মিসকিন শব্দের অর্থ হলো নিঃস্ব, সর্বহারা ইত্যাদি।
ইসলামি অর্থব্যবস্থায় যেমন খুশি তেমন অর্থ ব্যয়ের সুযোগ নেই। কেবল হালাল পথেই অর্থ ব্যয় করা যাবে। হারাম বস্তু ক্রয় বা কোনো হারাম কাজ সম্পাদনে সম্পদ ব্যয়ের অনুমতি ইসলাম দেয়নি। ব্যক্তি প্রয়োজন অনুসারে সম্পদ ব্যয় করবে। অপব্যয় বা অপচয় করা ইসলামে পুরোপুরি নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন, 'তোমরা খাও এবং পান করো কিন্তু অপচয় করো না। 'নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।'
উদ্দীপকের অর্থনীতিবিদ সারোয়ার হোসেন আর্থিক ইবাদত বলতে জাকাতকে বুঝিয়েছেন। যাকাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় ইবাদত হিসেবে জাকাত বিশেষ গুরুত্বের দাবিদার। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যতবার নামাজের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রায় ততবারই জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। আর্থিক এই ইবাদত পালনের মাধ্যমে সম্পদ পবিত্র হয়, কলুষমুক্ত হয়। এমনকি জাকাতদাতাও পবিত্র ও পরিশুদ্ধ হয় ও আত্মশুদ্ধি লাভ করে। আল্লাহ বলেন- "তাদের ধন-সম্পদ থেকে জাকাত গ্রহণ কর। এতে তারা পবিত্র হবে এবং পরিশুদ্ধ হবে।" জাকাত প্রদান করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। জাকাত দিয়ে মুমিন নিজের ইমানি দৃঢ়তার প্রমাণ পেশ করে। জাকাত আদায়ের মাধ্যমে মানুষ অর্থের লোভ থেকে মুক্ত হয় এবং সংকীর্ণতার অন্ধকার থেকে উদারতার মহান ময়দানে অবতীর্ণ হয়। জাকাত দানের ফলে ব্যক্তির অন্তর থেকে কৃপণতার পঙ্কিলতা দূরীভূত হয়। মহান আল্লাহ বলেন- 'আর যারা মনের সংকীর্ণতা ও কৃপণতাকে অতিক্রম করতে পেরেছে কেবল তারাই সর্বাঙ্গীণ সফলকাম।' (সুরা আত-তাওবা: ১০৩)
সর্বোপরি জাকাত ফরজ হওয়ার পর ব্যক্তি যদি তা যথাযথভাবে আদায় করে, তাহলে সে পরকালে কঠিন শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে। পরিশেষে বলা যায়, জাকাত আদায়ের মাধ্যমে একই সাথে আল্লাহ ও তাঁর বান্দার হক আদায় হয় বলে এর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অপরিসীম।
হ্যাঁ, উদ্দীপক দ্বারা নির্দেশকৃত আর্থিক ইবাদত তথা যাকাতের রয়েছে অপরিসীম সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব। যাকাতের প্রথম সামাজিক গুরুত্ব হচ্ছে, এই ইবাদতটি পালনের মাধ্যমে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধের উন্মেষ হয়। যাকাতের মাধ্যমেই ইসলামি ভ্রাতৃত্ব যথাযথ রূপ ও সৌন্দর্যে প্রতিভাত হয়ে ওঠে। জাকাত সমাজের নিঃস্ব, দরিদ্র ও ভাগ্যবিড়ম্বিত লোকদের প্রতি ধনীদের সহানুভূতি সৃষ্টি করে। শুধু তাই নয়, জাকাত মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে এবং সমাজ থেকে অভাব দূর করে। ফলে অভাবী লোকেরা চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি থেকে বিরত থাকে, যা সমাজে নিরাপত্তাবোধের সৃষ্টি করে। জাকাত জাতি, ধর্ম, বর্ণ, অঞ্চল নির্বিশেষে সব মানুষের কল্যাণ সাধন করে। ধনীদের জাকাতলব্ধ অর্থ গরিবদের আর্থিক প্রয়োজন পূরণের পর যদি উদ্বৃত্ত থাকে তাহলে সে অর্থে সমাজের বিভিন্ন কল্যাণমূলক ও জনহিতকর কার্যাবলি সম্পাদন করা যায়।
জাকাত যেহেতু আর্থিক ইবাদত, সেহেতু এর অর্থনৈতিক গুরুত্বই সর্বাধিক। এটি সর্বজনীন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধানে সহায়তা করে। অর্থাৎ সুচারুভাবে জাকাত আদায় হলে সমাজের কোনো ব্যক্তিই অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকে না। সমাজের মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য বিদ্যমান। কিন্তু এ বৈষম্য কখনো কখনো চরম ও অমানবিক হয়ে ওঠে। জাকাত এই চরম ও অমানবিক অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এটি দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্বের হার কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এছাড়া জাকাত ঋণমুক্তি, জাতীয় আয় বৃদ্ধি, উৎপাদান বৃদ্ধি এবং ভিক্ষাবৃত্তি রোধের মাধ্যমে সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলে।
উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সমাজের সমাজকাঠামো ও মৌল কাঠামো তথা অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর আল্লাহর নির্দেশিত ইবাদত হিসেবে যাকাতের গুরুত্ব সর্বাধিক।
Related Question
View Allআল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য ।
দ্বিতীয় স্তরের তাকওয়া অনুশীলনকারী ব্যক্তিকে বলা হয় সুলাহা।
