যে উৎপাদন ধারণায় উৎপাদনের মাত্রা বৃদ্ধি করা হলে একক প্রতি উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পেতে থাকে তাকে মিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রা বলে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজ উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ খাত হলেও মূলধন ও শ্রমিক সংখ্যা বিবেচনায় মাঝারি এন্টারপ্রাইজ থেকে ক্ষুদ্র এন্টারপ্রাইজ ভিন্ন।
২০১০ সালের শিল্পনীতি অনুযায়ী, ক্ষুদ্র এন্টারপ্রাইজে মূলধনের পরিমাণ (ভূমি ও কারখানা দালান বাদে) উৎপাদনকারী শিল্পের বেলায় ৫০ লাখ থেকে ১০ কোটি টাকা এবং সেবাখাতের বেলায় ৫ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। যেখানে মাঝারি এন্টারপ্রাইজে তা যথাক্রমে ১০ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা এবং ১ কোটি থেকে ১৫ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। আবার ক্ষুদ্র এন্টারপ্রাইজে শ্রমিক সংখ্যা উৎপাদনকারী শিল্পের বেলায় ২৫ থেকে ৯৯ জন এবং সেবাখাতের বেলায় ১০ থেকে ২৫ জনে সীমাবদ্ধ। যেখানে মাঝারি এন্টারপ্রাইজে শ্রমিক সংখ্যা যথাক্রমে ১০০ থেকে ২৫০ জন এবং ৫০ থেকে ১০০ জনে সীমাবদ্ধ।
উদ্দীপকে 'রংধনু টেলিকম' প্রতিষ্ঠানটি একটি বৃহদায়তন এন্টারপ্রাইজ।
বৃহদায়তন এন্টারপ্রাইজ বলতে যেসব প্রতিষ্ঠানের অধিক মূলধন এবং জনসামর্থ্য রয়েছে সেগুলোকে বোঝায়। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের মূলধনের পরিমাণ ৩০ কোটি টাকার অধিক হয়ে থাকে কিংবা ২৫০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত থাকে এবং উৎপাদন মাত্রাও বেশি হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে মিলনের 'রংধনু টেলিকম' নামের প্রতিষ্ঠানটি একটি বৃহদায়তন এন্টারপ্রাইজ। কারণ রাজশাহীর নিউমার্কেটে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানে তিনি ৩৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এছাড়াও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১২০ ■ জন এবং পরবর্তীতে আরও ১৫০ জন অর্থাৎ সর্বমোট ২৭০ জন মোবাইল বিশেষজ্ঞ ও বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দিয়েছেন। এতে দেখা যায়, অধিক মূলধন ও অধিক জনসামর্থ্যের কারণে মিলনের প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন মাত্রাও অধিক হবে। সুতরাং 'রংধনু টেলিকম' প্রতিষ্ঠানটি বৃহদায়তন এন্টারপ্রাইজ হিসেবে বিবেচিত হবে।
উদ্দীপকের 'রংধনু টেলিকম' তথা বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে বলে আমি মনে করি।
বৃহদায়তন এন্টারপ্রাইজ অধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে বৃহদায়তন উৎপাদন করে থাকে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে জাতীয় আয় এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করে যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের হাতিয়ারস্বরূপ।
উদ্দীপকে মিলন ৩৮ কোটি টাকা মূলধন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ১২০ জন ও পরবর্তীতে ১৫০জন সহ সর্বমোট ২৭০ জন মোবাইল বিশেষজ্ঞ ও বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দিয়ে 'রংধনু টেলিকম' প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। এ ধরনের বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানে অধিক মূলধন ও জনসামর্থ্য থাকায় অধিক উৎপাদনও সম্ভব হয়। বৃহদায়তন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসমূহ দেশের অর্থনীতিকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। উদ্দীপকে 'রংধনু টেলিকম' প্রতিষ্ঠানটিতে অধিক উৎপাদন হলে বাড়তি উৎপাদনের জন্য অধিকসংখ্যক লোকের প্রয়োজন হবে। এছাড়াও মুনাফা অর্জনের ফলে জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাবে। অধিকন্তু প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় চাহিদা দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যবসায়ের সম্প্রসারণ করে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করতে পারবে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন
ত্বরান্বিত হবে।
সুতরাং বলা যায়, বিভিন্নভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে 'রংধনু টেলিকম' গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allউৎপাদনের বিভিন্ন কলাকৌশল প্রয়োগ করে মোট যে পরিমাণ পণ্য উৎপাদন করা হয় তাকে উৎপাদনমাত্রা বলে।
