১৯৮৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি 'দেশ আজ বিশ্ব বেহায়ার খপ্পরে' শিরোনামের স্কেচটির অঙ্কন শেষ করার কয়েক মিনিট পরেই তিনি মারা যান।
১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের আগে 'দেশ আজ বিশ্ব বেহায়ার খপ্পরে' শিরোনামে একটা ব্যঙ্গচিত্র এঁকেছিলেন পটুয়া কামরুল হাসান। সেটা তখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। একটি ছবি আর একটিমাত্র বাক্য দেশের মানুষের জন্য অসাধারণ প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিল।
পোস্টারের ছবিতে বহু মানুষ মনের ভাষা খুঁজে পায়।
কার্টুন, বাৎলাচিত্র ও পোস্টারের ভাষা' রচনায় নানা আন্দোলন-প্রগ্রামে চিত্রশিল্লীদের আঁকা শিল্পগুলোর গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরা হয়েছে। কোনো দেশে যখন স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-বংগ্রাম তথা গণঅভুত্থান শুরু হয় তখন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিবাদে রাস্তার নেমে পড়ে। চিত্রশিল্পীরা সেই সময়ে আন্দোলন সম্পর্কিত নানা ধরনের কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার আঁকেন। এসব চবিতে মানুষ স্বৈরাচারের অত্যাচারে, নিপীড়ন, দুঃশাসন ও নির্মমতার বার চিত্র দেখতে পায়। আবার বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কথাবার্তা ও হাকাও দেখতে পায়। এগুলোর মধ্যেই বহু মানুষ তাদের মনের ভাষা খুঁজে পার।
উদ্দীপকের চিত্রটি 'কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা' রানার ব্যঙ্গামিত্রের মাধ্যমে শিল্পীদের প্রতিবাদের দিকটিকে নির্দেশ কর।
কোনো দেশে যখন অন্যায় অবিচার ব্যাপক আকার ধারণ করে তখন স্বৈরাচার সরকার কিংবা দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র দোষের জন্ম হয়। সবাই তখন যার যার জায়গা থেকে প্রতিবাদে অংশ নেয়। এক্ষেত্রে চিত্রশিল্পীরা কোনো দিক দিয়েই থেমে থাকেন না। তার সশরীরে অংশগ্রহণের পাশাপাশি শিল্পের মাধ্যমে প্রতিবাদকে সূর্ধক করে তোলেন।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতের তথাকথিত এক সংবাদিকের ব্যঙ্গচিত্র উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সাংবাদিক বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে অপপ্রচার করে। এর প্রতিবাদে বংলাদেশের একজন মেধাবী শিল্পী উক্ত ব্যঙ্গচিত্রটি আঁকেন। ব্যঙ্গচিত্রটিতে সেই সাংবাদিক বলছে বাংলাদেশ থাকবে না। আর নিচে একটি গাথা বলছে ঠিক'। অর্থাৎ সাংবাদিকের এমন কথাকে শিল্পী কর্টুনটি এঁকে হাসির মাধ্যমে উড়িয়ে দিয়েছেন। শিল্পীর এমন প্রতিবাদের দিকটি 'কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের, ভাষা' রচনায় দেখা বার। এ রচনায় বাংলাদেশের বড়ো বড়ো আন্দোলন-সংগ্রামে বালচিত্রের মাধ্যমে প্রতিবাদের দিক ফুটে উঠেছে। ১৯৯০ সালে দ্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের আগে পটুয়া কামরুল হাসান 'দেশ আজ বিশ্ব বেহায়ার খপ্পরে' শিরোনামে ব্যঙ্গচিত্র এঁকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ইব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলেন। তাঁর সেই একটি ছবি আর একটিমাত্র বাক্য দেশের মানুষের জন্য অসাধারণ প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিল। বঙ্গচিত্রের মাধ্যমে এমন প্রতিবাদ উদ্দীপকেও ফুটে উঠেছে।
'উনীপকটি 'কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা' রচনার সমগ্র ভাব ধারণ করে না।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