তাকওয়ার দ্বিতীয় সোপান হলো এমন হালাল কথা, কাজ, বিষয় ও বস্তু বর্জনের স্তর, যে হালালের হালাল হওয়া সম্পর্কে সন্দেহ রয়েছে। কেননা, সন্দেহযুক্ত হালাল বর্জন না করলে সন্দেহাতীতভাবে হারাম থেকে মুক্ত থাকা যায় না। রাসুলুল্লাহ (স) যা সন্দেহযুক্ত তা বর্জন করতে এবং যা সন্দেহযুক্ত নয় তা গ্রহণ করার কথা বলেছেন।
অর্থনীতিবিদ রফিকুল ইসলামের আলোচনায় ইসলামি অর্থব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ইসলামি অর্থব্যবস্থা হলো কুরআন-সুন্নাহর আলোকে মানুষের সম্পদ উপার্জন, বণ্টন ও ব্যয়ের নির্দেশনা। এটি একটি মানবকল্যাণময় ও প্রগতিশীল অর্থব্যবস্থা। জাকাত, হালাল উপার্জন ও ইসলামি শরিয়তের অনুসরণ এ অর্থব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা রফিকুল ইসলামের আলোচনায় ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের রফিকুল ইসলাম এমন একটি অর্থব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যেখানে হালাল উপার্জন এবং জাকাতের বিষয়টি বাধ্যতামূলক। তার আলোচিত অর্থব্যবস্থার সাথে ইসলামি অর্থব্যবস্থার মিল রয়েছে। ইসলামি অর্থব্যবস্থা একটি আদর্শিক অর্থব্যবস্থা। এ অর্থব্যবস্থায় সম্পদের প্রকৃত মালিক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। মানুষ তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে তা ব্যবহার করেন। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় যা খুশি এব উৎপাদন করা যায় না, যেভাবে খুশি উপার্জনও করা যায় না। এ অর্থব্যবস্থায় হালাল পন্থায় উপার্জন বাধ্যতামূলক। এ ব্যবস্থায় সম্পদের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টননীতি অনুসরণ করা হয়। এ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো- হালাল-হারাম নির্ধারণ। সম্পদ উপার্জন, ব্যয় ও ভোগের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের নির্ধারিত সীমা- পরিসীমা মেনে চলা অত্যাবশ্যক। এ অর্থব্যবস্থার অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- জাকাতভিত্তিক ও সুদমুক্ত। এ অর্থব্যবস্থায় ধনীদের সম্পদে গরিবদের জন্য নির্ধারিত অংশ রয়েছে। ইসলামের বিধান অনুযায়ী সঠিকভাবে জাকাত প্রদানের মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যকার বৈষম্য কমে আসে।
ইবাদত কবুলের জন্য আমাদের হালাল উপার্জন করতে হবে এবং হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকতে হবে- মাওলানা মুহিবুর রহমানের উক্তিটি ইসলামের আলোকে যথার্থ। ইসলামি শরিয়তে যেসব বিষয়ের অনুমতি রয়েছে এবং যা সম্পর্কে কোনো নিষেধ বাণী নেই তাকে হালাল বা বৈধ বলে। আর শরিয়তে যেসব বিষয় নিষেধ করা হয়েছে তা হারাম বা অবৈধ। জীবনের সবক্ষেত্রে হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা ইসলামের বিধান। ইসলামি জীবনব্যবস্থায় এ বিধানটি মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম। হালাল উপার্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। এটি ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত। মানুষ যদি হালাল উপার্জন করে এবং হালাল জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে। আর যদি হারাম উপায়ে উপার্জন ও হারাম জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা একজন মুমিনের জন্য অত্যাবশ্যক। হালাল- হারামের বিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ পালন করা হয়। হালাল উপার্জনকারীর ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হন আর হারাম উপার্জনকারীর প্রতি অসন্তুষ্ট হন।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন ও ইবাদত কবুলের জন্য ইসলামি শরিয়তের আলোকে হালাল-হারামের বিধান মেনে চলা মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যক। তাই মাওলানা মুহিবুর রহমানের উক্তিটি ইসলামের দৃষ্টিতে যথার্থ।
ইসলাম পাঁচটি বুনিয়াদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
স্বত্ব ত্যাগ করে কাউকে বিশেষ করে অভাবগ্রস্ত ও নিঃস্ব লোকদের কিছু দান করাকে সাদাকাত বলে। সাদাকাত অর্থ হলো দান। এটি দুই প্রকার। যথা- ১. নফল বা ঐচ্ছিক সাদাকাত এবং ২. ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক সাদাকাত। অর্থাৎ বাধ্যবাধকতা ছাড়া অথবা বিশেষ শর্তসাপেক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে যে দান করা হয় তাই ওয়াজিব সাদাকাত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!