বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পীর নাম জয়নুল আবেদীন। এই মহান শিল্পী বাংলাদেশের বিভিন্ন সংগ্রাম, প্রতিবাদ ইত্যাদি অনুষঙ্গ নিয়ে ছবি এঁকেছেন। এ সকল ছবিতে স্থান পেয়েছে শোষণ, বঞ্চনা ও দুর্ভিক্ষের চিত্র। তাঁর এই চিত্রের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মানসিকতা। আমরা এই মহান শিল্পীর কাছে চিরকাল ঋণী।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

বর্তমান নওগাঁ জেলার বদলগাছি থানার পাহাড়পুর গ্রামে প্রাচীন বৌদ্ধবিহার অবস্থিত।

উত্তরঃ

'একসাথে আছি, একসাথে বাঁচি' বলতে কবি নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করে টিকে থাকাকে বুঝিয়েছেন। 

'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি অন্যান্য দিকের সঙ্গে বাঙালির সংগ্রামী মনোভাব ও ঐক্যবদ্ধ চেতনার পরিচয় দিয়েছেন। বাঙালি বহু সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে। বাঙালির এ অর্জনের পেছনে ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও একাত্মতা। একতাবদ্ধ হওয়ার কারণেই শত সংগ্রাম, দুর্যোগের পরও বাঙালির অস্তিত্ব টিকে আছে। বাঙালির এই অটুট বন্ধনের কথা বলতে গিয়েই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের জয়নুল আবেদিনের অবদানের দিকটি 'আমার পরিচয়' কবিতায় ফুটে উঠেছে। 

একজন শিল্পী একটি দেশের প্রতিনিধি। তিনি তাঁর শিল্পকর্ম দিয়ে বিশ্বের দরবারে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর শিল্পকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সে দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য।

উদ্দীপকে বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের কথা বলা হয়েছে। জয়নুল আবেদিন বাংলাদেশের একজন মহান শিল্পী। তিনি এ দেশের মানুষের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম-প্রতিবাদ, শোষণ-বঞ্চনা এবং অভাব-দুর্ভিক্ষের ছবি এঁকেছেন। তাঁর তুলির আঁচড়ে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ ফুটে উঠেছে। 'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি তাঁকে স্মরণ করেছেন বাঙালির সংগ্রাম ও ঐতিহ্য চেতনায়। কবি নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কথা। বিপ্লব-বিদ্রোহের কথা চিন্তা করে তিনি শিল্পী জয়নুল আবেদিনের অবদানকেও নির্দেশ করেছেন। কারণ তিনি বাংলার মানুষের দুর্ভিক্ষতাড়িত জীবন ও জগতের ছবি এঁকে অসামান্য এক জীবন-তৃষ্ণার পরিচয় দিয়েছেন। নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে কবি বাঙালি জয়নুল আবেদিন থেকে আসার কথা বলেছেন। তাঁর পরিচয়ে কবি গর্ববোধ করেছেন। এভাবে উদ্দীপকের জয়নুল আবেদিনের অবদানের দিকটি 'আমার পরিচয়' কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।

উত্তরঃ

"উদ্দীপকটি 'আমার পরিচয়' কবিতার খণ্ডিত রূপায়ণ মাত্র"- মন্তব্যটি যথার্থ। 

বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য অনেক সমৃদ্ধ। এই ইতিহাস-ঐতিহ্যের পেছনে বাঙালির সংগ্রামী চেতনা বিদ্যমান। বাঙালি এর জন্য বুকে লালন করেছে ঐক্যবোধের চেতনা।

উদ্দীপকে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের অবদানের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের এক মহান শিল্পী। তাঁর ছবিতে সংগ্রাম, প্রতিবাদ, বাঙালির জীবনসংগ্রাম, শোষণ-বঞ্চনা ও দুর্ভিক্ষের কথা ফুটে উঠেছে। বাঙালি জাতি এই মহান শিল্পীর কাছে চিরকাল ঋণী। কবি 'আমার পরিচয়' কবিতায় চর্যাপদের যুগ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পর্যন্ত বাঙালি জাতিসত্তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা যে ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরেছেন তার সঙ্গে তাঁকেও স্মরণ করেছেন। একইভাবে তুলে ধরেছেন সেই মহান ব্যক্তিদের কথা যাঁদের অবদানে আমরা আজ মাথা উঁচু করে বাঁচি। এখানে বাংলার মানুষের উদার ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রকাশ লক্ষ করা যায়।

উদ্দীপকে বাংলার একজন মহান চিত্রশিল্পীর অবদানের কথা প্রকাশ পেয়েছে। 'আমার পরিচয়' কবিতায় এ বিষয়টি ছাড়াও বাংলার সাহিত্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিষয় ফুটে উঠেছে। কৈবর্ত বিদ্রোহ, পালযুগ, তিতুমীর, হাজী শরীয়ত, ক্ষুদিরাম, অবঠাকুর এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করা হয়েছে এই কবিতায়। এই প্রসঙ্গগুলো উদ্দীপকে নেই। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

324

আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি,

আমি বাংলার আলপথ দিয়ে হাজার বছর চলি।

চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে।

তেরোশত নদী শুধায় আমাকে, ‘কোথা থেকে তুমি এলে?”


আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ।

আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে। ।

আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে।

আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে ।

 

এসেছি বাঙালি বরেন্দ্রভূমে সোনা মসজিদ থেকে ।

এসেছি বাঙালি আউল-বাউল মাটির দেউল থেকে।

আমি তো এসেছি সার্বভৌম বারোভূঁইয়ার থেকে ।

এসেছি বাঙালি পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার থেকে ।

এসেছি বাঙালি জোড়বাংলার মন্দির-বেদি থেকে ।

আমি তো এসেছি 'কমলার দীঘি’, ‘মহুয়ার পালা' থেকে।

আমি তো এসেছি তিতুমীর আর হাজী শরিয়ত থেকে।

আমি তো এসেছি গীতাঞ্জলি ও অগ্নিবীণার থেকে ।

এসেছি বাঙালি ক্ষুদিরাম আর সূর্য সেনের থেকে ।

এসেছি বাঙালি জয়নুল আর অবন ঠাকুর থেকে ।

এসেছি বাঙালি রাষ্ট্রভাষার লাল রাজপথ থেকে ।

এসেছি বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর থেকে।

 

আমি যে এসেছি জয়বাংলার বজ্রকণ্ঠ থেকে ।

আমি যে এসেছি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে।

এসেছি আমার পেছনে হাজার চরণচিহ্ন ফেলে।

শুধাও আমাকে ‘এতদূর তুমি কোন প্রেরণায় এলে?”

তবে তুমি বুঝি বাঙালি জাতির বীজমন্ত্রটি শোন নাই –

‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'

একসাথে আছি, একসাথে বাঁচি, আজও একসাথে থাকবই –

সব বিভেদের রেখা মুছে দিয়ে সাম্যের ছবি আঁকবই ।

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews