Globalization শব্দের অর্থ বিশ্বায়ন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা সমকালীন বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
গণমাধ্যমের বিকাশের ফলে মানুষের চিন্তা-ভাবনা ও কর্মকৌশলে দ্রুত পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। বিশেষত বিশ্বব্যাপী যুব জনশক্তির সামাজিক গণমাধ্যমে যুক্ত হওয়া এবং চিন্তা আদান-প্রদানের প্রবণতা প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধুমাত্র চিন্তা আদান-প্রদানই নয়, চিন্তাকে কাজে পরিণত করার উদ্যোগও পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে গণমাধ্যম ক্রমাগতভাবে সামাজিক পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশের কোটা সংস্কার আন্দোলনের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে, যা মূলত গণমাধ্যমের সুবাদেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে এই কাঠামোর পরিবর্তনের ঘোষণা এসেছে।
উদ্দীপকের আসিফ সাহেবের দেখা বিষয়গুলো সামাজিক পরিবর্তনের প্রযুক্তিগত উপাদানটি দ্বারা বেশি প্রভাবিত।
বর্তমান পৃথিবী হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বিশ্ব। উন্নত ও অনুন্নত সব সমাজ ব্যবস্থাতেই তথ্য প্রযুক্তি আজ অভাবনীয় পরিবর্তন এনেছে। তথ্য প্রযুক্তি বাংলাদেশের সমাজকাঠামো তথা সার্বিক ব্যবস্থার পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে অর্থনীতি, রাজনীতি, কৃষি, শিক্ষা প্রভৃতি সেক্টরে এর অবদান অভাবনীয়।
উদ্দীপকের আসিফ সাহেব দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন ও কৃষি ক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার লক্ষ করেছেন, যা মূলত প্রযুক্তিগত উপাদানের ফল। এমনকি নারীদের গৃহকর্মের পাশাপাশি উপার্জনমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার পিছনেও তথ্য প্রযুক্তির প্রভাবকে অস্বীকার করা যায় না। কারণ তথ্য প্রযুক্তির প্রসারেই নারীরা তাদের অধিকার এবং জীবনযাপনের ধরন সম্পর্কে সচেতন হয়ে উপার্জনমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বিষয়গুলো প্রযুক্তিগত উপাদান দ্বারা বেশি প্রভাবিত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিবর্তনগুলো অর্থাৎ শিক্ষা, কৃষি, পেশার বৈচিত্র্যতা ও নারীর উপার্জনমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া আমাদের সমাজব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করছে। যৌক্তিক কারণেই আমি এ বক্তব্যের পক্ষে। নিচে আমার যুক্তি উপস্থাপন করা হলো-
বর্তমানে আমাদের দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তির প্রভাবেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাক্ষেত্রে যুগোপযোগী সিলেবাস প্রণয়ন করেছে। এসব সিলেবাস অনুসরণ করে সফলভাবে ছাত্রজীবন শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা দেশ ও জনগণের কল্যাণে আগের তুলনায় অনেক বেশি ভূমিকা রাখতে পারছে, যা একইসাথে আমাদের সমাজব্যবস্থাকেও সমৃদ্ধ করছে। তথ্য প্রযুক্তির প্রভাবে বাংলাদেশের কৃষিতেও ব্যাপক পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। বর্তমানে রেডিও ও টেলিভিশনে কৃষি সম্পর্কিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া কৃষকরা উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক ব্যবহার করছে। বর্তমানে ট্রাক্টর, বীজ বপনের মেশিন প্রভৃতির সাহায্যে কৃষকরা সময় ও অর্থ সাশ্রয় করছে। উৎপাদনের পাশাপাশি বিপননেও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়ায় কৃষকরা আগের তুলনায় আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের একসময় প্রধান পেশা কৃষি হলেও বর্তমানে এ ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। মানুষ এখন কল কারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পেশায় কাজ করছে। সমাজে পেশার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য বাড়ায় সামাজিক গতিশীলতাও অনেকগুণ বেড়ে গেছে। আর সামাজিক গতিশীলতা বৃদ্ধি সবসময়ই সমাজকাঠামোর ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আমরা জানি, সমাজে বসবাসকারী প্রায় অর্ধেক জনসমষ্টি হচ্ছে নারী। তথ্য প্রযুক্তি ও আধুনিক ধ্যান-ধারণার প্রসারের ফলে বাংলাদেশের নারীরা বর্তমানে কেবল গৃহস্থালী কাজে সীমাবদ্ধ নয়। তারা পুরুষের সাথে সমানতালে বিভিন্ন উপার্জনমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করছে। নারীদের জীবনের এ পরিবর্তন নিঃসন্দেহে সমাজব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করছে।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে যে পরিবর্তনগুলো উল্লেখ করা হয়েছে তার সবগুলোই ইতিবাচক হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তা আমাদের সমাজব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করছে।
