কৃষি কাজ করার জন্য যেসব ধারণা, পদ্ধতি, যন্ত্র বা জিনিসপত্র ব্যবহার করা হয় সেগুলোই হচ্ছে কৃষি প্রযুক্তি।
পাঁচটি কৃষি যন্ত্রপাতির নাম হলো-
১. মোন্ডবোর্ড লাঙল,
২. ন্যাপস্যাক স্প্রেয়ার,
৩. প্যাডেল প্রেসার,
৪. পাওয়ার টিলার ও
৫. সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প।
লাঙল ব্যবহারের সুবিধা নিচে দেওয়া হলো-
১. লাঙল সহজলভ্য ও দেশীয় উপাদান দ্বারা তৈরি।
২. লাঙল তৈরি করা ও পরিচালনা সহজ।
৩. লাঙল ওজনে হালকা বলে বহন করা সহজ।
লাঙল দেশি লাঙল হিসেবেই অধিক পরিচিত। একটি কাঠকে বাঁকা করে কাঠের আগায় লোহার একটি ফলক বা ফাল লাগানো হয়। এই ফলকের সাহায্যেই লাঙল মাটি চিরে জমি চষে। লাঙলের উপরের অংশকে বলা হয় হাতল। এই হাতল চেপে ধরেই কৃষকেরা জমিতে লাঙল চালনা করেন।
লাঙলের মধ্যস্থানে একটি ছিদ্র করা হয়। এই ছিদ্রপথে প্রায় ৮ ফুট লম্বা একটি কাঠ যুক্ত করা হয়, যার আগায় ৪/৫ টি দাঁত বা খাঁজ কাটা থাকে। এটাকে ঈশ বলা হয়। ঈশের খাঁজে রশি বেঁধে জোয়ালের সাথে লাঙল লাগানো হয়। ঈশ যাতে লাঙলের সাথে ভালোভাবে আবদ্ধ থাকে সেজন্য ছোট কাঠের একটি খিল ব্যবহার করা হয়।
দেশি লাঙলের উন্নত রূপ হিসেবে আসে মোল্ডবোর্ড লাঙল, যার কার্যক্ষমতা দেশি লাঙলের চেয়ে বেশি। এরপর আরও উন্নত ও দ্রুতগতি সম্পন্ন রূপ হিসেবে এসেছে পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর। এগুলো দিয়ে দ্রুত ও গভীরভাবে জমি চাষ করা সম্ভব হচ্ছে।
দেশের জনসংখ্যা বাড়ার কারণে মাছের চাহিদা পূরণের জন্য মৎস্য বিশেষজ্ঞরা মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাদের অনেক পরামর্শের মধ্যে খাঁচায় মাছের চাষ একটি। বাংলাদেশে খাঁচায় মাছ চাষ মৎস্য বিশেষজ্ঞদের একটি অনুমোদিত প্রযুক্তি। যেসব এলাকায় নদী-নালা, হাওর, খাল-বিল আছে কিন্তু পুকুর নেই সেসব এলাকার কৃষকেরা খাঁচায় মাছ চাষ করতে পারেন। নদীতে বা বিলে বা যেকোনো উন্মুক্ত জলাশয়ে খাঁচার মাধ্যমে পুকুরের আকার বানিয়ে ভূমিহীন অথবা সচ্ছল কৃষকেরা যারা নদীতীর, হাওর-বিল বা উপকূল অঞ্চলে বসবাস করেন, তারা খাঁচায় মাছ চাষের এ সুযোগ গ্রহণ করেন। খাঁচায় মাছ চাষ করতে সাধারণত কৃষিজ উপকরণ বাঁশ, বেত, খুঁটি, জাল ব্যবহৃত হয় এবং মূলত কৃষকরাই এ প্রযুক্তিতে মাছ চাষ করে থাকেন। এমনকি খাঁচা তৈরি করতে প্রয়োজনীয় এ উপকরণসমূহও কৃষকরাই উৎপাদন ও তৈরি করতে পারেন।
উপরের বর্ণনায় দেখা যাচ্ছে, খাঁচায় মাছ চাষের ধারণাটি ব্যবহার করে কৃষকরা সহজেই লাভবান হতে পারে। তাই খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতি একটি কৃষি প্রযুক্তি।
কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ পদ্ধতিকে সাইলেজ বলে। নিচে কাঁচা পিটে সাইলেজ তৈরির পদ্ধতি আলোচনা করা হলো-
১. কাঁচা ঘাস সংরক্ষণের জন্য প্রথমেই শুকনা ও উঁচু জায়গা নির্ধারণ করতে হবে।
২. নির্ধারিত স্থানে ১ মিটার গভীর, ১ মিটার প্রস্থ এবং ১ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি গর্ত তৈরি করতে হবে।
