উত্তরঃ

শব্দ গঠন বা সাধিত শব্দ গঠন: 

যে যে উপায়ে বা পদ্ধতিতে নতুন নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব উপায় বা পদ্ধতিকে বলা হয় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া। বিভিন্ন উপায়ে বা প্রক্রিয়ায় শব্দ গঠিত হয়। উপায়গুলো নিম্নরূপ:

ক. উপসর্গযোগে শব্দ গঠন: শব্দের শুরুতে উপসর্গ বসে নতুন নতুন শব্দ গঠন করে। যেমন: আ + হার = আহার, প্র + হার = প্রহার, বি + হার = বিহার, অনা + হার = অনাহার ইত্যাদি।

খ. সন্ধিযোগে শব্দ গঠন: পাশাপাশি দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। দুটি বর্ণ বা ধ্বনি মিলে নতুন নতুন শব্দ গঠিত হয়। যেমন: বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়, সু + আগত = স্বাগত, দেব+ ঋষি = দেবর্ষি ইত্যাদি।

গ. প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন: প্রত্যয় শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে নতুন নতুন শব্দ গঠন করে। যেমন: ডুব্‌ + অন্ত ডুবন্ত, ইতর + আমি = ইতরামি ইত্যাদি।

ঘ. সমাসযোগে শব্দ গঠন: পরস্পর অর্থ সংগতি বিশিষ্ট দুই বা ততোধিক পদ একপদে পরিণত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে। যেমন: নীল যে আকাশ = নীলাকাশ, সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।

ঙ. শব্দ দ্বৈত বা দ্বিরুক্তি যোগে শব্দ গঠন: একই শব্দ দুইবার ব্যবহার করে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠন করে। যেমন: জ্বর জ্বর, কালো কালো ইত্যাদি।

চ. পদাশ্রিত নির্দেশক যোগে শব্দ গঠন: টি, টা, খানা, খানি, গাছা, গাছি, টুকু, টে, গুলা, গুলো, গুলিন, টুকুন, কেতা, পাটি ইত্যাদি পদাশ্রিত নির্দেশক যোগে নতুন শব্দ গঠন করা যায়। যেমন: কলম + টি = কলমটি, দুধ + টুকু = দুধটুকু, আম + গুলো = আমগুলো ইত্যাদি।

ছ. পদ পরিবর্তন করে শব্দ গঠন: অনেক সময় পদ পরিবর্তন করে নতুন নতুন শব্দ গঠিত হয়। যেমন: সুন্দর > সৌন্দর্য, লবণ> লাবণ্য, মানব > মানবিক, মধুর মাধুর্য, লোক > লৌকিক ইত্যাদি।

জ. বিভক্তি যোগে শব্দ গঠন: বিভক্তি যোগ করে নতুন নতুন শব্দ গঠিত হয়। যেমন: কলম এ কলমে, খাতায় খাতায়, মানুষ + এর = মানুষের ইত্যাদি।

ঝ. বহুবচনের মাধ্যমে শব্দ গঠন: বহুবচনবাচক শব্দযোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়। যেমন: গ্রন্থ আবলি = গ্রন্থাবলি, পাখি সব পাখিসব ইত্যাদি।

ঞ. বাক্য সংকোচনের মাধ্যমে শব্দ গঠন: যেমন লাভ করার ইচ্ছা = লিপ্সা, হনন করার ইচ্ছা = জিঘাংসা, খ (আকাশে) তে চড়ে যে = খেচর ইত্যাদি।

উত্তরঃ

বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানান অনুসারে বিদেশি শব্দের বানানের নিয়ম:

১. বাংলায় বিদেশি শব্দের আদিতে বর্ণবিশ্লেষ সম্ভব নয়। এগুলো যুক্তবর্ণ দিয়ে লিখতে হবে। যেমন: স্টেশন, স্ট্রিট। তবে অন্য ক্ষেত্রে বিশ্লেষ করা যায়। যেমন: মার্কস, শেকসপিয়র ইত্যাদি।

২. বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে 'ষ' ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। যেমন: কিশমিশ, নাশতা, পোশাক, জিনিস, মসলা, সাদা ইত্যাদি। 

৩. বিদেশি শব্দের বানানে ই-কার হবে। যেমন: বেআইনি, শহিদ, লাইব্রেরি ইত্যাদি। 

৪. বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' না হয়ে 'ন' ব্যবহৃত হবে। যেমন: গ্রিন, হর্ন, মর্নিং ইত্যাদি। 

৫. বাংলায় প্রচলিত বিদেশি শব্দ সাধারণভাবে বাংলা ভাষার ধ্বনিপদ্ধতি অনুযায়ী লিখতে হবে। যেমন: কাগজ, জাদু, জাহাজ-জুলুম ইত্যাদি।

উত্তরঃ

বিদ্যান ব্যাক্তিদের সৌজন্যতায় সবাই মুগ্ধ হয়। = বিদ্বান ব্যক্তিদের সুজনতায় / সৌজন্যে সবাই মুগ্ধ হয়।

উত্তরঃ

তোমার কি হয়েছে, বলবে কি? = তোমার কি হয়েছে, বলবে কী?

