বেকার সমস্যার প্রত্যক্ষ কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধি'।
অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক নির্ভরশীলতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেননা, সম্পদের তুলনায় এদেশের জনসংখ্যা অত্যধিক। জনসংখ্যা অধিক হওয়ায় তাদের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য প্রতিবছরই খাদ্য, বস্ত্রসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করতে হয়। আবার মানুষের নিম্ন আয়ের কারণে দেশে সঞ্চয় বৃদ্ধি পাচ্ছে না যা দেশীয় বিনিয়োগকে ব্যাহত করছে। এজন্য
দেশের শিল্প কারখানাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগের উপর নির্ভর করতে হয়। এছাড়াও বাড়তি জনসংখ্যার কারণে যেসব সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে যেসব সমস্যা দূরীকরণে পরিচালিত বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মসূচির জন্য বৈদেশিক সাহায্য, অনুদান, ঋণ প্রভৃতির উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এভাবে বাড়তি জনসংখ্যার কারণে বৈদেশিক নির্ভরশীলতা বাড়ছে
সুমনের অবস্থা বাংলাদেশের অটিজম সমস্যাকে তুলে ধরছে।
অটিজম শিশুর এমন অবস্থা যা তাকে আত্মকেন্দ্রিক করে রাখে। এর ফলে সে পরিবার ও সমাজে অন্যান্যদের সাথে স্বাভাবিক আচরণ বা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করতে পারে না। সুমনের ক্ষেত্রে এমনটিই লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের সুমন ছোটবেলা থেকেই একা থাকতে পছন্দ করে। কারো সাথে মিশতে সে ভয় পায়। প্রায়ই সে মাথা নিচু করে বসে থাকে। এছাড়া সুমন তার খেলনা বলটিকে সবসময় আঁকড়ে ধরে থাকে। অটিজম আক্রান্তদের মধ্যেও এ বিষয়গুলো দেখা যায়। অটিজম শব্দটি গ্রিক শব্দ Autos থেকে এসেছে। যার ইংরেজি হলো Self এবং বাংলা হলো স্বয়ং। আর ইংরেজি Autism এর বাংলা অর্থ আত্মসংবৃত্তি, যা একটি মানসিক রোগ বিশেষ। এ রোগে আক্রান্ত শিশুরা অস্বাভাবিকভাবে নিজেদের মধ্যে গুটিয়ে থাকে। অটিজম মূলত একটি জীবনব্যাপী অক্ষমতা যা একজন ব্যক্তিকে তার চারপাশের মানুষের সাথে যোগাযোগ এবং সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে বাধা দেয়। অর্থাৎ অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিরা অন্যের সাথে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে পারে না। উদ্দীপকের সুমনের আচরণগুলো এরকম হওয়ায় বলা যায়, সুমন অটিজম আক্রান্ত শিশু।
উক্ত সমস্যা অর্থাৎ অটিজম মোকাবিলায় সমাজকর্মের বেশ কয়েকটি শাখা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
অটিজম মস্তিষ্কের বিকাশজনিত একটি স্নায়ুবিক ও মানসিক জটিলতা। এ সমস্যা মোকাবিলার ক্ষেত্রে সাইকিয়াট্রিক, ক্লিনিক্যাল এবং চিকিৎসা সমাজকর্ম ভূমিকা পালন করতে পারে।
ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম সম্পূর্ণভাবে মানসিক সেবা প্রদান করে। আর সাহায্যার্থীর মনো-সামাজিক সমস্যা নির্ণয় ও সমাধানে কাজ করে সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম। অন্যদিকে চিকিৎসা সমাজকর্ম সব ধরনের চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে সমন্বয় করে। এদিকে অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তির মূল সমস্যাই হলো যোগাযোগ, আচরণ ও সামাজিকতার ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করতে না পারা। এ কারণে সমাজকর্মের উল্লিখিত শাখাগুলো আলাদাভাবে অথবা সমন্বিত উদ্যোগে এ ব্যাপারে কাজ করতে পারে।
ক্লিনিক্যাল, চিকিৎসা এবং সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্মীরা অটিজম বিষয়ে সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন করবেন। যদি কারো মধ্যে এর লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে উদ্বুদ্ধ করবেন। পরিবারের অন্য শিশুর মতো অটিস্টিক শিশুদের সাথেও স্বাভাবিক আচরণ করার বিষয়ে সবাইকে বোঝাবেন। আবার অটিস্টিক শিশুর উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে কাজে লাগানোর ব্যাপারেও সমাজকর্মীরা কাজ করতে পারেন। এছাড়া তারা বিভিন্ন সংস্থার আওতায় অটিস্টিক শিশুদের জন্য পরিচর্যা ও শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারেন। এভাবে ক্লিনিক্যাল, চিকিৎসা এবং সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম অটিজম সমস্যা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
Related Question
View AllIFNS এর পূর্ণরূপ হলো International Federation of Nematology Societies.
