বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (২৫ থেকে ৪৭ক অনুচ্ছেদ) নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই মৌলিক অধিকারগুলো মূলত মানুষের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সাম্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে মানবাধিকার সুরক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এই বিধানগুলো রাষ্ট্রকে জনগণের অধিকার রক্ষায় বাধ্য করে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রতিকার নিশ্চিত করে।
সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে বেশ কিছু অনুচ্ছেদ সরাসরি মানবাধিকার সুরক্ষার সাথে সম্পর্কিত। যেমন, ২৭ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতার কথা বলা হয়েছে, যা বৈষম্যহীনতার মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করে। ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। ৩২ অনুচ্ছেদ জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারের সুরক্ষাকে আরও দৃঢ় করে। এছাড়া, ৩৩ অনুচ্ছেদে গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ, ৩৪ অনুচ্ছেদে জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধকরণ এবং ৩৫ অনুচ্ছেদে বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে সুরক্ষার বিধান রাখা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের মৌলিক নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই মৌলিক অধিকারসমূহ নাগরিকদের নির্বিঘ্নে জীবন ধারণ, আত্মবিকাশ ও সমাজে সম্মানজনকভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি করে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই অধিকারগুলোর লঙ্ঘন হলে নাগরিকরা সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উচ্চ আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার চাইতে পারেন, যা মানবাধিকার সুরক্ষায় এক শক্তিশালী আইনি ভিত্তি প্রদান করে। এভাবে বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকদের জন্য মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের মানবাধিকারকে সর্বতোভাবে সুরক্ষা প্রদান করেছে এবং একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন করতে চায়।