ঈশ্বরের সৃষ্টি মানুষের প্রতি আমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে।
কেননা মানুষ হলো সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। নিম্নে ঈশ্বরের সৃষ্টি মানুষের প্রতি আমাদের দায়িত্বসমূহ তুলে ধরা হলো:
১. অসুস্থ মানুষের জন্য প্রার্থনা করা এবং তাদের সেবা করা।
২. গরিব ও অসহায় মানুষদের সাধ্যমতো সাহায্য-সহযোগিতা করা।
৩. প্রত্যেক মানুষের প্রতি দয়া, সহানুভূতি ও যত্নশীল আচরণ করা।
৪. ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মানুষের ক্ষতি না করা এবং কষ্ট না দেওয়া।
৫. জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা অবস্থান নির্বিশেষে সকলের প্রতি ন্যায় ও সমতা বজায় রাখা।
৬. গাছপালা, নদনদী, প্রাণিকুল- সবকিছুর যত্ন নেওয়া ও সংরক্ষণ করা।
৭. সমাজে শান্তি, ন্যায়, শিক্ষা ও মানবকল্যাণের জন্য কাজ করা ইত্যাদি।
মানুষ ঈশ্বরের সব আদেশ মানতে বাধ্য'- এ বিশ্বাসের পেছনে গভীর ধর্মীয় ও নৈতিক ভিত্তি রয়েছে। নিচে এ সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো:
১. মহান ঈশ্বর হলেন বিশ্বজগৎ ও মানুষের স্রষ্টা। তাই মানুষ তাঁর আদেশ মেনে চলতে বাধ্য। কারণ তিনি সর্বোচ্চ কর্তৃত্বের অধিকারী।
২. পবিত্র বাইবেলে বলা হয়েছে, "যদি তোমরা আমাকে ভালোবাসো তবে আমার আদেশ মানো।" অর্থাৎ ঈশ্বরের আদেশ মানা তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যের প্রকাশ।
৩. মহান ঈশ্বরের আদেশ এবং যীশুখ্রীষ্টের শিক্ষা মেনে চললেই মানুষ মুক্তি ও চিরন্তন জীবন লাভ করতে পারে।
৪. পবিত্র বাইবেল অনুযায়ী আদম ও ইভের অবাধ্যতার ফলেই মানবজাতি পাপের মধ্যে পড়ে। তাই ঈশ্বরের আদেশ অমান্য করা পাপ, আর আনুগত্য পবিত্রতার প্রতীক।
৫. মহান ঈশ্বরের আদেশ "চুরি করো না", "মিথ্যা বলো না", "হত্যা করো না"- এসব 'মানুষের জীবনে নৈতিকতা ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে।
চুরি রোধের প্রধান উপায় হলো ঈশ্বরভীতি, নৈতিকতা ও 'মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ। খ্রীষ্টীয় ধর্ম মতে, চুরি একটি গুরুতর "পাপ। এটি মহান ঈশ্বরের "তুমি চুরি করিবে না" আদেশের লঙ্ঘন।
"সমাজে চুরি রোধে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে-
১. নৈতিক শিক্ষা প্রদান: শিশু ও সমাজের মানুষকে পবিত্র বাইবেলের নৈতিক শিক্ষা ও সাগরের আদেশ সম্পর্কে সচেতন করা।
২. সততা ও পরিশ্রমের চর্চা মানুষকে পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকা অর্জনের শিক্ষা দেওয়া, যাতে অন্যের সম্পদের ওপর লোভ না জন্মায়।
৩. সমাজে সহানুভূতি বৃদ্ধি: দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদের সাহায্য করার মাধ্যমে সমাজে চুরির মতো পাপ কাজ কমানোর চেষ্টা করা।
৪. আত্মসমালোচনা ও প্রার্থনা: নিজের ভুল স্বীকার করে ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও সঠিক পথে চলার অঙ্গীকার করা।
৫. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: সমাজে সুষ্ঠু আইন ও ন্যায়বিচার কার্যকর করে অন্যায়ভাবে সম্পদ অর্জনকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা।