সামাজিক সমস্যা সমাজের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে বিধায় একে সর্বজনীনভাবে ক্ষতিকর বিবেচনা করা হয়।
বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যাকে সামাজিক সমস্যা বলা যায় না। যখন কোনো বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত সমস্যা সমাজের অধিকাংশ মানুষের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তখন বা সামাজিক সমস্যারূপে গণ্য হয়। এটি সমাজের সামগ্রিক মঙ্গলের পরিপন্থী। এছাড়া সামাজিক সমস্যা সব দেশের সব সময়ের সমাজের মানুষের জন্যই ক্ষতিকর। কোনো সমাজের মানুষই সামাজিক সমস্যার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি। তাই সামাজিক সমস্যাকে সর্বজনীন ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আনিসা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।
যে খাদ্যে খাবারের ছয়টি গুণ, যেমন- আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, পানি, খনিজ লবণ ও ভিটামিন বিদ্যমান সেই খাবার হলো পুষ্টিসম্মত খাবার। এ ধরনের খাবারের অভাবে শরীরে যে অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হয় তাই হলো অপুষ্টি বা পুষ্টিহীনতা। আনিসার ক্ষেত্রে এ অস্বাভাবিক অবস্থাই দৃষ্টিগোচর হয়।
বস্তিবাসী আনিসা চোখে সমস্যা, মুখে ঘা, ঠোঁট ফাঁটা সমস্যাগুলোতে ভুগছে। এছাড়া রক্তস্বল্পতার জন্য তার মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
এসব সমস্যার কারণে সে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা মূলত অপুষ্টির কারণেই হয়। মানবদেহের স্বাভাবিক অবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের গুণগত ও পরিমাণগত অভাবজনিত অবস্থাকে অপুষ্টি বলা হয়। দৈনন্দিন জীবনে একজন মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম থাকার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ও গুণগত খাবার। এ ধরনের খাবারের ঘাটতিই অপুষ্টির সৃষ্টি করে। এ অবস্থা শরীরে নানা ধরনের রোগের জন্ম দেয়, স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত করে, কর্মশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে। এছাড়া পুষ্টিহীনতার কারণে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। যার ফলে স্বাভাবিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হয়। উদ্দীপকের আনিসার ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটার কারণে বলা যায়, সে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।
উক্ত সমস্যা অর্থাৎ পুষ্টিহীনতা সৃষ্টি হওয়ার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদার অপূরণকে দায়ী করা যায়।
মানুষের বেঁচে থাকার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলো পূরণ করা অপরিহার্য। কিন্তু বাংলাদেশের মতো নিম্ন আয়ের দেশে দারিদ্র্য, অধিক জনসংখ্যা প্রভৃতি কারণে অনেকেই মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না। ফলে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যাগুলোর মধ্যে পুষ্টিহীনতা অন্যতম। আমাদের দেশের অনেক মানুষ ঠিকমতো খাবার পায় না। আর পুষ্টিকর খাবারের সংস্থান দরিদ্র লোকের জন্য প্রায় অসম্ভব। এছাড়া খাদ্যের গুণাগুণ সম্পর্কেও এদেশের বেশিরভাগ মানুষ অজ্ঞ। ফলে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবারের অভাবে তারা স্বাস্থ্যহীনতায় বা পুষ্টিহীনতায় ভোগে। এ কারণে এদেশের মানুষ রক্তশূন্যতা, চক্ষুরোগ, রাতকানা, রিকেটসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
আবার সুস্বাস্থ্যের জন্য শুধু খাবারই পর্যাপ্ত নয়, ভালো আবাসন, পোশাক এবং উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এদেশের মানুষ পর্যাপ্ত বাসস্থান, পোশাক এবং চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। শহর এলাকায় বস্তি সমস্যা, গ্রাম এলাকায় চিকিৎসা সুবিধার অপ্রতুলতার কারণে অনেকেই অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় দিন পার করছে। এসব কারণে পুষ্টিহীনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ আলোচনা থেকে তাই বলা যায় অপুষ্টি নামক সমস্যাটি সৃষ্টি হওয়ার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ না হওয়াই বেশি দায়ী।
জেলা সমাজসেবা অফিসের প্রধান কর্মকর্তা শহর সমাজসেবা কর্মসূচি তত্ত্বাবধান করেন।
সন্তান উৎপাদন ও লালন-পালন বিবাহের অন্যতম কাজ। বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠিত হয়। আর পরিবার সন্তান উৎপাদন ও লালন-পালনের সর্বোৎকৃষ্ট প্রতিষ্ঠান। মানব শিশুর লালন-পালনের দায়িত্ব বাবা-মার ওপরই বর্তায়। বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠন করায় শিশুর রক্ষণাবেক্ষণ ও লালন-পালনে কোনো সমস্যা হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!