জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে পোশাক-পরিচ্ছদ, খাওয়া-দাওয়া, অনুষ্ঠান-প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি ক্ষেত্রে যে বৈচিত্র্যতা লক্ষণীয় তাই হচ্ছে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য।
পৃথিবীর প্রত্যেক জাতির ও দেশের সংস্কৃতির নিজস্ব একটা ধরন রয়েছে। তেমনি বাঙালির সংস্কৃতিরও নিজস্ব ধরন রয়েছে। বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে বলে রাংলার জনমানুষের আকারে, অবয়বে, চেহারায় এত বৈচিত্র্য। তেমনি নানা ভাষাজাতির আগমনে সংস্কৃতিতেও বৈচিত্র্য দেখা যায়। তবে পল্লি ও কৃষিপ্রধান এদেশে গ্রামীণ জীবনের সংস্কৃতির প্রভাবই বেশি। প্রচুর নদী ও জলাভূমি এদেশের মানুষের সংস্কৃতি নদীকেন্দ্রিক ও ঋতু বৈচিত্র্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা বা কুরবানি প্রভৃতি ইসলাম ধর্মের অন্যতম সংস্কৃতি। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী মুসলমানরা প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে। প্রতিবছরে নির্দিষ্ট এক মাস রোজা রাখে। যার সামর্থ্য রয়েছে সে হজ পালন করে ও যাকাত দেয়। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুটি ধর্মীয় উৎসব হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। এসময় নতুন নতুন পোশাক পরিধান ও ভালো ভালো খাবারের আয়োজন করা হয়। ঈদের নামাজ পড়া ও কোলাকুলি করা হয়। প্রতিবছরের নির্দিষ্ট সময়ে হজ পালন করে। সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা পশু কুরবানি করে, গরিব-দুঃখী ও আত্মীয়স্বজনের মাঝে মাংস বিলিয়ে দেয়। কখনো আবার রান্না করে খাওয়ানো হয়। এসব কিছুই ইসলাম ধর্মের সংস্কৃতি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাঁধনের মায়ের উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকে বাঁধনের মা বলেন, "আমাদের ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী যেমন আমরা জীবনযাপন করি তেমনি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানরাও তাদের ধর্মের বিভিন্নতা অনুযায়ী সংস্কৃতিতে বিভিন্নভাবে ভূমিকা পালন করে।" বাঁধন ও তার মা হলেন মুসলমান। আর মুসলমান হিসেবে তারা ধর্ম পালনের উদ্দেশ্যে যেমন- নামাজ, রোজা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা পালন করে, তেমনি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা ধর্ম পালনের উদ্দেশ্যে মূর্তি তৈরি ও এর সাজসজ্জা, অলঙ্করণ, পট নির্মাণ ইত্যাদি চারুকলার। চর্চা, আরাধনা, আরতি, হোমযজ্ঞ মিলে গানবাজনার চর্চা ও নৃত্য করে থাকে। বৌদ্ধ ধর্মানুসারীরা গৌতম বুদ্ধের জীবনকে ঘিরে বৈশাখী পূর্ণিমায় উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। খ্রিস্টানরাও নিজেদের নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও পার্বণ উদ্যাপন করে থাকেন। বড়দিন বা যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিনে বড় অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। তাই উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, বাঁধনের মায়ের উক্তিটি যথার্থ।
Related Question
View Allবাংলা প্রথম মাসের নাম বৈশাখ।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও এদেশের কৃষি সম্পূর্ণ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। কৃষক তার কৃষিকাজের জন্য বিশেষভাবে মাটি, মেঘ, বৃষ্টি, রোদ এসবের ওপর নির্ভর করে। প্রকৃতি যদি অনুর্বর হয় তাহলে কৃষি উৎপাদনেও তেমন ফল পাওয়া যাবে না। আবার প্রকৃতির আলো, বাতাস, আবহাওয়া সবকিছু অনুকূলে হলে কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে বেড়ে যাবে। তাই বাংলাদেশের কৃষি প্রধানত প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল।
উদ্দীপকে বাংলার পহেলা বৈশাখের মেলা তথা বৈশাখী মেলার কথা বলা হয়েছে। এ মাসে বাঙালিরা তাদের অতীত ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য দীর্ঘ এক মাস মেলা উদ্যাপন করে। এ মেলায় গ্রাম-শহর সকল স্থানে লোক সমাগম হয়। মেয়েরা সকলে লাল-সাদা রঙের শাড়ি পরিধান করে মেলার দৃশ্যকে রঙিন করে দেয়। শহরের মেলাগুলোতে বিভিন্ন ব্যান্ড পার্টির আয়োজন থাকে। এ মেলার আকর্ষণীয় দৃশ্য হচ্ছে- প্রভাতে সকল শ্রেণির মানুষের রমনা বটমূলে পান্তা-ইলিশের আয়োজনে একত্রিত হওয়া। যা মূলত গ্রামবাংলার অতীত ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। দুপুরের পর থেকে দোয়েল চত্বর, টিএসসি, শাহবাগ সকল স্থান খুব সরগরম হয়ে ওঠে। চতুর্দিকে গানবাজনার আওয়াজে প্রকৃতি যেন ভারী হয়ে ওঠে। বিভিন্ন স্থানে নাগরদোলা থাকে। এতে শিশুরা তাদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এভাবে হাসি-আনন্দের মাঝেই দিনটি শেষ হয়। সুতরাং উদ্দীপকের মেলাটি নিঃসন্দেহে পহেলা বৈশাখের মেলা।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাঙালি জাতির একটি উৎসব বৈশাখী মেলার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিকাশে বৈশাখী মেলার ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৈশাখী মেলায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এ মেলায় বাংলার ঐতিহ্য জীবন্ত হয়ে ওঠে। মেয়েরা রং-বেরঙের শাড়ি পরিধান করে মেলা উদ্যাপন করে। বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট ও নাগরদোলা বসে। দোকানিরা সেখানে নানা রকমের জিনিস বিক্রি করে এবং মেলায় আগত দর্শনার্থীরা ঘোরাঘুরি করে আনন্দের মাধ্যমে মেলা উদ্যাপন করে। মেলার দিন সকাল বেলা সকলে মিলে রমনা বটমূলে একত্রিত হয় এবং সমবেতভাবে পান্তা-ইলিশে অংশ নেয়। এ ধরনের সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন বছরে একবার হলেও তা আমাদের সংস্কৃতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে বিকশিত করেছে। নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে মানুষ তার ধর্মকে সযত্নে লালন করলেও পহেলা বৈশাখের দিন সকলে কাঁধে কাঁধ মিলে এ মেলা উদ্যাপন করে। হাজার হাজার বছরের পুরনো এ সংস্কৃতি উদ্যাপনের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ভেদাভেদ দূর হয়ে যায়। তাই বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিকাশে বৈশাখী মেলার ভূমিকা অপরিসীম।
'গোপী নাচ' মণিপুরি নৃগোষ্ঠীর উৎসব।
'বৈসাবি' বলতে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, তঞ্চঙ্গা, মারমা ও ত্রিপুরা নৃগোষ্ঠীর যৌথভাবে বাংলা বর্ষবরণ উৎসব উদযাপনকে বোঝায়। বাংলাদেশের প্রায় সকল নৃগোষ্ঠীর মানুষ নাচ-গানের মধ্য দিয়ে আনন্দ-উৎসব পালন করে থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বৈশাখী, সাংগ্রাই ও বিজু এ তিনটিকে সমন্বয় করে বর্তমানে সবাই একত্রে পালন করে 'বৈসাবি।'
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!