একটি পণ্য বাজারে প্রবেশ করার পর থেকে সম্পূর্ণ নিঃশেষ হওয়া পর্যন্ত যেসব স্তর অতিক্রম করে তাকে পণ্যের জীবনচক্র বলে
যে পথ ধরে পণ্য বা সেবা ভোক্তা বা ব্যবহারকারীর হাতে যায় তাকে বণ্টনপ্রণালি বলে। সাধারণত ভোগ্যপণ্যের বণ্টনপ্রণালি শিল্পপণ্যের বণ্টনপ্রণালি হতে দীর্ঘ হয়।
শিল্পপণ্যের ব্যবহারকারীর সংখ্যা যেখানে সীমিত সেখানে ভোগ্যপণ্যের ভোক্তা বা ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেশি। তাই অধিক সংখ্যক ক্রেতাদের চাহিদা মোতাবেক পণ্য সরবরাহ দেওয়ার জন্য স্বাভাবিকভাবেই ভোগ্যপণ্যের বণ্টনপ্রণালি দীর্ঘ করার প্রয়োজন পড়ে/ আবার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় শিল্পপণ্যের ক্রেতারা অবস্থান করলেও ভোগ্যপণ্যের ক্রেতারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে। এ কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বা বিদেশে অবস্থানরত প্রতিটি ভোেত্তার নিকট ভোগ্যপণ্য সরবরাহ দেওয়ার জন্য এরূপ পণ্যের বণ্টন ব্যবস্থায় মধ্যস্থব্যবসায়ীদের সংখ্যা অধিক হয়। তাই বলা যায়, ভোগ্যপণ্যের বণ্টনপ্রণালি শিল্পপণ্যের বণ্টনপ্রণালি হতে দীর্ঘ হয়।
উদ্দীপকের রফিক সাহেবের নিকট টমেটো প্রাপ্তি বিপণনের বণ্টনপ্রণালির সাথে সম্পর্কিত।
পণ্যসামগ্রী উৎপাদনের পর তা ভোক্তা বা ব্যবহারকারীর নিকট পৌঁছানোর পথে যেসব মধ্যস্থব্যবসায়ী কাজ করে তাকে বণ্টনপ্রণালি বলে। প্রকৃত ক্রেতার নিকট সঠিক সময়ে, সঠিক স্থানে, সঠিক পরিমাণে, সঠিক পণ্যটি পৌছে দিয়ে ভোগ ও ব্যবহার অব্যাহত রাখাই বণ্টনপ্রণালির প্রধান কাজ। তাই পণ্য এবং ক্রেতার বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় ভোগ্যপণ্য, শিল্পপণ্য, কৃষিপণ্য এবং সেবার বিপণনে ভিন্ন ভিন্ন বণ্টনপ্রণালি ব্যবহৃত হয়।
উদ্দীপকে বশির উদ্দিন একজন কৃষক। তিনি জমিতে উৎপাদিত টমেটো আড়ৎদারদের নিকট বিক্রি করেন। পরবর্তীতে আড়ৎদার থেকে পাইকার, পাইকার থেকে খুচরা ব্যবসায়ী, খুচরা ব্যবসায়ী থেকে রফিক সাহেবের মতো অসংখ্য ভোক্তাদের নিকট টমেটো পৌছে যায়। অর্থাৎ বণ্টনপ্রণালির কল্যাণের কারণেই বশির উদ্দিনের উৎপাদিত টমেটো বিভিন্ন হাত ঘুরে এসে চূড়ান্ত ভোক্তা রফিক সাহেবের নিকট পৌঁছে যায়
বশির উদ্দিনের টমেটো বণ্টনপ্রণালিতে একাধিক মধ্যস্থব্যবসায়ীর উপস্থিতির কারণে তিনি টমেটোর ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বর্তমান বৃহদায়তন উৎপাদনের যুগে মধ্যস্থব্যবসায়ীরা উৎপাদক এবং ভোক্তাদের কল্যাণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তারা উৎপাদকের কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে উৎপাদিত পণ্য ভোক্তাদের নিকট পৌছানো পর্যন্ত অসংখ্য কার্যক্রম সম্পাদন করে। যার ফলে উৎপাদক এবং ভোক্তার উদ্দেশ্য অর্জন নিশ্চিত হয়। মধ্যস্থব্যবসায়ের অগণিত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এর কিছু অসুবিধাও রয়েছে।
উদ্দীপকের বশির উদ্দিন পেশায় একজন কৃষক। তিনি ১০ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেন। ফলন ভালো হলেও তিনি টমেটোর ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি প্রতি কেজি টমেটো আড়ৎদারের নিকট ১০ টাকা দরে বিক্রি করলেও চূড়ান্ত ভোক্তারা তা ৪০ টাকা দরে ক্রয় করছে। এর কারণ হচ্ছে একাধিক মধ্যস্বব্যবসায়ীর উপস্থিতি। কিন্তু এখানে যদি মধ্যস্থব্যবসায়ীর সংখ্যা কম থাকত অথবা বশির উদ্দিন সরাসরি খুচরা ব্যবসায়ী বা ভোক্তাদের নিকট বিক্রি করতে পারতেন তাহলে তিনি ন্যায্যমূল্য পেতেন। এক্ষেত্রে বর্তমান বাজারমূল্য ৪০ টাকা না পেলেও নিঃসন্দেহে ১০ টাকার অধিক পেতেন।
