাপক। ফসল উৎপাদন, পশুপালন, হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্য চাষ ও বনায়ন কৃষির অন্তর্ভুক্ত বিষয়। কৃষি আমাদের খাদ্য যোগান দেয়। ধান, গম, আলু, ভুট্টা, শাকসবজি, ফল-ফলাদি- এসব খাদ্য ও পুষ্টি আমরা কৃষি থেকে পাই। পাট, তুলা ও রেশম থেকে কাপড়ের তৈরি তুলা পাই। কাঠ, বাঁশ, খর, শণ, গোলপাতা ইত্যাদি থেকে গৃহনির্মাণ সামগ্রী ও আসবাবপত্র পাই। বাঁশ, খড়, গবাদিপশুর গোবর, গাছের ডাল ইত্যাদি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করি। কাঠ ও আখের ছোবড়া, বাঁশ ইত্যাদি থেকে কাগজ পাই। আমলকী, হরীতকী, বহেড়া, থানকুনি, বাশক ইত্যাদি থেকে ঔষধ পাওয়া যায়। দুধ, মাংস, ডিম এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার আমরা পেয়ে থাকি পশুপাখি পালন করে। আর এসবই হলো কৃষি। যারা কৃষিকাজ করে তারাই কৃষক। খাদ্য উৎপাদন এবং বস্ত্র, বাসস্থানের উপাদান সরবরাহ করে থাকে কৃষক। কৃষকদের কৃষি জ্ঞান বৃদ্ধির জনা কৃষিপ্রতিষ্ঠান কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা শিক্ষা দিচ্ছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানও কৃষি পরিধির অন্তর্ভুক্ত। যেমন- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
কৃষিকাজে উদ্বুদ্ধকরণ, কৃষির আধুনিক প্রযুক্তি ও ফলন একমাত্র কৃষি মেলার মাধ্যমেই দেখা সম্ভব। ইট-পাথরের শহরে এ ধরনের মেলা গ্রামের মতো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ মেলায় এক নজরে নানা ফসলের বাহারি ফলন দেখা সম্ভব হয়। এ মেলায় কৃষিবিষয়ক নানা লিফলেট, পুস্তিকা, বুলেটিন, পত্রিকা প্রদর্শিত হয় এবং বিনামূল্যে দর্শকদের দেওয়া হয়। সুতরাং কৃষিবিষয়ক তথ্য পেতে কৃষি মেলার বিকল্প নেই। এ মেলায় চারা, বীজ, সার, কলাকৌশল প্রযুক্তি ইত্যাদি দেখানো হয়। এতে কৃষি কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও উপস্থিত দর্শকগণও কৃষি কাজে উদ্বুদ্ধ হন।
'সুতরাং কৃষিবিষয়ক প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা প্রাপ্তির উৎস হিসেবে কৃষি মেলা একটি কার্যকর উপায়।
কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নাম ও কাজ নিম্নরূপ:
১. বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট।
কাজ: বিভিন্ন ফসলের উপর গবেষণা করে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করা।
২. বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।
কাজ: ধানের নতুন নতুন জাত, রোগ ও কীটপতঙ্গের প্রতিকার ব্যবস্থা উদ্ভাবন করা, ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিকল্পে প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণা করা।
৩. বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট। কাজ: ইক্ষুর ওপর গবেষণা করে নতুন জাত উদ্ভাবন, রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধের নতুন কৌশল উদ্ভাবন করা, একই সাথে নতুন ও সহজতর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা।
৪. বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট। কাজ: পাটের উৎপাদন বৃদ্ধিকল্পে নতুন জাত ও রোগ, পোকামাকড় প্রতিরোধের উপায় উদ্ভাবন করা। মোট কথা পাটের সঠিক উন্নয়নের জন্য গবেষণা করা।
৫. বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউট। কাজ: বিভিন্ন ফসলের ওপর গবেষণা করা।
কৃষি একটি আদি আধুনিক এবং অত্যন্ত সম্মানজনক পেশা। কারণ এর মাধ্যমেই মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানো হয়। এ মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানো হয় বিভিন্ন ফসল উৎপাদন, পশুপাখি প্রতিপালন, মৎস্য চাষ ও বনায়নের মাধ্যমে।
মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো সংবিধান অনুসারে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা। এসবকটি মৌলিক চাহিদাই কৃষি থেকে পূরণ হয়।
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষি ভিত্তিক বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন কৃষি নির্ভর। তাই কৃষির উন্নয়ন হলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন হবে। ফলে জনসাধারণের বিশেষ করে কৃষকের অবস্থার উন্নয়ন হবে, বেকারত্ব দূর হবে, কৃষিশিক্ষা ও কৃষিশিল্পের সম্প্রসারণ হবে এবং বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। অতএব আমাদের জীবনে কৃষি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
জমিতে বেড়া ছাড়া অর্থাৎ খোলা অবস্থায় যেসব ফসল চাষ করা হয় সেগুলোকে মাঠ ফসল বলে। যেমন- ধান, গম, পাট ইত্যাদি।
আমিষের অন্যতম উৎস মাছ। দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় মাছ সবারই প্রিয়। মৎস্য চাষ করে ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট থেকে অনেক লোকের জীবিকা নির্বাহ হয়। নির্বিচারে মাছ আহরণের ফলে মাছের অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তাই মাছের প্রজাতি রক্ষা এবং মানুষের খাদ্য ও জীবিকার প্রয়োজনেই মাছ চাষকে সচল রাখা উচিত।
বাংলাদেশের স্থানীয় প্রজাতির মাছগুলো প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়। আলাদাভাবে এদের চাষ করা হয় না। তাই মানুষের অতিরিক্ত আহরণ ও জলাশয়ের অভাবে স্থানীয় অধিকাংশ মাছ ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
কৃষি প্রযুক্তির সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ফল লাভের জন্য অভিজ্ঞতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন অভিজ্ঞ কৃষক তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কৃষির যেকোনো তথ্য দিতে পারেন। একজন অভিজ্ঞ কৃষকের কাছ থেকে নবীন কৃষকরা তথ্য নিয়ে তাদের সমস্যার। সমাধান করেন এবং পরবর্তীতে তারাও অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন। আর এভাবে অভিজ্ঞ কৃষক কৃষিকে চলমান রাখেন।
বাংলাদেশের চারটি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নাম হলো-
১. বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।
২. বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট।
৩. বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট।
৪. বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট।
কৃষি কার্যক্রমে যিনি গবেষণা করে নতুন নতুন জাত, প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন তিনিই কৃষিবিজ্ঞানী। তিনি একটি ফসলের জীবন চক্র সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। তার নিকট কৃষি বিষয়ক নানা প্রকার তথ্য পুঞ্জীভূত থাকে। সুতরাং কৃষিবিজ্ঞানী কৃষি বিষয়ক তথ্য পরিবেশনের জন্য একজন নির্ভরশীল ব্যক্তি।
মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো হলো খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা। এ সবকটি চাহিদা পূরণ হয় কৃষি থেকে। ধান থেকে চাল, গম গাছ থেকে গম, ফলগাছ থেকে ফল খাদ্য হিসেবে পাই। পাট, তুলা ও রেশম থেকে কাপড় তৈরির সুতা পাই। কাঠ, বাঁশ, খড়, শণ, গোলপাতা ইত্যাদি থেকে গৃহনির্মাণ সামগ্রী ও আসবাবপত্র পাই। কাঠ ও আখের ছোবড়া, বাঁশ ইত্যাদি থেকে লেখার কাগজ পাই। আমলকী, হরতকী, বহেড়া, কেশুটি, থানকুনি, বাশক ইত্যাদি থেকে ঔষধ পাওয়া যায়। আর এ সবকিছুই হলো কৃষি।