উত্তরঃ

ইহার আবশ্যক নাই। = ইহার আবশ্যকতা নাই।

উত্তরঃ

তার দুচোখ অশ্রুজলে ভেসে গেল। = তার দু'চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল।

উত্তরঃ

ঘটনার প্রেক্ষিতে কাজটি করলেও তিনি সম্পূর্ণ নিরপরাধী। = ঘটনার প্রেক্ষিতে কাজটি করলেও তিনি সম্পূর্ণ নিরপরাধ।

উত্তরঃ

অসারের তর্জন-গর্জন সার = অক্ষমতা সত্ত্বেও বড়াই করা। বাক্য রচনা: ওর চিৎকার-চেঁচামেচি দেখে ভয় পেয়ো না, ওর কিছুই করার সাহস নেই অসারের তর্জন-গর্জন সার।

উত্তরঃ

গরিবের ঘোড়া রোগ = অবস্থার অতিরিক্ত অন্যায় ইচ্ছা। বাক্য রচনা: নিজের খাবারেরই অভাব, অথচ দামি গাড়ি কিনতে চায়-এ যেন গরিবের ঘোড়া রোগ।

উত্তরঃ

জুতো সেলাই থেকে চণ্ডী পাঠ = ছোটবড় সব কাজ। বাক্য রচনা: অফিসে ও একাই সব কাজ করে-জুতো সেলাই থেকে চণ্ডী পাঠ সবই সামলায়।

উত্তরঃ

বিড়ালের ভাগ্যে শিকা ছেঁড়া = হঠাৎ অপ্রত্যাশিত সৌভাগ্য লাভ। বাক্য রচনা: এতদিনে ওর একটা চাকরি হলো, সত্যিই বিড়ালের ভাগ্যে শিকা ছেঁড়া।

উত্তরঃ

হিসেবের গরু বাঘে খায় না = হিসেব রাখা জিনিস নষ্ট হয় না। বাক্য রচনা: আমি সব সময় খরচের হিসেব লিখে রাখি, কারণ হিসেবের গরু বাঘে খায় না।

উত্তরঃ

মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে। (যৌগিক) = রূপান্তর: মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।

উত্তরঃ

ধনীরা প্রায়ই কৃপণ হয়। (জটিল) = রূপান্তর: যারা ধনী, তারা প্রায়ই কৃপণ হয়।

উত্তরঃ

যে রক্ষক, সেই ভক্ষক। (সরল) = রূপান্তর: রক্ষকই ভক্ষক।

উত্তরঃ

এভাবে সমাজ চলে না। (অস্তিবাচক) = রূপান্তর: এভাবে সমাজ অচল হয়ে পড়ে।

উত্তরঃ

আমি এ ঘরে থাকব। (নেতিবাচক) = রূপান্তর: আমি এ ঘরে না থেকে পারব না।

উত্তরঃ

মঙ্গল করিবার শক্তিই ধন, বিলাস ধন নহে।

মূলভাব: যে অর্থ মানুষের উপকারে আসে, সেটিই প্রকৃত ধন। শুধুমাত্র ভোগবিলাসে ব্যয়িত অর্থ কখনো প্রকৃত ধন হতে পারে না।

সম্প্রসারিত ভাব: প্রতিটি মানুষ নিজের পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে। এই উপার্জনের যথার্থতা তখনই প্রমাণিত হয়, যখন তা সমাজ ও মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা হয়। ধন দিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব, কিন্তু অনেকেই এই অর্থ শুধুমাত্র নিজের স্বার্থে ব্যয় করে থাকেন। কেউ কেউ ধন সঞ্চয়ে লিপ্ত থাকে, আবার কেউ অযথা অপব্যয়ে আনন্দ খোঁজে। এসব অর্থ যদিও তাদের ব্যক্তিগত ভোগে লাগে, কিন্তু তাতে সমাজের কোনো কল্যাণ সাধিত হয় না। কোনো ব্যক্তি যদি নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকে প্রাধান্য দিয়ে সমাজের দরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষদের উপেক্ষা করে, তবে তা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।

যদি ধনী ব্যক্তি সমাজ ও দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের উপার্জিত অর্থ ব্যয় করেন, তবে তা অনেক গরীব ও অভাবগ্রস্ত মানুষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হতে পারে। তাই আমাদের মনে রাখা উচিত, ধন তখনই অর্থবহ ও মর্যাদাসম্পন্ন হয়, যখন তা জনকল্যাণে ব্যবহৃত হয়।