ও
সুতরাং বলা যায়, একাধিক মধ্যস্থব্যবসায়ীর উপস্থিতির কারণেই বশির উদ্দিনের টমেটোর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অন্যতম প্রধান
কারণ।
Related Question
View Allচূড়ান্ত ভোেগ বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে যে পণ্য ক্রয় করা হয় তাকে ভোগ্যপণ্য বলে।
পণ্যের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিক্রেতা যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করে তাই হলো মূল্য নির্ধারণ।
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পণ্যমূল্য নির্ধারণ একটি জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয়। পণ্যের মূল্য একদিকে যেমন ক্রেতাদের পণ্য ক্রয় সিদ্ধান্তে সহায়তা করে অন্যদিকে তা আবার বিক্রেতার লাভ-লোকসানের সাথেও জড়িত। এছাড়া প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়ে টিকে থাকা, পণ্য মানে নেতৃত্ব দান, মুনাফা সর্বোচ্চকরণ, নগদ প্রবাহ নিশ্চিতকরণ, বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি, বাজার শেয়ার বৃদ্ধি 'ইত্যাদি লক্ষ্যে মূল্য নির্ধারণ অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মধ্যস্থ কারবারি হিসেবে বিক্রয় প্রতিনিধির সহযোগিতা গ্রহণ করেছে।
উৎপাদনকারী দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবেশক বা বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমে সরাসরি ভোক্তাদের নিকট পণ্য বিক্রয় করতে পারে। এতে বাজারের ওপর উৎপাদনকারীর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে এবং নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্র খোলার বা লোক নিয়োগের ঝামেলা থেকেও উৎপাদনকারী রক্ষা পায়। বিক্রয় প্রতিনিধিরা বিক্রয়মূল্যের 'ওপর কমিশন পায়।
উদ্দীপকে ঢাকা ইলেকট্রনিক্স মালয়েশিয়া হতে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর যন্ত্রাংশ আমদানি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রয় করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি সারা দেশে পণ্য বিক্রয়ের কিছু প্রতিনিধির সহায়তা নেয়। তারা ঢাকা ইলেকট্রনিক্স এর নিকট হতে পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব নিজস্ব কোনো বিক্রয় কেন্দ্র খোলার প্রয়োজন পড়ে না। উক্ত গুদামে রেখে বিক্রয় করে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ঢাকা ইলেকট্রনিক্স এর প্রতিনিধিরাই কমিশনের বিনিময়ে পণ্য বিক্রয় করে থাকে। সুতরাং ঢাকা ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে, বিক্রয় প্রতিনিধির সহযোগিতা গ্রহণ করেছে
উদ্দীপকে ঢাকা ইলেকট্রনিক্স এর ব্যাপক প্রসারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ তথা বিপণন প্রসারের ব্যবস্থা গ্রহণ সঠিক ও যুক্তিসঙ্গত।
বিপণন প্রসার হলো এক ধরনের যোগাযোগ প্রক্রিয়া যা প্রতিষ্ঠানের পণ্য, সেবা অথবা ধারণা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করে, পুনঃপুন স্মরণ করায় এবং ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করে। বিপণন প্রসারের লক্ষ্য নির্দিষ্ট বাজারের ক্রেতাদেরকে পণ্য বা সেবা গ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করা এবং এ লক্ষ্যে বিপণন-প্রসারের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে পণ্য বা সেবার বৈশিষ্ট্য ও প্রাপ্তির সম্ভাব্যতা তুলে ধরা হয়।
উদ্দীপকে ঢাকা ইলেকট্রনিক্স মালয়েশিয়া হতে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর যন্ত্রাংশ আমদানি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্রেতা ও ভোক্তাদের নিকট বিক্রয় করে থাকেন। বিক্রয়
প্রতিনিধিরা প্রতিষ্ঠানটির নিকট থেকে পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব গুদামে রেখে বিক্রয় করে এবং অনাদায়ি পাওনা আদায়ে সহায়তা করে। এতে ব্যয় আনুপাতিক হারে অনেক কম হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক 'হারে প্রসারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ অর্থাৎ বিপণন প্রসারের কথা ভাবছে। পণ্য বা সেবার চাহিদা সৃষ্টিতে এ প্রসার মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। বিপণন প্রসার কার্যাবলির দ্বারা পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধির প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়। এর ফলে উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং সেই সাথে এককপ্রতি উৎপাদন ব্যয় হ্রাসে সহায়ক হয়। এর ফলে মুনাফার পরিমাণও বেড়ে যায়। এছাড়া চাহিদার স্থিতিশীলতা রক্ষা, বাজার সম্প্রসারণ, পণ্যের উন্নয়ন, ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা প্রভৃতিতে বিপণন প্রসার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিপণন ব্যবস্থায় কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রসার কার্যাবলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং উদ্দীপকে ঢাকা ইলেকট্রনিক্স এর ব্যাপক প্রসারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত বলে আমি মনে করি।
উৎপাদক ও পাইকারি ব্যবসায়িগণ কর্তৃক নিয়োজিত হয়ে যে প্রতিনিধি বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে নিয়োগকর্তার পক্ষে পণ্যের অর্ডার সংগ্রহ করেন তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি বলা হয়।
ভোগ্যপণ্যের বণ্টনপ্রণালি সাধারণত দীর্ঘ হয়।
শিল্পপণ্যের ব্যবহারকারীর সংখ্যা যেখানে সীমিত সেখানে ভোগ্যপণ্যের ভোক্তা বা ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেশি। তাই অধিকসংখ্যক ক্রেতাদের চাহিদা মোতাবেক পণ্য সরবরাহ দেওয়ার জন্য স্বাভাবিকভাবেই ভোগ্যপণ্যের বণ্টনপ্রণালি দীর্ঘ করার প্রয়োজন পড়ে। আবার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় শিল্পপণ্যের ক্রেতারা অবস্থান করলেও ভোগ্যপণ্যের ক্রেতারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে। এ কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বা বিদেশে অবস্থানরত প্রতিটি ভোক্তার নিকট ভোগ্যপণ্য সরবরাহ দেওয়ার জন্য এরূপ পণ্যের বণ্টন ব্যবস্থায় মধ্যস্থব্যবসায়ীদের সংখ্যা অধিক হয়। তাই ভোগ্যপণ্যের বণ্টনপ্রণালি শিল্পপণ্যের তুলনায় সাধারণত দীর্ঘ হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!