স্বর্গে সম্পদ সঞ্চয় করা মানে হলো এমন কাজ করা যা ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী ও চিরস্থায়ী পুরস্কারের যোগ্য। তাই ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী সৎ, দয়ালু ও প্রেমময় জীবনযাপন করাই স্বর্গে সম্পদ সঞ্চয়ের সর্বোত্তম উপায়। নিচে এ বিষয়ে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো-
১. দয়া ও দানশীলতা চর্চা করা দরিদ্র, অসহায় ও অভাবীদের সাহায্য করা মহান ঈশ্বরের কাছে মূল্যবান কাজ।
২. ঈশ্বরের আদেশ মানা পাপ থেকে দূরে থেকে ঈশ্বরের বিধান অনুযায়ী জীবনযাপন করা।
৩. প্রার্থনা ও উপাসনায় নিয়মিত থাকা আন্তরিকভাবে প্রার্থনা ও
ঈশ্বরের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা।
৪. অন্যের প্রতি ভালোবাসা ও ক্ষমা প্রদর্শন প্রতিবেশীকে ভালোবাসা এবং শত্রুকেও ক্ষমা করার মাধ্যমে মহান ঈশ্বরের ভালোবাসা পাওয়া যায়।
উল্লিখিত কাজগুলো করার মাধ্যমে মহান ঈশ্বরের সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা অর্জন করা সম্ভব; যা স্বর্গে আমাদের জন্য সঞ্চয়কৃত সম্পদরূপে পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হবে।
সুমনা একজন মেধাবী ছাত্রী। সে বিদ্যালয়ের সকল নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলে। সে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যায় এবং শ্রেণির নানা কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তার যথেষ্ট দক্ষতা রয়েছে। সেই সাথে শ্রেণির দুর্বল শিক্ষার্থীদের সে উদারভাবে সাহায্য করে। সুমনার এসব ভালো গুণ এবং ভালো পড়াশোনার কারণে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরও অনেক সুনাম হয়েছে। এসব কারণেই শিক্ষকগণ সুমনার প্রতি খুবই সন্তুষ্ট এবং খুশি।
'আমাদের চিন্তা ও রিপুর তাড়না থেকে সংযত থাকতে হবে'-এ কথার অর্থ হলো মানুষকে নিজের মন ও ইন্দ্রিয়ের কামনা-বাসনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। চিন্তা হলো মানুষের অন্তরের কার্যকলাপ; আর রিপু বা তাড়না হলো লালসা, রাগ, ঈর্ষা, লোভ ইত্যাদি মানসিক প্রবৃত্তি। যদি মানুষ এসব তাড়নার বশবর্তী হয়, তবে সে সহজেই পাপের পথে চলে যায়। তাই সংযম বা আত্মনিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহান ঈশ্বর চান যে, মানুষ যেন পবিত্র ও সৎ জীবনযাপন করে। যীশুখ্রীষ্ট শিক্ষা দিয়েছেন যে, মনের পবিত্রতা বাইরের কাজের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। তাই একজন মানুষ হিসেবে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে যেন তার চিন্তা ও কামনা ঈশ্বরের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যায়। প্রকৃত সংযমের মাধ্যমেই মানুষ সত্যিকারের ধার্মিকতা অর্জন করতে পারে এবং নৈতিক জীবনে পরিচালিত হতে পারে।
