অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলতে একই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে। দ্রব্য ও সেবার লেনদেনকে বোঝায়।
বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলো হলো- কাঁচা পাট, পাটজাত দ্রব্য, চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য, ন্যাপথা ফার্নেস তেল ও বিটুমিন, তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার, হিমায়িত খাদ্য, জুতা, হস্তশিল্পজাত দ্রব্য, কৃষিপণ্য, রাসায়নিক দ্রব্য ইত্যাদি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মসূচিসমূহ রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে যেরূপ ভূমিকা পালন করছে তা হলো-
আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য কিছুকাল পূর্বেও পাট, চা, চামড়া প্রভৃতি কাঁচামালের উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু বর্তমানে দেশে বিভিন্ন শিল্পের সম্প্রসারণ হওয়ায় তৈরি পোশাক, টাটকা ফল ও শাক-সবজি, পান-সুপারি, তামাক, মশলা, হিমায়িত খাদ্যসামগ্রী, হস্তশিল্পজাত দ্রব্য প্রভৃতি রপ্তানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি নির্ভর হলেও সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন শিল্পজাত দ্রব্য যেমন- তৈরি পোশাক, কাগজ ও নিউজপ্রিন্ট, বৈদ্যুতিক তার, ক্যাবল, বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য প্রভৃতি রপ্তানি করা হয়। এখন দেশের মোট রপ্তানি আয়ের শতকরা প্রায় ৮৭ ভাগ এসব শিল্পজাত দ্রব্য থেকে আসে।
বিলাস দ্রব্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি এ খাতে আমদানি শুল্কের হার বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় রোধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের চাহিদাপূরণ করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে পশ্চিমা দেশসমূহ ছাড়াও বিভিন্ন সমাজতান্ত্রিক দেশ, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে ওঠেছে। বর্তমান সময়ে দেশের দ্রুত শিল্পায়নের লক্ষ্যে শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানির উপর অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মসূচি রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
দেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। নিচে আমার মতামত দেওয়া হলো-
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রথমে রপ্তানি প্রক্রিয়াকে বহুমুখীকরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাটজাত দ্রব্য, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কম্পিউটার সফটওয়্যার, হোম টেক্সটাইল, পাদুকা, সিরামিক বা দ্রব্য, খেলনা ইত্যাদি রপ্তানি করতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানির সিংহভাগ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে হয়। এ সীমিত সংখ্যক দেশগুলোর পাশাপাশি ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা প্রভৃতি দেশে রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের ব্যবস্থা নিতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদনের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ করতে হবে।
রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে রপ্তানিমুখী শিল্পে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের পরিবহন, জাহাজীকরণ, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করতে হবে। রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধিতে দেশে বিদ্যমান মুদ্রাস্ফীতি রোধ করতে হবে এবং রপ্তানি পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে হবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রপ্তানি মেলায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের পণ্য বিশ্ববাজারে তুলে ধরতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশেও এ ধরনের মেলার আয়োজন করতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণে উপরিউক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা হলে দেশ সমৃদ্ধ হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ অনেক বেশি সুগম হবে।
Related Question
View Allকোনো অনুন্নত দেশ উন্নত দেশ বা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে পরিশোধ করার শর্তে অথবা বিনা শর্তে যে সাহায্য পায় তা-ই বৈদেশিক সাহায্য।
দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংঘটিত হলে তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে। বলা হয়, International trade is the exchange of goods or resources among the countries, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হচ্ছে বিভিন্ন দেশের মধ্যে দ্রব্য ও সম্পদের বিনিময়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদেশে পণ্য ও সেবা বিক্রয় করাকে রপ্তানি বলে। অন্যদিকে বিদেশ থেকে পণ্য ও সেবা ক্রয় করাকে আমদানি বলা হয়।
উপরে বর্ণিত বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে, না অর্জিত হবে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
সাধারণত আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্য বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘটিত হয়। যখন একটি দেশ অন্যদেশে পণ্য ও সেবা বিক্রি করে তখন তাকে রপ্তানি বলে। আর যে প্রক্রিয়ায় একটি দেশ অন্য দেশে পণ্য ও সেবা বিক্রয় করে, তাকে রপ্তানি বাণিজ্য বলে। রপ্তানি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোনো দেশ তার নিজ দেশে উৎপাদিত পণ্য বিদেশের বাজারে বিক্রি করতে পারে। ফলে রপ্তানি আয় তথা বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ে। উদ্দীপকে মি. ইদ্রিস ময়মনসিংহে মাছ চাষ করে এবং বিক্রি করেন। কিন্তু এ বছর তিনি বেলজিয়ামের বাজারে হিমায়িত মাছ বিক্রির জন্য পাঠাচ্ছেন। অর্থাৎ মি. ইদ্রিস বিদেশের বাজারে মাছ রপ্তানি করছেন। ফলে মি. ইদ্রিসের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।
অতএব বলা যায়, মি. ইদ্রিস বেলজিয়ামে হিমায়িত মাছ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাণিজ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশে যেসব পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
⇨ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধি করতে হলে শিল্পজাত দ্রব্যের মান ও উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। এর ফলে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যাবে।
⇨ উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করে কম দামে বিশ্ববাজারে রপ্তানির ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনবোধে রপ্তানি শুল্ক হ্রাস করে কম দামে বিশ্ববাজারে পণ্য রপ্তানির ব্যবস্থা নিতে হবে।
⇨ আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের শ্রেণিবিভাগ করতে হবে।
⇨ রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মেলা ও প্রদর্শনীতে যোগ দিয়ে পণ্যের গুণাগুণ প্রচার করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে বিশ্ববাজার সৃষ্টির পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
⇒ রপ্তানি উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত সকল প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে পারলে এ দেশের রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।
⇒ অল্প কয়েকটি রপ্তানি পণ্যের উপর নির্ভর না করে আরও রপ্তানি আইটেম বাড়াতে হবে।
⇨ রপ্তানি পণ্য বিজ্ঞানসম্মতভাবে গুদামজাত করা এবং যাতে পচে নষ্ট না হয়, তার জন্য যথাযথভাবে প্যাকেটিং করতে হবে।
⇒ সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পণ্য সংগ্রহ করে এবং পরোক্ষভাবে নানা সুবিধাসহ রপ্তানিকারকদের উৎসাহ দিয়ে রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে বাংলাদেশের রপ্তানি ও রপ্তানি আয় উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।
২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের রস্তানি আয় ২৭০২৭মিলিয়ন মার্কিন ডলার
ভিন্ন সংস্কৃতির অগ্রাসন বলতে আমরা বুঝি বিদেশি সংস্কৃতি অনেকটা জোরপূর্বক গ্রহণ। বিশ্বায়নের অনিবার্য ফল হিসেবে সংস্কৃতিক আগ্রাসন চলে আসে। যেমন- পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আনক কিছুই আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির সাথে মেলে না।
অরণক্ষত আমরা সেগুলো জন্মভাবে অনুকরণ করার চেষ্টা কার। এ ধারার সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের তরুণ সমাজ অনেকটাই প্রভাবিত হচ্ছে। এর ফলে বাড়ছে মাদকাসক্তি, বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ এবং অপ্রয়োজনীয় বিলাসজাত। দ্রব্যের প্রতি আকর্ষণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!