বাংলাদেশের বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রধান কারণগুলো ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য এবং মানবসৃষ্ট কিছু কারণে নিহিত। বন্যার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশের নিচু ও সমতল ভূ-প্রকৃতি, অসংখ্য নদ-নদীর উপস্থিতি এবং উজানের দেশগুলো থেকে আসা বিপুল জলরাশি। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে হিমালয়ের বরফ গলা জল এবং অতিবৃষ্টির কারণে নদ-নদীতে জলের মাত্রা বেড়ে যায়, যা প্লাবনের সৃষ্টি করে। এছাড়া, স্লুইসগেট ও বাঁধের ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং নদী খননের অভাবও বন্যার কারণ হিসেবে কাজ করে।
অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রধান কারণ হলো বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ জলবায়ু। উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠের জল ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়। পৃথিবীর ঘূর্ণন এবং বায়ুমণ্ডলের নিম্নচাপ অঞ্চল ঘূর্ণিঝড়কে শক্তি ও গতিপথ নির্ধারণে সহায়তা করে। উষ্ণায়নের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে সাম্প্রতিক সময়ে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ও তীব্রতা উভয়ই বেড়েছে।
বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী। সামাজিকভাবে এর ফলে ব্যাপক জীবনহানি ঘটে, অসংখ্য মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে ভিড় করে। বিশুদ্ধ জলের অভাব এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার বিপর্যয়ের কারণে পানিবাহিত রোগ যেমন কলেরা, ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। শিশুদের শিক্ষা ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ে। অর্থনৈতিকভাবে ফসল ও মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়, যা খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে। সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ায় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্গঠনে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি উষ্ণ, আর্দ্র এবং সমভাবাপন্ন। মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব এখানে এত বেশি যে সামগ্রিকভাবে এ জলবায়ু 'ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু' নামে পরিচিত। ঋতুভেদে এ জলবায়ুর কিছুটা তারতম্য হয় কিন্তু কখনো এটি অন্যান্য শীতপ্রধান বা গ্রীষ্মপ্রধান দেশের মতো চরমভাবাপন্ন হয় না।
বাংলাদেশের মোট ঋতু ৬ টি। যথা- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত। বর্ষাকালকে স্বতন্ত্র ঋতু বলা হয়।
গ্রীষ্ম = বৈশাখ + জ্যৈষ্ঠ
বর্ষা আষাঢ় শ্রাবণ,
শরৎ = ভাদ্র + আশ্বিন
হেমন্ত = কার্তিক-অগ্রহায়ণ
শীত = পৌষ + মাঘ
বসন্ত = ফাল্গুন + চৈত্র
বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেমি (২০৩০ মি.মি.)। বার্ষিক বৃষ্টিপাতের এক পঞ্চমাংশ (২০%) হয় গ্রীষ্মকালে এবং অবশিষ্ট চার-পঞ্চমাংশ (৮০%) হয় বর্ষাকালে। কালবৈশাখী ঝড় (North Westerlies) গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রাক-মৌসুমী বায়ু ঋতুতে এ ঝড় হয়।
সিলেটের লালখানে (বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত) বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়। বাংলাদেশের সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হয় নাটোরের লালপুরে। উত্তর-পূর্ব শুষ্ক মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে শীতকালে কম বৃষ্টিপাত হয়।
কালবৈশাখীর সময়কাল
সময়কাল
সূত্র
চৈত্র-বৈশাখ
সামাজিক বিজ্ঞান (ষষ্ঠ শ্রেণি)
বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য
বাংলাপিডিয়া
সময়কাল
গড় তাপমাত্রা
বার্ষিক
২৬.০১° সে.
গ্রীষ্মকাল
২৮° সে.
বর্ষাকাল
২৭° সে.
শীতকাল
১৭.৭° সে.
বাংলাদেশের...
উষ্ণতম
শীতলতম
স্থান
নাটোরের লালপুর
শ্রীমঙ্গল, সিলেট
জেলা
রাজশাহী
সিলেট
মাস
এপ্রিল
জানুয়ারি
ঘূর্ণিবাড়: এপ্রিল ও মে মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল প্রায়ই ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হয়। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই ঘূর্ণিঝড়ের সময় ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী 'অপারেশন মান্না' সাংকেতিক নামে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে। মার্কিন সেনাবাহিনী পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের নাম 'অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল'। ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডর (Sidr) বাংলাদেশে আঘাত হানে। 'সিডর' সিংহলী শব্দ যার অর্থ চোখ। ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় মার্কিন সেনাবাহিনী পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের সাংকেতিক নাম 'অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল-২'। ২৫ মে, ২০০৯ ঘূর্ণিঝড় 'আইলা' বাংলাদেশে আঘাত হানে। আইলা অর্থ 'ডলফিন' বা শুশুক জাতীয় এক ধরনের প্রাণী। ১৬ মে, ২০১৩ ঘূর্ণিঝড় 'মহাসেন' বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করে।
মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র (SPARRSO)
Space Research and Remote Sensing Organization মহাকাশ গবেষণাকারী সরকারী সংস্থা ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত। এটি ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একমাত্র পূর্বাভাস কেন্দ্র। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে।