'হিন্দু' শব্দের উৎপত্তি হয়েছে পারসিকদের দ্বারা। বর্তমান ইরানের প্রাচীন নাম ছিল পারস্য। তাদের বলা হতো পারসিক। তাঁরা। 'স'-এর স্থলে 'হ' উচ্চারণ করতেন। তাই তাঁরা উত্তর-পশ্চিম ভারতের সিন্ধু অঞ্চল দিয়ে ভারতবর্ষে প্রবেশের সময় সিন্ধুকে হিন্দু বলতেন। এ থেকে ভারতবর্ষের এক নাম হয় হিন্দুস্থান। হিন্দুস্থানের অধিবাসীদের নাম হয় হিন্দু। সনাতন ধর্ম বলতে পারি-
১. সনাতন শব্দের অর্থ হচ্ছে চিরন্তন, চিরস্থায়ী এবং যা ছিল, আছে ও থাকবে।
২. কতিপয় চিরন্তন ভাবনা-চিন্তার ওপর ভিত্তি করে এ ধর্মের উৎপত্তি।।
৩. হিন্দুধর্ম নির্দিষ্ট কোনো সময়ে একক কারো দ্বারা প্রবর্তিত নয়।
৪. এ ধর্ম একাধিক মুনি-ঋষির সমন্বিত চিন্তার ফল।
৫. কালের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর আচার-আচরণগত অনেক। পরিবর্তন হয়েছে, তবে মৌলিক তত্ত্বের কোনো পরিবর্তন হয়নি
শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে আমরা প্রতিদিন নিয়ম মেনে যেসব কর্ম করি সেগুলোই হলো নিত্যকর্ম। নিত্যকর্ম ছয় প্রকার। যথা- প্রাতঃকৃত্য, পূর্বাহ্নকৃত্য, মধ্যাহ্নকৃত্য, অপরাহ্নকৃত্য, সায়াহ্নকৃত্য, রাত্রিকৃত্য।
আমি যেভাবে নিত্যকর্ম করব তা হলো-
১. সূর্যোদয়ের পূর্বে ঘুম থেকে উঠব।
২. প্রার্থনা ও পূজা করে দিনের অন্যান্য কাজ-কর্ম শুরু করব।
৩. দুপুরে খাওয়ার পর বিশ্রাম করব।
৪. সন্ধ্যাকালে হাত, পা.ও মুখ ধুয়ে পরিচ্ছন্ন হব।
৫. রাতের আহার গ্রহণ করে ভগবানের নাম 'পদ্মনাভ' বলে ঘুমাতে যাব।
জন্মান্তর বা পুনর্জন্মের আবর্ত থেকে ঈশ্বর বা পরমাত্মা বা পরম ব্রহ্মের সঙ্গে জীবাত্মার মিলনই হলো মোক্ষ বা মুক্তি। ফলভোগের আশা করে যে কর্ম করা হয় তাই সকাম কর্ম। আর ফলভোগের আশা না করে যে কর্ম করা হয় তা হলো নিষ্কাম কর্ম। সহপাঠীদের কল্যাণের জন্য আমি যা করি তা নিচে তুলে ধরা হলো-
১. তাদের সাথে ভালো আচরণ করি।
২. তাদেরকে শ্রেণির পড়া তৈরি করতে সহযোগিতা করি।
৩. সহপাঠীরা. কেউ বিপদে পড়লে তাকে সাহায্য করি।
৪.বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সহপাঠীকে স্কুলে আসতে ও যেতে সাহায্য করি।
পুণ্য হচ্ছে ভালো কাজের ফল। আর পাপ হচ্ছে খারাপ কাজের ফল। স্বর্গলাভের জন্য পুণ্য অর্জন করতে হবে। এজন্য ভালো কাজ করতে হবে। যেমন-
১. জীবে দয়া করব।
২. কখনো পরনিন্দা করব না।
৩. কখনো পরচর্চা করব না।
৪. সবসময় পরের উপকার করব।
৫. কখনো মিথ্যা বলব না।
৬. জীবের মঙ্গল করব।
৭. পরনিন্দা করব না।
হিন্দুধর্ম আত্মায় বিশ্বাস করে। প্রত্যেক জীবের মধ্যে আত্মা আছে। সেই 'আত্মা অমর অর্থাৎ আত্মার মৃত্যু নেই। মৃত্যু আছে দেহের। দেহ জীর্ণ বা পুরাতন হলে তার মৃত্যু ঘটে। আত্মা তখন নতুন দেহ ধারণ করে। আত্মার এই জীর্ণ বা পুরাতন দেহ ত্যাগ করে নতুন দেহ ধারণ করাকেই জন্মান্তর বলে। অর্থাৎ, মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত জীবাত্মা পুনঃপুন জন্মগ্রহণ করে।জন্মান্তর সম্পর্কে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন-
রাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায় নবানি গৃহ্নাতি নরোহৃপরাণি। তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণা-ন্যন্যানি সংযাতি নবানি দেহী ॥
অর্থাৎ মানুষ যেমন জীর্ণ বস্ত্র পরিত্যাগ করে নতুন বস্ত্র পরিধান করে, আত্মাও তেমনি জীর্ণ শরীর ত্যাগ করে নতুন শরীর ধারণ করে।
যেসব কাজ করলে নিজে ভালো থাকা যায় এবং অপরের কল্যাণ নিশ্চিত করা যায় সেগুলোই হলো ভালো কাজ। ভালো কাজের মধ্যে রয়েছে- জীবে দয়া; পরনিন্দা না করা, পরচর্চা না করা, পরের উপকার করা, মিথ্যা না বলা ইত্যাদি। প্রত্যেক মানুষের ভালো কাজ করা প্রয়োজন কারণ-
১. ভালো কাজ করলে পুণ্য হয়।
২. যাঁরা পুণ্য অর্জন করেন, মৃত্যুর পর তাঁরা স্বর্গে যান
৩. ভালো কাজ করলে স্বর্গে গিয়ে অনন্ত সুখ লাভ করা যায়।
৪. ভালো কাজের মাধ্যমে অপরের কল্যাণ করা যায়।
৫. ভালো কাজ করলে ঈশ্বর খুশি হন।
৬. ভালো কাজ করলে নিজের মনে প্রশান্তি লাভ করা যায়।
গীতার পুরোনাম শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা।গীতা মহাভারতের ভীষ্মপর্বের অংশ। এতে ১৮টি অধ্যায় রয়েছে। গীতা হচ্ছে সব শাস্ত্রের সার। তাই গীতা হিন্দুদের একখান অবশ্যপাঠ্য গ্রন্থ।কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের' প্রাক্কালে অর্জুন আত্মীয় স্বজনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ 'করতে চাননি। তখন শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে অনেক উপদেশ দিয়েছেন। সেটাই গীতা। গীতা সম্পর্কে বলা যায়-
১. গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে অনেক উপদেশ দিয়েছেন।।
২. গুরুত্বের কারণে এটি পৃথক গ্রন্থের-মর্যাদা লাভ করেছে।
৩. গীতার জ্ঞান আমাদের চলার পথের পাথেয়।
৪. গীতা নিয়মিত পাঠ করলে ভগবান সন্তুষ্ট হন এবং আমরা পুণ্য অর্জন করি।
বেদ হলো ঈশ্বরের বাণী।
বেদ প্রথমে একটাই ছিল। পরে ব্যাসদেব এর মন্ত্রগুলোকে চার ভাগে ভাগ করেন। ফলে বেদ হয়ে যায় চার প্রকার। যথাঃ
১. ঋগ্বেদ সংহিতা।
২. যজুর্বেদ সংহিতা।
৩. সামবেদ সংহিতা।
৪. অথর্ববেদ সংহিতা
বেদের আরেক নাম শ্রুতি কারণ-
১. অতীতে শিষ্যরা গুরুর কাছে শুনে শুনে বেদ মনে রাখতেন।
২. বিভিন্ন মুনি-ঋষি ঈশ্বরের বাণীসমূহ দর্শন করেছেন।
৩. বেদ ঋষিদের ধ্যানে পাওয়া পবিত্র জ্ঞান।
৪. বেদের জ্ঞান জগৎ ও জীবন এবং এর আদি কারণ পুরুষ বা ব্রহ্ম বা ঈশ্বর সম্পর্কে জ্ঞান।
হিন্দুদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম বেদ বা বেদসংহিতা। অতীতে শিষ্যরা গুরুর কাছ থেকে শুনে শুনে বেদ মনে রাখতেন বলে বেদের এক নাম শ্রুতি। বেদের চারটি প্রকরণ রয়েছে। যথা-
১. ঋগ্বেদ সংহিতা : এতে রয়েছে পদ্যে রচিত দেবতাদের স্তুতি ও প্রার্থনামূলক মন্ত্র।