৩. ১ ঘন মিটার একটি মাটির গর্তে প্রায় ৭০০ কেজি কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ করা যায়।
৪. কাঁচা ঘাসের শতকরা ৩-৪ ভাগ চিটাগুড় মেপে একটি চাড়িতে নিতে হবে।
৫. এরপর চিটাগুড়ের সাথে সমপরিমাণ পানি মিশাতে হবে।
৬. গর্তের তলায় পলিথিন বিছালে ভালো হয়। পলিথিন না বিছালে পুরু করে খড় বিছাতে হবে এবং চারপাশে ঘাস সাজানোর সাথে সাথে খড়ের আস্তরণ দিতে হবে।
৭. এরপর ধাপে ধাপে ৭০০ কেজি কাঁচা ঘাস দিয়ে ২০ - ৩০ কেজি শুকনো খড় দিতে হবে।
৮. প্রতিটি ঘাসের ধাপে ১৫ থেকে ২০ কেজি চিটাগুড়-পানির মিশ্রণ সমভাবে ছিটাতে হবে।
৯. এভাবে ধাপে ধাপে ঘাস ও খড় বিছিয়ে ভালোভাবে পাড়াতে হবে, যাতে বাতাস বেরিয়ে যায়।
১০. ঘাস সাজানো শেষ হলে খড়ের আস্তরণ দিয়ে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।
১১. সর্বশেষে পলিথিনের উপর ৭.৫ ১০ সেমি মাটি পুরু করে। দিতে হবে।
আকালের সময় (অক্টোবর-নভেম্বর) সংরক্ষিত কাঁচা ঘাস বা সাইলেজ গরুকে খেতে দিতে হবে।
কৃষি কাজ করার জন্য যেসব ধারণা, পদ্ধতি, যন্ত্র বা জিনিসপত্র ব্যবহার করা হয় সেগুলোই হচ্ছে কৃষি প্রযুক্তি। যেমন-সবুজ সার, রাসায়নিক সার, ট্রাক্টর, নলকূপ, কৃষি বনায়ন ইত্যাদি।
কৃষি প্রযুক্তির বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এর মধ্যে নতুনত্ব থাকবে।
২. কৃষিকাজ সহজ করবে।
৩. অধিক উৎপাদনের নিশ্চয়তা থাকবে।
৪. খরচ কম এবং লাভ বেশি হবে।
কৃষির মাধ্যমেই আদিম যুগের মানুষ তাদের জীবন ধারার পরিবর্তন শুরু করেছিল। এ কৃষিকাজ করতে গিয়ে মানুষ প্রতিনিয়ত। নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এ সমস্যাগুলোর সমাধান ও কাজকে সহজ করার তাগিদেই কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভব ঘটেছে।
আধুনিক প্রযুক্তি কৃষি ক্ষেত্রের কার্যক্রমকে সহজতর করে তুলছে। যেমন- আগে জমি চাষে দেশি লাঙল ব্যবহার করা হতো। যাতে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি লাগত। কিন্তু 'বর্তমানে জমি চাষে ব্যবহার হচ্ছে ট্রাক্টর। যার মাধ্যমে অল্প সময়ে অনেক বেশি জমি চাষ করা যাচ্ছে। আবার ফসল কাটার যন্ত্র, মাড়াই যন্ত্র ব্যবহার করে অল্প সময়ে সব কাজ শেষ করা যাচ্ছে। এভাবে কৃষি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার সময়ের অপচয় রোধ করছে।
জমিতে বর্ষার পানি নেমে গেলে জমি কাদাময় হয়ে থাকে। এ কাদাময় জমিতে কোনো প্রকার চাষ ছাড়া ভুট্টার বীজ বপন করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। ভুট্টার এ চাষ পদ্ধতিকে শূন্য চাষে ভুট্টা চাষ বলে।
যেসব যন্ত্র দ্বারা জমি চাষ, বীজ বপন, আগাছা দমন, পোকামাকড় দমন, পানি সেচ দেওয়া, ফসল তোলা, মাড়াই-ঝাড়াই করা হয় তাকে কৃষি যন্ত্রপাতি বলে।
ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে শুধু ভালো বীজ, সার, পানি বা ঔষধ ব্যবহারই যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি দরকার কৃষি যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার। এর কারণ হলো কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদন পর্যায়ের কাজগুলোকে সহজ করে দেয়। কৃষি যন্ত্রপাতির সাহায্যে অল্প সময়ে ও যথাযথভাবে উৎপাদনকালীন প্রতিটি কাজ করা যায়। তাই ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষি যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার জরুরি।
বারি পাম্পের সুবিধা হলো:
১. স্থানীয়ভাবে তৈরি করা যায়।
২. অনেক বেশি পানি উঠানো যায়।
৩. মাটির নিচ ও উপর থেকে পানি উঠানো যায়।
উন্নত জাতের বীজ বলতে এমন বীজকে বুঝায় যা সকল ধরনের দোষ ও মিশ্রণমুক্ত এবং পরিষ্কার, পুষ্ট ও স্বাভাবিক আকারের হয়ে থাকে। উন্নত জাতের বীজে যদি সামান্য পরিমাণেও অন্য কিছুর মিশ্রণ থাকে তবে সে বীজকে আর উন্নত জাতের বীজ বলা যাবে না। এ মিশ্রণ উন্নতজাতের বীজের গুণকে নির্গুণ করে দেয়। এ বীজ দিয়ে আর ভালো ফসল উৎপাদন সম্ভব হয় না।
যে নির্দিষ্ট স্থানে বা গর্তে ঘাস সংরক্ষণ করা হয় তাকে সাইলোপিট বলে। যেখানে বৃষ্টির পানি জমে থাকেনা এবং ঘাসের অভাব হয় না। এমন স্থানে সাইলোপিট তৈরি করতে হয়।
যে নির্দিষ্ট স্থানে বা গর্তে ঘাস সংরক্ষণ করা হয় তাকে সাইলোপিট বলে। এ সাইলোপিটে অক্সিজেনের অভাব থাকে। আর অক্সিজেনের অভারে ঘাসে ল্যাকটিক এসিড তৈরি হয়।
বাংলাদেশে খাঁচায় তেলাপিয়া, নাইলোটিকা ও কার্পজাতীয় মাছ চাষ করা যায়। তবে খাঁচা বড় হলে পাঙ্গাস মাছও চাষ করা যায়।
পলো দিয়ে মাছ ধরার জন্য পলোর উপরের দিকে হাত দিয়ে ধরে অগভীর পানিতে চাপ দিতে হয়। মাছ পলোতে আটকা পড়লে মাছ পলোর ভিতরে ছুটাছুটি করতে থাকে। তখন পলোতে একটি কম্পন অনুভূত হয়। এ কম্পন থেকে বুঝা যায় যে, পলোতে মাছ আটকা পড়েছে।
লাঙলের মধ্যখানে একটি ছিদ্র থাকে। এ দ্রিপথে প্রায় ৮ ফুট লম্বা একটি কাঠ যুক্ত করা হয় যার আগায় ৪/৫টি দাঁত বা খাঁজকাটা। এটাকে ঈশ বলে।
লাঙল ব্যবহারের সুবিধা হলো-
১. লাঙল সহজলভ্য।
২. লাঙল তৈরি করা ও পরিচালনা সহজ।
৩. লাঙল ওজনে হালকা বলে বহন করা সহজ।
যে জালের উপরের প্রান্তে সরু রশি বাঁধা থাকে এবং নিচের দিকে লোহার ছোট ছোট কাঠি যুক্ত থাকে তাকে ঝাঁকি জাল বলে।
খরা জাল এটি একটি ত্রিভুজাকৃতির জাল যা বাঁশের মাচা বা টং থেকে চালানো হয়। জাল ইংরেজি "V" আকৃতির বাঁশের কাঠামোর মাঝখানে বাঁধা থাকে। জালটি নদী বা বিলে মাছের চলাচলের পথে পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর জালের পিছনের দিকে বাঁশের গোড়ায় চাপ দিলে জাল উপরে উঠে আসে। এর পর জালে আটকা পড়া মাছ সংগ্রহ করা হয়।
কৃষি সমস্যা সমাধানের জন্য গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও কলাকৌশলকে কৃষি প্রযুক্তি বলা হয়। কৃষি প্রযুক্তির প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
