রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে ব্যক্তি যে মর্যাদা ও সম্মান পেয়ে থাকে তাকে নাগরিকতা বলে।
নাগরিকতা অর্জনে বাংলাদেশ জন্মনীতি অনুসরণ করে।
জন্মনীতি অনুযায়ী পিতা-মাতার নাগরিকতা দ্বারা সন্তানের নাগরিকতা নির্ধারিত হয়। এক্ষেত্রে শিশু যে দেশে বা যেখানেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন, পিতা-মাতা যে দেশের নাগরিক তাদের সন্তানও সেই দেশের নাগরিকতা লাভ করবে। যেমন- বাংলাদেশের কোনো দম্পতি যুক্তরাজ্যে গিয়ে সন্তান জন্ম দান করলে জন্মনীতি অনুসারে ঐ সন্তান বাংলাদেশের নাগরিকতা লাভ করবে।
রহিম ও শাহেদা 'ক' দেশে অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা অর্জন করেছেন।
কতগুলো শর্ত পালনের মাধ্যমে কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করলে তাকে অনুমোদনসূত্রে নাগরিক বলা হয়। অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের জন্য সাধারণত যেসব শর্ত পালন করতে হয় সেগুলো হলো- ১. সেই রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করা, ২. সরকারি চাকরি করা, ৩. সততার পরিচয় দেওয়া, ৪. সে দেশের ভাষা জানা, ৫. সম্পত্তি কেনা, ৬. দীর্ঘদিন বসবাস করা এবং ৭. সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া প্রভৃতি। কোনো ব্যক্তি যদি এর মধ্যে এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করে, তবে সে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবে। আবেদন ঐ রাষ্ট্রের সরকার কর্তৃক গৃহীত হলে সে অনুমোদনসূত্রে দেশটির নাগরিক হবে।
বাংলাদেশি নাগরিক রহিম এবং তার স্ত্রী শাহেদা 'ক' দেশে যান। 'ক' দেশে তারা দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করেন যা অনুমোদনসূত্রে নাগরিকত্ব লাভের একটি শর্ত। সুতরাং বলা যায়, রহিম ও তার স্ত্রী শাহেদা 'ক' দেশে দীর্ঘদিন বসবাসের মাধ্যমে অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা লাভ করেছেন।
জাহিদের চাচা 'ক' দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করলেও জাহিদ 'ক' দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করতে পারেনি।
জাহিদ ও তার চাচার 'ক' দেশের নাগরিকত্ব অর্জনের একমাত্র উপায় হলো অনুমোদন সূত্র। অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা অর্জন বলতে বোঝায় কতগুলো শর্ত পালনের মাধ্যমে একরাষ্ট্রের নাগরিকের অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করা। অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে সাধারণত যেসব শর্ত পালন করতে হয় সেগুলো হলো- সেই রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করা, সরকারি চাকরি করা, সততার পরিচয় দেওয়া, সে দেশের ভাষা জানা, সম্পত্তি কেনা, দীর্ঘদিন বসবাস করা, সেনাবাহিনীতে যোগদান করা প্রভৃতি। কোনো ব্যক্তি যদি এর মধ্যে এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করে, তবে সে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারে। আবেদনটি ওই রাষ্ট্রের সরকারের কাছে গৃহীত হলে সে অনুমোদনসূত্রে দেশটির নাগরিকে পরিণত হয়।
জাহিদের চাচা 'ক' দেশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন এবং সেই দেশের সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। অর্থাৎ তিনি 'ক' দেশে নাগরিকতা অর্জনের একাধিক শর্ত পূরণ করেছেন। ফলে তিনি অনুমোদনসূত্রে 'ক' দেশের নাগরিকতা অর্জন করে সকল নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। অপরদিকে জাহিদ তার পিতা-মাতার সাথে 'ক' দেশে গেলেও সে ওই দেশের নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেনি। কারণ হিসেবে বলা যায়, জাহিদ 'ক' দেশের নাগকিতা লাভের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারেনি বা তার নাগরিকত্বের আবেদন ওই দেশের সরকার কর্তৃক গৃহীত হয়নি।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, জাহিদের চাচা নাগরিকত্ব লাভের একাধিক শর্ত পূরণ করে 'ক' দেশের নাগরিকতা লাভে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশে জন্ম গ্রহণ করা জাহিদ প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে না পারায় 'ক' দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করতে পারেনি।
Related Question
View Allপ্রায় ২৫০০ বছর পূর্বে প্রাচীন গ্রিসে নাগরিক ধারণার উদ্ভব হয়।
একজন ব্যক্তির একই সঙ্গে দুটি রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জনকে দ্বৈত নাগরিকতা বলে। সাধারণত একজন ব্যক্তি একটি রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জনের সুযোগ পায়।