সত্যিকারের ধন সেই, যা মানব কল্যাণে ব্যয় করা হয়। নিজের উপার্জিত অর্থ যদি মহৎ কাজে লাগে, তবে তবেই তার আসল মূল্য ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়।

উত্তরঃ

কবি বিশাল পৃথিবীর জ্ঞান অর্জনের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষায় ভুগছেন। তিনি জানেন, পৃথিবীতে অসংখ্য নগর, রাজধানী, মানুষের কীর্তি, নদী, পর্বত, মরুভূমি, অজানা প্রাণী ও অপরিচিত গাছপালা রয়েছে। বিশাল বিশ্বের এই বিশালতার কাছে তার জ্ঞান অত্যন্ত নগণ্য মনে হচ্ছে। এই ক্ষোভে তিনি বই ও ভ্রমণবৃত্তান্ত পড়েন, যেখানে লেখকরা অক্ষয় উৎসাহে বিশ্বের বিভিন্ন দিকের বর্ণনা দিয়েছেন। কবি এই বর্ণনা থেকে অনুপ্রেরণা পান এবং নিজের জ্ঞানের অভাব পূরণ করার চেষ্টা করেন।

উত্তরঃ

চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন। বাংলা ভাষার প্রাচীন রূপ সম্বন্ধে জানার প্রধান অবলম্বন হলো চর্যাপদ। বহু বাংলা শব্দের বিবর্তনের ধারা খুঁজে পেতে এই গ্রন্থের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলা কবিতার মধ্যে যে অন্ত্যমিল লক্ষ করা যায়, তার উৎসও বলা যায় চর্যাপদকে। চর্যাপদে ব্যবহৃত কিছু প্রবাদ ও রূপকল্প পরবর্তীকালে বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে। এসব কারণে চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যে অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে।

উত্তরঃ

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে লেখক বড়ু চণ্ডীদাস তৎকালীন গ্রামীণ জীবনের পরিচয় অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কাব্যের ১৩টি খণ্ডের নামকরণের মধ্যেই তৎকালীন গ্রামীণ জীবনের ছবি ফুটে উঠেছে। যেমন: তাম্বুল, নৌকা, বৃন্দাবন, বংশী, যমুনা খণ্ড। অর্থাৎ পান, নৌকা, বন, বাশি স্বাভাবিকভাবেই গ্রামীণ জীবনেরই অনুষঙ্গ। এছাড়া কৃষ্ণ-রাধা ও বড়াই চরিত্রের মধ্যেও গ্রামীণ মানুষের স্বভাব বৈশিষ্ট্য উঠে এসেছে। রাধাকে ভোগ করার জন্য কৃষ্ণ বুড়িকে ঘুষ হিসেবে পান দেওয়া, রাধার লাকড়ি দিয়ে রান্না, কৃষ্ণের বাঁশির সুরে রান্না নষ্ট হওয়া, মথুরা হাটে দুধ বিক্রি করা, কৃষ্ণের মাঝিরূপে গোপীগণকে নদী পার করা, পথে রাধাকে আটক করে জোরপূর্বক কৃষ্ণের ভোগ ইত্যাদিসহ গ্রামীণ জীবনের অনেক প্রসঙ্গ এই কাব্যে উঠে এসেছে। কৃষ্ণকে অশিক্ষিত, অমার্জিত, গ্রাম্য, এবং বড়ায়িকে গ্রাম্য কুট্টনী বলে অনেক সমালোচক অভিহিত করেছেন। হাটকেন্দ্রিক অর্থনীতিও গ্রামীণ জীবনে দেখা যায় আর যা শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে ফুটে উঠেছে। মথুরা হাটে রাধা দুধ বিক্রি করতে যায় পথে কৃষ্ণ রাধার দুগ্ধদধির পসার নষ্ট করে। প্রতিশোধ নিতে রাধা কৃষ্ণকে দিয়ে ছাত্র বা ছাতা ধরায় এবং দুধের পসার বহন করায়। তাছাড়া গ্রামীণ জীবনের খণ্ড খণ্ড চিত্রও এ কাব্যে সংযোজিত হয়েছে। গোপ, কুমার, তেলী, নাপিত ইত্যাদি শ্রেণি পেশাজীবীর উল্লেখ পাওয়া যায়। যাদুটোনা, বান মারা, অশ্রাব্য গালি গালাজ, তন্ত্রমন্ত্র, ঝাড়ফুক ইতাদি গ্রামীণ জীবন চিত্রকেই তুলে ধরে। অর্থাৎ গ্রামীণ জীবনের কথকতাই এই কাব্যে তুলে ধরেছেন লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।