একজন শিল্পী তার মেধা ও দক্ষতার আলোকে তার শিল্পকে এমন একটা পর্যায়ে দাঁড় করান যা যেকোনো মানুষকে মুহূর্তেই আকৃষ্ট করে তোলে। তাদের শিল্পগুলো আন্দোলন-সংগ্রামে দেশের মানুষকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বার্তা দেয়। এগুলো আন্দোলনে মানুষকে দারুণভাবে উজ্জীবিত করে এবং অনুপ্রেরণা দেয়।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতের তথাকথিত একজন ইংবাদিকের একটি কার্টুন উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের একজন মেধাবী শিল্পী সেই সাংবাদিকের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ গড়ে তুলেছেন। শিল্পের মাধ্যমে তার এমন প্রতিবাদ 'কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা' রচনার কার্টুন শিল্পীদের তাদের শিল্পের মাধ্যমে প্রতিবাদের বিষয়টিকে নির্দেশ করে। ক্ষবে এটিই আলোচ্য রচনার একমাত্র দিক নয়। এ রচনায় দেশের বড়ো বড়ো আন্দোলন-সংগ্রামে কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র, পোস্টার, গ্রাফিতি প্রভৃতি আঁকার নানা দিক ফুটে উঠেছে। আবার স্বৈরশাসকদের অন্যায় আচরণের চিত্রও ফুটে উঠেছে যা উদ্দীপকে ফুটে ওঠেনি।
কাটুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা' রচনায় গণবিরোধী শাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে শিল্পীদের নির্মম নির্যাতন ভোগ ও মৃত্যুবরণ করার চিত্র ফুটে উঠেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের বড়ো বড়ো আন্দোলন-সংগ্রামে চিত্রশিল্পীরা তাদের শিল্পের মাধ্যমে কীভাবে আন্দোলনে শক্তি জুগিয়েছেন এবং মানুষকে বিক্ষুব্ধ ও প্রতিবাদী হতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন সেগুলোর দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে। সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে শিল্পীরা গ্রাফিতি এঁকে যে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন সেই চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এসব দিক উদ্দীপকে ফুটে ওঠেনি। তাই উদ্দীপকটি 'কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা' রচনার সম্পূর্ণ দিক ধারণ করে না।
Related Question
View All১৯৭১ সালে নিতুন কুন্ডুর আঁকা পোস্টারের বিষয় ছিল মুক্তিযুদ্ধে শত্রুদের বিরুদ্ধে বাংলার মুক্তিবাহিনীর সদা জাগ্রত থাকা।
একটি বাক্য যখন গণবিরোধী শাসকের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদকে ধারণ করে তখন তা হাজার মানুষের মুক্তির প্রেরণা হয়ে ওঠে।
শাসকশ্রেণি যখন স্বৈরাচারী হয়ে মানুষের অধিকার হরণ করে তখন মানুষ প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। জনতার সঙ্গে মিছিল-সমাবেশে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি চিত্রশিল্পীরা কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার আঁকার মাধ্যমে মুক্তিকামী জনতাকে মুক্তির মন্ত্রে উজ্জীবিত করেন। তাঁরা তাঁদের চিত্রকর্মে যেসব বাক্য ব্যবহার করেন সেগুলোতে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে। ফলে এগুলো মানুষকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। এভাবেই একটি বাক্য হাজার মানুষ মুক্তির প্রেরণা হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের দেয়ালের চিত্রকর্ম এবং ‘কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা’ প্রবন্ধে বর্ণিত শিল্পকর্মের মধ্যে গভীর মিল রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই চিত্রকর্ম, কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্র গণআন্দোলনের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রবন্ধে ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতিগুলোর কথা বলা হয়েছে, যা স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে জনমতের প্রকাশ ঘটায়। একইভাবে উদ্দীপকে রনির মামা দেয়ালের চিত্র দেখে আন্দোলনের প্রকৃতি উপলব্ধি করতে সক্ষম হন।
দুই ক্ষেত্রেই শিল্পীদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ এসেছে। প্রবন্ধে দেখা যায়, অনেকে নির্যাতিত ও নিহত হয়েছেন, যেমন মুশতাক আহমেদ। উদ্দীপকেও দেখা যায়, চিত্রকর্মের অনেক স্রষ্টা নির্যাতনের শিকার হয়ে শহিদ বা পঙ্গু হয়েছেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, দেয়ালের চিত্রকর্ম, কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্র কেবল প্রতিবাদের ভাষাই নয়, বরং এগুলো ইতিহাস সংরক্ষণের শক্তিশালী মাধ্যম, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন ও অনুপ্রাণিত করবে।