তবে জন্মসূত্রসহ নাগরিকতা অর্জনের একাধিক নীতি থাকায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন- বাংলাদেশ নাগরিকতা নির্ধারণে জন্মনীতি অনুসরণ করে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জন্ম ও জন্মস্থান উভয় নীতি অনুসরণ করে। কাজেই বাংলাদেশি কোনো পিতা-মাতার সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলে জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী সে ঐ রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করবে। আবার জন্মনীতি অনুযায়ী সে বাংলাদেশের নাগরিকতাও অর্জন করবে। বিনিয়োগ, অভিবাসন ইত্যাদি উপায়ে অনুমোদনসূত্রেও এক রাষ্ট্রের নাগরিক অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করতে পারে। এভাবে দ্বৈত নাগরিকতার সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' ইউনিয়নের নাগরিকদের মধ্যে নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য পালনের বিষয়টি লক্ষ করা যায়।'
অধিকার ভোগ করতে হলে রাষ্ট্রের নাগরিকদের যেসব দায়িত্ব পালন করতে হয় সেগুলোই কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত। নাগরিকের কর্তব্য প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত। যথা- নৈতিক ও আইনগত কর্তব্য। ব্যক্তির বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে, তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে। যেমন: নিজে শিক্ষিত হওয়া এবং সন্তানদের শিক্ষিত করা, সততার সাথে ভোট দেওয়া, রাষ্ট্রের সেবা করা, বিশ্বমানবতার সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া ইত্যাদি।
উদ্দীপকের 'ক' ইউনিয়নের নাগরিকরা নৈতিক কর্তব্য পালন করেছেন। কেননা তারা ইউনিয়নের নির্বাচনে 'X' ও 'Y' ব্যক্তির মধ্য থেকে 'X' ব্যক্তিকে সৎ ও যোগ্য বলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। তাদের এই কাজের সাথে নাগরিকের অন্যতম নৈতিক কর্তব্য সততার সাথে ভোট দেওয়ার সাদৃশ্য রয়েছে। সুতরাং বলা যায়, 'ক' ইউনিয়নের নাগরিকদের মধ্যে নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য পালনের প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকের 'ক' ইউনিয়নের চেয়ারম্যান 'X' ব্যক্তি যে সততা ও কর্তব্যপরায়ণতা দেখিয়েছেন তার আলোকে তাকে সুনাগরিক বলা যুক্তিসঙ্গত।
রাষ্ট্রের সব নাগরিককে সুনাগরিক বলা যায় না। এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট গুণের অধিকারী হতে হয়। ব্রিটিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদ লর্ড ব্রাইস (Lord James Bryce) 'The Hindrances to Good Citizenship' (১৯০৯) গ্রন্থে সুনাগরিকের তিনটি মৌলিক গুণের কথা উল্লেখ করেছেন। যথা: বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম। খ্যাতিমান এ রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মতে, একজন ব্যক্তিকে সুনাগরিক হতে হলে এ তিনটি গুণের অধিকারী হতে হবে। একজন নাগরিক বুদ্ধিমান, বিবেকবান ও সংযমী হলেই কেবল রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে এর উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।
উদ্দীপকের 'ক' ইউনিয়নের চেয়ারম্যান 'X' ব্যক্তির মধ্যে বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম এ তিনটি গুণই উপস্থিত। বুদ্ধিমান বলেই স্কুলের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি যোগ্য লোককে বেছে নিয়েছেন। পাশাপাশি বিবেকবোধসম্পন্ন হওয়ার কারণে তিনি নিজের ভাইয়ের ছেলে প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তার আত্মসংযমেরও প্রমাণ পাওয়া যায়। কেননা চেয়ারম্যান ইচ্ছা করলেই নিজের ভাইয়ের ছেলেকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থকে উপেক্ষা করে বৃহত্তর স্বার্থে যোগ্য প্রার্থীকেই নিয়োগ দেন। সুতরাং আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকের 'X' ব্যক্তি একজন সুনাগরিক।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত তথ্য অধিকার আইনটি ৫ এপ্রিল, ২০০৯ তারিখে রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করে।
নাগরিকের অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা, যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
অধিকার ব্যতীত মানুষ তার ব্যক্তিত্বকে উপলব্ধি করতে পারে না। অধিকারের মূল লক্ষ্য ব্যক্তির সর্বজনীন কল্যাণ সাধন। রাষ্ট্রের নাগরিকদের মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য অধিকার অপরিহার্য।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!