বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বাঘিলি মৌলিক মানবিক চাহিদার অপূরণজনিত সমস্যায় ভুগছে।
মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য যে সব চাহিদা পূরণ করতে হয় সেগুলোই মৌলিক মানবিক চাহিদা। প্রত্যেক মানুষের জন্য এ চাহিদাগুলো পূরণ করা আবশ্যক। এতে কেউ অসমর্থ হলে নিরক্ষরতা, পুষ্টিহীনতা, স্বাস্থ্যহীনতার মতো নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। যেমনটা বাঘিলির ক্ষেত্রে দেখা যায়।
উদ্দীপকের বাঘিলির দেশে গৃহযুদ্ধের কারণে খাদ্যাভাব ও অর্থ সংকট তৈরি হয়েছে। এতে বাঘিলি দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাবার যোগাড় করতে পারে নি। না খেতে পেয়ে তার শরীর কঙ্কালসার হয়ে পড়েছে। সে চরম পুষ্টিহীনতার শিকার হচ্ছে। এ অবস্থায় অর্থ সংকটের কারণে তার চিকিৎসা করাও সম্ভব হয় নি। ফলে তার অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষই বাঘিলির মতো মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত। এ কারণে এখানকার মানুষও বিভিন্ন সমস্যায় ভোগে। যেমন-পুষ্টিহীনতা, স্বাস্থ্যহীনতা, নিরক্ষরতা, অপরাধ প্রবণতা ইত্যাদি। সাধারণত পরিমিত খাবারের অভাবে পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়। এর ফলে মানুষ বিভিন্ন ধরনের জটিল ও সংক্রামক রোগে ভোগে। এছাড়া আমাদের দেশের অনেক লোক ঠিকমতো খাবার পায় না। আর প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবারের সংস্থান করা দরিদ্র লোকদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। আবার অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, অর্থের অভাব, বস্তি সমস্যা ইত্যাদির কারণেও এদেশের মানুষ স্বাস্থ্যহীনতায় ভোগে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাঘিলি মৌলিক মানবিক চাহিদার অপূরণজনিত সমস্যায় ভুগছে।
Related Question
View Allমার্কিন সমাজবিজ্ঞানী শার্লট টোলে মৌল মানবিক চাহিদাকে ৬ ভাগে ভাগ করেছেন।
মৌল মানবিক চাহিদা হিসেবে বর্তমানে বাংলাদেশে বাসস্থান পরিস্থিতি খুব একটা সন্তোষজনক নয়।
নিরাপদে বসবাসের জন্য বাস্থানের বিকল্প নেই। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাসস্থান সংকট বাড়ছে। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরের প্রায় ২৫% মানুষ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করে। ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পরিবার প্রতি গড় সদস্য সংখ্যা ৪.৯ জন, শহরে ৪.৮ এবং গ্রামে ৪.৯ জন। তবে বাংলাদেশ সরকার শহর এলাকার বাসস্থান সংকট কমিয়ে আনতে পূর্বাঞ্চল এলাকায় বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
উদ্দীপকে মৌল মানবিক চাহিদা শিক্ষাকে নির্দেশ করা হয়েছে, যা পূরণ না হলে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এ দেশে বিরাজমান বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে অধিক জনসংখ্যা, দরিদ্রতা, বেকারত্ব প্রভৃতি। বর্তমানে জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৮ লাখ (অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮) এবং এদেশের শতকরা ২৪.৩ ভাগ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। অধিক জনসংখ্যা, দরিদ্রতা, বেকারত্ব, অসচেতনতা, শিক্ষা উপকরণের অভাব প্রভৃতি কারণে মৌলিক চাহিদা হিসেবে শিক্ষার উদ্দীপকে দেখা যায়, কানাইপুর একটি অনগ্রসর এলাকা। এর বাসিন্দারা পড়াশোনার ব্যাপারে উদাসীন, এলাকার অবকাঠামোগত অবস্থাও অনুন্নত। শিক্ষার অভাবের কারণে বাসিন্দাদের মধ্যে কুসংস্কার, ভুল চিকিৎসা, অলৌকিকতায় বিশ্বাস প্রভৃতি সমস্যা রয়েছে। অথচ শিক্ষা মানুষকে আধুনিক করে তোলে এবং আদর্শ সমাজ গঠনে সহায়তা করে। কিন্তু অধিক জনসংখ্যা ও দারিদ্র্যের কারণে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের পক্ষে এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার অভাবে তারা নিরক্ষর ও অজজ্ঞ থেকে যাচ্ছে। যার প্রভাবে স্বাস্থ্যহীনতা, পুষ্টিহীনতা, বাল্যবিবাহ নারী নির্যাতন, অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তেমনি উদ্দীপকের কানাইপুর গ্রামে শিক্ষার অভাবে এ ধরনের পরিস্থিতি বিদ্যমান।
উদ্দীপকে নির্দেশিত শিক্ষার চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে একজন বিদ্যালয় সমাজকর্মীর ভূমিকা অপরিসীম- উক্তিটির যথার্থতা রয়েছে।
বিদ্যালয় সমাজকর্ম বলতে সমাজকর্ম অনুশীলনের একটি বিশেষ শাখাকে বোঝায়, যা বিদ্যালয় পরিবেশে শিক্ষার্থীর পূর্ণ বিকাশে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে বিদ্যালয় সমাজকর্মী পরিবার, স্কুল ও সমষ্টির মাঝে সংযোগকারী হিসেবে কাজ করেন। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অধিক জনসংখ্যা, বেকারত্ব, কুসংস্কারে বিশ্বাস, অসচেতনতা প্রভৃতির মতো সামাজিক সমস্যা শিক্ষা অর্জনের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। একজন বিদ্যালয় সমাজকর্মী তার দক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে কাজে লাগিয়ে এসব সমস্যা দূরীকরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারেন।
উদ্দীপকের কানাইপুর গ্রামে শিক্ষার অভাবে কুসংস্কারে বিশ্বাস, ভুল চিকিৎসার প্রচলনসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান। এর পেছনে নিরক্ষরতা ও অজ্ঞানতাসহ সামগ্রিক অবস্থা দায়ী। এক্ষেত্রে একজন বিদ্যালয় সমাজকর্মী অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। পারিবারিক ও আর্থিক সংকট, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, স্কুলে যাওয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহ, মানসিক চাপসহ বিভিন্ন কারণে এখনো অসংখ্য শিক্ষার্থী মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। এ সংখ্যা কমিয়ে এনে শতভাগ শিক্ষার্থীর হার নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় সমাজকর্মের জ্ঞানের উপযোগিতা আছে একজন বিদ্যালয় সমাজকর্মী অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানের পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের স্কুলের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ভূমিকা রাখেন। সেই সাথে তিনি পড়াশোনায় অমনোযোগী শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে মানসিক সমর্থন দিয়ে থাকেন।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, কানাইপুর এলাকার মানুষের শিক্ষার চাহিদা পূরণে একজন বিদ্যালয় সমাজকর্মী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
১৯০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাইকিয়াট্রিক কোর্স প্রথম চালু হয়।
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে বিদ্যালয় সমাজকর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
বিদ্যালয় সমাজকর্মী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্ষেত্রে বাধা দূর করার জন্য বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রী, পরিবার এবং সমষ্টির বিভিন্ন সংস্থার সাথে কাজ করতে পারেন। তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি ও দল সমাজকর্ম পদ্ধতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে পারেন। তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে তাদের উন্নয়ন ঘটাতে পারেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!