মোগল আমলে ঢাকার নাম ছিল- জাহাঙ্গীরনগর।
কাজল মামা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন বলে পড়া ফেলে গ্রামে চলে গিয়েছিলেন।
কাজল মামা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করতে গ্রামে চলে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তিনি রাইফেল জোগাড় করে ট্রেনিং নিয়েছেন। তাছাড়া রাতদিন এ গ্রাম-সে গ্রাম ঘুরে ছেলেদের জোগাড় করেছেন মিছিল-মিটিং করার জন্য।
উদ্দীপকের তারিক আলী 'পিতৃপুরুষের গল্প' গল্পের অন্তর মামার প্রতিনিধিত্ব করে।
'পিতৃপুরুষের গল্প' গল্পে লেখক এদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা ও স্থাপনা সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের কথাও তুলে ধরেছেন। এ গল্পে অন্তুর মামা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
উদ্দীপকে কণ্ঠযোদ্ধা জিয়াউদ্দিন তারিক আলীর কথা তুলে ধরা হয়েছে। চোখে সমস্যা থাকায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি তিনি। তবে তাতে তিনি দমে যাননি। সেসময় গান গেয়ে তিনি অনুপ্রাণিত করেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের। একইভাবে, 'পিতৃপুরুষের গল্প'র অন্তুর মামাও একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। জীবন বাজি রেখে তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। অর্থাৎ অরা দুজনেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেছেন। সে বিবেচনায় তারিক আলী আলোচ্য গল্পের অন্তর মামার প্রতিনিধিত্ব করে।
উদ্দীপকটি 'পিতৃপুরুষের গল্প' গল্পের মূলভাবকে সম্পূর্ণ ধারণ করতে পারেনি বলেই আমি মনে করি।
'পিতৃপুরুষের গল্প'তে গল্পকার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী নানা গৌরবময় ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি রচনাতে অন্তুর কৌতূহল, তার মামার জন্য প্রতীক্ষাসহ নানা বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে।
উদ্দীপকের চিত্রটি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কণ্ঠসৈনিক জিয়াউদ্দিন তারিকের। সেখানে তাঁর অবদান সম্পর্কে বলা হয়েছে। চোখে সমস্যা থাকায় সরাসরি অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারেননি তিনি। তবে তাঁর ইচ্ছের কাছে তাঁর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা হার মেনেছে। এ কারণেই সেসময় গান গেয়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছেন।
'পিতৃপুরুষের গল্প'তে গল্পকার এদেশের অতীত ইতিহাসকে তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের কথা বলেছেন। পাশাপাশি গল্পটিতে প্রসঙ্গক্রমে তিনি বাংলায় মোগল আমলের প্রভাবসহ আরও নানা বিষয়ের অবতারণা করেছেন। উদ্দীপকের স্বল্প পরিসরে এসব বিষয় উঠে আসেনি। সেখানে কেবল কণ্ঠসৈনিক জিয়াউদ্দিন তারিকের অবদানের কথাই বলা হয়েছে। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটি 'পিতৃপুরুষের গল্প' গল্পের মূলভাবকে সম্পূর্ণ ধারণ করতে পারেনি।
Related Question
View All১৯৭১ সালে কাজল মামা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত।
যেকোনো বিষয় নিয়ে মানুষে মানুষে যুদ্ধ হতে পারে কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ হয় কেবল একটি দেশকে স্বাধীন করার জন্য।
সাধারণ যুদ্ধ আর মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। কেননা, যুদ্ধ হয় স্বার্থের জন্য রাজায় রাজায়, এক দেশের সাথে আরেক দেশের। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় স্বাধীনতার জন্য। স্বতন্ত্র একটি জাতি হিসেবে অন্যায়-অত্যাচার আর পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য। এটাই যুদ্ধ আর মুক্তিযুদ্ধের পার্থক্য।
পূর্বপুরুষদের নিয়ে আবেগ-অনুভূতি প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপকের প্রিয়তি ও 'পিতৃপুরুষের গল্প' গল্পের অন্তুর মনোভাব সাদৃশ্যপূর্ণ।
'পিতৃপুরুষের গল্প' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র অন্তু। মুক্তিযোদ্ধা কাজল মামার কাছ থেকে সে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস শোনে। অন্তু তার মামার কাছ থেকে জানতে পারে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর বাঙালিদের কথা। পূর্বপুরুষদের কথা মনে করে সে একইসাথে ব্যথিত এবং গর্বিত হয়। শহিদ মিনারে ভাষা-শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে পিতৃপুরুষদের প্রতি অন্তুর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
উদ্দীপকের প্রিয়তি বাবা-মায়ের সাথে ঢাকায় বেড়াতে এসেছে। বাবা-মা তাকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নিয়ে যায়। সেখানে সে বীর শহিদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। ভাষা-শহিদদের আত্মোৎসর্গ তার মনে গর্ববোধের জন্ম দেয়। 'পিতৃপুরুষের গল্প' গল্পে অন্তুর ক্ষেত্রেও একই অনুভূতির প্রমাণ মেলে।
উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটি 'পিতৃপুরুষের গল্প' গল্পের খণ্ডিত ভাবের ধারক।
'পিতৃপুরুষের গল্প' গল্পের অন্তু মামার কাছ থেকে বংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি সম্পর্কে জানতে পারে। জানতে পারে দেশের মানুষের মুক্তির জন্য বাঙালির বীর সন্তানদের আত্মত্যাগের কথা। সেই সঙ্গে ঢাকা শহরের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কেও জ্ঞান লাভ করে সে।
উদ্দীপকের প্রিয়তি বাবা-মায়ের সাথে একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহিদ মিনারে এসেছে। ফুল দিয়ে ভাষা-শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে তারা। বাবার কাছ থেকে শহিদদের আত্মত্যাগের কথা শুনে প্রিয়তি গর্ববোধ করে। আলোচ্য 'পিতৃপুরুষের গল্প' গল্পে পূর্বপুরুষের মহান কীর্তির প্রকাশ ঘটলেও উদ্দীপকে গল্পের পূর্ণাঙ্গভাব প্রকাশিত হয়নি।
উদ্দীপক ও 'পিতৃপুরুষের গল্প' উভয় ক্ষেত্রেই পূর্বপুরুষদের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকের তুলনায় আলোচ্য গল্পের ভাবগাম্ভীর্য আরও বিস্তৃত। 'পিতৃপরুষের গল্প' গল্পে অন্তর্নিহিত আছে প্রাচীন বাংলার শেকড় সম্পর্কিত নানা জিজ্ঞাসার উত্তর। ভাষা আন্দোলন ছাড়াও বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গও এসেছে এখানে। 'পিতৃপুরুষের গল্প' গল্পে বাঙালির ঐতিহাসিক ঘটনা ও সংগ্রামমুখর যে চিত্র ফুটে উঠেছে, উদ্দীপকে তার আংশিক চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথাযথ।
মোগল আমলে ঢাকার নাম ছিল জাহাঙ্গীরনগর।
ছাত্ররাই পাকিস্তানের সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করত বলে তারাই প্রথম গুলির শিকার হয়েছিল।
ছাত্ররা স্বাভাবিকভাবেই তরুণ প্রাণের অধিকারী। তাদের প্রাণচাঞ্চল্য সবার চেয়ে বেশি। অন্যায়কে প্রতিহত করার সাহস ও উদ্যোগ তাদের মধ্য থেকেই প্রথম আসে। পাকিস্তানিদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদগুলো তরুণ ছাত্ররাই প্রথমে করেছিল। তাই তো তারাই প্রথমে গুলির শিকার হয়েছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

