দুই বা ততোধিক সার্বভৌম দেশের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী দ্রব্য ও সেবার বিনিময়কে আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক বাণিজ্য বলে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বর্তমান সময়ের একটি অপরিহার্য বিষয়। পৃথিবীতে কোনো দেশই এখন এককভাবে চলতে পারে না।
তেমনিভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার, আয় বৃদ্ধি করতে, রপ্তানি বৃদ্ধি করতে, উৎপাদন বৃদ্ধি করতে, বিনিয়োগ বাড়াতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে, বাজার সম্প্রসারণ করতে এবং বিশ্ব শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে ২০০৯-১০ ও ২০১০-১১ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ও আমদানি ব্যয় সম্পর্কে একটি ছক দেওয়া হয়েছে। উক্ত দুই অর্থবছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে মৃদু ভারসাম্য বিরাজ করছে। নিচে এর কারণ বর্ণনা করা হলো-
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০০৯-১০ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ১৬২০৪.৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১০-১১ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২২৯২৪.৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আবার ২০০৯-১০ অর্থবছরে দেশে আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ ২৩৭৩৮ মিলিয়ন ডলার। ২০১০-১১ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৩৩৬৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ দেখা যায়, রপ্তানি আয় যেমন বেড়েছে তেমনি আমদানি ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়ে দেশে রপ্তানিপণ্য উৎপাদন যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অনেক পণ্য দেশে উৎপাদিত না হওয়ায় সেসব পণ্য আমদানিতে প্রচুর অর্থ খরচ হচ্ছে। যেমন- উন্নত যন্ত্রপাতি আমদানি, সার, পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য, কাঁচাতুলা ইত্যাদি। আবার দেশ থেকে অনেক পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। যেমন- কাঁচাপাট, চা, চামড়া, তৈরি পোশাক, হস্তশিল্পজাত দ্রব্য, হিমায়িত খাদ্যসামগ্রী ইত্যাদি। উদ্দীপক থেকে দেখা যায় ২০০৯-১০ থেকে ২০১০-১১ অর্থবছরে রপ্তানি আয় যে ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রায় একই পরিমাণে আমদানি ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আমদানি ব্যয় একটু বেশিই বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ অতিরিক্ত চাহিদা, যা দেশে উৎপাদিত পণ্য দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়। আবার পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির ফলে আমদানি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়।
তাই বলা যেতে পারে, অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে আমদানি যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি কিছু পণ্য চাহিদার অতিরিক্ত উৎপাদিত হওয়ায় তা রপ্তানিও হয়েছে। অর্থাৎ বৈদেশিক বাণিজ্যে মৃদু ভারসাম্য দেখা গেছে।
উল্লিখিত তথ্যের আলোকে এ ব্যবধান কমানোর জন্য আমি রপ্তানি উন্নয়ন নীতিকে সমর্থন করব। কারণ লেনদেন ভারসাম্যের প্রতিকূলতা দূর করার সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা হলো দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন বৃদ্ধি করা।
উৎপাদন বাড়াতে পারলে আমদানির পরিমাণ কমবে ও রপ্তানির পরিমাণ বাড়বে। ফলে লেনদেন প্রতিকূলতা দূর হবে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ভোগ হ্রাস করে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারলে লেনদেন ভারসাম্যের প্রতিকূলতা নিরসন করা যেতে পারে। আবার রপ্তানিযোগ্য পণ্যের রপ্তানি শুল্ক হ্রাস করলে রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। ফলে লেনদেন ভারসাম্যহীনতা দূর হবে। অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য যেমন- তৈরি পোশাক, হিমায়িত চিংড়ি, টাটকা ফল, শাকসবজি, হস্ত শিল্পজাত দ্রব্য প্রভৃতি রপ্তানি বৃদ্ধি করে রপ্তানি আয় বাড়ানো যেতে পারে, যা লেনদেন ভারসাম্যের অসামঞ্জস্যতা দূর করতে সহায়ক হবে। তাছাড়া বাংলাদেশের জনগণকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলে বিদেশের বাজারে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে এবং তা লেনদেন ঘাটতি দূরীকরণে ভূমিকা রাখবে। আবার বাংলাদেশে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করার মতো সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং উৎসাহ দেওয়া সম্ভম্ব হলে দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে। ফলে লেনদেন ভারসাম্যের প্রতিকূলতা দূর হবে।
এভাবে রপ্তানি উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়ন করতে পারলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ব্যবধান কমানো যেতে পারে বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allকোনো অনুন্নত দেশ উন্নত দেশ বা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে পরিশোধ করার শর্তে অথবা বিনা শর্তে যে সাহায্য পায় তা-ই বৈদেশিক সাহায্য।
দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংঘটিত হলে তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে। বলা হয়, International trade is the exchange of goods or resources among the countries, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হচ্ছে বিভিন্ন দেশের মধ্যে দ্রব্য ও সম্পদের বিনিময়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদেশে পণ্য ও সেবা বিক্রয় করাকে রপ্তানি বলে। অন্যদিকে বিদেশ থেকে পণ্য ও সেবা ক্রয় করাকে আমদানি বলা হয়।
উপরে বর্ণিত বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে, না অর্জিত হবে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
সাধারণত আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্য বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘটিত হয়। যখন একটি দেশ অন্যদেশে পণ্য ও সেবা বিক্রি করে তখন তাকে রপ্তানি বলে। আর যে প্রক্রিয়ায় একটি দেশ অন্য দেশে পণ্য ও সেবা বিক্রয় করে, তাকে রপ্তানি বাণিজ্য বলে। রপ্তানি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোনো দেশ তার নিজ দেশে উৎপাদিত পণ্য বিদেশের বাজারে বিক্রি করতে পারে। ফলে রপ্তানি আয় তথা বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ে। উদ্দীপকে মি. ইদ্রিস ময়মনসিংহে মাছ চাষ করে এবং বিক্রি করেন। কিন্তু এ বছর তিনি বেলজিয়ামের বাজারে হিমায়িত মাছ বিক্রির জন্য পাঠাচ্ছেন। অর্থাৎ মি. ইদ্রিস বিদেশের বাজারে মাছ রপ্তানি করছেন। ফলে মি. ইদ্রিসের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।
অতএব বলা যায়, মি. ইদ্রিস বেলজিয়ামে হিমায়িত মাছ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাণিজ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশে যেসব পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
⇨ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধি করতে হলে শিল্পজাত দ্রব্যের মান ও উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। এর ফলে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যাবে।
⇨ উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করে কম দামে বিশ্ববাজারে রপ্তানির ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনবোধে রপ্তানি শুল্ক হ্রাস করে কম দামে বিশ্ববাজারে পণ্য রপ্তানির ব্যবস্থা নিতে হবে।
⇨ আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের শ্রেণিবিভাগ করতে হবে।
⇨ রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মেলা ও প্রদর্শনীতে যোগ দিয়ে পণ্যের গুণাগুণ প্রচার করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে বিশ্ববাজার সৃষ্টির পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
⇒ রপ্তানি উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত সকল প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে পারলে এ দেশের রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।
⇒ অল্প কয়েকটি রপ্তানি পণ্যের উপর নির্ভর না করে আরও রপ্তানি আইটেম বাড়াতে হবে।
⇨ রপ্তানি পণ্য বিজ্ঞানসম্মতভাবে গুদামজাত করা এবং যাতে পচে নষ্ট না হয়, তার জন্য যথাযথভাবে প্যাকেটিং করতে হবে।
⇒ সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পণ্য সংগ্রহ করে এবং পরোক্ষভাবে নানা সুবিধাসহ রপ্তানিকারকদের উৎসাহ দিয়ে রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে বাংলাদেশের রপ্তানি ও রপ্তানি আয় উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।
২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের রস্তানি আয় ২৭০২৭মিলিয়ন মার্কিন ডলার
ভিন্ন সংস্কৃতির অগ্রাসন বলতে আমরা বুঝি বিদেশি সংস্কৃতি অনেকটা জোরপূর্বক গ্রহণ। বিশ্বায়নের অনিবার্য ফল হিসেবে সংস্কৃতিক আগ্রাসন চলে আসে। যেমন- পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আনক কিছুই আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির সাথে মেলে না।
অরণক্ষত আমরা সেগুলো জন্মভাবে অনুকরণ করার চেষ্টা কার। এ ধারার সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের তরুণ সমাজ অনেকটাই প্রভাবিত হচ্ছে। এর ফলে বাড়ছে মাদকাসক্তি, বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ এবং অপ্রয়োজনীয় বিলাসজাত। দ্রব্যের প্রতি আকর্ষণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!