Related Question
View Allধাতু যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য নগরসভ্যতার উদ্ভব।
স্বামী-স্ত্রী উভয়ই যখন তাদের নিজস্ব বিশ্বাস, চিন্তা, রুচি ইত্যাদি ক্ষেত্রে অটল থাকেন তখন পরিবারে এক ধরনের অশান্তি বিরাজ করে এবং তা থেকেই জন্ম নেয় ব্যক্তিত্বের সংঘাত। অর্থাৎ যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্য কোনো বিষয়ে বৈপরীত্য দেখা দেয় তখন ব্যক্তিত্বের সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে। আর এই ধরনের মনোভাব স্বামী-স্ত্রীর মধ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়।
গ্রামীণ সামাজিক স্তরবিন্যাসে উদ্দীপকের আঃ সালামের অবস্থান ধনী কৃষক শ্রেণিতে।
গ্রামীণ সমাজে সামাজিক স্তরবিন্যাসের মূল ভিত্তি হলো ভূমি মালিকানা, যার ভিত্তিতে গ্রামীণ শ্রেণি বিভাজন নিশ্চিত হয়। গ্রামীণ সমাজব্যবস্থায় যারা অনেক ভূ-সম্পত্তির মালিক এবং ভূমির ওপর নির্ভর করে যথেষ্ট সচ্ছলভাবে দিনযাপন করতে পারে তাদেরকে ধনী কৃষক বলে। সম্পত্তির মালিকানার জোরে তারা গ্রামীণ সমাজে প্রভাব প্রতিপত্তি খাটায়। এদের অনেকে নিজেদের পুরো জমি চাষাবাদ না করে শস্য ভাগাভাগির ভিত্তিতে বর্গাদারদের কাছে জমি বর্গা দিয়ে থাকে। আর্থিক ক্ষমতার কারণে গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোতে এদের প্রভাবই সর্বাধিক।
উদ্দীপকে হাসাইল গ্রামের আঃ সালাম প্রায় ৫০ একর জমির মালিক। তিনি নিজে কৃষিকাজ না করে বর্গাদারদের মাধ্যমে জমি চাষ করান। গ্রামের সব বিচার-সালিশে তার মতামতই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য।
উপরের আলোচনা এবং আঃ সালামের গ্রামে তার যে অবস্থান তা পর্যালোচনা করলে বলা যায়, তিনি গ্রামীণ সামাজিক স্তরবিন্যাসে ধনী কৃষক শ্রেণিভুক্ত।
উদ্দীপকের আঃ সালামের জীবনের পরিবর্তনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়টি অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
প্রাকৃতিক পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান মানবজীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। পরিবেশের পরিবর্তনের ফলে সার্বিক সমাজ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে। বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনের একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে এদেশের ভূপ্রকৃতিগত অবস্থান। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেই এখানে প্রতিবছর নানারকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হয়। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, অতিবৃষ্টি প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং এর সাথে খাপখাওয়ানোর জন্য নতুন পথ, কৌশল অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। যেমন- নদী ভাঙনের ফলে যে সব মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে তারা অনেক সময় বিভিন্ন শহরে উদ্বাস্তুর মত জীবনযাপন করে থাকে। এর ফলে সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস ও সামাজিক গতিশীলতায় পরিবর্তন আসে।
উদ্দীপকে লক্ষণীয় যে, পদ্মা নদীতে ভাঙন শুরু হলে গ্রামের ধনী কৃষক আঃ সালাম রাতারাতি নিঃস্ব হয়ে পড়েন। ফলে বাধ্য হয়ে জীবনধারণের জন্য তিনি শহরে চলে আসেন। এখানে কেউ তাকে চেনে না, কোনো মূল্যও দেয় না। আঃ সালামের জীবনের এ ধরনের পরিবর্তনে প্রাকৃতিক পরিবেশ মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে।
ভাষা আন্দোলনে সর্বপ্রথম বাঙালি নারীরা রাজপথে নেমেছিল।
জন্ম ও মৃত্যুহার জনসংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। কোনো দেশে জন্মহার যদি মৃত্যুহারকে ছাড়িয়ে যায় তবে এর অবশ্যম্ভাবী ফল হচ্ছে জনসংখ্যা বৃদ্ধি। যেমন- বর্তমানে বাংলাদেশে সামাজিক সচেতনতা, মিডিয়ার প্রচার, শিক্ষা বিস্তার প্রভৃতির ফলে মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে। ফলে দিন দিন জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!