১. এর মধ্যে নতুনত্ব থাকবে;
২. কৃষিকাজ সহজ হবে;
৩. অধিক উৎপাদনের নিশ্চয়তা থাকবে;
৪. খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি হবে এবং
৫. সময় কম লাগবে।
বিভিন্ন শক্তিচালিত কৃষি যন্ত্রের মধ্যে পাওয়ার টিলার একটি। নিচে এর বর্ণনা দেওয়া হলো-
পাওয়ার টিলারের উল্লেখযোগ্য অংশ হচ্ছে ঘূর্ণি লাঙল। চাষের সময় লাঙলটি প্রচণ্ড গতিতে ঘোরে। আর তাতে গভীরভাবে জমি চাষ হয়। এতে মাটি ঝুরঝুরে হয় ও আগাছা ধ্বংস হয়। ঘূর্ণি লাঙল চালাতে সুবিধা হলো, এর সাথে চাকতি বা ফালি লাঙল ও রোটারি লাঙল ইত্যাদি ব্যবহার করা যায়। পাওয়ার টিলার দ্বারা দ্রুত ও গভীরভাবে জমি চাষ করা হয়।
কাঁচা ঘাসের গুরুত্ব অনেক। শুকনো মৌসুমে যখন ঘাসের অভাব দেখা দেয় তখন পশুকে মানসম্মত খারার প্রদান কষ্টকর হয়। এতে করে এ সময় গবাদিপশুর পুষ্টির অভাব পূরণ হয় না। পশুর দুধ উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায়। যদি বর্ষাকালে যখন প্রচুর ঘাস জন্মে তখন শুকনো মৌসুমের জন্য সাইলেজ পদ্ধতিতে ঘাস সংরক্ষণ করা যায় তবে শুকনো মৌসুমেও কাঁচা ঘাসের অভাব পূরণ করা সম্ভব হয়। সাইলেজে ঘাসের পুষ্টিমানের কোনো পরিবর্তন হয় না। এতে গবাদিপশুর দুধ উৎপাদনও ঠিক থাকে।
ভালো বীজের বৈশিষ্ট্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. অন্য জাতের মিশ্রণমুক্ত থাকতে হবে।
২. বীজ পরিষ্কার ও পুষ্ট হবে।
৩. বীজের রং স্বাভাবিক হবে।
৪. বীজ দাগযুক্ত বা পোকা খাওয়া বা ভাঙা হবে না।
৫. ইট, পাথরের কণা ও আগাছা থেকে বীজ মুক্ত হবে।
৬. বীজ অঙ্কুরোদগমের শতকরা হার কমপক্ষে ৮০ ভাগ হবে।
খাঁচায় মাছ চাষের জন্য নির্ধারিত জায়গায় খাঁচা বসানোর জন্য প্রথমে খাঁচা তৈরি করে নিতে হবে। খাঁচা তৈরির প্রথমেই চারদিকে চারটি খুঁটি দিয়ে এবং আড়াআড়ি বাঁশ বেঁধে খাঁচার আয়তাকার কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর খাঁচার কাঠামোর চারদিকে এবং উপরে নিচে জাল দ্বারা আবৃত করে খাঁচা তৈরি করা হয়। পরে খাঁচাটি তুলে নিয়ে নির্ধারিত স্থানের মাটিতে শক্ত করে বাঁশের খুঁটি পুঁতে এর সাথে খাঁচা বেঁধে দিতে হয়। খাঁচার উপরের দিকে মাছের খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়। খাঁচা ছোট, মাঝারি ও বড় রকমের হতে পারে। লম্বা বাঁশের ফ্রেম বানিয়ে এর সাথে ঘন ছিদ্রযুক্ত নেট বা জাল লাগিয়ে অনেকগুলো খোপের মাছের খাঁচা তৈরি করা যায়। বিভিন্ন খোপে বিভিন্ন মাছের চাষ করা যেতে পারে।
Related Question
View Allকৃষি কাজ করার জন্য যেসব ধারণা, পদ্ধতি, যন্ত্র বা জিনিসপত্র ব্যবহার করা হয় সেগুলোই হচ্ছে কৃষি প্রযুক্তি।
আধুনিক প্রযুক্তি কৃষি ক্ষেত্রের কার্যক্রমকে সহজতর করে তুলছে। যেমন- আগে জমি চাষে দেশি লাঙল ব্যবহার করা হতো। যাতে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি লাগত। কিন্তু বর্তমানে জমি চাষে ব্যবহার হচ্ছে ট্রাকটর। যার মাধ্যমে অল্প সময়ে অনেক বেশি জমি চাষ করা যাচ্ছে। আবার ফসল কাটার যন্ত্র, মাড়াই যন্ত্র ব্যবহার করে অল্প সময়ে সব কাজ. শেষ করা যাচ্ছে। এভাবে কৃষি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার সময়ের অপচয় রোধ করছে।