কাম্যমাত্রায় উৎপাদন করা প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক।
কাম্য উৎপাদনমাত্রা হলো উৎপাদনের এমন একটি স্তর যেখানে সর্বনিম্ন ব্যয়ে সর্বোচ্চ পরিমাণ পণ্য উৎপাদিত হয়। এই উৎপাদনযাত্রায় শুধু উৎপাদন ব্যয়ই সর্বনিম্ন হয় না; বরং উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণেরও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয়। ফলে কাম্য উৎপাদনমাত্রায় প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি গড় উৎপাদন ব্যয় এককপ্রতি সর্বনিম্ন হয়, এতে প্রতিষ্ঠানের এককপ্রতি মুনাফা বেশি হয়ে সামগ্রিক মুনাফা বৃদ্ধি পায়। তাই বলা যায়, কাম্য উৎপাদনমাত্রা প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক।
উৎপাদনযাত্রার ধরণ অনুযায়ী 'বোমা ফেব্রিক্স বর্তমানে বৃহদায়তন শিল্প শিল্পনীতি ২০১০ অনুযায়ী।
উৎপাদন শিল্পের ক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানের জমি ও কারখানা ভবন ব্যাতীত স্বারী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৩০ কোটি টাকার অধিক এবং শ্রমিকের সংখ্যা ১৫০ জনের অধিক তাকে বৃহদায়তর শিল্প বলে। এ ধরনের শিল্পে পর্যান্ত মূলধন, ব্যাপক কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সামর্থ্য এবং প্রচুর জনবল বিদ্যমান থাকে।
উদ্দীপকে 'সোমা ফেব্রিক্স' একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানটিতে ২০১৬ সালে মোট স্বারী সম্পদের মূল্য ছিল ২৭ কোটি টাকা এবং শ্রমিকসংখ্যা ছিল ২১৫ জন। সম্প্রতি বাজাবে তাদের উৎপাদিত পোশাকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংক থেকে ১০ কোটি টাকার ঋণ সংগ্রহ করে এবং আরও ৫৫ জন নতুন শ্রমিক নিয়োগ করে। এতে তাদের মোট সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ৩৭ কোটি টাকা এবং শ্রমিকসংখ্যার পরিমাণ ২৭০ জন। উপ্ত সম্পদ ও শ্রমিকসংখ্যার পরিমাণের সাথে বৃহদায়তন শিল্পের ফিল রয়েছে। তাই বলা যায়, উৎপাদনযাত্রার ধরন অনুযায়ী 'সোমা ফেব্রিক্স' বর্তমানে বৃহদায়তন
উদ্দীপকে সোমা ফেব্রিক্স হলো বৃহদায়তন শিল্প এবং রিতা ফেরিঙ্গ হলো ক্ষুদ্র শিল্প শিল্পনীতি ২০১০ অনুযায়ী। এ দুটি শিল্পের মধ্যে সোনা ফেব্রিক্স দেশের কর্মসংস্থানে বেশি অবদান রাখতে।
উৎপাদন শিল্পের ক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানের জনি ও কারখানা ভবন বারীত স্বায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৩০ কোটি টাকার অধিক এবং শ্রমিকের সংখ্যা ২৫০ জনের অধিক তাকে বৃহদায়তর শিল্প বলে। উৎপাদন শিল্পের ক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানের জমি ও কারখানা ভরণ ব্যতীত স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫০ লক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা এবং শ্রমিকের সংখ্যা ২৫-৯৯ জনের মধ্যে থাকে তাঁকে স্কুল শিল্প বলে।
উদ্দীপকে 'সোমা ফেব্রিক্স' একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে মোট সম্পদের মূল্য হলো ৩৭ কোটি টাকা এবং শ্রমিকসংখ্যার পরিমাণ ২৭০ জন। তাদের প্রতিষ্ঠানটির সাবে বৃহদায়তন শিল্পের মিল থাকায় তাদের প্রতিষ্ঠানটি একটি বৃষনায়তন
উৎপাদনের বিভিন্ন কলাকৌশল প্রয়োগ করে মোট যে পরিমাণ পণ্য উৎপাদন করা হয় তাকে উৎপাদনমাত্রা বলে।
উৎপাদন শিল্পের ক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানের জমি ও কারখানা ভবন ব্যতীত স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫০ লক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা এবং শ্রমিকের সংখ্যা ২৫-৯৯ জনের মধ্যে থাকে তাকে ক্ষুদ্র শিল্প বলে (শিল্পনীতি ২০১০ অনুযায়ী)।
উদ্যোক্তা নিজেই সাধারণত এ ধরনের ব্যবসায় পরিচালনা করে। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তা খুব সহজে ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। অন্য পক্ষের কাছে কোনো ধরনের জবাবদিহিতা না থাকায় উদ্যোক্তা নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এতে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারায় প্রতিষ্ঠানের সফলতা অর্জন করা সহজ হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!