যে সব সার জীবের (উদ্ভিদ ও প্রাণীর) দেহাবশেষ থেকে তৈরি করা হয় সেগুলোকে জৈব সার বলে।
তেল বীজ হতে তেল বের করে নেওয়ার পর যে অংশ অবশিষ্ট থাকে তাকে খৈল বলে। যেমন: তুলা বীজের খৈল, সরিষার খৈল, তিলের খৈল, নিমের খৈল ইত্যাদি।
উদ্দীপকের কৃষক শফিক সবুজ সার তৈরি করেছেন।
জমিতে যেকোনো সবুজ উদ্ভিদ জন্মিয়ে কচি অবস্থায় চাষ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিলে যে জৈব সার উৎপন্ন হয় তাই সবুজ সার। এ ধরনের সার তৈরিতে ধইঞা, গোমটর, বরবটি, শন, কলাই এ জাতীয় ফসলের যে কোনো একটি চাষ করে ফুল আসার আগে মই দিয়ে মাটির সাথে মেশাতে হয়। এরপরও ৩-৪ বার চাষ ও মই দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিলে ২ সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে পচে যায়।
অতএব, উপরিউক্তভাবে কৃষক শফিক সবুজ সার তৈরি করেছেন।
উদ্দীপকের কৃষক শফিক কলাই দিয়ে সবুজ সার তৈরি করেন এবং তা একই জমিতে মিশিয়ে দিয়ে অন্য ফসলের বীজ বপন করেন।
মাটির গুণগতমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ফুল আসার পূর্বে এক জাতীয় উদ্ভিদ চাষ দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে যে সার তৈরি করা হয় তাকে সবুজ সার বলে।
সবুজ সার মাটিতে জৈব পদার্থ যোগ করার মাধ্যমে মাটির উর্বরতা বাড়ায়।
এ জাতীয় ফসল মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। সবুজ সার ব্যবহারে মাটিস্থ অনুজীবের কার্যাবলি বৃদ্ধি পায়। মাটিতে যে পুষ্টি উপাদান আছে তা সংরক্ষিত থাকে। সবুজ সার ফসলে কোনো প্রকার বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে না। তাছাড়া রাসায়নিক সারের তুলনায় সবুজ সার ব্যবহারে খরচ কম হয়। সর্বোপরি, মাটির জৈবিক পরিবেশ উন্নত হয়।
অতএব বলা যায়, ফসলের ফলন, উৎপাদন ও গুণগতমান বৃদ্ধিতে কৃষক শফিকের তৈরিকৃত সবুজ সার অত্যন্ত উপকারী।
Related Question
View Allউদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান বলতে বোঝায় যে উপাদানগুলোর অভাবে উদ্ভিদ সুষ্ঠুভাবে বাঁচতে পারে না এবং যথাযথভাবে শস্য উৎপাদন করতে পারে না (যেমন- নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ইত্যাদি)।
পরিখা পদ্ধতিতে কম্পোস্ট তৈরির ক্ষেত্রে একটি পরিখা ফাঁকা রাখতে হয়, কারণ নিকটবর্তী পরিখার কম্পোস্ট পার্শ্ববর্তী পরিখাতে স্থানান্তর করে উলটপালট করা হয়। ফলে উপাদানগুলো দ্রুত পচে যায় ও অল্প সময়ে কম্পোস্ট তৈরি হয়ে যায়।
কৃষক হাফিজের জমিতে ধানের চারায় আশানুরূপ হারে কুশি গজায়নি এবং জমিতে পোকামাকড়ও দেখা গিয়েছিল।
ধানের চারায় কুশি কম গজানোর কারণ হলো নাইট্রোজেন নামক পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি। কৃষক হাফিজ জৈব ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করে এ সমস্যার সমাধান করতে পারতেন। সবুজ সার, কম্পোস্ট সার ইত্যাদি মাটিতে নাইট্রোজেন যোগ করে, যেগুলো কৃষক হাফিজ তার জমিতে ব্যবহার করতে পারতেন। ধানের পোকা দূর করার জন্য তিনি তামাক পাতার নির্যাস প্রয়োগ করতে পারতেন। জমিতে প্রেইং ম্যানটিড এর সংখ্যা বাড়ালে তা ক্ষতিকারক পোকা দমনে সহায়ক হতো। এছাড়া জমিতে গাছের ডাল বা বাঁশের কঞ্চি পুঁতে দিলেও সুফল পাওয়া যেত। অর্থাৎ, জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে হাফিজ উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারতেন।
হাফিজ দ্বিতীয় দফায় ফসলের পুষ্টি ঘাটতি পূরণ ও রোগবালাই দমনে জৈব ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেন।
হাফিজ সার হিসেবে গোবর সার, কম্পোস্ট সার, সবুজ সার, খৈল - ইত্যাদি ব্যবহার করেন। তিনি জানেন এতে গাছের প্রয়োজনীয় সব খাদ্য উপাদানই আছে। এছাড়াও এসব সার মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়ায়। ফলে মাটিস্থ অণুজীবের কার্যাবলি বৃদ্ধি পায়। জৈব পদার্থ মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা, মাটির উর্বরতা, ফসলের ফলন, উৎপাদন ও গুণগত মান বৃদ্ধি করে। জৈব সার ব্যবহারের পাশাপাশি তিনি কীটপতঙ্গ দমনের জন্য আলোক ফাঁদ এবং জমির বিভিন্ন জায়গায় ডালপালা পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করেন। জমিকে সবসময় আগাছামুক্ত রাখেন, যা পোকার আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। ফলে কীটপতঙ্গ দমন ব্যবস্থা হয় পরিবেশের কোনো ক্ষতি ছাড়াই।
অর্থাৎ, হাফিজের দ্বিতীয় দফায় গৃহীত জৈব ব্যবস্থাপনা শুধু পুষ্টি ঘাটতি - পূরণই নয় বরং রোগবালাই দমনেও সহায়ক ভূমিকা রেখেছে উক্তিটি যথার্থ।
পরিবেশ বাঁচাতে জৈব ও অরাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহার করা হয়।
রাসায়নিক বালাইনাশক মাত্রই বিষ। এ জাতীয় বালাইনাশক প্রয়োগের ফলে তা উদ্ভিদের জীবনচক্রে ঢুকে ফলনকেও বিষাক্ত করে দিচ্ছে যা খেয়ে মানুষ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। পরিবেশেরও চরম ক্ষতি হচ্ছে। তাই এ জাতীয় বালাইনাশককে নীরব ঘাতক বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