উত্তরঃ

১৮০০ সালে লর্ড ওয়েলেসলির উদ্যোগে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষা শেখানোর উদ্দেশ্যে। বাংলা গদ্যের ধারাবাহিক এবং সুশৃঙ্খল বিকাশের প্রথম সার্থক প্রয়াস এ কলেজের মাধ্যমে হয়। ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ চালু হলে অধ্যক্ষ উইলিয়াম কেরি পণ্ডিত ও সহকারী পণ্ডিতদের নিয়ে বাংলা গদ্যে পাঠোপযোগী বই রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের মধ্যে আটজন লেখকের ১৩ বা ১৪টি গ্রন্থ রচিত হয়। তাদের মধ্যে উলে-খযোগ্য লেখক ও গ্রন্থ হলো উইলিয়াম কেরির কথোপকথন (১৮০১), রামরাম বসুর রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১) এবং লিপিমালা (১৮০২), মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), হিতোপদেশ (১৮০৮) ও রাজাবলি (১৮০৮), এবং চণ্ডীচরণ মুনশীর তোতা ইতিহাস। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের জড়ত্ব মুক্তি ঘটে, গদ্য শৃঙ্খলাবদ্ধ হয় এবং ইতিহাস ও গল্প রচনায় সাফল্যের পাশাপাশি অনুবাদ সাহিত্যে দক্ষতা প্রকাশ পায়।

উত্তরঃ

ইংরেজিতে Folklore শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ 'লোকসাহিত্য' বলতে জনসাধারণের মুখে মুখে প্রচলিত গান, কাহিনী, গল্প, ছড়া, প্রবাদ ইত্যাদি বোঝানো হয়। সাধারণত কোনো সম্প্রদায় বা জনগোষ্ঠীর অলিখিত সাহিত্যই লোকসাহিত্য। 

উত্তরঃ

বাংলা গদ্যের অবয়ব নির্মাণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান যেমন অপরিসীম তেমনি সমাজ সংস্কারেও বিদ্যাসাগরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিদ্যাসাগরের সাহিত্য সাধনার পশ্চাতে সমাজসেবকের মনোবৃত্তি কার্যকর ছিল। তিনি ছিলেন নিয়মনিষ্ঠ, ইংরেজি শিক্ষার প্রতি তার পৃষ্ঠপোষকতা ছিল, তিনি বাল্যবিবাহের বিরোধিতা করেছেন, বিধবাবিবাহ প্রচলনের জন্য সর্বস্ব পণ করেছিলেন এবং নিজের আদর্শকে চিরদিন সমুন্নত রেখেছেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সমাজ সম্পর্কিত প্রবন্ধ গ্রন্থগুলোর মধ্যে 'বিধবাবিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কি না এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব এবং বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক বিচার' উল্লেখযোগ্য। হিন্দু সমাজের আবহমানকালের অনুসৃত হৃদয়বিদারক অনাচারগুলো বিদ্যাসাগরের মনকে সহানুভূতিশীল করে তুলেছিল। তাঁর রচনাবলিতে সে নিদর্শন বিদ্যমান। সাহিত্য ও সমাজকর্ম-এ দুটি বিষয়েই বিদ্যাসাগরের রয়েছে সরব পদচারণা। সাহিত্যের খ্যাতি যেমন তাকে প্রসিদ্ধ করেছে তেমনি সমাজসংস্কারের অদম্য প্রচেষ্টা তাকে সমাজ সংস্কারক হিসেবে সুপরিচিত করেছে। তবে বিদ্যাসাগর মূলত সমাজ সংস্কারক হিসেবেই বাঙালি সমাজে অবিস্মরণীয়।

457

প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ। এর ভাষা ও বিষয়বস্তু দুর্বোধ্য এবং এর কবিরা ছিলেন বৌদ্ধ সাধক। এতে বিধৃত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা। এ সময়ের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো গোষ্ঠী কেন্দ্রিকতা ও ধর্মনির্ভরতা। ধর্মের বিষয়টি সমাজজীবনের চিন্তাভাবনাকে নিয়ন্ত্রিত করেছে, তাই সাহিত্যে ধর্মের কথা বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

প্রাচীন যুগের সময়কাল-

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে৬৫০-১২০০ খ্রি.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর মতে৯৫০-১২০০ খ্রি.
ড. সুকুমার সেনের মতে৯০০-১৩৫০ খ্রি.

