একটি দেশের মোট আয়তনের প্রেক্ষিতে মোট জনসংখ্যার অনুপাতকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে।
বেকারত্ব ঘুচানোর জন্য যখন কেউ নিজের যৎসামান্য মূলধন ও স্থাবর সম্পত্তি কিংবা কোথাও থেকে সংগৃহীত সামান্য মূলধন এবং কোনো একটি কাজ করার অভিজ্ঞতা বা প্রশিক্ষণ নিয়ে কোনো কাজে লাগিয়ে অর্থোপার্জন করে স্বাবলম্বী হয় তখন তাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। এ ধরনের কর্মসংস্থানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দৃঢ় মনোবল, ঐকান্তিক ইচ্ছাশক্তি ও অটুট আত্মবিশ্বাস থাকা একান্ত প্রয়োজন।
ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব অনুযায়ী দেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়ে গাণিতিকহারে এবং জনসংখ্যা বাড়ে জ্যামিতিকহারে। এখন উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব কতটুকু কার্যকর তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
বাংলাদেশে আগের তুলনায় বর্তমানে খাদ্য উৎপাদন বাড়লেও খাদ্য উৎপাদনের তুলনায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এখনও বেশি। এক সমীক্ষা মতে, এদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার যেখানে প্রায় ১.৩৭%, সেখানে বাংলাদেশের কৃষির শস্য উপখাতের প্রবৃদ্ধির হার ০.১৫%। অর্থাৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্যে ব্যবধান লক্ষণীয়। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে না।
উচ্চ ফলনশীল বীজের সহায়তায় চাষাবাদের দরুণ বর্তমানে বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ যথেষ্ট বাড়লেও তা খাদ্য চাহিদার তুলনায় এখনও যথেষ্ট কম। এখানে তাই প্রতিবছর গড়ে ৩০ থেকে ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমদানি করতে হয়।
বাংলাদেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রাকৃতিক নিরোধের কার্যকারিতাকে জনাধিক্যের একটি অন্যতম লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা চলে। বাংলাদেশে প্রতি বছর সংঘটিত বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক জীবন ও সম্পদ বিনষ্ট হয়।
ম্যালথাসের ধারণানুযায়ী উচ্চ জন্ম ও মৃত্যুহারও জনাধিক্যের লক্ষণ। অন্যান্য দেশের জন্ম ও মৃত্যুহারের তুলনায় বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যুহার দুই-ই বেশি।
সর্বোপরি উল্লিখিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সম্পূর্ণরূপে না হলেও ম্যালথাসের তত্ত্ব বাংলাদেশে কিছুটা কার্যকর।
উদ্দীপকের আলোকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিচে মূল্যায়ন করা হলো-
বাংলাদেশের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে জনসংখ্যা সমস্যা অন্যতম বলে বিবেচিত। জনসংখ্যার অস্বাভাবিক ও অতিদ্রুত বৃদ্ধি এর মারাত্মক ও ভয়াবহ পরিণতির দিক নির্দেশ করে। তাই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
১। গর্ভনিরোধ সেবা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন সাধন।
২। মা ও শিশু স্বাস্থ্যের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান।
৩। বহুমুখী শিক্ষা কার্যক্রমের প্রসার।
৪। শিক্ষা ও আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ।
৫। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে জনগণের সর্বাত্মক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
৬। ছোট পরিবার গঠনে উৎসাহ ও বড় পরিবার গঠনে * নিরুৎসাহিত করা।
৭। সরকারি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রমে বেসরকারি সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
৮। পরিবার পরিকল্পনা ও মাতৃ-শিশু স্বাস্থ্য কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
সুতরাং দেখা যায় দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকার অত্যন্ত সচেতন এবং এ লক্ষ্যেই বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে দেশের উন্নয়নের গতিধারাকে ত্বরান্বিত করবে।
Related Question
View Allজীবিকা অর্জনের জন্য স্ব-উদ্যোগে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত থাকাই হলো আত্মকর্মসংস্থান।
একটি দেশের জনসংখ্যার মধ্যে মৃত্যুর শতকরা অংশকে 'মৃত্যুহার বলে। মৃত্যুহার জনসংখ্যাকে হ্রাস করে বলে জন্মহার অপেক্ষা মৃত্যুহার বেশি হলে জনসংখ্যা হ্রাস পায়। আবার জন্মহার অপেক্ষা মৃত্যুহার কম হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন কারণে মৃত্যুহার হ্রাস পাওয়ায় বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উদ্দীপকে অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি পাস করে গ্রামে এসে মৎস্য খামারের কাজ শুরু করে। বর্তমানে একজন উচ্চশিক্ষিত ছেলে গ্রামে এসে মৎস্য চাষ করবে, এটা কেউ ভাবতেই পারে না। কারণ, এত কষ্ট করে পড়াশোনা করে কেউ গ্রামে গিয়ে মৎস্য চাষ করতে চায় না। তেমনি অধ্যক্ষ সাহেবও চাননি। কিন্তু অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে চায় নিজের উদ্যোগে নিজেকে স্বাবলম্বী করতে। যেকোনো চাকরি করতে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অধীনে কাজ করতে হয়। তাদের কথামতো সব কাজকর্ম করতে হয়। নিজের কোনো স্বাধীনতা থাকে না। কিন্তু যখন নিজের উদ্যোগে কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়, তখন আর কারও অধীন থাকতে হয় না। নিজের স্বাধীনতা বজায় রেখেই কাজ করা যায়।
অতএব বলা যায়, উল্লিখিত কারণেই অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে এমএসসি পাস করেও গ্রামে এসে নিজ উদ্যোগে মৎস্য খামারে কাজ শুরু করেছে।
উদ্দীপকে অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি হচ্ছে আত্মকর্মসংস্থান। নিচে আত্মকর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করা হলো-
জীবিকা অর্জনের জন্য স্ব-উদ্যোগে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত থাকাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। একজন কর্মক্ষম ও কর্মে ইচ্ছুক ব্যক্তি বেকারত্ব লাঘবে স্বাধীনভাবে কোনো উৎপাদনকর্মে নিয়োজিত হলেই তাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে অভিহিত করা হয়। বাংলাদেশের মতো জনাধিক্যের দেশের সব শ্রমশক্তিকে প্রচলিত ধারায় কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া সম্ভম্ব নয়।
বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। বেকারত্বের কারণে বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় কম। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান তৈরি করার মতো মূলধন সরকারের না থাকায় আত্মকর্মসংস্থান সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ কমায়। বেকারত্ব ও দরিদ্রতা সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দেয়, তাই আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূর করতে
পারলে সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠী উন্নয়নকাজে অংশগ্রহণ করলে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়।
উপর্যুক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের মতো জনবহুল উন্নয়নশীল দেশে আত্মকর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্রটি হলো, DP = যেখানে, DP = জনসংখ্যার ঘনত্ব, TP = মোট জনসংখ্যা, TA = মোট আয়তন।
যে জনসংখ্যায় একটি দেশের উৎপাদন ও আয় সর্বোচ্চ হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। একটি দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ, মূলধন ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জনসংখ্যা যে আয়তন/পরিমাণ দ্বারা সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয় অর্জিত হয়, সেই জনসংখ্যার আয়তন/পরিমাণকে কাম্য জনসংখ্যা বলা হয়। কাম্য জনসংখ্যায় মোট জনসংখ্যা ও কর্মজীবী জনসংখ্যার অনুপাত স্থির থাকে। তাই উক্ত জনসংখ্যায় পূর্ণ নিয়োগ অবস্থা বর্তমান থাকে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!