২. যজুর্বেদ সংহিতা এতে যে মন্ত্রগুলো রয়েছে সেগুলো যজ্ঞের সময় উচ্চারণ করা হয়।
৩. সামবেদ সংহিতা: এর মন্ত্রগুলো গানের মতো যা দেবতাদের উদ্দেশ্যে সুর দিয়ে গাওয়া হয়।
৪. অথর্ববেদ সংহিতা: এতে চিকিৎসাবিজ্ঞান, গৃহ নির্মাণ বাস্তুবিদ্যা ইত্যাদিসহ জীবনের অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
স্বামী প্রণবানন্দের প্রকৃত নাম হলো বিনোদ। তাঁর জীবন সম্পর্কে বলা হয়-
১. তিনি ১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দে মাদারীপুর জেলার বাজিতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
২. তিনি ছোটবেলা থেকেই শিবের ভক্ত ছিলেন।
৩. তিনি তাঁর বন্ধুদের নিয়ে বাজিতপুরে একটি আশ্রম গড়ে তুলেছিলেন।
৪. ১৯২১ সালের দুর্ভিক্ষের সময় তিনি পাঁচশত কর্মী নিয়ে দুর্ভিক্ষপীড়িতদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন।
৫. তীর্থযাত্রীদের অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন 'ভারত সেবাশ্রম।'
৬. তিনি অস্পৃশ্যতাকে ঘৃণা করতেন।
৭. তিনি কলকাতার বালিগঞ্জের ভারত সেবা শ্রম সংঘের বাড়িতে দেহ ত্যাগ করেন।
ভগিনী নিবেদিতা ১৮৬৭ খ্রিষ্টাব্দে ইউরোপের আয়ারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম হলো মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল।
তাঁর জীবনী থেকে আমরা যে নৈতিক শিক্ষা লাভ করতে পারি তা হলো-
১. যাঁরা মহীয়সী নারী তাঁরা জাতি, ধর্ম, বর্ণ সবকিছুর ঊর্ধ্বে।
২. মানবসেবার জন্য তাঁদের জন্ম।
৩. তাঁরা শুধু দেশের গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ থাকেন না।
৪. গোটা বিশ্বই তাঁদের দেশ।
৫. সকল মানুষই তাঁদের আপন।
৬. মানব সেবাই হচ্ছে তাঁদের মূল লক্ষ্য।
ভগিনী নিবেদিতার প্রকৃত নাম হলো মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল।
তিনি দেশের কাজ ও গ্রন্থ রচনায় কঠোর পরিশ্রম করতেন। এর ফলে তার স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়ে।
বাল্যকাল থেকে তাঁর মধ্যে আদর্শ, নিষ্ঠা ও ধর্মপ্রবণতা যেভাবে গড়ে উঠেছিল তা নিচে দেওয়া হলো-
১. তিনি একটি চার্চের কর্মী হিসেবে জনসেবা করতেন।
২. অল্প বয়সেই তাঁর মধ্যে সেবার মানসিকতা তৈরি হয়ে যায়।
৩. তিনি দুঃস্থ ও নিপীড়িত মানুষের সুযোগ-সুবিধার কথা ভাবতেন।
৪. স্বামী বিবেকানন্দের দেখানো পথ অনুসরণ করে তিনি ভারতবাসীদের একান্ত আপন করে নিয়েছিলেন।
৫. মানবসেবাই ছিল তাঁর জীবনের পরম লক্ষ্য।
Related Question
View Allজ্ঞানকান্ডের বিষয়বস্তু হচ্ছে ব্রহ্ম।
পৌরাণিক যুগে অনেক নতুন দেব-দেবীর আবির্ভাব ঘটে।
প্রতিদিন নিয়ম মেনে যে কাজ করা হয় তাকে বলে নিত্যকর্ম।
নিত্যকর্মের ফলে নিয়মানুবর্তিতা শেখা যায়।
স্বর্গে রোগ, শোক, জরা, ব্যাধি কিছুই নেই।
যাঁরা মোক্ষলাভ করতে চান তাঁরা ব্রহ্মজ্ঞানে ভালোবাসেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!