বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা
জাতীয় পতাকা একটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদার প্রতীক। নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে এই অমূল্য সম্পদ অর্জন করেছি। আমাদের জাতীয় পতাকার প্রথম নকশা করেন শিবনারায়ণ দাশ। তাঁর আঁকা পতাকায় গাঢ় সবুজের মাঝখানে ছিল লাল বৃত্ত এবং বৃত্তটির মাঝে ছিল হলুদ রঙে আঁকা বাংলাদেশের মানচিত্র। ১৯৭১ সালে ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান কলা ভবনের সামনে এক ছাত্র সমাবেশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয়। এ কারণেই ২ মার্চ 'জাতীয় পতাকা দিবস' হিসেবে পালিত হয়। ১৯৭২ সালে কামরুল হাসান জাতীয় পতাকার নকশা পরিবর্তনের দায়িত্ব পেলে লাল বৃত্তের মাঝখানের মানচিত্রকে বাদ দেন। জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত হলো ১০:৬। আয়তাকার গাঢ় সবুজের মাঝের লাল বৃত্ত মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির রক্তদানের স্মৃতিকে তুলে ধরে। আর সবুজ রং তুলে ধরে বাংলার সবুজ, শ্যামল প্রকৃতিকে। জাতীয় পতাকা একই সাথে বাংলা এবং বাঙালির অবদানকে পূর্ণাঙ্গরূপে প্রকাশ করে। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং সরকার কর্তৃক ঘোষিত বিভিন্ন দিবসে জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়। ভাষাশহিদ দিবস, জাতীয় শোক দিবস ও সরকার নির্দেশিত দিনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এ পতাকা বিশ্বের দরবারে বাঙালির জাতীয় পরিচিতি উপস্থাপন করে। বাঙালির সংগ্রামমুখর যে ইতিহাস, তা অনেকাংশে প্রতিফলিত হয় এই পতাকার মাধ্যমে। এ পতাকা জাতীয়তাবোধ ও দেশপ্রেমের ভাব জাগিয়ে সব বৈষম্য দূর করে দেয়। জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষার্থে সচেষ্ট থাকা আমাদের একান্ত দায়িত্ব।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!