চর্যাপদ: বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য/কবিতা সংকলন চর্যাপদ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদিযুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন। ডক্টর হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার হতে ১৯০৭ সালে 'চর্যাচর্য বিনিশ্চয়' নামক পুঁথিটি আবিষ্কার করেন। চর্যাপদের সাথে 'ডাকার্ণব' ও 'দোহাকোষ' নামে আরও দুটি বই নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার হতে আবিষ্কৃত হয়। ১৯১৬ সালে সবগুলো বই একসাথে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে প্রকাশ করেন।

বাংলার পাল বংশের রাজারা ছিলেন বৌদ্ধধর্মালম্বী। তাদের আমলে চর্যাগীতিগুলোর বিকাশ ঘটেছিল। সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে পদগুলো রচিত। পাল বংশের পরে আসে সেন বংশ। সেন বংশ হিন্দুধর্ম এবং ব্রাহ্মণ্যসংস্কার রাজধর্ম হিসাবে গ্রহণ করে। ফলে বৌদ্ধ সিদ্ধচার্যেরা এদেশ হতে বিতাড়িত হয় এবং নেপালে আশ্রয় গ্রহণ করে। তাই বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন বাংলাদেশের বাহিরে নেপালে পাওয়া গেছে।

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী - উইকিপিডিয়া
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী

চর্যাপদের শব্দগুলো অপরিচিত, শব্দ ব্যবহারের রীতি বর্তমানের রীতি থেকে ভিন্ন --এর কবিতাগুলো পড়ে বুঝতে কষ্ট হয়। এজন্য চর্যাপদের ভাষাকে 'সন্ধ্যা ভাষা'ও বলে। চর্যাপদের কবিতাগুলো গাওয়া হত। তাই এগুলো একইসাথে গান ও কবিতা।

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তার 'বাঙলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ' (Origin and Development of Bengali language) নামক গ্রন্থে ধ্বনি তত্ত্ব ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, পদসংকলনটি আদি বাংলা ভাষায় রচিত। কেউ কেউ একে মৈথিলি, উড়িয়া বা আসামি ভাষা বলে দাবি করেন। ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, সেকালের বাংলা, উড়িয়া বা আসামি ভাষার পার্থক্য ছিল সামান্যই। উল্লেখ্য যে, চর্যাপদ উড়িষ্যা, বিহার, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের নিজ নিজ ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসাবে বিবেচিত।

এতে মোট ৫১ টি পদ'রয়েছে। কয়েক পাতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সর্বমোট সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া গেছে। ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে উদ্ধার করা হয়েছে অর্থাৎ এর শেষাংশ পাওয়া যায়নি। ২৪, ২৫ ও ৪৮ নং পদগুলো পাওয়া যায়নি। চর্যাপদের মোট পদকর্তা ২৪। অনেকের মতে, আদি চর্যাকার লুইপা। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে প্রাচীনতম চর্যাকার শবরপা এবং আধুনিকতম সরহ বা ভুসুকু। কাহ্নপা সর্বাধিক ১৩ টি পদ রচনা করেন।

রাজশাহী কলেজ গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুর্লভ চর্যাপদ এর অংশবিশেষ

চর্যাপদের কবি / পদকর্তা-

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে২৩ জন
ড. সুকুমার সেনের মতে২৪ জন

পদকর্তা: লুই, শবর, ককুরী, বিরুআ, গুণ্ডারী, চাটিল, ভুসুকু, কাহ্ন, কামলি, ডোম্বী, শান্তি, মহিত্তা, বীণা, সরহ, আজদেব, ঢেণ্টণ, দারিক, ভাদে, তাড়ক, কঙ্কণ, জঅনন্দি, ধাম, তন্ত্রী ও লাড়ীডোম্বী। পদকর্তাদের নামের শেষে সম্মানসূচক 'পা' যোগ করা হয়। যেমন: লুই থেকে লুইপা, শবর থেকে শবরপা।

কাহ্ন : ১৩ টি পদ রচনা করেন।

ভুসুকু : ৮ টি পদ রচনা করেন।

সরহ : ৪ টি পদ রচনা করেন।

লুই, শান্তি ও শবরী: ২ টি করে পদ রচনা করেন।

বাকিরা : ১ টি করে পদ রচনা করেন।

লাড়ীডোম্বী : কোন পদ পাওয়া যায়নি।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থের মতে, পদ সংখ্যা ৫০টি এবং প্রাপ্ত পদ সাড়ে ছেচল্লিশটি।

ড. সুকুমার সেনের 'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস' গ্রন্থের মতে, পদ সংখ্যা ৫১টি।

চর্যাপদের যে পদ পদ পাওয়া যায়নিঃ

২৩ নং অর্ধেক, ২৪, ২৫ ও ৪৮ নং পদ।

যেসব পদ পাওয়া যায়নি সেগুলোর রচয়িতাঃ

২৩- ভুসুকুপা, ২৪- কাহ্নপা, ২৫- তান্তীপা, ৪৮- কুকুরীপা।

চর্যাপদের প্রথম পদের রচয়িতাঃ

লুইপা। তিনি ২টি পদ রচনা করেন। যথা: ১, ২৯। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, তিনি রাঢ় অঞ্চলের বাঙালি কবি হিসেবে পরিচিত। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, তিনি শবরপার শিষ্য ছিলেন। লুইপাকে আদি চর্যাকার হিসেবে ধরে নেয়া হয়।

