সমাজের রূপান্তরকে ছয়টি ভাগে ভাগ করা যায়
আজকের সমাজ দীর্ঘকালের বিকাশধারার ফল। কালের সুদীর্ঘ যাত্রাপথে শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক সমাজ হচ্ছে আদিমতম রূপ। এরপর উদ্যানভিত্তিক ও পশুপালন সমাজব্যবস্থার সূচনা হয়। কালের অগ্রযাত্রায় শিল্পভিত্তিক সমাজ ও শিল্পবিপ্লব পরবর্তী সমাজব্যবস্থার মধ্য দিয়ে কালের পরিক্রমায় সমাজ পরিবর্তন হয়ে আধুনিক সমাজে রূপ নিয়েছে।
আদি সমাজের প্রধান কাজ ছিল ফলমূল সংগ্রহ, পশুপাখি ও মৎস্য শিকার। বনজঙ্গল থেকে তারা খাবার খুঁজে নিত আর শিকার করত। খাবারের খুঁজে তারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াত। মেয়েরা ফলমূল সংগ্রহ করত আর পুরুষেরা পশু শিকার করত। সে সময় পাথরই ছিল একমাত্র হাতিয়ার। এছাড়া খাঁজকাটা বল্লম, মাছ ধরার হারপুন এবং হাড়ের সুই তারা শিকারের কাজে ব্যবহার করত। মেয়েরা ফলমূল সংগ্রহ করতে গিয়ে কখনো কখনো নিয়ে আসত গম, বার্লি, মেটে আলু, কচুর মূল ও কন্দ। আস্তানার আশপাশে গম ও বালির যেসব দানা পড়ত তা থেকে গজিয়ে উঠত চারা গাছ। এক্ষেত্রে প্রথমে মেয়েরা তাদের বসবাসের আশপাশে পতিত জমিতে একটা লম্বা লাঠি বা পশুর শিং দিয়ে মাটি চিরে গর্তে বীজ ফেলে ফসল ও ফলমূল উৎপাদন করত। ফসল পাকলে পশুর চোয়ালের হাড় দিয়ে ফসল কাটত। বুনো ষাঁড়, ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া, গাধা প্রভৃতি পশু Activate মানুষের হাতে ধরা পড়ত। সেগুলোকে তারা ধরে এনে বেঁধে রাখত। do Go to Settings to শিকার না মিললে এগুলোকে তারা বধ করে আহার করত।
খাদ্য সংগ্রহই আদিম সমাজের একমাত্র বৈশিষ্ট্য নয়- কথাটি যথার্থ।
শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক সমাজ হচ্ছে মানবসমাজের আদিমতম রূপ। আদিম সমাজে মেয়েরা ফলমূল সংগ্রহ করত আর পুরুষেরা পশুপাখি ও মৎস্য শিকার করত। খাবারের খোঁজে তারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়াত। তাদের এ দলবদ্ধতা থেকেই সমাজব্যবস্থ্যার উদ্ভব। সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সূত্রপাত আদিম সমাজ থেকেই। এ সমাজে গোষ্ঠীর শক্তিশালী লোকটিকে সবাই দলপতি হিসেবে মানত, যা কোনো সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম শর্ত। ফলমূল সংগ্রহ করতে গিয়ে কখনো কখনো তারা নিয়ে আসত বুনো গম ও বার্লি, মেটে আলু, কচুর মূল ও কন্দ। আস্তানার আশপাশে গম ও বার্লির যেসব দানা পড়ত তা থেকে গজিয়ে উঠত চারা গাছ। আর এভাবেই কৃষি যুগের সূচনা। তাছাড়া খাদ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আদিম সমাজে যেসব বুনো ষাঁড়, ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া, গাধা প্রভৃতি পশু ধরা হতো। মানুষ ক্রমে বুঝতে পারে, এগুলোকে বাঁচিয়ে রাখলে বেশি লাভজনক হবে। যেমন- প্রতিদিন দুধ ও বছর বছর বাচ্চা পাওয়া যাবে। চামড়া ও পশমকে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে। এভাবে সমাজে গৃহপালিত পশুর সংখ্যা বেড়ে তা মানুষের সম্পদে পরিণত হয়। তাই বলা যায়, খাদ্য সংগ্রহই এ সমাজের একমাত্র বৈশিষ্ট্য নয়।
Related Question
View Allপোড়াবাড়ি চমচমের জন্য বিখ্যাত।
আদিমকালে জীবজন্তুর আক্রমণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা বিপদের সামনে মানুষ ছিল অসহায়। অস্তিত্ব রক্ষা আর জীবনযাপনের চাহিদা পূরণের জন্য তারা একে অন্যকে সহযোগিতা করার প্রয়োজন অনুভব করে। তাই খাদ্য সংগ্রহ ও হিংস্র প্রাণীর আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য আদিম মানুষ দলবদ্ধ হয়ে বাস করত।
উদ্দীপকে ১নং চিত্রটি শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক সমাজকে ইঙ্গিত করছে।
শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক সমাজ হচ্ছে মানব সমাজের আদিমতম রূপ। তখন স্থায়ী কোনো ঘরবাড়ি ছিল না। মানুষ গুহায় ও বনজঙ্গলে বাস করত। প্রাকৃতিক সম্পদ ছিল প্রচুর। কিন্তু এ সম্পদকে ব্যবহার করে খাদ্য উৎপাদন করতে শেখেনি। বনজঙ্গল থেকে তারা খাবার খুঁজে নিত আর শিকার করত। খাবারের খোঁজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াত। এ সময় মানুষ শীত ও রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মানুষ গাছের ছাল ও লতাপাতা এবং পশুর চামড়া ব্যবহার করত।
উদ্দীপকে ১নং চিত্রে দেখা যায়, একজন মানুষ অস্ত্র (বর্শা) হাতে শিকার করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। লোকটির পরনে রয়েছে পশুর চামড়ার তৈরি বস্ত্র। এসব বৈশিষ্ট্য শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক সমাজকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের ২নং চিত্রে ইঙ্গিতকারী সমাজটি হচ্ছে উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজ।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, মেয়েরাই প্রথম কৃষিকাজের উদ্ভাবন করেছে। আদিম সমাজে পুরুষেরা যেত শিকারের সন্ধানে। আর ফলমূল সংগ্রহের ভার ছিল মেয়েদের ওপর। খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে মেয়েরা নিয়ে আসত বুনো গম, বার্লির মেটে আলু, কচুর মূল ও কন্দ।. তাদের থাকার জায়গার পাশে গম ও বার্লি দানা পড়ে গজিয়ে উঠত চারা গাছ। চারা গাছে পরে দেখা দিত শিষ ও দানা। এ ঘটনা দেখেই মেয়েদের মনে বীজ ছিটিয়ে শস্য পাওয়ার ধারণা সৃষ্টি হয়। কৃষিকাজের এ পর্যায়কে বলা হয় উদ্যান চাষ।
উদ্দীপকের ২নং চিত্রে দেখা যায়, মেয়েরা কৃষিকাজ করছে। সুতরাং বলা যায়, ২নং চিত্রে মূলত উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজের কথা বলা হয়েছে। আর এ সমাজের উদ্ভাবক মেয়েরাই। সুতরাং প্রশ্নে উল্লিখিত বক্তব্যটি যথার্থ।
সমাজ গঠনের প্রথম ধাপ হলো পরিবার।.
সমাজের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো- ১. বহু লোকের সংঘবদ্ধভাবে রসবাস করা; ২. সংঘবদ্ধতার পিছনে কোনো উদ্দেশ্য থাকা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!