০৬ এপ্রিল, ২০২৬
খিলগাঁও, ঢাকা
প্রিয় মাহমুদ,
আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি ভালো আছো। আমিও ভালো আছি। তোমার পত্রপাঠ মাত্রই লিখতে বসলাম। তুমি বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তি সম্পর্কে জানতে চেয়েছ। দেশের পুরাকীর্তি সম্পর্কে তোমার যে একেবারেই ধারণা নেই তা কিন্তু নয়। তারপরও আমি দেশের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পুরাকীর্তির সংক্ষিপ্ত বিবরণ এখানে তুলে ধরছি।
বাংলাদেশে এ যাবৎ আবিষ্কৃত পুরাকীর্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন ও উল্লেখযোগ্য হলো বৌদ্ধ বিহার। যার নির্মাণকাল প্রায় দেড় হাজার বছর আগে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ভিক্ষুদের সাধনা ও আরাধনার জন্য নির্মিত বিহারগুলো রাজশাহী, বগুড়া ও কুমিল্লায় অবস্থিত। এগুলোর মধ্যে রাজশাহীর পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর বিহার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। হিমালয়ের দক্ষিণে এটাই সবচেয়ে বড় বিহার। বিহারটি আয়তনে দক্ষিণে ৯২২ ফুট ও পূর্ব-পশ্চিমে ৯১৯ ফুট। চতুষ্কোণ এ বিহারটিতে ১৭৭টি কক্ষ ছিল। ৭২ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন বিহারটি লাল পোড়া ইট দ্বারা নির্মিত। বগুড়া শহরের নিকটবর্তী মহাস্থানগড় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তি। এটির গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ ফুট। পোড়া লাল ইটে নির্মিত বিহারটি এখনো দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। এখানে প্রচুর মূর্তি, পাথর, শিলা ও মুদ্রা পাওয়া গেছে। পঞ্চম শতাব্দীতে শাহ সুলতান মাহীসাওয়ার নামক একজন মুসলমান সাধক পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী মহাস্থানগড় দখল করেন। এখানে তার মাজারও রয়েছে। বাংলাদেশের আরেকটি প্রাচীন পুরাকীর্তি হলো ষাটগম্বুজ মসজিদ। এটি বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত। হযরত খান জাহান আলী নামক একজন সুফি সাধক এই বিশাল ও অপূর্ব সুন্দর মসজিদটি নির্মাণ করেন। এটির চূড়ায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৮১টি গম্বুজ রয়েছে। আজও মসজিদটি অক্ষত রয়েছে এবং এটি দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী সেখানে ভিড় জমায়।
বাংলাদেশের কয়েকটি পুরাকীর্তি সম্পর্কে তোমাকে আজ সংক্ষেপে কিছু ধারণা দিলাম। ভবিষ্যতে আরও কিছু নিদর্শন সম্পর্কে তোমাকে অবহিত করার আশা পোষণ করছি। তবে দেশে আসলে দুই বন্ধু মিলে এসব পুরাকীর্তি স্বচক্ষে পরিদর্শন করব। এতে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভের পাশাপাশি প্রচুর আনন্দও পাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আজ তাহলে এ পর্যন্তই। দ্রুত উত্তর দিলে খুশি হব। ভালো থেকো।
ইতি
তোমার প্রীতিমুগ্ধ
ফাহিম
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!