চর্যাপদের প্রথম পদটিঃ

কাআ (শরীর) তরুবর পঞ্চ বি ডাল।

চঞ্চল চীএ পইঠো কাল ॥

দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ।

লুই ভণই (বলে) গুরু পুচ্ছিঅ জাণ ॥

সঅল সহিঅ কাহি করিঅই।

সুখ দুখেতে নিচিত মরিঅই ॥

এড়ি এউ ছান্দক বান্ধ করণক পাটের আস।

সুনুপথ ভিতি লেহু রে পাস ॥

ভণই লুই আমহে ঝাণে দিঠা।

ধমণ চমণ বেণি পিত্তি বইঠা ॥

মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষা বা আলো-আঁধারির ভাষা।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, এর ভাষার নাম 'বঙ্গকামরূপী'। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

চর্যাপদের অনুবাদক

ভাষা

অনুবাদক

অনূদিত নাম

তিব্বতিকীর্তিচন্দ্র-
হিন্দিরাহুল সাংকৃত্যায়নদোহাকোষ (১৯৫৭)
ইংরেজিহাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদমিস্টিক পোয়েট্রি অব বাংলাদেশ (২০১৭)
সংস্কৃতপ্রবোধচন্দ্র বাগচী-
চিত্রঃ কাহ্নপার নকশা

Related Question

View All
উত্তরঃ

সমাজে বসবাস করতে হলে মানুষকে একে অপরের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হয় এবং সমাজে শত্রু-মিত্র উভয়ের সাথেই কোন না কোনভাবে মেলামেশা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় সেটি হল শিক্ষা। মানুষের বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষার মানদণ্ডটি অতীব জরুরি। কেননা, অশিক্ষিত বন্ধুর যত আন্তরিকতাই থাক না কেন, সে যে কোন মুহূর্তে নিজের অজ্ঞতাবশত অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বলা হয়, মূর্খ ব্যক্তি পশুর সমান। ভালোমন্দ বিচার করার যথাযথ ক্ষমতা তার নেই। অনেক সময় বন্ধুর ভালোর জন্য কিছু করলেও তার অজ্ঞতার কারণে তা বন্ধুর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। এজন্য তাকে দোষও দেওয়া যায় না। অন্যদিকে, শত্রুকে আমরা সাধারণত অনিষ্টের কারণ হিসেবেই বিবেচনা করি। কিন্তু তুলনামূলক বিচারে দেখা যায়, একজন মুর্খ বন্ধু অজ্ঞতাবশত যা করতে পারে, একজন শিক্ষিত শত্রু সজ্ঞানে তেমনটি করতে পারে না। জ্ঞানের নির্মল পরশ অন্তত তাকে এ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে। যদি অনিষ্ট সে করে তবে সেটা হবে তার দুরাচার। আর মানুষ সব সময়ই শত্রুর দুরাচার সম্পর্কে সজাগ থাকে। ফলে শত্রুর এ চেষ্টা সফল নাও হতে পারে। কিন্তু বন্ধুর ব্যাপারে কোন সন্দেহ না থাকায় মানুষ এতটা সতর্ক থাকে না। অথচ এ অসতর্কতার ফাঁকে মূর্খ বন্ধুর অজ্ঞতাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

তাই বন্ধু নির্বাচনে জ্ঞান, প্রজ্ঞা আর শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা, জ্ঞান আলো এবং মূর্খতা অন্ধকারের সমতুল্য। আলোতে অনেক বিপদেও নিরাপদ থাকা যায়, অন্যদিকে অন্ধকারে সর্বদাই বিপদের আশঙ্কা থাকে

ABDUL MALEK
ABDUL MALEK
2 years ago
4.7k

"ভাবের ললিত ক্রোড়ে না রাখি নিলীন, কর্মক্ষেত্রে করি দাও সক্ষম স্বাধীন।" 

এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "যতদিন ছিলে" কবিতার একটি অংশ। 

