ঋণের যে দলিলের মালিকানা এক হাত থেকে অন্য হাতে গেলে গ্রহীতা এর বৈধ মালিকানা পায় তাকে হস্তান্তরযোগ্য ঋণের দলিল বলা হয়।
চাওয়ামাত্র প্রাপককে অর্থ পরিশোধের জন্য ব্যাংকের এক শাখা কর্তৃক অন্য শাখা বা প্রতিনিধি ব্যাংককে যে লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয় তাকে ব্যাংক ড্রাফট বলা হয়।
এটি ব্যাংকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঋণের দলিল। এর মাধ্যমে একস্থান থেকে অন্যস্থানে নিরাপদে কম খরচে যেকোনো অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর করা যায়।
আমাদের দেশে ব্যাংক ড্রাফট-এ শুধু প্রাপককে অর্থ দেওয়ার নির্দেশ থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অর্থ সচিবের স্বাক্ষর সম্বলিত নোটগুলো হলো সরকারি নোট।
একটি দেশের সরকার নিজ দায়িত্বে বিহিত মুদ্রা হিসেবে যে নোটের প্রচলন করে তাকে সরকারি নোট বলা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এরূপ নোট ছাপা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলাদেশে কিছু মুদ্রা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু নোট ইস্যু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আবার কিছু ইস্যু করে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইস্যু করা নোটে অর্থ সচিবের স্বাক্ষর থাকে। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১, ২ ও ৫ টাকার নোট ইস্যু করা হয়। জনগণ বাধ্যতামূলকভাবে এই নোট গ্রহণ করে। সুতরাং বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় বলা যায়, অর্থ সচিবের স্বাক্ষর সম্বলিত নোটগুলো হলো সরকারি নোট।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২ অনুযায়ী ব্যাংক চাইলেই নিজেদের ইচ্ছামতো নোট ইস্যু করতে পারবে না-এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
সরকারি নোট সাধারণত সরকারের আদেশে ও দায়িত্বে অর্থ মন্ত্রণালয় ছাপায়।
সরকারের অনুমতিক্রমে সরকারের ব্যাংক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ইস্যুকৃত কাগজি মুদ্রা বা নোটকে ব্যাংক নোট বলা হয়।
অন্যান্য সব দেশের মত এদেশেও নোট ইস্যুর সব দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংক-এর ওপর ন্যস্ত। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেদের ইচ্ছামতো নোট ইস্যু করতে পারে না।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ইস্যুকৃত নোটের বিপরীতে কী পরিমাণ সম্পদ সংরক্ষণ করতে হবে তা বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২-এ বলা আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২-এর ৩০ (১) ধারায় উল্লেখ আছে যে, ইস্যু বিভাগের সম্পত্তি তার উক্ত বিভাগের মোট দায়ের চেয়ে কম হবে না। আবার, ৩২(২) ধারায় বলা হয়েছে যে, ইস্যু বিভাগের মোট দায় যেকোনো সময়ে তার মোট ইস্যুকৃত ব্যাংক নোটের সমান হবে। উক্ত ধারা দুটি বিশ্লেষণ করলে বলা যায়, ইস্যু বিভাগের মোট দায় হবে তার ইস্যুকৃত ব্যাংক নোট পরিমাণ অর্থ। আর এর বিপক্ষে রক্ষিত সম্পত্তি অবশ্যই এর সমান হবে। সুতরাং ব্যাংক নোট ইস্যু করতে চাইলে বাংলাদেশের ব্যাংককে এর মূল্যের সমপরিমাণ সম্পত্তি সংরক্ষিত রেখে নোট ইস্যু করতে হবে। তাই বলা যায়, ব্যাংক নিজের ইচ্ছামতো নোট ইস্যু করতে পারে না।
Related Question
View Allচাওয়ামাত্র প্রাপককে অর্থ পরিশোধের জন্য ব্যাংকের এক শাখা, অন্য শাখা বা প্রতিনিধি ব্যাংককে যে লিখিত নির্দেশ দেয় তাকে ব্যাংক ড্রাফট বলে।
মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গ্রাহক ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিল পরিশোধের সুযোগ পায়, যা মোবাইল ব্যাংকিং সেবাকে জনপ্রিয় করেছে।
