দ্বৈত শাসনের প্রবর্তক লর্ড ক্লাইভ।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক মুক্তির দাবি সম্বলিত যে কর্মসূচি পেশ করেন তাই ছয় দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
ছয় দফা ঝাঙালি জাতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ছয় দফায় যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয় সেগুলো হলো, শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি, কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা, মুদ্রা ও অর্থ ব্যবস্থা, রাজস্ব ও শুল্ক বিষয়ক ক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এগুলোকে কেন্দ্র করে ছয় দফা আন্দোলন সূচিত হয়।
বসনিয়াবাসীদের স্বায়ত্তশাসন দাবির সাথে বাঙালির ছয় দফাভিত্তিক আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় পূর্ব বাংলা ছিল সামরিকভাবে সম্পূর্ণরূপে অরক্ষিত। এছাড়া পশ্চিম পাকিস্তানিদের বিভিন্ন প্রকার বৈষম্য বাংলার জনগণের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এ প্রেক্ষিতে পূর্ব বাংলার জনগণকে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে লাহোরে সাধারণ মানুষের মুক্তির সনদ 'ছয় দফা' পেশ করেন। কিন্তু শাসকচক্র এই ছয় দফা মানতে অস্বীকৃতি জানালে পূর্ব বাংলার জনগণ ছয় দফার সমর্থনে আন্দোলন শুরু করে। এরপর ক্রমান্বয়ে স্বাধিকারের প্রশ্নে সংঘটিত হয় ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান। আর গণঅভ্যুত্থানের হাত ধরেই বাঙালি জাতি তাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথে অগ্রসর হয় এবং ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বসনিয়া সার্বিয়ার একটি প্রদেশ ছিল এবং বসনিয়রা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও রাষ্ট্রক্ষমতা সার্বিয়ানদের হাতে ছিল। সার্বিয়ানরা বসনিয়দের ওপর বৈষম্য ও শোষণ নীতি গ্রহণ করলে বসনিয়াবাসী স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে অধিকার সংবলিত কিছু দফা ঘোষণা করে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং সার্বিয়া আন্দোলনকারীদের দমন করতে গেলে সেখানে গণআন্দোলনের সৃষ্টি হয়। শাসকগোষ্ঠীর হাতে বহু জনতা হতাহত হয়। যার ফলশ্রুতিতে বসনিয়া স্বাধীনতা অর্জন করে। সুতরাং বসনিয়দের স্বায়ত্তশাসন দাবির আন্দোলন বাঙালির ছয় দফাভিত্তিক আন্দোলনের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
সনিয়াবাসীর আন্দোলনের মতোই বাঙালির ছয় দফা আন্দোলন স্বাধীনতার পথ সুগম করেছিল- উক্তিটি যথার্থ।
পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আন্দোলনের পটভূমিতে ছয় দফার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। ছয় দফা কর্মসূচি নিরাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত বাঙালি জাতিকে সংগ্রামের শক্তি জুগিয়েছিল। প্রেরণা জুগিয়েছিল স্বৈরাচারী ও গণবিরোধী শাসকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে। সরকার এ আন্দোলন দমনে যতই নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে ততই আন্দোলন দ্রুত দানা বাঁধতে থাকে। বাঙালি জাতীয়তাবাদ ততোই সুসংহত রূপ লাভ করে। পুলিশ নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করলে ছয় দফা কর্মসূচিভিত্তিক আন্দোলন এদেশে সর্বপ্রথম গণমুখী আন্দোলন গড়ে তোলে। ছয় দফা ভিত্তিক স্বাধিকার আন্দোলনের সিঁড়ি বেয়ে ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান হয়। আর এ গণঅভ্যুত্থানের পথ ধরেই বাঙালি জাতি তাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথে অগ্রসর হয়। এর ফলে পাকিস্তানি শাসনযন্ত্রের ভিত কেঁপে ওঠে। যে ঘটনাগুলো উদ্দীপকে বর্ণিত বসনিয়াবাসীর শোষণ ও নির্যাতনবিরোধী আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে বসনিয়ার মতো পশ্চিম পাকিস্তানেও ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের ভরাডুবি ঘটে। কিন্তু তারা বিজয়ী দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ষড়যন্ত্র করতে থাকে। ক্ষমতাসীন পাকিস্তানি শাসকচক্রের আচরণ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে বাধ্য করেছিল। এ প্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালে একটি মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। আর এই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানের ২৪ বছরের স্বৈরশাসন ও শোষণের বেড়াজাল ভেঙে নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে একথা সুস্পষ্ট যে, উদ্দীপকের বসনিয়দের আন্দোলনের মতোই বাংলার ছয় দফা আন্দোলনও স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিল।
Related Question
View Allএকজন ভাষাশহিদের নাম হলো আব্দুর জব্বার।
শহিদ মিনার নির্মাণের উদ্দেশ্য হলো ভাষাশহিদদের স্মরণ ও ভাষার প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন।
১৯৫২ সালের ভাষার জন্য শহিদ হওয়া ব্যক্তিদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ ও তাদের স্মৃতিসংরক্ষণের জন্য ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঢাকা মেডিকেলের ছাত্ররা প্রথম শহিদ মিনার নির্মাণ শুরু করে এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি শহিদ শফিউরের বাবা তা উদ্বোধন করেন। কিন্তু পুলিশ ও সেনাবাহিনী তা ভেঙে ফেললে ১৯৫৭ সালে বর্তমান স্থানে শহিদ মিনার স্থাপন শুরু হয় এবং ১৯৬৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নতুন শহিদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মানভূমের ভাষা আন্দোলনের সাথে আমার * পঠিত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সাদৃশ্য খুঁজে পাই।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মানভূমের বাঙালিদের মধ্যে ১৯৪৮ সালে বাংলা ভাষা আন্দোলন গড়ে ওঠে। এসময় রাজনৈতিকভাবে স্কুল-কলেজ ও সরকারি দপ্তরের হিন্দি ভাষা জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ আন্দোলনের সাথে আমার পঠিত বাংলা ভাষা আন্দোলনের * সাদৃশ্য লক্ষণীয়। অনুরূপ ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬.৪০% মানুষের মুখের ভাষা বাংলার পরিবর্তে মাত্র ৭.২০% মানুষের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার লক্ষ্যে ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা এসে ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঘোষণা করেন উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। তাছাড়া ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে ঘোষণা করলে পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন নতুন মাত্রা ও সর্বাত্মক রূপলাভ করে। এ সময়ে তমদ্দুন মজলিস ও রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক হরতাল আহূত হলে স্থানীয় প্রশাসন ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ১ মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে এবং সকল সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়। সরকারের এ ঘোষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অতঃপর ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিতে সালাম, আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন, আব্দুল জব্বার শহিদ হন। যার ফলে বিশ্ব ইতিহাসে ভাষার জন্য আন্দোলনের এক অবিনশ্বর ইতিহাস রচিত হয়।
অতএব উদ্দীপকের ভাষা আন্দোলনের সাথে পূর্ব-বাংলার ভাষা আন্দোলনের মিল পরিলক্ষিত হয়। বাংলা ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদ উজ্জীবিত হয় যা স্বাধীনতা যুদ্ধের মূলমন্ত্র ছিল।
উদ্দীপকের ভাষা আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বাংলা ভাষা আন্দোলনে 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল' উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
ভাষা আন্দোলন পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটায়। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি সর্বপ্রথম নিজেদের স্বতন্ত্র সত্তা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়। আর এ চেতনাই পরবর্তীতে প্রতিটি গণআন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগায় এবং সকল বৈষম্য থেকে মুক্তির পথ সুগম করে। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রেরণায় উদ্দীপ্ত হয়ে বাঙালি জাতি ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে শাসক দল মুসলিম লীগের সকল বৈষম্যমূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে গণরায় প্রদানের মাধ্যমে যুক্তফ্রন্টকে জয়ী করে। বাঙালি জাতীয়তাবোধে উজ্জীবিত বাঙালি জাতি পরবর্তীতে ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে স্বাধিকারের প্রশ্নে পশ্চিম পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। সর্বোপরি এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতি বুকের তাজা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে। ফলে বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের। তাই ঘটনা পরম্পরা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৫২ সালে। বাঙালি জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের যে জাতীয়তাবাদের শিক্ষা অর্জন করে তার ধারাবাহিকতাতেই স্বাধীনতা অর্জন করে।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন যে জাতীয়তাবাদের শিক্ষা দেয় তার মধ্যে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল। তাই উদ্দীপকের উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবুল কাশেম।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের রাতকে কালরাত্রি বলা হয়। কাল রাত বলতে নৃশংস ও ভয়ংকর রাতকে বোঝানো হয়। ১৯৭১ সালে ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চ লাইট নামে বাঙালি জাতির উপর যে জঘন্য ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায় এ রাতকে কালরাত্রি বলা হয়। এ রাতে অসংখ্য নিরস্ত্র বাঙালিকে নির্বিচারে হত্যা করা হয় এবং ঢাকা শহরের রাস্তায় লাশের স্তূপ তৈরি হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!