**ভাব-সম্প্রসারণ:** 

এই উদ্ধৃতিটি একটি গভীর জীবনদর্শনের প্রতিফলন। এখানে 'ভাবের ললিত ক্রোড়ে না রাখি নিলীন' বলতে বোঝানো হচ্ছে যে, ব্যক্তিগত চিন্তা, অনুভূতি বা ভাবনাগুলোকে শুধুমাত্র মনস্তাত্ত্বিক বা আবেগগতভাবে না রেখে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। 'নিলীন' শব্দের মাধ্যমে এখানে অভ্যন্তরীণ চিন্তা বা অনুভূতির গভীরতা প্রকাশ করা হয়েছে, যা শুধুমাত্র অন্তরেও লুকিয়ে থাকলে চলবে না। অন্যদিকে, 'কর্মক্ষেত্রে করি দাও সক্ষম স্বাধীন' বাক্যে বলা হচ্ছে যে, আমাদের দক্ষতা, কর্মক্ষমতা ও স্বাধীনতা কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করা উচিত। কর্মক্ষেত্রে আমরা যে সিদ্ধান্ত নিতে পারি এবং যে কাজ করতে পারি, তা যেন আমাদের স্বাধীনতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে হয়। এখানে স্বাধীনতার সাথে সক্ষমতার সম্মিলন প্রস্ফুটিত হচ্ছে, যেখানে ব্যক্তি নিজের দক্ষতা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করার স্বাধীনতা পায়। সংক্ষেপে, এই উদ্ধৃতিটি আমাদেরকে উৎসাহিত করে যে, আমাদের অভ্যন্তরীণ ভাবনা বা চিন্তাকে শুধু মনে সীমাবদ্ধ না রেখে, বাস্তব জীবনের কাজে লাগিয়ে কার্যকরীভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা ও স্বাধীনতা প্রমাণ করতে হবে।

উত্তরঃ

আমরা সবসময় ভাবের গহনায়, অনুভূতির গভীরতায় হারিয়ে থাকি, যেখানে কোনো এক নিস্তব্ধতা বা মাধুর্য লুকিয়ে থাকে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে, বাস্তব জীবনে সেই ভাবনার পরিবর্তে আমাদের প্রমাণিত করতে হয় আমাদের ক্ষমতা এবং স্বাধীনতার। সেখানে ভাবের বন্দি হয়ে থাকার সুযোগ নেই। আমরা যদি শুধু ভাবনায় নিমজ্জিত থাকি, তবে বাস্তবতার চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারব না।

এখানে "ভাবের ললিত ক্রোড়ে" বলতে বোঝানো হচ্ছে যে আমরা আমাদের ভাবনাগুলোকে এতটাই গুরুত্ব দিই যে সেগুলো আমাদের কর্মক্ষমতা বা স্বাধীনতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু বাস্তবিকভাবে আমাদের শক্তি এবং স্বাধীনতা আমাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। আমাদের উচিত আমাদের ভাবনার সাথে সাথে কর্মক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে কাজ করা, যাতে আমাদের সক্ষমতা এবং স্বাধীনতা স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ পায়।

এইভাবে, কবি আমাদের শেখাতে চাইছেন যে ভাবনা ও কর্মের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। ভাবনার সৌন্দর্য বা গভীরতা তার স্থানেই মূল্যবান, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা ও স্বাধীনতার প্রয়োগই আসল বিষয়।

Shamim Hossan
Shamim Hossan
1 year ago
2.2k
(ক)
তরুণ বিশ্বশক্তির অধিকারী, অনন্ত সম্ভাবনাপূর্ণ তার জীবন । সে যদি শুধু ঘরের কোনে বসে। পূর্ব পুরুষের লিখিত পুঁথি ঘেঁটে তার অমূল্য মানবজীবনকে সার্থক করতে চায় এবং মনে করে, বর্তমানের সবকিছু অতীতে সৃষ্ট হয়েছিল , তাহলে সে যে শুধু তার অনন্ত শক্তিকে অপব্যয় করে তা নয়, তার সেই শক্তিকেও অবমাননা করে । অতীত সৃষ্টির জন্মদাতা অতীতের ঘটনা ও অতীতের পরিবেষ্টন। বর্তমান ঘটনা ও বর্তমান পরিবেষ্টন চিরকালই নতুন। বর্তমান অতীতের কুঁড়ি বৈ আর কিছু নয়। বর্তমানের আপন শক্তিতে সেই কুঁড়ি ফুটে নব পুষ্পে পরিণত হয়। সুতরাং তার ফলও নতুন হওয়া চাই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, মানব-মন অতীতের মােহ ছাড়তে পারে না। সে এই বর্তমানের পরিবর্তিত নব পরিবেষ্টনেও সেই অতীতের ইতিহাসকে হুবহু বজায় রাখতে চায়-বর্তমানের নব প্রসব-বেদনাকে উপেক্ষা করে। তাই মানব ইতিহাসের স্তরে স্তরে দেখতে পাই কত দ্বন্দ্ব, কত সংঘর্ষ, কত বিগ্রহ-বিপ্লব, কত রক্ত-বন্যা। এর মূল কারণ হচ্ছে অতীতের সৃষ্টিকে অক্ষুন্ন রাখার জন্য মানব-মনের স্বাভাবিক দুর্জয়। চিরকালই তরুন ৭ প্রকৃতির বিরুদ্ধে অভিযান করেছে। বর্তমান বেদনায় অনুভূতির চঞ্চল হয়ে ভবিষ্যতে আদশ সার্থক করার জন্য। (সারাংশ লিখুন)
অথবা
উত্তরঃ

