ভারতবর্ষের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ১৫৫৬ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে আকবর ভারতের শাসনতার গ্রহণ করেন। ১৫৫৬ সালে হিমু দিল্লি দখল করে নিলে বৈরাম খান (আকবরের প্রধান সেনাপতি) পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে হিমুকে পরাজিত করে দিল্লি অধিকার করেন। আকবর | বৈরাম খানকে খান-ই বাবা বলে ডাকতেন। বৈরাম খানের তত্ত্বাবধানে তিনি সময় দক্ষিণ এশিয়ার সাম্রাজ্য বিস্তার করেন। ১৫৬০ সালে আকবর পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা গ্রহন করেন।
সম্রাট আকবর (১৫৫৬–১৬০৫ খ্রিস্টাব্দ)
আকবর ছিলেন মুঘল সম্রাট হুমায়ুন ও হামিদা বানু বেগমের পুত্র। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁর শাসনামলে মুঘল সাম্রাজ্য এক বিশাল রূপ ধারণ করে এবং তিনি ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র গড়ে তোলেন। তাঁর শাসনামলকে মুঘল সাম্রাজ্যের 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়।
১. রাজনৈতিক ও সামরিক সাফল্য
পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ (১৫৫৬): সিংহাসনে বসার পরপরই তিনি তাঁর অভিভাবক বৈরাম খাঁ-এর নেতৃত্বে আফগান সেনাপতি হিমুকে পরাজিত করেন এবং মুঘল শাসন সুসংহত করেন।
সাম্রাজ্য বিস্তার: তিনি মেবার (হলদিঘাটির যুদ্ধ), গুজরাট, বাংলা (১৫৭৬ সালে দাউদ খান কররানিকে পরাজয়ের মাধ্যমে) এবং কাবুল পর্যন্ত সাম্রাজ্য বিস্তৃত করেন।
রাজপুত নীতি: তিনি রাজপুতদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক এবং উচ্চপদে নিয়োগের মাধ্যমে তাদের আনুগত্য লাভ করেন (যেমন: রাজা মানসিংহ ও টোডরমল)।
২. প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার
মনসবদারি প্রথা: এটি আকবরের একটি অনন্য সামরিক ও প্রশাসনিক পদ্ধতি। এর মাধ্যমে কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা (মনসব) এবং তাদের অধীনে থাকা সৈন্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হতো।
রাজস্ব সংস্কার (জবতি প্রথা): তাঁর অর্থমন্ত্রী রাজা টোডরমল জমির উর্বরতা ও ১০ বছরের গড় ফলন অনুযায়ী খাজনা নির্ধারণের পদ্ধতি প্রবর্তন করেন।
বাংলায় বাংলা সন প্রবর্তন: খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে আকবরের নির্দেশে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতেহউল্লাহ সিরাজি হিজরি ও সৌর সনের সমন্বয় করে ১৫৮৪ সালে (মতান্তরে ১৫৫৬ থেকে কার্যকর) 'বাংলা সন' প্রবর্তন করেন।
৩. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অবদান
দ্বীন-ই-ইলাহি (১৫৮২): সকল ধর্মের সারকথা নিয়ে তিনি একটি সমন্বিত জীবনদর্শন বা মতবাদ প্রচার করেন, যার নাম ছিল 'দ্বীন-ই-ইলাহি'।
ইবাদতখানা: ১৫৭৫ সালে ফতেহপুর সিকরিতে তিনি সকল ধর্মের পণ্ডিতদের সাথে আলোচনার জন্য একটি উপাসনালয় বা ইবাদতখানা নির্মাণ করেন।
নবরত্ন (Nine Gems): তাঁর রাজসভায় ৯ জন বিশিষ্ট পণ্ডিত ও গুণী ব্যক্তি ছিলেন (যেমন: বীরবল, আবুল ফজল, ফৈজী, তানসেন, টোডরমল প্রমুখ)।
Quick Notes:
উপাধি: জিল-ই-ইলাহি (আল্লাহর ছায়া)।
বাংলার বিজয়:১৫৭৬ সালে রাজমহলের যুদ্ধের মাধ্যমে তিনি বাংলাকে মুঘল সাম্রাজ্যভুক্ত করেন।