কোনো মানুষ যখন অন্যকে সম্মান করে, ভালোবাসে ও ন্যায়বিচার প্রদান করে, তখন তার দ্বারা অন্যের মর্যাদা রক্ষা হয়। এতে মানুষের মধ্যে মহান ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি প্রতিফলিত হয়। যীশুখ্রীষ্ট শিক্ষা দিয়েছেন- "তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাস।" এই ভালোবাসা আর সম্মানই ব্যক্তি মর্যাদার মূল চেতনা। আমরা সবাই জানি যে, অন্যের প্রতি সহানুভূতি, ক্ষমা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন মানুষকে আত্মিকভাবে উন্নত করে তোলে। যে ব্যক্তি সকলের প্রতি মর্যাদা দান করে, সে নিজের জীবনকে মহিমান্বিত করে তোলে। কারণ সে মহান ঈশ্বরের আদেশ পালন করছে এবং তাঁর ভালোবাসার সাক্ষ্য বহন করছে। অতএব, ব্যক্তি মর্যাদা রক্ষা ও দান করা মানেই স্বর্গের প্রতিমূর্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো; যা মানুষকে সত্যিকারের মহিমান্বিত ও ধার্মিক করে তোলে।
দশ আজ্ঞার চতুর্থ/পঞ্চম আজ্ঞায় নির্দেশ করা হয়েছে সন্তানেরা যেন পিতামাতার বাধ্য থাকে। প্রেরিত দূত পৌল বলেন, 'সন্তানরা তোমরা পিতা-মাতার বাধ্য হও ও তাদের সম্মান করো।' তাই' আমাদেরকে সবসময় বৃদ্ধ পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রাখতে হবে। সেই সাথে তাঁদেরকে নিয়মিত সেবা-যত্ন করতে হবে। আমাদের বৃদ্ধ পিতা-মাতার প্রতি সবসময় ধৈর্য ও মমতা প্রদর্শন। করতে হবে। তাঁদের অসুস্থতার সময় শারীরিক ও মানসিক যত্ন নিতে হবে। সর্বোপরি মহান ঈশ্বরের কাছে তাঁদের সুস্বাস্থ্য ও শান্তির জন্য প্রার্থনা করতে হবে।
লোভ হলো এক ধরনের অশুভ প্রবৃত্তি; যা মানুষকে মহান ঈশ্বরের আদেশ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। পবিত্র বাইবেলে বলা হয়েছে, "অর্থের প্রতি প্রেম সকল প্রকার অমঙ্গলের মূল।" লোভমানুষের মনে অসন্তোষ সৃষ্টি করে এবং অন্যের সম্পদ বা সুখ দখল করার ইচ্ছা জাগায়। লোভ থেকেই সকল প্রকার অন্যায়, চুরি ও প্রতারণার সৃষ্টি হয়। এসব কাজ অনেক বড় পাপ। যীশুখ্রীষ্ট শিখিয়েছেন, মানুষের মন যদি পবিত্র না হয়, তবে বাহ্যিক কাজও শুদ্ধ হতে পারে না। তাই আমাদের সকলকেই লোভ পরিহার করে মহান ঈশ্বরের ওপর ভরসা রেখে ও সন্তুষ্ট থেকে ন্যায়ের পথে চলা উচিত। লোভ থেকে বিরত থাকাই আত্মার শান্তি ও মুক্তির পথ।
লোভ থেকে পাপ আসে। তাই আমাদেরকে সবসময়, লোভ-লালসা পরিহার করা উচিত। নিম্নোক্ত কারণে আমি লাভ-লালসা
পরিহার করব:
১.পাপের মূল উৎস: লোভ মানুষের হৃদয়কে পাপ দ্বারা আবৃত করে এবং ঈশ্বর থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
২.অসন্তুষ্টির জন্ম দেয়: লোভ মানুষকে কখনো তৃপ্ত হতে দেয় না। ফলে মন শান্তি হারায়।
৩.অন্যায়ের পথ খুলে দেয় লোভ-লালসা মানুষকে চুরি, প্রতারণা-ও মিথ্যার মতো পাপ কাজে টেনে নেয়।
৪. আত্মিক জীবনের ক্ষতি করে লোভ-লালসা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস ও ভালোবাসা দুর্বল করে দেয়।
৫. সম্প্রীতি ও ভালোবাসা নষ্ট করে লোভ-লালসা পরিবার ও সমাজে বিরোধ, হিংসা ও কলহ সৃষ্টি করে।
নৈতিক মূল্যবোধ অবক্ষয় রোধে আমার কতকগুলো নিয়ম-নীতি মেনে চলা উচিত। নিচে আমার করণীয় তুলে ধরছি-