কাশিমপুর গ্রাম একটি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিনির্ভর গ্রাম। এর মানে এ গ্রামের কৃষকরা তাদের কৃষিকাজের প্রতিটি ধাপে আধুনিক কলাকৌশল ব্যবহার করে চাষাবাদ করে থাকে। যেমন- জমিতে সময়মতো সার প্রয়োগ, জমিচাষে ট্রাকটর ব্যবহার, উন্নতজাতের বীজ ব্যবহার, ফসল কাটা ও মাড়াই-ঝাড়াই যন্ত্র ব্যবহার ইত্যাদি। কৃষি কাজে আধুনিক এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এ গ্রামের কৃষকরা- ফসল চাষের প্রতিটি। ক্ষেত্রে প্রতিটি নিয়মাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে সক্ষম হচ্ছেন। যা ফসল চাষ করে সর্বোচ্চ ফলন লাভের মূল বিষয়। কাশিমপুর গ্রামের কৃষকদের বেশি ফলন লাড়ের কারণ এটাই।
রাসেল সাহেব একজন কৃষিকর্মকর্তা। তিনি লক্ষ করেছেন হরিপুর গ্রামের কৃষকরা কৃষিকাজে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে না। এ কারণে তারা ফসলের ফলনও আশানুরূপ পান না। পক্ষান্তরে কাশিমপুর গ্রামের কৃষকরা কৃষিকাজে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ফলন লাভে সক্ষম হচ্ছে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে রাসেল সাহেব হরিপুর গ্রামের কৃষকদের জন্য উঠোন বৈঠকের আয়োজন করেন এবং তাদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সুবিধা সম্পর্কে অবহিত করেন। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিকাজ সহজ হয়ে উঠবে; প্রত্যাশামাফিক ফলন পাওয়া যাবে-এ বিষয়গুলো হাতে-কলমে দেখানোর জন্য তিনি হরিপুর গ্রামের কৃষকদের নিয়ে কাশিমপুর গ্রামে যান এবং সরেজমিনে আধুনিক প্রযুক্তির কার্যক্রম দেখান।
হরিপুর গ্রামের কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর করার জন্য রাসেল সাহেবের এ উদ্যোগ একটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পন্থা। যেকোনো গ্রাম বা এলাকাকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ খুবই কার্যকর হবে। রাসেল সাহেবের উদ্যোগটি হরিপুর গ্রামকেও আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর করে তুলতে সক্ষম হবে। এ গ্রামের কৃষকরাও ফসল চাষ করে সর্বোচ্চ ফলন লাভে সক্ষম হবে।
ভালো বীজের রং স্বাভাবিক হবে।
উন্নত জাতের বীজ বলতে এমন বীজকে বুঝায় যা সকল ধরনের দোষ ও মিশ্রণমুক্ত এবং পরিষ্কার, পুষ্ট ও স্বাভাবিক আকারের হয়ে থাকে। উন্নত জাতের বীজে যদি সামান্য পরিমাণেও অন্য কিছুর মিশ্রণ থাকে তবে সে বীজকে আর উন্নত জাতের বীজ বলা যাবে না। এ মিশ্রণ উন্নতজাতের বীজের গুণকে নির্গুণ করে দেয়। এ বীজ দিয়ে আর ভালো ফসল উৎপাদন সম্ভব হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