ধানকে মাঠ ফসল বলার কারণগুলো নিম্নরূপ-
১. ধান জমিতে বেড়া ছাড়া অর্থাৎ খোলা অবস্থায় চাষ করা হয়।
২. প্রতিটি গাছের আলাদাভাবে যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
৩. প্রতিটি গাছের গোড়ায় আলাদাভাবে সার দিতে হয় না।
৪. প্রতিটি গাছের গোড়ায় আলাদাভাবে সেচ দিতে হয় না।
৫. চাষ করার জন্য সমতল ও নিচু জমি উত্তম।
সর্বোপরি ধান একটি দানা জাতীয় ফসল। আর দানাজাতীয় ফসল মানেই মাঠ ফসল।
কৃষি একটি আদি, আধুনিক এবং অত্যন্ত সম্মানজনক পেশা। কৃষির মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার প্রয়োজন মেটানো হয়। কৃষি আমাদের খাদ্যের যোগান দেয়। পাট, তুলা, রেশম থেকে কাপড় তৈরির সূতা পাই। কাঠ-বাঁশ, খড়, শণ, গোলপাতা থেকে গৃহনির্মাণ সামগ্রী, আসবাবপত্র ও জ্বালানি পাই এবং শিক্ষার উপকরণাদি পেয়ে থাকি। আমলকী, হরতকী, বহেড়া, থানকুনি, বাশক ইত্যাদি থেকে ঔষধ পাওয়া যায়। দুধ, মাংস, ডিম এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার আমরা পশু পাখি থেকে পেয়ে থাকি যা কৃষির অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ কৃষি থেকেই আমরা আমাদের জীবন ধারণের সব কিছু পেয়ে থাকি। তাই কৃষির উন্নয়ন হলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন হবে।
অভিজ্ঞ কৃষক একজন স্থানীয় নেতা এবং একজন পরামর্শদাতা। তিনি স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রাখেন ও নতুন নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন। এছাড়া তিনি গণমাধ্যম থেকে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন। ফলে তিনি স্থানীয় তথ্যভান্ডার হিসেবে পরিচিতি লাভকরেন। সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা যখন এলাকা পরিদর্শনে যান, তখন অভিজ্ঞ কৃষকের শরণাপন্ন হন এবং তাদেরকে সঙ্গে নিয়েই কৃষকদের গৃহ ও খামার পরিদর্শন করেন এবং মাঝে মধ্যে কৃষক সভা ও উঠান বৈঠক করেন। এভাবে অভিজ্ঞ কৃষকেরা কৃষি জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করেন। অতঃপর তিনি নিজ এলাকার কৃষকদের কৃষি বিষয়ে পরামর্শ দান করেন। বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থার মোকাবিলা করার জন্য প্রাথমিকভাবে কৃষকেরা অভিজ্ঞ কৃষকের দ্বারস্থ হয়ে থাকেন। আর তিনিও আন্তরিকভাবে যতটুকু জানেন সে মোতাবেক কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
কৃষি বিষয়ক প্রয়োজনীয় তথ্য জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম-হলো কৃষিমেলা। এ মেলায় এক নজরে নানা ফসলের বাহারি সমাহার দেখা সম্ভব হয়। কৃষির আধুনিক প্রযুক্তি, কৃষি উপকরণ ও উৎপাদিত কৃষিপণ্য একসাথে একমাত্র কৃষিমেলার মাধ্যমেই দেখা সম্ভব। এই মেলায় চারা, বীজ, সার, কৃষি প্রযুক্তি ইত্যাদি দেখানো ও বিক্রি করা হয়। এ মেলায় কৃষিবিষয়ক নানা লিফলেট, পুস্তিকা, বুলেটিন, পত্রিকা প্রদর্শিত হয় এবং বিনামূল্যে দর্শকদের দেওয়া হয়। এতে কৃষিবিষয়ক কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও উপস্থিত দর্শকগণও কৃষি কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হন। সুতরাং কৃষিবিষয়ক তথ্য পেতে কৃষি মেলার বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের জীবনে কৃষি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা কৃষি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানোর প্রায় সকল উপকরণ উৎপাদন ও সরবরাহ করে। এছাড়া অন্যান্য পণ্য ও সেবা ক্রয়ের অর্থও কৃষি যোগান দেয়। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও স্বাস্থ্য খাতের চাহিদাগুলো পূরণে আমাদের জীবনে কৃষি তাই ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