আধুনিক ব্যাংকিং-এর নতুন সংযোজন হলো মোবাইল ব্যাংকিং। বাংলাদেশে ব্র্যাক ব্যাংক বিকাশ নামে ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংক রকেট নামে এ ধরনের ব্যাংকিং চালু করেছে, যা আমাদের দেশে মোবাইল ব্যাংকিংকে জনপ্রিয় করেছে।
উদ্দীপকে রুবিয়া তার মায়ের নিকট হতে সরকারি নোট পেল।
কোনো দেশের সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত নোটই হলো সরকারি নোট। সরকারের অর্থ মন্ত্রাণালয়ের অধীনে এ নোট ছাপা হয়। এ নোটে সরকারের পক্ষে অর্থসচিব স্বাক্ষর করেন।
উদ্দীপকে উল্লেখ্য, বাজারে যাওয়ার সময় রুবিয়ার বাবা তাকে ৫ টাকা এবং ১০ টাকার কিছু নোট দিল। আবার তার মা তাকে ২ টাকার কিছু নোট দিল। ২ টাকার নোটে সে অর্থ সচিবের স্বাক্ষর এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার লেখা দেখতে পেল। রুবিয়ার এ ২ টাকার নোটগুলোর সাথে সরকারি নোটের মিল রয়েছে। জনসাধারণের উদ্দেশ্যে সরকার এ ধরনের নোট ইস্যু করে। এ নোটে 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার', 'বাংলাদেশ সরকার' শব্দসমূহ লিখা থাকে। এছাড়া, এ নোটের ওপর সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের লোগোও থাকে। যা রুবিয়ার ২ টাকার নোটেও রয়েছে। তাই বলা যায়, রুবিয়া তার মায়ের কাছ থেকে সরকারি নোট পেল।
'বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে রুবিয়ার বাবার দেওয়া নোট তার মায়ের দেওয়া নোট থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ'- বক্তব্যটির সাথে আমি একমত।
সরকারের অনুমতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে কাগজি মুদ্রা বা নোট ইস্যু করে তা হলো ব্যাংক নোট। এ নোটে ব্যাংকের গর্ভনরের স্বাক্ষর থাকে।
বাংলাদেশে ৫, ১০, ২০, ৫০, ১০০, ২০০, ৫০০ এবং ১,০০০ টাকা ব্যাংক নোট হিসেবে প্রচলিত।
উদ্দীপকে রুবিয়ার বাবা তাকে ৫ টাকা এবং ১০ টাকার কিছু নোট দিল। আর তার মা তাকে ২ টাকার কিছু নোেট দিল। এক্ষেত্রে ৫ ও ১০ টাকার নোট ব্যাংক নোট। অন্যদিকে, ২ টাকার নোেট সরকারি নোট।
১ টাকা ও ২ টাকার সরকারি নোট দিয়ে বড় লেনদেন করা সম্ভব না। উদাহরণস্বরূপ- রুবিয়া মুদি দোকান থেকে পানি কিনে দোকানদারকে ১০০ টাকার একটি নোট দেয়। সে দোকানদারের কাছ থেকে ৫০ টাকার, ২০ টাকার ও ২ টাকার নোটগুলো ফেরত পায়। এক্ষেত্রে দোকানদার সরকারি নোটের মাধ্যমে ফেরত দিতে চাইলে অনেকগুলো সরকারি নোটের প্রয়োজন হতো। আবার রুবিয়ার সরকারি নোটের মাধ্যমে পানি কিনতেও অনেকগুলো নোটের প্রয়োজন পড়তো। কিন্তু ব্যাংক নোটের মাধ্যমে এ লেনদেন খুব সহজে ও অল্প নোটের মাধ্যমে করা যায়। এছাড়া লেনদেন লক্ষ বা কোটিতে করা হলে সরকারি নোটে তা অসম্ভব ছিলো। তাই বলা যায়, বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের জন্য ব্যাংক নোটই বেশি উপযোগী।
নোট: ২০১৬ সালের জুন মাস থেকে ৫ টাকার নোট সরকারি নোটের অন্তর্ভূক্ত হয়। পূর্বে ৫ টাকার নোট ব্যাংক নোট ছিল। ৫ টাকার নোটকে ব্যাংক নোট ধরে উত্তর দেওয়া হলো।
যে ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রদত্ত নীতিমালা মেনে চলার শর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনে তালিকাভুক্ত হয়ে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয় তাকে তালিকাভুক্ত ব্যাংক বলে।
সরকারের পক্ষে অর্থসংক্রান্ত কাজ সম্পাদন ও পরামর্শ দেওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সরকারের ব্যাংক বলা হয়।
এই ব্যাংক দেশের ব্যাংক ও মুদ্রা ব্যবস্থার নেতৃত্ব দিতে সরকারের মালিকানায় ও নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মালিক, পরিচালক ও নিয়ন্ত্রক সরকার। এই ব্যাংক সরকারের পক্ষে অর্থ লেনদেন করে, হিসাব রাখে ও সরকারকে প্রয়োজনে ঋণ দেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!