উদ্দীপকের দেয়ালের চিত্রকর্ম এবং ‘কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা’ প্রবন্ধে বর্ণিত চিত্রশিল্পের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। উভয় ক্ষেত্রেই শিল্পকে গণআন্দোলনের ভাষা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ধরনের শিল্পকর্ম শুধুমাত্র সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং তা জনসচেতনতা, প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রবন্ধে উল্লেখ রয়েছে যে, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন দেয়ালে অসংখ্য গ্রাফিতি, কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার আঁকা হয়েছিল। এসব চিত্রশিল্প স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশের একটি উপায় হয়ে উঠেছিল। শিল্পীরা তাদের রঙ, তুলি ও লেখার মাধ্যমে সমাজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এ চিত্রকর্মগুলো শুধুই নান্দনিকতা বা শৈল্পিক রুচির বহিঃপ্রকাশ ছিল না, বরং এগুলোর মধ্য দিয়ে জনগণের অভ্যন্তরীণ বেদনা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের অনুভূতি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকেও এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। রনির মামা বিদেশে থাকার কারণে আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র উপলব্ধি করতে পারছিলেন না। তবে দেশে ফিরে তিনি যখন দেয়ালে আঁকা বিভিন্ন চিত্রকর্ম দেখেন, তখন তিনি উপলব্ধি করেন আন্দোলনটি কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং এটি একটি সার্বজনীন গণপ্রতিরোধের রূপ ধারণ করেছে। তিনি এসব চিত্রের মাধ্যমে আন্দোলনের তীব্রতা ও জনগণের মনের অবস্থা অনুধাবন করতে সক্ষম হন।
উদ্দীপক এবং প্রবন্ধ উভয় ক্ষেত্রেই শিল্পীদের আত্মত্যাগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। প্রবন্ধে উল্লেখ রয়েছে, অনেক শিল্পী রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন, এমনকি কেউ কেউ প্রাণও হারিয়েছেন। লেখায় মুশতাক আহমেদের মত সাহসী লেখক ও শিল্পীর উদাহরণ এসেছে, যিনি বাকস্বাধীনতার পক্ষে রুখে দাঁড়িয়ে প্রাণ দিয়েছেন। একইভাবে, উদ্দীপকে রনি তার মামাকে জানান যে, এসব চিত্রকর্মের স্রষ্টাদের অনেকে হয়রানি, নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অথবা শহিদ হয়েছেন।
সবশেষে বলা যায়, প্রবন্ধ ও উদ্দীপক উভয়ই একটি অভিন্ন বস্তুর আলোকপাত করেছে—শিল্প এবং প্রতিবাদ একে অপরের পরিপূরক। দেয়ালের চিত্রকর্ম, কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার কেবল মুহূর্তের আবেগ নয়; বরং এগুলো ইতিহাস সংরক্ষণের এক অমূল্য দলিল। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এসব শিল্পকর্মের মাধ্যমে একটি জাতির সংগ্রাম, সাহস ও আত্মত্যাগের ইতিহাস জানতে পারবে এবং প্রেরণা নিতে পারবে। সুতরাং, প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের মধ্যে গভীর ভাবসম্পৃক্ততা বিদ্যমান, যা গণআন্দোলনের চিত্র ও আত্মার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
'দেশ আজ বিশ্ব বেহায়ার খপ্পরে' শিরোনামে ব্যঙ্গচিত্র এঁকেছিলেন পটুয়া কামরুল হাসান।
চিত্রশিল্পীরা কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার আঁকার মাধ্যমে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।
পৃথিবীর অনেক দেশে নানা সময় স্বৈরাচারী সরকার মাথাচাড়া দিয়ে উঠে জনগণকে শোষণ করে। তখন সময়ের প্রয়োজনে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এসব আন্দোলনে সবার পাশাপাশি চিত্রশিল্পীরাও অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা একদিকে যেমন মানুষের সঙ্গে মিছিল-মিটিং করেন, নানা কর্মসূচি পালন করেন অন্যদিকে তাঁরা আবার তাঁদের আঁকা কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের মাধ্যমে আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তাঁদের আঁকা ছবিগুলো আন্দোলনকে অনেক শক্তিশালী করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!