কৃষির অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো যেমন: ফসল, পশু-পাখি, মৎস্য ও বনায়ন নিয়েই হচ্ছে কৃষির পরিধি।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
- বাংলাদেশের কৃষির পরিধি এবং পরিসর ব্যাখ্যা করতে পারব।
- কৃষিবিষয়ক তথ্য ও সেবা প্রাপ্তির উৎস চিহ্নিত করতে পারব।
Related Question
View Allজমিতে বেড়া ছাড়া অর্থাৎ খোলা অবস্থায় যেসব ফসল চাষ করা হয় সেগুলোকে মাঠ ফসল বলে। যেমন- ধান, গম, পাট ইত্যাদি।
মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো সংবিধান অনুসারে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা। এ সবকটি চাহিদা পূরণ হয় কৃষি থেকে। ধান থেকে চাল, গম গাছ থেকে গম, ফলগাছ থেকে ফল খাদ্য হিসেবে পাই। পাট, তুলা ও রেশম থেকে কাপড় তৈরির সুতা পাই। কাঠ, বাঁশ, খড়, শন, গোলপান্ডা ইত্যাদি থেকে গৃহনির্মাণ সামগ্রী ও আসবাবপত্র পাই। বাঁশ, খড়, নাড়া, গবাদিপশুর বিষ্ঠা, গাছের ডালপালা ইত্যাদি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করি। কাঠ ও আখের ছোবড়া, বাঁশ ইত্যাদি থেকে কাগজ পাই। আমলকী, হরীতকী, বহেড়া, কেশুটি, থানকুনি, বাশক ইত্যাদি থেকে ঔষধ পাওয়া যায়। আর এ সবকিছুই হলো কৃষি।
সুতরাং বলা যায়, কৃষিই মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে।
চিত্র 'ক'- এর ফসলটি হলো ধান। আর ধান হলো মাঠ ফসল।
ধানকে মাঠ ফসল বলার কারণগুলো নিম্নরূপ-
১. ধান জমিতে বেড়া ছাড়া অর্থাৎ খোলা অবস্থায় চাষ করা হয়।
২. প্রতিটি গাছের আলাদাভাবে যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
৩. প্রতিটি গাছের গোড়ায় আলাদাভাবে সার দিতে হয় না।
৪. প্রতিটি গাছের গোড়ায় আলাদাভাবে সেচ দিতে হয় না।
৫. চাষ করার জন্য সমতল ও নিচু জমি উত্তম।
সর্বোপরি ধান একটি দানা জাতীয় ফসল। আর দানাজাতীয় ফসল মানেই মাঠ ফসল।
চিত্র 'ক'-এর ফসলটির নাম ধান এবং চিত্র 'খ'- এর ফসলটি হলো আম। ধান হলো মাঠ ফসল অন্যদিকে আম একটি উদ্যান ফসল। কারো যদি একখণ্ড জমি থাকে তবে সে তার জমিতে বছরে তিন বার ধান চাষ করতে পারে। এর মাধ্যমে সে তার সারা বছরের খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত অংশ বিক্রি করে অন্যান্য চাহিদাও পূরণ করতে পারে। ধানের উৎপাদন খরচও খুব বেশি লাগে না। পক্ষান্তরে আম চাষের জন্য উঁচু জমির দরকার হয়। একটি আমগাছ লাগিয়ে তা থেকে ফলন পাওয়ার জন্য কমপক্ষে ৪-৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়। আবার একবছর আম ধরলে পরবর্তী বছর আম নাও ধরতে পারে অথবা কম ধরবে। আম চাষে প্রতিটি গাছের আলাদা যত্ন নিতে হয় বলে গাছ প্রতি খরচও বেশি পড়ে।
সুতরাং অর্থনৈতিক বিবেচনায় আমের চেয়ে ধান বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।
কৃষি বিষয়ক একটি সমস্যার নাম হলো ফসলের রোগ-বালাই।
কৃষি একটি প্রযুক্তি। আর এ প্রযুক্তির সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ফল লাভের জন্য অভিজ্ঞতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন অভিজ্ঞ কৃষক তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কৃষির যেকোনো তথ্য দিতে পারেন। একজন অভিজ্ঞ কৃষকের কাছ থেকে নবীন কৃষকরা তথ্য নিয়ে তাদের সমস্যার সমাধান করেন এবং পরবর্তীতে তারাও অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন। আর এভাবে অভিজ্ঞ কৃষক কৃষিকে চলমান রাখেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!