১. ঈশ্বরের আদেশ মেনে চলা মহান ঈশ্বরের আদেশ পালন করে সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ জীবনযাপন করা।
২. সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকা মিথ্যা, প্রতারণা ও অন্যায় থেকে দূরে থেকে সত্যের পথে চলা।
৩. প্রতিবেশীর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল ও দয়ালু মনোভাব রাখা।
৪. ক্ষমা ও বিনয় চর্চা করা: যীশুখ্রীষ্টের মতো অন্যের ভুল ক্ষমা করে নম্রতা বজায় রাখা।
৫. প্রার্থনা ও ধার্মিক চর্চায় মনোযোগী থাকা: প্রার্থনা, বাইবেল পাঠ ও ধর্মীয় জীবনচর্চার মাধ্যমে নৈতিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা।
ধর্মীয় বিধি-বিধান মানুষের জীবনকে সৎ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ঈশ্বরমুখী করে তোলে। মহান ঈশ্বর মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন। যীশুখ্রীষ্ট শিক্ষা দিয়েছেন; "তুমি তোমার প্রভু ঈশ্বরকে ভালোবাস এবং তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাস।" এই দুই আদেশে সকল বিধান রয়েছে। ধর্মীয় বিধি-বিধান মেনে চললে মানুষ পাপ থেকে দূরে থাকে এবং আত্মিক শক্তি লাভ করে। এটি আমাদের অন্তরে নৈতিক শক্তি ও সচ্চরিত্র গঠন করে। ঈশ্বরের আদেশ অমান্য করা মানে পাপের পথে যাত্রা করা। তাই বিশ্বাসী মানুষ হিসেবে ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী চলা আমাদের জন্য অবশ্য কর্তব্য। এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়, ভালোবাসা ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মানুষ ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করে।
বাইবেল আমাদের শেখায় যে, আমরা সবাই ঈশ্বরের সন্তান। তাই একে অপরকে ভালোবাসতে হবে। ঈশ্বর চান আমরাও যেন যীশুর মতো দয়ালু ও সহায়ক হই। অন্যদের প্রতি ভালো আচরণ করাই হলো ঈশ্বরকে সম্মান করা। এভাবে ভাইবোনের মতো সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়। ঝগড়া কমে যায় এবং বন্ধুত্ব বৃদ্ধি পায়। এজন্য আমাদের সমস্ত সঞ্চিত সম্পদ ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে ব্যয় করতে হবে। কারণ আমরা যখন অন্যকে সাহায্য করি তখন যীশুর পথ অনুসরণ করি। ভ্রাতৃপ্রেম আমাদের সবাইকে সম্মান করতে শেখায় এবং গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। এতে আমরা নম্র হই এবং অন্যের কষ্ট বুঝতে পারি। মিলেমিশে থাকলে পৃথিবী আরও সুন্দর হয়ে উঠে। তাই বাইবেল অনুযায়ী ভ্রাতৃপ্রেম আমাদের জীবনে একটি বড় আশীর্বাদ।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allপার্থিব জিনিস ও মানুষের পরিশ্রমের ফসলকে যত্ন করতে হবে।
যীশু পরিত্রাণ করতে পৃথিবীতে এসেছেন।
যীশু স্বর্গের জন্য ধন সঞ্চয় করতে উৎসাহিত করেছেন।
যা আমার নয়, তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করব না।
প্রতিবেশীদের পার্থিব বস্তুর ক্ষতি করা নিষিদ্ধ
নাথান রাজা দাউদকে সচেতন করতে গল্পটি বলেছিলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!