তরুণদের উচিত তাদের অমূল্য জীবনকে সার্থক করার জন্য তাদের অনন্ত শক্তিকে কাজে লাগানো।পূর্বপুরুষদের লিখিত পুঁথি ঘেঁটে বসে না থেকে বরং বর্তমানের নতুন পরিবেষ্টনের সাথে খাপ খাওয়ানো ।তাদের বর্তমানের বেদনাকে উপেক্ষা করে ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ স্থাপন করার চেষ্টা করা উচিত।অতীতের প্রতি আসক্তি মানুষকে অন্ধ করে দেয়, বর্তমানের পরিস্থিতি বুঝতে বাধা দেয়, ফলে দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষ, বিগ্রহ-বিপ্লব এবং রক্ত-বন্যার মতো ঘটনা ঘটে।মানুষের উচিত অতীতের সৃষ্টিকে অক্ষুন্ন রাখার চেষ্টা না করে বর্তমানের নব পরিবেষ্টনের সাথে খাপ খাওয়ানো।তরুণদের চিরকালই অন্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে।

Arif Hossain
Arif Hossain
2 years ago
1.7k
উত্তরঃ

এ কালের দৃশ্যটি অত্যন্ত মন্দ এবং চিন্তামূলক। সমাজের প্রতিনিধিত্ব করা উচিত পরিস্থিতির মধ্যে পর্যায়ক্রমে হেঁটে যাচ্ছে অস্ত্রোচ্চারণ, অন্ধ প্রতিদ্বন্দ্বীতা, স্বতন্ত্রতার অভাব, এবং নৈতিক মূল্যবোধের হারানো অবস্থা। এ দৃশ্যে অনুভব হচ্ছে ক্রুরতা, অসহ্য প্রহরণ, এবং অমানুষিক ব্যবহারের উত্কৃষ্ট উদাহরণ। প্রত্যাশা ও নিরাপদতা এ সময়ে অস্তিত্বে নেই। এই সময়ে সতর্কতা ও শান্তিপূর্ণতা অত্যন্ত প্রয়োজন।

Arif Hossain
Arif Hossain
2 years ago
1.4k
উত্তরঃ

লেখাপড়ায় তার মনোযোগ নেই

= লেখাপড়ায় তার মনোযোগ নেয়।

Shamim Reza
Shamim Reza
3 years ago
1.1k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

তরুণ বিশ্বশক্তির অধিকারী, অনন্ত সম্ভাবনাপূর্ণ তার জীবন । সে যদি শুধু ঘরের কোনে বসে। পূর্ব পুরুষের লিখিত পুঁথি ঘেঁটে তার অমূল্য মানবজীবনকে সার্থক করতে চায় এবং মনে করে, বর্তমানের সবকিছু অতীতে সৃষ্ট হয়েছিল , তাহলে সে যে শুধু তার অনন্ত শক্তিকে অপব্যয় করে তা নয়, তার সেই শক্তিকেও অবমাননা করে । অতীত সৃষ্টির জন্মদাতা অতীতের ঘটনা ও অতীতের পরিবেষ্টন। বর্তমান ঘটনা ও বর্তমান পরিবেষ্টন চিরকালই নতুন। বর্তমান অতীতের কুঁড়ি বৈ আর কিছু নয়। বর্তমানের আপন শক্তিতে সেই কুঁড়ি ফুটে নব পুষ্পে পরিণত হয়। সুতরাং তার ফলও নতুন হওয়া চাই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, মানব-মন অতীতের মােহ ছাড়তে পারে না। সে এই বর্তমানের পরিবর্তিত নব পরিবেষ্টনেও সেই অতীতের ইতিহাসকে হুবহু বজায় রাখতে চায়-বর্তমানের নব প্রসব-বেদনাকে উপেক্ষা করে। তাই মানব ইতিহাসের স্তরে স্তরে দেখতে পাই কত দ্বন্দ্ব, কত সংঘর্ষ, কত বিগ্রহ-বিপ্লব, কত রক্ত-বন্যা। এর মূল কারণ হচ্ছে অতীতের সৃষ্টিকে অক্ষুন্ন রাখার জন্য মানব-মনের স্বাভাবিক দুর্জয়। চিরকালই তরুন ৭ প্রকৃতির বিরুদ্ধে অভিযান করেছে। বর্তমান বেদনায় অনুভূতির চঞ্চল হয়ে ভবিষ্যতে আদশ সার্থক করার জন্য। (সারাংশ লিখুন)
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews