আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশকে ৩০টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। নিচে এর বর্ণনা দেওয়া হলো-
১. কৃষি পরিবেশ অঞ্চল এক দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও নিয়ে গঠিত। এখানকার বিশেষ ফসল হচ্ছে লিচু ও আম। এখন চা হচ্ছে এই এলাকায়। কমলার চাষও শুরু হয়েছে।
২. পরিবেশ অঞ্চল দুই এ রয়েছে তিস্তার চর। এখানকার বিশেষ ফসল চীনাবাদাম, কাউন। পরিবেশ অঞ্চল তিন ও চার এলাকায় রয়েছে রংপুর ও বগুড়ার অংশবিশেষ। এই এলাকার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তামাক এবং সবজি।
৩. পরিবেশ অঞ্চল পাঁচ ও ছয় চলন বিল, আত্রাই ও পুনর্ভবা নদী এলাকার নিচু জমি নিয়ে গঠিত। এই এলাকার বৈশিষ্ট্য হলো পাটি, বেত উৎপাদন।
৪. পরিবেশ অঞ্চল ৭ এ পড়েছে ব্রহ্মপুত্র চর এলাকাগুলো। এ সকল অঞ্চলের বিশেষ ফসল হচ্ছে চিনাবাদাম ও মিষ্টি কুমড়া।
৫. পরিবেশ অঞ্চল আট ব্রহ্মপুত্র পাড় এলাকাগুলো। পরিবেশ অঞ্চল নয়তে পড়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চল।
৬. পরিবেশ অঞ্চল দশ জুড়ে রয়েছে পদ্মার চরাঞ্চল। এখানে চিনাবাদাম প্রধান ফসল। পরিবেশ অঞ্চল এগারতে পুরাতন গঙ্গা বিধৌত এলাকা। পরিবেশ অঞ্চল ১২ তে রয়েছে পদ্মার পাড়। পরিবেশ অঞ্চল ১৩ তে রয়েছে খুলনার উপকূল অঞ্চল। এই এলাকার বৈশিষ্ট্য হলো সুন্দরবন। পরিবেশ অঞ্চল ১৪ তে রয়েছে গোপালগঞ্জের বিলের পাড় এলাকা, পরিবেশ অঞ্চল ১৫ তে রয়েছে আড়িয়াল বিল এলাকা এখানে বোনা আমন প্রধান বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ফসল।
৭. পরিবেশ অঞ্চল ১৬ তে মধ্য মেঘনা এলাকা রয়েছে। এখানে আলুসহ অন্যান্য সবজি ও কলা জন্মায়। পরিবেশ অঞ্চল ১৭ তে রয়েছে কুমিল্লা-নোয়াখালীর সীমান্ত এলাকা। পরিবেশ অঞ্চল ১৮ তে রয়েছে ভোলার চর। এখানে নারিকেল ও পান বিশেষ ফসল। পরিবেশ অঞ্চল ১৯ এ রয়েছে পূর্ব মেঘনা এলাকা। এখানকার বিশেষ ফসল বোনা আমন। পরিবেশ অঞ্চল ২০ এ রয়েছে সিলেটের টেঙ্গুয়ার হাওরসহ হাওর এলাকাগুলো। পরিবেশ অঞ্চল ২১ এ রয়েছে সুরমা-কুশিয়ারার দুই পাড়। পাহাড়ের পাদদেশগুলো পরিবেশ অঞ্চল ২২ এর অধীনে পড়েছে। পরিবেশ অঞ্চল ২৩ এ রয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অঞ্চল। এখানকার বৈশিষ্ট্য ফসল পান। পরিবেশ অঞ্চল ২৩ এ রয়েছে সেন্টমার্টিন কোরাল দ্বীপ। এখানকার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উদ্ভিদ হচ্ছে নারিকেল।
Related Question
View Allফসলের মৌসুম বলতে কোনো ফসলের বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সময়কে বোঝায়।
বেঁচে থাকার জন্য সকল উদ্ভিদে একটি সর্বনিম্ন, সর্বোত্তম এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রয়েছে, একে কার্ডিনাল তাপমাত্রা বলে। আলুর উৎপাদনের জন্য সর্বনিম্ন ০-৫° সে., সর্বোত্তম ২৫-৩১° সে. এবং সর্বোচ্চ সে. তাপমাত্রার প্রয়োজন। তাই আলুকে কার্ডিনাল তাপমাত্রার সবজি বলা হয়।
সাদিকের বাড়িটি কম বৃষ্টিপাত প্রবণ অঞ্চলে হলেও প্রচুর শাক-সবজি জন্মে। কৃষি পরিবেশ অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সাদিকের বাড়ি কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-৩ ও ৪-এ অবস্থিত (রংপুর ও বগুড়ার অংশবিশেষ)।
এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম হয়, কিন্তু গরম ও শীতের তীব্রতা খুব বেশি। রবি মৌসুমে শীতের প্রকোপ অন্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি থাকে। রবি মৌসুমে এ অঞ্চলে বিভিন্ন ঠাণ্ডা সহিষ্ণু ফসল যেমন: টমেটো, মুলা, গাজর, লাউ, শিম, - ওলকপি, ব্রোকলি, শালগম, পালংশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি চাষ করা হয়। খরিপ-১ মৌসুমে মাঝারি সেচের প্রয়োজন হয় এমন ফসল যেমন: করলা, ঝিঙ্গা, পেঁপে, পাট প্রভৃতি ভালো জন্মে। খরিপ-২ মৌসুমে 'সেচের তেমন প্রয়োজন হয় না এমন ফসল যেমন: আমন ধান, ঢেঁড়স, কুমড়া, তুলা, ভুট্টা ইত্যাদি চাষ করা হয়।
অর্থাৎ, সাদিকের কৃষি অঞ্চলে বিভিন্ন মৌসুমে বৈচিত্র্যময় ফসল জন্মে
অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে সাদিকের মামাবাড়ি চট্টগ্রামের টিলাতলাতে অবস্থিত, যা কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-২৩ এর অন্তর্ভুক্ত।
সাদিকের বাড়ির কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে শীত ও গরম উভয় ঋতুর তীব্রতা অনেক বেশি। ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। গ্রীষ্মকালে এখানে খরা হয়। এ অঞ্চলের আবহাওয়ার আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে বর্ষাকালেও তেমন বৃষ্টিপাত হয় না। শীতকালে তুলনামূলকভাবে কুয়াশা বেশি থাকে। সাদিকের মামাবাড়ি কৃষি পরিবেশ অঞ্চল একদিকে যেমন পাহাড়ের পাদদেশের অঞ্চল তেমনি এটি উপকূলীয় অঞ্চল। এখানকার আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে শীত ও গরমের তীব্রতা কম, কিন্তু বৃষ্টিপাত বেশি। ঝড়বৃষ্টিও খুব বেশি হয়। হঠাৎ করে আকাশ ঘনকালো মেঘে ঢেকে যায় ও ঝড়ো বাতাস বইতে শুরু করে। শীতকালে কুয়াশা খুব কম থাকে।
অতএব বলা যায় যে, সাদিকের মামা বাড়ির আবহাওয়া ও তার বাড়ির আবহাওয়া ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।
আবহাওয়া ও জলবায়ুর ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ৩০টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে ভাগ করা হয়।
কখনো কখনো শীতকালে শিশিরপাত, কুয়াশা বেড়ে যায় ও বায়ুর আর্দ্রতা বেশি থাকে। যা রোগ বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
তখন ফসল খুব সহজে রোগে আক্রান্ত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
