বহুব্রীহি (ব্যাস বাক্যসহ সমাস নির্ণয় করুন)

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

‘যে সহে সে রহে’—এই প্রবাদ বাক্যটি জীবনে ধৈর্য, সহনশীলতা এবং অধ্যবসায়ের গুরুত্ব তুলে ধরে। মানুষ যখন কোনো লক্ষ্য অর্জনে ব্রতী হয়, তখন তাকে নানা প্রতিকূলতা ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়। যারা এই প্রতিকূলতাগুলো ধৈর্যের সাথে মোকাবিলা করতে পারে এবং লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়ে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যায়, তারাই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে এবং সফল হয়।

পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সকল সফল ব্যক্তিরাই চরম প্রতিকূলতা পেরিয়ে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করেছেন। তাঁদের সাফল্যের মূলে ছিল অদম্য মনোবল, ধৈর্য ও সহনশীলতা। জীবনের পথে চলতে গিয়ে সামান্য বাধাতে যারা হতাশ হয়ে পিছিয়ে যায়, তারা কখনোই চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না। পক্ষান্তরে, যারা দুঃখ, কষ্ট ও ব্যর্থতাকে ধৈর্যের সাথে মোকাবিলা করে সামনে অগ্রসর হয়, তারাই জীবনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় এবং নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে।

শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবন, পারিবারিক জীবন, এমনকি সমাজ জীবনেও এই নীতির প্রয়োগ অপরিসীম। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে প্রতিকূল পরিবেশ মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং ধৈর্য ধরে অবিরাম কাজ করে যাওয়ার মানসিকতা থাকা অত্যাবশ্যক। যে সহনশীলতার গুণ অর্জন করতে পারে, সে কেবল টিকে থাকে না, বরং উন্নত জীবন গঠনে সক্ষম হয়।


বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার

বহুব্রীহি সমাস বাংলা ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ প্রাধান্য না পেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি তৃতীয় পদের অর্থ প্রাধান্য লাভ করে। এটি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

বহুব্রীহি সমাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এবং প্রকারভেদ নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • তৃতীয় পদের প্রাধান্য: বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বা পরপদের আক্ষরিক অর্থকে প্রাধান্য না দিয়ে সমাসবদ্ধ পদটি একটি তৃতীয় ব্যক্তি, বস্তু বা গুণকে নির্দেশ করে। যেমন: ‘দশানন’ (দশ আনন যার) বলতে রাবণকে বোঝায়, দশটি মুখকে নয়।
  • বিগ্রহ বাক্যের গঠন: এর ব্যাসবাক্যে সাধারণত ‘যার’, ‘যাতে’, ‘যে’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা হয়, যা তৃতীয় পদের প্রতি নির্দেশ করে।
  • প্রকারভেদ:
    • সমানাধিকরণ বহুব্রীহি: যেখানে সমস্যমান পদগুলো একই বিভক্তিযুক্ত হয়। উদাহরণ: নীলকণ্ঠ (নীল কণ্ঠ যার)।
    • ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি: যেখানে সমস্যমান পদগুলো ভিন্ন বিভক্তিযুক্ত হয়। উদাহরণ: হাতেখড়ি (হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে)।
    • ব্যতিহার বহুব্রীহি: এটি ক্রিয়ার পারস্পরিকতা বোঝায়। উদাহরণ: কানাকানি (কানে কানে যে কথা)।
    • নঞ্ বহুব্রীহি: যে সমাসে নঞর্থক অব্যয় (না, নেই) পূর্বে বসে। উদাহরণ: বেতার (নেই তার যার)।
    • সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি: যেখানে পূর্বপদে সংখ্যাবাচক শব্দ থাকে এবং তা কোনো তৃতীয় বস্তু বা ব্যক্তিকে বোঝায়। উদাহরণ: দশানন (দশ আনন যার)।
    • অলুক বহুব্রীহি: যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় না। উদাহরণ: গায়ে হলুদ (গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে)।

এই সমাস নির্ণয় করার সময় মূলত সমাসবদ্ধ পদের অর্থগত বিশ্লেষণ এবং এর দ্বারা কোন তৃতীয় সত্তা নির্দেশিত হচ্ছে তা বুঝতে পারাই মূল বিষয়।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
314

বহুব্রীহি সমাস

যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথা— বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি। এখানে ‘বহু’ কিংবা ‘ব্রীহি' কোনোটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লোককে বোঝাচ্ছে।

বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়। যথা : আয়ত লোচন যার আয়তলোচনা (স্ত্রী), মহান আত্মা যার মহাত্মা, স্বচ্ছ সলিল যার স্বচ্ছসলিলা, নীল বসন যার = নীলবসনা, স্থির প্রতিজ্ঞা যার = স্থিরপ্রতিজ্ঞ, ধীর বুদ্ধি যার = ধীরবুদ্ধি। 

 

‘সহ’ কিংবা ‘সহিত’ শব্দের সঙ্গে অন্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে ‘সহ' ও 'সহিত' এর স্থলে ‘স’ হয়। যেমন : বান্ধবসহ বৰ্তমান সলজ্জ, সকল্যাণ ইত্যাদি। = সবান্ধব, সহ উদর যার সহোদর > সোদর। এরূপ– সজল, সফল, সদৰ্প, 

 

বহুব্রীহি সমাসে পরপদে মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়। যেমন : নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক, বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক। এরূপ -সত্ৰীক, অপুত্রক ইত্যাদি। বহুব্রীহি সমাসে সমস্ত পদে ‘অক্ষি' শব্দের স্থলে ‘অক্ষ' এবং ‘নাভি' শব্দ স্থলে ‘নাভ’ হয়। যেমন : কমলের

ন্যায় অক্ষি যার কমলাক্ষ, পদ্ম নাভিতে যার=পদ্মনাভ। এরূপ – ঊর্ণনাভ ৷

 

বহুব্রীহি সমাসে পরপদে ‘জায়া' শব্দ স্থানে ‘জানি' হয় এবং পূর্বপদের কিছু পরিবর্তন হয়। যেমন : যুবতী জায়া যার = যুবজানি (যুবতী স্থলে ‘যুব’ এবং ‘জায়া' স্থলে জানি হয়েছে)। বহুব্রীহি সমাসে পরপদে ‘চূড়া' শব্দ সমস্ত পদে ‘চূড়’ এবং ‘কর্ম’ শব্দ সমস্ত পদে ‘কর্মা' হয়। যেমন : চন্দ্ৰ চূড়া যার = চন্দ্রচূড়, বিচিত্র কর্ম যার = বিচিত্রকর্মা।

 

বহুব্রীহি সমাসে ‘সমান' শব্দের স্থানে ‘স’ এবং ‘সহ’ হয়। যেমন : সমান কর্মী যে = সহকর্মী, সমান বৰ্ণ

যার = সমবর্ণ, সমান উদর যাদের = সহোদর।

 

বহুব্রীহি সমাসে পরপদে ‘গন্ধ’ শব্দ স্থানে ‘গন্ধি’ বা ‘গন্ধা’ হয়। যথা : সুগন্ধ যার = সুগন্ধি, পদ্মের ন্যায় গন্ধ যার = পদ্মগন্ধি, মৎস্যের ন্যায় গন্ধ যার = মৎস্যগন্ধা।

 

বহুব্রীহি সমাসের প্রকারভেদ

বহুব্রীহি সমাস আট প্রকার : সমানাধিকরণ, ব্যাধিকরণ, ব্যতিহার, নঞ, মধ্যপদলোপী, প্রত্যয়ান্ত সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি। অলুক

Related Question

View All
উত্তরঃ

সিংহাসন = সিংহ চিহ্নিত আসন (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)।

PRONAY TIRKI
PRONAY TIRKI
3 years ago
422
উত্তরঃ

সিংহ চিহ্নিত আসন- সিংহাসন (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)।

PRONAY TIRKI
PRONAY TIRKI
3 years ago
437
উত্তরঃ

শশব্যস্ত (শশকের (খরগোশ) ন্যায় ব্যস্ত) = উপমান কর্মধারয়।

PRONAY TIRKI
PRONAY TIRKI
2 years ago
293
উত্তরঃ

কালসিন্ধু = কাল রূপ সিন্ধু (রূপক কর্মধারয় সমাস) । 

543
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews