বাবরনামা' গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ করেন লিডেন।
মুঘল আফগান দ্বন্দ্বে শেরশাহের সফলতার অন্যতম কারণ তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা।
শেরশাহ ছিলেন সমকালের অন্যতম দূরদর্শী রাজনীতিবিদ। তিনি হুমায়ুন অপেক্ষা যুদ্ধবিদ্যায় অভিজ্ঞ ছিলেন। সামরিক সংগঠনেও তার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ছিল। এছাড়া হুমায়ুনের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার কারণে তিনি মুঘল-আফগান দ্বন্দ্বে জয়লাভ করেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আনন্দ স্বামীর সাথে মুঘল সম্রাট আকবরের 'দীন-ই-এলাহী' নামক ধর্মীয় নীতির সাদৃশ্য রয়েছে। এ ধর্মমতে সব ধর্মের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল।
সম্রাট আকবর ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে 'দীন-ই-এলাহী' নামে একটি নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। এটি ছিল সর্বেশ্বরবাদী ধর্ম। সকল ধর্মের উৎকৃষ্ট নীতিমালা নিয়ে এ ধর্মমত গঠিত হয়েছিল। এ ধর্মমতে কোনো নবি বা দেব-দেবীর অস্তিত্ব ছিল না। তবে একেশ্বরবাদের ধারণা ছিল প্রবল। এ ধর্মে দীক্ষা গ্রহণকারীকে সম্রাটের নামে ৪টি স্তরে তার জীবন, ধর্ম, সম্মান ও সম্পত্তি উৎসর্গ করতে হতো। উদ্দীপকের আনন্দ স্বামী ধর্ম নিয়ে হত্যা, হানাহানি, রক্তপাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলাম, সনাতন ও খ্রিষ্টধর্মের সমন্বয়ে সর্বধর্ম মতবাদ প্রবর্তন করেন। তার এ সর্বধর্ম মতবাদের মূলকথা ছিল মানবতাবাদ। একইভাবে মুঘল সম্রাট আকবরও সকল ধর্মের সারাংশ নিয়ে 'দীন-ই-এলাহী' নামের সর্বেশ্বরবাদী ধর্মীয় নীতি প্রবর্তন করেছিলেন। 'দীন-ই-এলাহী' ধর্মমতের অনুসারীদেরকে 'লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহু ওয়া আকবর খলিফাতুল্লাহ' এ কথাটি পাঠ করতে হতো। এ ধর্মের অনুসারীদের পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাতে একজনকে 'আল্লাহু আকবর' বলে সম্ভাষণ করতে হতো এবং অন্যজনকে 'জাল্লেজালালুহু' বলে উত্তর দিতে হতো। এ ধর্মে আগুনকে পবিত্র বলে সম্মান করা হতো। এর অনুসারীদের অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আমিষ জাতীয় খাবার (মাংস, মাছ, ডিম, ডাল প্রভৃতি) গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হতো। তাছাড়া তাদেরকে জন্মদিন উদযাপন করে ঐদিন দানখয়রাতসহ স্বধর্মীদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে হতো। তাদেরকে মৃত্যুর পূর্বেই।
ভোজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হতো। এছাড়া এ ধর্মের অনুসারীদের ভিক্ষা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হতো। কসাই, ধীবর, ব্যাধ প্রভৃতি নিম্নশ্রেণির লোকেরা জীব হত্যা করত বলে তাদের সাথে ওঠা-বসা নিষিদ্ধ ছিল। উল্লিখিত বিধি-নিষেধ আরোপ করে সম্রাট আকবর 'দীন-ই-এলাহী' ধর্মমতের প্রবর্তন করেছিলেন।
উত্ত নীতি অর্থাৎ দীন-ই-ইলাহী গ্রহণের অন্যতম লক্ষ্য হলো সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা উক্তিটি যথার্থ।
সম্রাট আকবরের দীন-ই-ইলাহী নামক ধর্মনীতির প্রবর্তন তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে। তার প্রবর্তিত দীন-ই-ইলাহী ছিল একেশ্বরবাদী ধর্ম। এ ধর্মমতের উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু অধ্যুষিত ভারতে সকল ধর্মের জনগোষ্ঠীর মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক সৃষ্টি করে মুঘল সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব বিধান করা
ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর আবাসস্থল। এই স্থানে সুদৃঢ় সাম্রাজ্য স্থাপনে সকল ধর্মাবলম্বীর মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এটি সম্রাট আকবর ভালভাবেই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। এজন্য তিনি মুঘল সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব ধর্মাবলম্বীকে একই পতাকাতলে নিয়ে আসার জন্য দীন-ই-ইলাহী নামে নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। সম্রাট ভেবেছিলেন এ ধর্মমত প্রবর্তনের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের সমর্থন লাভ করতে সক্ষম হবেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের সমর্থন ভারতে স্থায়ী মুঘল আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত জরুরি। ভারতে মুঘল শক্তির স্থায়িত্ব বিধানের স্বার্থে হিন্দু মুসলিম নাগরিকদের মধ্যে একটি ঐক্য ও প্রীতির নাগরিকদের মধ্যে একটি ঐক্য ও প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই সম্রাট ধর্মীয় ক্ষেত্রে উদারনীতি গ্রহণ করেছিলেন। আর মি. মজুমদারের মতে, 'আকবরের সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ডার ধর্মচিন্তাকে কিছুটা হলেও প্রভাবিত করেছিল'। ঈশ্বরী প্রসাদের মতে, আকবরের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল তার সাম্রাজ্যের সকলকে একটি কাঠামোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ করা।
উপর্যুক্ত আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, সম্রাট আকবরের দীন-ই-ইলাহী প্রবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা।
Related Question
View Allহুমায়ুন অর্থ ভাগ্যবান।
'মোজা' শব্দ থেকে মোঙ্গল এবং মোঙ্গল থেকে মুঘল নামের উৎপত্তি ঘটেছে। তারা আদি বাসভূমি মঙ্গোলিয়া ছেড়ে মধ্য এশিয়ার পশ্চিম অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে মুঘল নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৫২৬ খ্রি. মুঘলরা ভারতের সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে ভারতবর্ষের শাসক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত এরপর থেকেই মুঘলরা একটি বৃহৎ জাতিগঠনে অবদান রাখতে শুরু করে।
উদ্দীপকের সাথে ভারতবর্ষের মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে পিতার আকস্মিক মৃত্যুর পর মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবর ফারগানার সিংহাসনে উপবিষ্ট হন। সিংহাসন লাভের পর পরই তার দুই পিতৃব্য ও আত্মীয়স্বজন এবং উজবেক নেতা সাইবানি খানের রিরোধিতার মুখে পড়েন। ১৪৯৭ খ্রিস্টাব্দে বাবর সমরখন্দ দখল করেন। কিন্তু ভাগ্যবিপর্যয়ে পতিত হয়ে তিনি সমরখন্দ হারান। ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে ফারগানাও হস্তচ্যুত হয়। অর্থাৎ দাবার ছকের রাজার মতো বাবর স্থান থেকে স্থানান্তর ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। কিন্তু ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ফারগানা পুনরুদ্ধার করেন।
১৫০২ খ্রিস্টাব্দে সমরখন্দ অধিকার করেন। পরবর্তীকালে ১৫০৩ খ্রিষ্টাব্দে আরচিয়ানের যুদ্ধে সাইবানি খানের কাছে পরাজিত হয়ে ফারগানা ও সমরখন্দ থেকে বিতাড়িত হন। এ সময় কাবুলের অভ্যন্তরীণ অরাজকতার সুযোগে ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে কাবুল অধিকার করে বাদশাহ উপাধি নিয়ে রাজত্ব করতে থাকেন। ১৫১১ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের শাহ ইসমাইল সাফাভীর সহযোগিতায় সমরখন্দ দখল করলেও ১৫১২ খ্রিস্টাব্দে তা আবারও হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপর ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কাবুলেই রাজত্ব করেন। কিন্তু অসাধারণ সাহসী বাবর এতেই সন্তুষ্ট থাকেননি। ১৫২৬ খ্রি. তিনি পানিপথের প্রথম যুদ্ধে সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ভাগ্য বিড়ম্বিত যুবুক ইরফান ও ভারতবর্ষে মুঘল শাসনের প্রতিষ্ঠাতা বাবরই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে সম্রাট বাবরের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সম্রাট বাবর কেবল নির্ভীক সৈনিক, দক্ষ সেনাধ্যক্ষ, সুদক্ষ অস্ত্র পরিচালক, প্রশংসনীয় ঘোড়সওয়ারই ছিলেন না; বরং আলেকজান্ডারের মতো দেশ জয়ের নেশায় বিভোর থাকতেন। পানিপথের প্রথম যুদ্ধ, খানুয়ার যুদ্ধ এবং গোগরার যুদ্ধে তার সাফল্য তাকে ভারতীয় সমর ইতিহাসে উচ্চাসনে- অধিষ্ঠিত করেছে। বাবর মাত্র ১১ বছর বয়স থেকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হন। বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে তিনি প্রথমে কাবুলে এবং পরে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। শুধু প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হননি, তার ভিত্তি সুদৃঢ় করে একে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
বাবরের চার বছরের শাসনামলে যুদ্ধবিগ্রহ কেটে যায়। এ অবস্থায় নবপ্রতিষ্ঠিত মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় কোনো প্রকার পরিবর্তন ও সংস্কার সাধন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তথাপি তিনি নিজেকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা হ্রাস করেন। প্রাদেশিক শাসনকার্য পরিচালনার জন্য প্রত্যেক প্রদেশে একজন ওয়ালি (প্রাদেশিক কর্মকর্তা), একজন দিওয়ান (রাজস্ব কর্মকর্তা), শিকদার (সামরিক কর্মকর্তা) এবং কোতওয়াল (নগরকর্তা) ছিল। তিনি প্রশাসনিক কাজে তুর্কি, আফগান ও হিন্দুদের সমান সুযোগ দিতেন। সমগ্র সাম্রাজ্যে ১৫ মাইল অন্তর তিনি ডাক চৌকির ব্যবস্থা করেন। প্রজারঞ্জক বাবর দিল্লি ও আগ্রায় ২০টি উদ্যান, বহু পাকা নর্দমা, সেতু, অট্টালিকা নির্মাণ করেন।
পরিশেষে বলতে পারি, সম্রাট বাবর শুধুমাত্র একজন বিজেতা হিসেবেই প্রশংসার দাবিদার নন, বরং একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবেও তিনি কৃতিত্বের দাবিদার। তাই সার্বিকভাবে বাবরের শাসনকাল কৃতিত্বপূর্ণ একথা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।
দিল্লির সর্বশেষ সুলতানের নাম ফিরোজশাহ তুঘলক।
ফিরোজশাহ তুঘলক দিওয়ান-ই-বন্দেগান গঠন করেন কারণ, তিনি ছিলেন ক্রীতদাসদের প্রতি অনুরক্ত। তাই তিনি সিংহাসনে আরোহনের পর একটি বিরাট ক্রীতদাস বিভাগ গড়ে তোলেন। তার আমলে ক্রীতদাসের সংখ্যা ছিল ১,৮০,০০০, যার মধ্যে ৪০,০০০ ক্রীতদাস সুলতানের প্রাসাদে অবস্থান করত। সুলতান তাদের বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ-সুবিধার জন্যই 'দিওয়ান-ই-বন্দেগান' গঠন করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!